Search This Blog

Wednesday, December 9, 2015

ঘুণপোকার গণিত

জ্যামিতি আর বীজগণিত ঘুমায় কেবল।
রাত একটা সাতান্ন,
সিঁড়িভাঙ্গা অঙ্কে বেজেই চলে মুঠোফোন তোমার..
বিপর্যস্ত স্বপ্নে রঙিন ঘুড়ি; ভোকাট্টা....

তাই ওয়ান্ডার প্লাজার সামনে বসে ছিলাম আমি, একা অথচ একা নই....
রিক্সা গুনছি বসে বসে,
বাতি জ্বলছে,
বাতি নিভছে,
আবার জ্বলে উঠলো,
ধ্যাত নিভে গ্যালো।

ওয়ান্ডার প্লাজার দেয়াল জুড়ে একাকীত্বের নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্র।
যেখানে শুধুই নিভিয়ে দেয়াটা ধর্ম, আলোর ধর্মঘট চলছে!!!
ওহ আমি আমার ব্যাক্তিগত নদীটাকে পেয়েছি আজ।

থাক সে গল্প।

চলুন দ্যাখি একাগ্রচিত্তে--
জ্বলে জ্বলে নিভিয়ে দেয়া, আহ!

Monday, November 30, 2015

গনতন্ত্র

এই মানচিত্রের মানপত্রে যখন রাজনৈতিক বেশ্যার আস্ফালন।
টুটি চেপে ধরা সেলফ সেন্সরশিপ।
তখন কবি হয়ে উঠেন সব্যসাচী!
সাহিত্যের পাতায় চর্বি সম্বলিত কবিতা।
দু-চোখে কাচপোকাদের ভুল আর
যাদুঘরে সাজানো বাক-স্বাধীনতা মনে করিয়ে দেয়
গনতন্ত্র, আজ বংগভবন যায়।
গণতন্ত্র, আজ বিটি আর সি 'র নজরদারীর
ব্যান্ডউইথ!
গনতন্ত্র, নুর হোসেন-মিলনের খুনীদের
পুনর্বাসন কেন্দ্র।
গনতন্ত্র, এক বেশ্যাগমনের রিকশাবাহক।
গনতন্ত্র, হ্জ করে,মক্কা শরীফ যায়।
গনতন্ত্র, মন্দির-গির্জা-প্যাগোডায় ঈশ্বর
হয়।
গনতন্ত্র, ঘন তারল্যে ধর্ম হেফাজত করে।
গনতন্ত্র, সামাজিক বেশ্যা পোষে।
গণতন্ত্র, সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে,
কুচকে যাওয়া যোনী হাতায়,
বৃদ্ধ স্তনে বেচে দ্যায় দ্যাশ।
গনতন্ত্র, উদারপন্থী হয়,
গনতন্ত্র, ইয়াবার রুপোলী মায়ায় ধর্ষণ
করে।
গনতন্ত্র, নারী উন্নয়নের জনসভায় মৈথুন
করে।
গনতন্ত্র, এক গানের জাতীয় পুরস্কার।
গনতন্ত্র, বাংলা একাডেমীর শব্দ
সেন্সরের মহাউতসব।
গনতন্ত্র, লাল মদে রক্তের মচ্ছব!
গনতন্ত্র, ধুলো জমে জমে মানচিত্রে আজ
আবে-জমজম ঘুরছে আটরশি, দেওয়ানবাগ, চরমোনাই।
ভক্তের টাকায় শিল্পিত পুন্য-নগরী হচ্ছে
সাংহাই!
আমি ঢাকায় বসে কড়ে গুনে বলছি
বাহ বাজপাখির শ্যেনদৃষ্টি আজ উন্নয়নমুখী!
তক্তপোশ আজ বীর্যবতী!
রক্তের খরপোষে মৃত আত্মাধীন জনপদে
কোনো আশা নেই।
ভালোবাসা নেই।
ইচ্ছেরা বুলেট বিদ্ধ।
প্রজন্ম আজ চ্যাতনা বিক্রেতা অথবা
ক্রেতা।
ধুস শালা নিরোধমুক্ত শুয়োরের সাথে
সহবাসে ঘাতক কখন ত্রাতা হয় জানা নেই!
নিরঞ্জন, আজ একটা ঠোঁটের মিছিল
চাই।
নিরঞ্জন, আজ একটা প্রতিবাদী কবিতা
চাই।
নিরঞ্জন, আজ একটা শ্লোগান মুখর রাজপথ চাই।
বেশ্যানগরী, গোড়াই।
টাংগাইল।

Friday, November 20, 2015

দ্যাখা অদ্যাখা কবিতা -২

এক ক্ষয়িষ্ণু, শহরের ইট-পাথরে ঘষেঘষে
বুকে
বয়ে নিয়ে যাওয়া হৃদয় আর দেয়ালে
ভর দেয়া
কথাগুলো; যা বলা হয়নি তোমায়।
তা পাশে নিয়ে বসে বসে দ্যাখছি,
আত্মবিধ্বংসী খেলায় মত্ত আমি দু-
চোখ ভরে দ্যাখছি
বিলবোর্ড ভালোবাসার শহর তোমার।
কত উজ্জ্বলতা, কত আত্মপ্রবঞ্চক হাসি
নিয়ে
সূখ সূখ হাসি মুখ নামক বিজ্ঞাপনচিত্রে
তুমি,
ফেইড ইন অর আউট।
ঝুলে আছো ভালোবাসা কটাক্ষ করে!
তাই আমি চাই,
হ্যা আমি চাই তোমার সাথে কখনওই
আমার দ্যাখা না হউক!

হ্যা আমি চাই অন্তত একবার মিথ্যে
করে হলেও
তোমার সাথে, তোমার দ্যাখা হউক!

