Search This Blog

Tuesday, December 11, 2018

নন্দীনি


  “ এই, এই রিকশা যাবে?”

দুপুরের নির্জনতা খুন কোরে খুনী তুমি নীল শাড়িতে দাঁড়িয়ে।
মনে আছে, মনে আছে তোমার?
হয়তো ওখানেই শেষ হতো, শেষ হতো আমাদের।
হয়ত ওখানেই থেমে যেতো সবটুকুন।
তুমি হয়তো জানতেই না, 
তোমার পথ চলতি পথে নিরীহ সম্বোধনে
থেমে গ্যাছে প্রেমিক এক।
হয়তো এভাবেই পৌঁছে যেতে তুমি তোমার গন্তব্যে,
হয়তোবা জানতেই না পৌঁছে যাওয়া মানেই বুকের ভেতর নিঃস্ব নালিশ।
ঠিক তখনই তোমার কল্পনার অধিক বাস্তবতায় হঠাৎ বৃষ্টি।
ভেজা চুলে তুমি এসে দাঁড়ালে পাশে আমার।
আমি থেমে যাই,
নির্বাক মুগ্ধতায় নিতে থাকি তোমার সোঁদা গন্ধ।
আমি দেখতে পাচ্ছিলাম,
দেখতে পাচ্ছিলাম তোমার গাল বেয়ে ভালোবাসার রেলিঙে বৃষ্টির ফোঁটা।
আমি ডুঁবে যাচ্ছিলাম মাদকতায়।
তোমার চুল, চোখে, নাকে , ঠোঁটে।
আমি লিখে দিচ্ছিলাম বুকেতে “ ঘর, বাড়ি যাচ্ছে।”
হঠাৎ সম্বিত