আমি চাই আমাদের অদেখা
অথচ
খুব চেনা দেবদারু-রাধাচূড়ার
সারিসারি ছায়ায়,
এক নিয়তি নির্ভর জেব্রাক্রসিং এ,
কিংবা কোনও রাস্তায় কবিতাময়
লিফলেটে
অথবা
কোনও এক ২৩শে পরীবাগের কোনায়
আমার যে তুমি,
কেবলই আমার।
আমার সাথে সেই তোমার দ্যাখা হয়ে
যাক.....
সোয়েব।
দ্যাখা অদ্যাখা কবিতা -২)

Friday, November 13, 2015

বুকেপিঠে

বুকে ইটের শিরায় শিরায় ঘুমঘোর।

মানচিত্রের হৃদপিন্ডে সাদা চাদরে মৃত্যু।

আজ নয়,
নয় কাল,
অথবা,
আগামীকাল...

তোমায় দিচ্ছি
প্রতিদিনের
প্রতিনিয়ত
প্রতিনিধি
"তোমায় ভালোবাসি।"

নোটস

শুক্রবারটা তুমি বের হওনি কখনওই নাকি কেবল আমার ক্ষেত্রেই এই বাধা বিপত্তি তা জানিনা।

শুক্রবারের দুপুরে একটা ভাতঘুমে, তোমার বুকে আঁকিবুঁকি সোনালি সময়।
তখন,তখনও কিন্তু জেগে থাকে সাহিত্যের প্রহরী।
জেগে জেগে অন্তঃমিল,ছন্দমিল,শৈলী কতকিছুই যে খোঁজে তারাই কেবল জানে।
আর
আমি, আমি একে দেই চার শব্দ ভালোবাসি।

তাদের নিয়ে আমি মাথা ঘামাইনা।
আমি তোমায় ভালোবাসি,তোমার সাথে বলে দেয়া আমার কোনো কথাই পরিকল্পনামাফিক হয়নি। যা ইচ্ছে হয়েছে বলেছি। আমি বিশ্বাস করি ভালোবাসা কোনো পরিকল্পনায় হয় না।

"এইযে তুমি দাঁড়িয়ে ভাবছো অথচ তোমার পাশে অথবা সাথে আমি ছাড়া,কোথাও কেউ নেই।"

Thursday, November 12, 2015

মৃত্যু

পৃথিবীর সব্বাই জানুক মরে গ্যাছি আমি।
কেবল,
হ্যা,কেবল তুমি জেনে নাও আমি আছি,থাকব এবং ছিলাম।
তোমার ঠোঁটে - নাকে- মুখে
হয়ে তোমার বুকের ঘাম।
আমি বেচে থাকবো আমৃত্যু; তোমার
আমি অস্বিকারের ভেতর।

Wednesday, November 4, 2015

বেশ্যা কবি

শুরুটা হয়েছিলো রক্তে রঞ্জিত মানচিত্রে শুয়োরের আস্ফালন শীর্ষক কবিতায়।

মাঝে একটা অন্তর্জালে প্রচ্ছন্ন ৫৭
ধারার চোখ রাংগানো।

তারপর আমার বিছানায় সব গ্রীক
নাহঃ
সব ১০ টাকার সাহিত্যবিশারদ বেশ্যা
আর রাত্রিযাপন এর সব্যসাচী কবিতা।
অতঃপর শিরোনাম পাল্টে"দ্যাশে আজ
দুগ্ধপোষ্য শান্ত্রিসেপাই "
একুশে পদক সে বগলদাবা করেছিলাম
মনন্ত্বর এর বছর।
তারপর নতুন কেউ লিখতে চাইলে আমি
বলি এটা হয়নি,ওটা হয়নি।
সাহিত্যপাতার দখল আমার শিষ্য সব অ-
কবি বৃন্দ।
বাংলা একাডেমি তা ভাড়ের
আড্ডাখানা।
শুক্রবার শিল্পকলায় বোদ্ধা চর্বিত জন্ম।
সরকারি পৃষ্ঠপোষক আমার শব্দের।
তাই,
এখন লক্ষ্য "নো-বেল"
সেই স্থিরতা নিয়ে কবিতাংগনের
অভিভাবক সেজে,
এর ওর স্তন ঘেটে যোণী ঘুটে লিখে
দেই
"Infact The Nonsense Are More Happy"
প্রতিবাদ করলেই দ্যাখে নিবো
কিভাবে পুরস্কার পাও তুমি!!
শালা,যত্তসব!

Monday, November 2, 2015

রুমির চিঠি

ফ্লন এর ৩৪ নং হাইওয়ে এক্সিট,
বেরিয়ে স্টকহোম এ যাচ্ছি আমি।
নভেম্বর এখানে শীত নামিয়ে আনে।
গতকাল ডাকবিভাগের ভুলে গতমাসের
চিঠি হাতে পেয়েছি!দ্যাশ থেকে
আসা চিঠিগুলোর বুক থেকে আগে গন্ধ
নিয়ে নেই আমি।অজান্তেই নিজের;
লিখতে লিখতে গন্ধ ছড়িয়ে যায়
চিঠির প্রতি শব্দে।
২০১২,০২ নভেম্বর আজ,চিঠি পড়'তে
পড়'তে স্নায়ু সিথিল হয়ে যায়। উড়িয়ে
দেই প্রথমবার প্রিয়তমা বাংলাদেশ
তোমার চিঠিটা।তোমায়
ভালোবাসি বলে গ্লাস ভর্তি রক্তমদ
আর এফ.এম রেডিও জুড়ে আমার
ধুমপানের গল্প। বুকজোড়া সরকারি মর্গ,
চোখজোড়া শ্মশানঘাট, নিঃশ্বাসে
রেলপথ আর সদ্যবিদায়ী ট্রেনে
হাহাকাররত কুলিমজুরের ক্রমাগত
হট্টগোল। বুকের ঘাম হতে চাওয়া আমার
চোখ জোড়া নদী;ক্রমাগত বহতা যে
নদী তা উন্নয়ন নামক
কথায় রং মেখে মৃত্যুফাঁদ।
তখন তুমি,হ্যা,নার্সিসাস তুমি ব্যস্ত!
আমি অসহায় করাতকলে কাটা পড়তে
থাকি,
তখন পকেটে আমার শেষ মার্সেনারী
কবিতা,
১৬টাকা মাত্র!নির্ধারিত মুল্য।বুক
পকেটে মৃতপ্রায় বসন্ত, ২১পয়সা!ব্যাক
পকেটে জীবনমৃত পুর্নিমা রাত!
অথবা,তুমিহীনতার ফটোগ্রাফে সুইডিশ
ক্রোনা সরিয়ে শুন্য মানিব্যাগ!
গাড়ি চলছে ১৩০ কিঃমিঃতে।
জানো ক্যানো উড়িয়েছি চিঠি
তোমার?আজ চিঠির বুকে তোমার
অপছন্দের আমলকী গন্ধটা জানিয়ে
দেয়,কেউ একজন তৃতীয় পুরুষ ছুঁয়েছে এ
চিঠি।
"কে ভেতরে?" পকেটের দরজায় একটা
ছোটগপ্পো আর উপন্যাসের অনিবার্য
কড়া নাড়া! আমি হেটেই দরজা খুলি
আর ফ্রিজের দিকে মুখ ঘুরিয়ে
"নানারকম স্বপ্নের বেচে থাকা"
অনুষ্ঠান আনন্দঘন উদ্বেগে,
অন্যকেউ ঢুকে পড়ার আগ পর্যন্ত দ্যাখতে
থাকি। দ্য ব্লু অতি রোমাঞ্চে,স্নায়ু
সিথিলতায় অচেনা ঘরে হঠাৎ ঘুম।
মাথার ভারে তুলোধুনো বালিশ।
বিছানায় গড়াগড়ি মৃত্যুদর্শি
একাকীত্বে রাত ফুরোলেই ভোর।
অথচ প্রিয় একমাত্র প্রেমিকা
আমার,প্রিয় স্বদেশ তোমার বুকে
হায়েনার বসত।
আগাছায় ভরে গ্যাছে বনভুমি।এই
শোকার্ত অঞ্চলে কেবল গভীর হয় রাত,৬
পেগ ভদকায় উড়াতে বিশ্বসংস্থার
অনুমোদনহীন শীতকার আমি আমাকে
টেনে হিচড়ে সরকারি বেশ্যালয়ে
ঢুকাই।
শুয়োরের সাথে মোকাবেলাটা
নাকি কিছুটা শুয়োর হয়েই করতে হয়।
তবে জেনে রাখো আজ থেকে আমলকী
আর ভালোবাসায় তীব্র অরুচি আমার।
হৃদয়নগরে রিফিউজি অনাহারী অনাহুত
শিশুর আর্তচীতকার আর কিশোরীর
আরক্তনয়ন শুদ্ধ ফিনাইলে ধুয়ে মুছে
কেবল রতীক্রিয়ার উচ্চ মার্গীয়
আন্তর্জাতিক লোকজ বিশুদ্ধতম শব্দভার।
প্রিভিয়াস চ্যাপ্টারে
প্রিভিলেজপ্রাপ্ত "তুমি"; নেক্সট
চ্যাপ্টার জুড়ে অকাল প্রয়াত হেমন্তের
ফসলহীন রুক্ষ বুক।
সোয়েব মাহমুদ।
২০১২ এর পথচলতি চিঠি।

Friday, October 23, 2015

আমি জানি,

আমি জানি,আমার তখন ১৩...
আমি জানি,এটা নিশ্চিত জেনেই জানি।
অনেকেই ঘটনা থেকে,
ঘটনার রটনায় মনোযোগী ছাত্র!
আমি জানি,যখন আমি আমার শৈশবের রং হারাচ্ছিলাম তখনকার গল্প।
আমি জানি যখন শিক্ষয়িত্রী কর্তৃক আমি ধর্ষিত হচ্ছিলাম
তখন কোথাও সাইরেন বেজে উঠেনি।
বাজেনি করুন বিউগল
অথবা
নতর্কীর উদ্দাম নৃত্য আমার শরীর উপকুলের,
শব্দহীন কর্পুরে উড়ে যাচ্ছিলো শ'বে!
কারন নারী মাত্রই ধর্ষিতা!
ধর্ষক!! হয়ত কখনওই নয়!

আমি জানি,কিভাবে আকাশ বারান্দায় নামে?
আমি জানি,সন্ধ্যেটা কখন চোখের পাতায়?
আমি জানি,নরকের মেঘ মাথায় নিয়ে কিভাবে তুমি যুদ্ধাগ্রস্ত?
আমি জানি,এ শহরের কোন কোন ঘরে ঈশ্বরের যাতায়াত?
আমি জানি,তিনি অবৈধ কোথায়?

রেডিওতে চলছে দিনিবদলের গান,
মুষ্টিমেয় উন্নয়ন,
অরাজকতার শ্রেণীবিন্যাস,
আমি জানি,নারী তুমি বড্ড ক্ষুধার্ত।
পিপাসার্ত তুমি রক্ত উপাসনায়!
আমি এও জানি,
তুমি পেছনে ফিরে তাকাবেনা,
আমি জানি, তাকালেই তুমি বন্দী;আমার চোখে।
আমার নখে,
ঠোটে,
বুকে,
অথবা
আমাদের অতীতের সিড়িঘরে।

আমি জানি, আমি মরতে শিখে গ্যাছি রোজকার নিয়মে।
আমি জানি,তখন আমি ২৩..
আমি জানি,দুঃস্পর্শ রাত্রিতে হয়ত আমি ৩০...

হয়ত,
আমি জানি, ১৩ বা ২৩ অথবা ৩০ যা'ই হউক না ক্যানো?
পুরুষ কখনওই ধর্ষিত নয়,তোমার টি.আর.পি সময়ে।
কিংবা
হয়ত
পুরুষ,মানুষই নয় অথবা ছিলোই না।

এবং আমি জানি,২০১৫ তে টিভিতে এক শোকাবহ স্যাটায়ার!
যেখানে মৃত আত্মায়..গুলি চলছে।

Thursday, October 22, 2015

কি হয়?

ভালোবাসি বলে গ্লাস ভর্তি রক্তমদ
রেডিও জুড়ে আমার ধুমপানের গল্প।

"থামো"

বুকজোড়া সরকারি মর্গ,
চোখজোড়া শ্মশানঘাট,
নিঃশ্বাসে রেলপথ,
সদ্যবিদায়ী ট্রেনে হাহাকারের কুলিমজুর
আর তাদের ক্রমাগত হট্টগোল।

এসব কথায় যখন রং মেখে তুমি ব্যস্ত!
তখন পকেটে আমার শেষ কবিতা,
১৬টাকা মাত্র!
বুক পকেটে মৃতপ্রায় বসন্ত,
২১পয়সা!
ব্যাক পকেটে জীবনমৃত পুর্নিমা রাত!
অথবা,
তুমিহীনতার ফটোগ্রাফে শুন্য মানিব্যাগ!

"কে ভেতরে?"
পকেটের দরজায় একটা ছোটগপ্পো,
আর অনিবার্য কড়া নাড়া!
আমি হেটেই দরজা খুলি।
আর ফ্রিজের দিকে মুখ ঘুরিয়ে
"নানা রকম স্বপ্নের বেচে থাকা"
অনুষ্ঠান আনন্দঘন উদ্বেগে,
অন্যকেউ ঢুকে পড়ার আগ পর্যন্ত দ্যাখতে থাকি।
দ্য ব্লু অতি রোমাঞ্চে,
স্নায়ুসিথিলতায় অচেনা ঘরে হঠাৎ ঘুম।
মাথার ভারে তুলোধুনো বালিশ।
বিছানায় গড়াগড়ি মৃত্যুদর্শি একাকীত্বে
রাত ফুরোলেই ভোর মৃদু কাপড়ে কাঁপতে  থাকে।

Thursday, October 1, 2015

মেয়ে,হাটতে শেখাও

মেঘের মেয়ে, মুখটা তুলে ধরো তোমার।
তাকাও আকাশে,বেদনার্ত খয়েরী
বিকেলের আকাশটায়।

পড়ন্ত নষ্টালজিক রোদটা ছাদে যে ভালোবাসাধীকার আদালত
বসিয়েছে,সেখানটায় দাড়িয়ে একটা
শৈশব বাঁচতে চায়।

তোমার ঠোটে একে দিতে চায়
লক্ষবছরের বঞ্চিতের ইতিহাস।
জাতিসংঘ বাদ দাও,
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার টেবিল-
চেয়ার ছুড়ে ফেলে দাও।
বৈশ্বিক নগরায়ন বন্ধ করে,
চোখে চোখ রেখে
কেবল আমার বুকে হেটে যাও,
আমায় হাটতে শেখাও।

কবিতা নাকি কোবতে

কবিতা- ৫৭ ধারায় দেশ

ভালোবাসার চশমায় কুচকাওয়াজ,চলছে।
জানলায় উকি দেয়া ভোর মিশে যায় বুলেটের ঝাঁঝালো গন্ধে।

বেশি নয়,খুব বেশি নয় শোক জ্ঞাপনের জন্য।
মাত্র ৫টা লাশ,মায়ের আব্রু হরনের প্রতিবাদে!
সফল নিরাপত্তা রক্ষা বাহিনী!
শুয়োরের পাল বাঁচাতে।
শুনলাম বেয়াই নগরে, নগর পরিকল্পনায় ঠাই পেয়েছে ষ্টেডিয়াম!

ডুয়েলিটি অফ ডেমোক্রেইজি  অথবা
ইভিনিং উইথ আ হোর!
ধ্যাতছাই।

কফির পেয়ালায় চুমুকে চুমুকে গোপন মিটিং!
আন্তর্জাতিক মহলকে জানানো হবে গর্ভধারণের হার কমেছে ২৭.৩%...!!
অথচ বড় বোল্ডে,
জনগন জানবে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুহার
কমেছে।
আসবে অভিনন্দন।
ভেসে যাচ্ছে গনতন্ত্র!
দেশ এগুচ্ছে লাল হয়ে যাওয়া ভুমিতে!
বিশেষ মহল কর্তৃক ষড়যন্ত্র;নস্যাৎ -
শিরোনামে অন্তর্বাসের দৈনিক!

ঠুঁটোজগন্নাথ আপনি, হাসালেন।
যাক তাও হাসাতে পারেন।
জানেন ক্লিভেজ স্বর্বস্ব গনতন্ত্রে এটাই একমাত্র সফলতা আপনাদের।
দেশ,তুমি এগুচ্ছো কিন্তু বড্ড বেশী
তাড়াতাড়ি!

তোমাকে চাই এক্ষুনী

কোথাও যাই না --
ধোঁয়া ওঠে, রোড ব্লক অথবা পুড়ছে হৃদয়!
কোথাও যাই না.....
অধ্যাদেশের ভুল শব্দ,
আর
নাগরিক কোলাহলে স্তব্ধতা।
অথবা বিউগলে বিগরে যাওয়া সুর!

কোথাও যাই না, যাই না তোমায় ছেড়ে।
সব'তো নষ্ট হলোই,বেচে গ্যালো কেবল তোমাতে যাওয়া আমার হা হা কা র!

চোখ বুজলেই দ্যাখি উড়ে যাচ্ছে,
উড়ে যাচ্ছে সবটাই,
ডুবে যাচ্ছে ভালোবাসা,
তোমার অকার্যকরী সিদ্ধান্তহীনতায়।
উড়ে যাচ্ছে আদরের সকল সম্পর্ক।
তোমার মস্তিস্কে নিরুপায় আমি পেনশন সময় পার করছি!

হ য ব র ল - আধুনিকতায় সেদ্ধভাতে আলু
পোড়া।
বৃষ্টি ভিজে ছিড়ে যাওয়ায় শেষ হয়
নিউজপ্রিন্টে লেখা কবিতা-
তোমাকে চাই,এক্ষুনী!

প্রটোকল, নাহ!

দ্যাখো,
ভালোবাসার কাছে বিক্রি হয়ে গ্যাছি আমি, নামমাত্র মূল্যে।
বড্ড সস্তার রাস্তায় পাওয়া জামা- জুতোর মতন।

দ্যাখো,
একপেশে স্মৃতির ভারে থেমে গ্যাছি,
রুলটানা খাতার মাঝখানের স্পিডব্রেকারে।
শোনো,
কোনো দুঃখ ব্যক্তিগত নয়,কেবল ভালোবাসার ছুরিকাহত আমি মরে পরে থাকি ক্যালেন্ডারের সান্ধ্যকালীন অন্ধকারে।
এগুনো হয়না,পেছানো যায়না।
কেবল অপেক্ষায় স্থির লাশ হয়ে প'রে থাকা
শ'ব জেনো!

জানো,
সমুদ্র আর আমি বদলাইনি একফোটাও,
নোনা স্বাদ আমাদের গাল বেয়ে বুকে নেমে আসে।
কেবল, জন্মান্ধ আমি দ্যাখিনি তোমার
চুলের রাংগা বিকাল, কখন আমার কষ্টে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গ্যাছে।
পশু অধিকার আইনে বিকিয়ে যাচ্ছে প্রেম!
ভালোবাসা যাদুঘরে স্মৃতির সেমিনার!
তাই বাবু নিয়ে টানাটানি স্মৃতি সকল
সরে দাড়াও,প্রটোকল মেনে নাও,
আজ আমার যাবার সময় হয়েছে।

আলবাত

তোমার সময় হয়নি,তাকাবার।
তোমার ঠোটে ঠোট রাখতে না পারার
সাইড এফেক্টে গৌরীপুর জংশনে
নষ্ট হয়েছি;গতরাতে।
তোমার মিথ্যেগুলোর জ্যামে প'ড়া!
সত্যলুকানো আন্ডারপাসের মরিচীকায়!
আর কত?
পত্রিকার পোট্রেটে স্থান বদলাবার বাস-স্টপেজ।
শুন্য,এক বিশাল শুন্য দ্বীপ।
পুনর্জন্ম নিতে পারি,
সমুদ্রের বুকে বুলেট জর্জর সূর্যাস্তে।
অপেক্ষার অশুথ গাছ এড়িয়ে শুভ্র গাংচীলের ডানায় নিয়ে "ভালোবাসা".....
যদি তুমি চাও।
এবার তোমার পালা,
ডাকবে তুমি, আমায় এবার।
অনেক আমি চাইলাম,কাঁদলাম..
অপমৃত্যুর মৃতদেহ বয়ে বেড়ালাম ৭৩২দিন,
৩লক্ষ ৪৫ হাজার মাইল আকাশে।
এবার তোমার চাইবার পালা,
এবার ঈশ্বর বল ঠেলে দিলেন তোমার পায়ে।
প্রজাপতি রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষায়..
একটা ছিন্নমূল লাল,সবুজের করিডোরে।
কিন্তু,
যৌবনবতী নদী,একটু সামলে!
বেসামাল হলেই হয়ে যাবে ভোগ্যপণ্য
মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সুচকে!
এবার তুমি চাইবে,
হয় আমায়,
না হয় মৃত আমার অবহেলিত মৃত্যু
তোমার বুকে।
অনেক লুকিয়েছো,
অনেক পালিয়েছো,
এবার শেষ দৃশ্যে লম্বা টানে "সমাপ্তি"
আলবাত!

উটকো চব্বিশ সেপ্টেম্বর

"
---তোর ভাইয়ার দুইদিন পর পর কিসের
জ্বর হয় এত?

---জিজ্ঞেস করোনি,আমিতো জানিনা।

-- হবেই তো অফিস শেষে বৃষ্টিতে ভিজে হাটেন উনি,পরীবাগ-বেইলীরোড। আর উনি উত্তর দিয়েছেন কবে কার!

---কিছু বলনি?

--- বলিনি আবার! জিজ্ঞেস করতেই বলে " ঘরকে পথভুলে যাওয়া রাস্তা চিনায়ে বাড়ি নিয়ে যাবো।" আচ্ছা, তোর ভাই কি পাগল ধরনের?

--- হি হি হি, পাগল ধরন না আপু। পুরাটাই পাগল!"

অবশেষে, পাগল ভাইয়া মারা গ্যালো ৩৪
দিনের মাথায়,শেষ দেখায় একটা চীরকুট দিয়েছিলো।

--এই রিকশা যাবে, পরীবাগ।

বলেই উঠে পড়ি,খুব ক্লান্ত লাগছে। কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব ;চিৎকার করে। কাঁদতে কাঁদতে শহরবাসীকে জানাতে ইচ্ছে হচ্ছে "জানেন,এই কিছুক্ষন আগে আমার ভাইটা মারা গ্যাছে। বুকের ভেতর অভিমান ছিলো, ভালোবাসার জ্বর ছিলো। তার ভেতর এক যুদ্ধ ছিলো।যুদ্ধ বিমান ছিলো। জানেন গত তিনদিন নিয়মবহির্ভূত বৃষ্টি কার জন্য আর রোদ আজ এখন ক্যানো!সব নিজের চেয়ে বেশী ভালোবাসা এক পাগলের বিদায়ে।"

পুরো শহর পরিস্কার হবে,মুছে যাবে কান্নার দাগ আজ।কেবল বোনের সাথে তার ভাই থাকবেনা এ শহরে। কেবল বোন কে নিয়ে ভাইটার রিকশাভ্রমন থাকবেনা,থাকবেনা নিস্তব্ধতায় হঠাৎ হো হো হো করে বিকট সহজ সরল অথচ পিলে চমকানো হাসি।

"
মেঘের মেয়ে,
বাজ পরে পুড়ে যাওয়া বুকের দরজা
'হাট' খুলে যাওয়াটা ছিলো আমার ভুল।
গুইসাপ ঢুকে পড়ে ভার্মেলিওন এফেক্টে। শান্ত নিউরনে অশান্ত সুনামী নিয়ে আসে Head Game এর ক্যান্সার।
হৃদয়ের নগরে তোমার।
তারপর সময় বয়ে দুটো
শরীর দু-দিকে আলাদা।
একই শহরে
একই আকাশে
তুমিময়তার পথঘাটে,
তুমিহীন বেচে থাকা।
এর থেকে
মৃত্যুই শ্রেয় বুঝে নিলাম আমি।
ভালোবাসায় কারন খুঁজতে গিয়েই
ফিকে করে দিয়েছিলে লাল
হৃদপিন্ডের জমাট ভালোবাসা.......!"

আর পড়িনি ভাইয়ার চীরকুট, ছিড়ে ফেলে উড়িয়ে দেই। এই চীরকুট পৌছানোর কথা ছিলো কি কোথাও?

মনে পড়েনা আমার। যে মানুষ জীবিত ভালোবাসাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে গ্যাছে, প্রেমিকের মৃত্যু সংবাদ আর চীরকুট তার জন্য নয়।সবুজ গাছটার লাল কৃষ্ণচুড়া তার জন্য নয়!

ভাইয়া তুই যাচ্ছিস আকাশে অন্তত আকাশ হউক প্রিয় ডাকবাক্স তোর।
এবার শেষ হউক ১৮৫৭ সালের নোনাধরা বিনাশের চিঠি।

প্রকৌশলী যখন দাবার ঘরে

একঃ
প্রকৌশলীর ব্যর্থ প্রকল্পে 
প্রিয় ফটোফ্রেম থেকে মুছে দিচ্ছো ছবি তোমার।
ভুলে যাচ্ছো তুমি ঈশ্বর প্রেমিকা।
ভুলে যাচ্ছো মুছে দেয়া দাগ স্পষ্টতর
হয়,বিগত দিনের শোক সভায়!

দুইঃ

আমার নাম কে রেখেছিলো?
কিংবিদন্তী আকাশের গায়ে হলুদ আজ।
মেঘের টার্মিনাল শুন্য এ প্রশ্নে!

তিনঃ
আমাকে সাপ-লুডু খেলা শিখিয়ে ফেললেই।
গান্ধীর তিন বানর আজ পোয়াতি গাভী!

চারঃ
--কি দ্যাখো?
-- কিছুনা,
-- সত্যি করে বলোনা, কি দ্যাখছো?
-- ছাদে দাড়িয়ে আকাশ দ্যাখা লালটিপে আর শাড়িতে এক অনন্য মুখচ্ছবি দ্যাখি আমি।

পাঁচঃ

বঞ্চনার ইতিবৃত্ত যদি প্রেম হয়,
তবে থাকুক ওরা তোমার হয়ে আমার বুকে।
আমি প্রার্থনায় যাতে শীতলক্ষায় যাতে কোনো অপেক্ষার রাত না ফুরায়!


ছয়ঃ
কেউ আছেন?
চেইন টেনে ট্রেনটাকে থামিয়ে দিন
না প্লিজ!
হৃদয় মিস করলে হেরে যাবো যে!
গৌরিপুর জংশনে মিথ্যের ডানায় ভর
করা মেয়ে ভুলেই গ্যাছে"
একবার ভালোবাসি বলার পর
সমস্ত না বলা কথাই বলা হয়ে যায়...



২৭শে সেপ্টেম্বর

দু-বছর আগে ঠিক আজকের সময়টায় একটা sick leave. সরকারী চাকুরী থেকে
ইস্তফা,কিছু তথ্য গোপন করা হয়নি বলে।
তারপর চাকরীর বদলে বউ খোজা,যেটা
সহজ!! অপেক্ষা,এক ফেসবুক টেক্সট এর seen হওয়ার।মাঝে মধ্যে Others Message এ উটকো বন্ধুত্বপুর্ন পরামর্শ।
এবছর হঠাৎ ১৭ এর কেক-কাটা বুমার'স যাকে জরিমানা করা হয়েছে খাদ্যমানে ৬৯% ভেজাল ব্যবহার করার দায়ে।

ঘরে বেগুন ভর্তা আর ভাত আর ডালের
চচ্চড়ি। সাথে মুরগীর ভুনা চলে যাচ্ছে
দিন। ২১ শে আবার রং নাম্বার,২৪ শে
দ্যাখা এক ডাকনামে। অতঃপর Cadbury
Aclay ওয়ান বাইট, কিছু মেগা পিক্সেলে ময়মনসিংহ।

এক জাদরেল টু-ফেইল মহিলার ক্ষমা
প্রার্থণা। মাঝখানে তোমার চুলে হাইলাইট ভারগেন্ডি, কপালে টিপ অদৃশ্যতার প্রতীকে ভালোবাসা। কিছু উচ্চাবিলাসী শব্দ তোমার ঘরটায় ইকোরত, শুনতে না পাওয়ার
ব্যার্থতাটা কি আমার!

২৭শে সেপ্টেম্বরের দুপুরটা রাজউকের ১৩ তলাতে টলারেট আনন্দে, চোখ রাখুন আনন্দপুর Coming Soon.......

প্রলাপ৩

কথা দিচ্ছি কথা, এই সন্ধ্যেবেলায় তোর ভেজা চুলে এক স্পর্শের বিনিময়ে খুন হয়ে যেতে পারি যখন তখন। এই তোর ঠোটে শুয়ে বলছি আমি।

প্রলাপ২

ভালোবাসা কোনো মস্তিষ্কজাত পন্য নয়, যেখানে মস্তিস্ক থাকে সেটাকে ভালোবাসা না বেশ্যাবৃত্তি বলে।

Wednesday, September 23, 2015

একটি খুন

হিসেবটা জানা নেই,আমি দক্ষ্য কোনো একাউন্টেন্ট নই। তবে রাতজাগা ভোর আর মসজিদের আজান হয়ত হিসেব রেখে দিয়েছে।আগে ভোর থেকে সকাল হউক তারপর না হয় মুঠোফোন এর মাউথ অর্গানে জানিয়ে দেবো।

লোকমুখে শুনেছি ভালো আছো তুমি।কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে বিপ্লবী হয়ে জানায় তুমি অনেক উচ্চাবিলাসী অসুস্থ্য। হা হা হা হা হা।........
১১.০২.১৫----

মুকিতের ডায়েরি থেকে আর কিছু পায়না পুলিশ।গতরাতে একটা মেয়ে খুন হয়েছে বনশ্রীতে।পাশেই ছিলো ডায়েরিটা।
নাম লেখা মুকিত রায়হান।

১৭ই সেপ্টেম্বর টা এমন

আমার কপালের ঘাম মুছে দেওয়ার জন্য
কাছে এলে, একদম কাছে। যেখান থেকে তোমার নিঃশ্বাস ডানা ঝাপটে বারি খাচ্ছিলো নাকে-কানে-মুখে আমার..

যেখান থেকে
নিঃশ্বাসের উত্তপ্ততায় গলে যাচ্ছিলোএন্টার্কটিকার জমাট বরফ।
আমি আমার কম্পিত হাত দিয়ে তোমাকে আলিঙ্গন করলাম, কাছে টানলাম,বুকের কাছে। অনিচ্ছেগুলোকে মেঝেতে ফেলে
দিয়ে নিজের হাত আমার ঘাড়ে
রাখলে।ঠোটে বিখ্যাত হাসি তাইতো তর্জনী উচিয়ে থামালাম
ব্যস্তবাগীশ শহর।

প্রথমে আকাশ,তারপর আমি তোমার
মুখের দিকে তাকালাম, চোখে চোখ
রাখলাম। সত্যি কি তুমি ফিরেছো?
হ্যাঁ, তোমার চোখের ভাষা পড়তে
পারছি।চোখের পাতা কাঁপছে না, সেখানে
কিছু একটা আছে, কিছু একটা জমে আছে
জ্বরাক্রান্ত লালচোখ নিয়ে,পাশাপাশি শুয়ে
এক প্রচন্ড আহ্বান, এক প্রজাপতিগুহায়
গুমরে কাদা বহুদিনের আকাঙ্খা।

এই ভাষা,তোমার চোখের ভাষা আমার চেনা আছে, এর অর্থই তো কেবল আমি বুঝি।শান্ত স্তব্ধতায় কে কার দিকে প্রথম এগোলাম মনে নেই তবে দুটো ঠোঁট একটু পরেই একসাথে হলো। তোমার লিপস্টিকের স্বাদ পেলাম,সেই চীরচেনা ঠোটের তীব্র স্পর্শ পেলাম।দু-জোড়া চোখ বুজে আসে,আদরের জ্বরে।
আমি কিন্তু শুনতে পাচ্ছি ঈশ্বর বিদ্যুৎ
খেলছেন আকাশের গায়ে,পৃথিবীটা
আমার ছায়ায় অথবা শরীরে লেপ্টে
থাকা বহুবছরের অনাহারী,
ক্ষুধার্তের,অপেক্ষার তকমা ঝেড়ে
ফেলে দিলো ২০১৫ এর
টোকেনে,তোমার তীব্র
ভালোবাসার রোদ-বৃষ্টিতে.........
আমি আজ কোথাও যাবোনা,তোমায়
কোলে মাথা রেখে লিখবো
ভালোবাসার একমাত্র জয়ী হওয়া
উপন্যাস"তোমায় ভালোবাসি..""

এক...একা

গাঢ় হয়ে আসে আমার এখানে
সন্ধ্যেটা,
বিকেলের ফাক গলে,গ্রীকপুরাণ
অথবা রোমান সভ্যতার বিদায়ী সুর
রোমন্থনে বুকে নির্জলা অন্ধকার
নিয়ে ফিরে আসি ফিরে।
এক----- একা ---- স্মৃতির
ভীড়ে.....একা.....অবশেষে....
ফ্রয়েডিয় অবসাদে!

শিয়রে শুয়োরাধীকার


পত্রিকার পাতা খুলতেই "শুয়োর
সংরক্ষন নীতিমালা।"
জনপদ আজ দ্বিতল গনতন্ত্রে উপভোগ্য
"শুয়োরাধীকার বিল১৫" নাটিকা দ্যাখায় ব্যাস্ত!

পদ্মার জল আজ স্তুতিবাক্যের তেল
হয়েছে বলে তোমাদের সভ্যতার
মার্জিনটানা খাতা থেকে কিছু
শব্দ ছিটকে পড়তে পারে,আমারই মতন
বাইরে।

দুঃখিত,আমি।
শোকাহত,আমি।
বিরক্ত,আমি।
দাও,দাওতো বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষনা
করে।
উপলক্ষ্যতো হাতের মুঠোয়!
প্রশ্নপত্র ফাস ব্যতিরেকে জাতির
মেধা মননশীল হয়না!
৮টার সরকারি সংবাদ --- হেডলাইনঃ
"শুয়োরাধীকার আইন পাশ!
বেশ্যাবৃত্তি জাতীয় পেশা

প্লিইজ,
আমি রক্তাক্ত প্রান্তর চাই,পাপমোচন
করবো।
প্লিইজ,
এক বিপ্লব চাই,
বেহায়া ঈশ্বরের বিরুদ্ধে!
পশ্চিমা আর মধ্যপ্রাচ্যীয় ধর্মগুরুর
বিরুদ্ধে!
এক চিলতে রোদে মায়ের কোলে
ঘুমাবো বলে।

এত উদ্ধত, এত বেয়ারা কে এই আমি?
আমি কি জানিনা মানচিত্রে ৫৭ ভাই!
শোনো
আমি,

আমি আজারবাইজানের সেই শিশু,
যে হাত তুলে নিয়েছে খাবেনা
বলে,ঠোট কামড়ে আকাশে তাকিয়ে
নিস্তব্ধ ছোট্ট কোলে নিয়ে বোনের
লাশ।
আমি বায়তুল মুক্কাদাসের পাশে
রক্তাক্ত কিশোর,প্রানহীন।
দামেস্কে মায়ের বুকে আছড়ে পড়া
বুলেট ঠেকিয়ে,
মায়ের কোলেই শুয়ে থাকা ছিন্নভিন্ন
তরুন।
আমি,
প্রেয়সীর ঠোটে একচিলতে ভরসা একে
দিয়ে হাংগেরীর সীমান্তবর্তী
কাটাতারে ঝুলে থাকা নিঃসংগ
যুবক!
আমি,
সেই ৭১ এ ঈশ্বরের ক্ষমতাহীন ক্ষমতা
দ্যাখবোনা বলে,
মেয়ের ব্যবচ্ছেদকৃত ধর্ষিত লাশের
কপালে আংগুল ছুয়ে,নিজেকে সমুদ্রের
শব্দ থেকে দুরে,অনেক দুরে নিয়ে
যাওয়া বুড়ো সংশপ্তক!

তোমাদের টাকার অহংকার,
তোমাদের সভ্য সমাজে অসভ্য ক্ষমতার
গাছ এখনও লাগানো শেষ হয়নি।

তোমরা জানো কি মানচিত্রে আজ
কতটা শোক?
কতটা বেড়েছে লাশে প্রবৃদ্ধির হার?
এড়িয়ে যাচ্ছো, নাকে রুমাল চেপে।
এড়িয়ে যাচ্ছো, পৃষ্ঠা উলটে,
এড়িয়ে যাচ্ছো, সভ্যতা এড়াতেই
কেবল শিখিয়েছে।
ভালো থাকো তোমরা,
সাবানে,লোবানে ধোয়া-মোছা
তোমাদের সভ্য সকালের হাইজেনিক
রোদে।
# sM !

Saturday, September 12, 2015

মেঘ না হয় এলোই।

লাল-নীলের নোটিশবোর্ড কুয়াশাগ্রস্ত হয়ে
বুকের ভেতর রাত নামায় কখনও বেখেয়ালি সন্ধ্যার ঠোটে নষ্টালজিক দীর্ঘতর চুমু একে।
কখনও মেঘেরবাড়ি কতদুর? প্রশ্নে,
হবে কোনও এক নিষিদ্ধ করিডোরে! উত্তরে।

বাম বুকপকেটের দাসত্বে রাজত্ব করা ভালোবাসায় যা কিছু হারিয়েছে,
তা ফিরে আসার ঈংগিতবাহী সম্ভাবনা
নিয়েই হারিয়েছে।
আর যা হারায়নি ইচ্ছের কোলে তা খুজে পাচ্ছিনা কোথাও?
এ এক অদ্ভুত দুপুরে হ্যালুশিনেশন আমার!

লু-হাওয়া বইতে থাকা অপেক্ষায় উদভ্রান্ত
শহরে,সমুদ্র হঠাৎ হঠাৎ কিছু "আত্মহত্যা"
পাঠায়।
এক তরুন সযত্নে রি-ফর্ম করে তা কাঠগোলাপে ধরে রাখে।
নষ্ট হয়না,পচে যায়না।
শহরের বিগতদিনের গল্পে উকি দেয়া
বিকেলের একচিলতে সোনা রোদে
প্রেমিকার খোঁপায় নীল বর্নের ইচ্ছে হয়ে কেবলই  ঊড়ে।
ঠোটের চলতি ধারাবিবরণীতে সুখ হয়ে ভাসে আদরের রিকশায়।

আর ছন্দপতনের বর্তমানে,
সম্ভাবনাময় সংসারে কথা ছিনতাই হয়ে যায়।
অথর্ব ষড়যন্ত্রের ভোতা ছুরিতে ছুরিকাহত প্রেমিক বেপোরোয়া ঈশ্বর হয়,
হয় অবাঞ্চিত নাগরিক নিজ শহরে।
পেপে গাছটার সবুজ পাতার ব্যাকসিটে কালোধোয়ার খেলায়।

শহর সীমান্তের বাইরে একদিন শেষরাতের পানশালায় মশালের আলো দ্যাখা যায়,
নিভে যাওয়া সিগারেট হাতে কেউ দুর থেকে দ্যাখে শহরজুড়ে লাল পিপড়ের মচ্ছব,
মিছিলে মিছিলে অপাংক্তেয় শ্লোগান,
ব্যানারে সাঁটানো নতুন পাঠ্যসূচী।
খেয়ে নিয়ে সুর্যোদয়ের প্রহর।

নতুন সামাজিক চক্রান্তে উদ্ধ্যত শকুন আশাবাদী দেয়ালে লিখে দিতে চায়
"কেউ কথা রাখেনি" অথচ এটা ইতিহাসের নোংরা মিথ্যা!
এইতো,ছাদে বৃষ্টি ভেজা বৃদ্ধ চারপেয়ে চেয়ার কথা রেখে এখনও দাড়িয়ে ঠায়।
কথা রাখতে এখন মনখারাপের দিন রাতে বৃষ্টিতে ডুবে যায় পাপের জনপদ!

এভাবেই হয়ত শেষ হতো,কিন্তু পান্ডুলিপির রচয়িতা তো "মহান ঈশ্বর".....
ক্লান্তির শেষসময়ে অবশেষে দ্যাখা মিললো,
দ্যাখা হলো শেষমেশ,শব্দটার সাথে।
ভালোবাসার বিছানায় অত্যধিক কম সংখ্যক গ্রামের বিশ্বাস পাশ কাটিয়ে,
শহর বোঝাই "আন-ইথিকাল" কামের ঘামে
নেশাতুর গনিতের ১+১=৩ ভুল ব্যাখ্যার জবুথুবু ডাষ্টবিনের উপরে সোডিয়াম হয়ে ঝুলছে,দ্যাখো যে শব্দের জন্য এত রক্তক্ষয়। সেই "পরাস্ত....!"

Featured Post

দ্যাখা অদ্যাখা কাব্য ১-৩

দ্যাখা – অদ্যাখা কাব্যঃ  ১ আমি চাই তোমার সাথে কোথাও কখনোই আমার দেখা না হউক, আমি চাই, প্রানপনে চাই। তাই এড়িয়ে যাই, তোমার হাটা পথ...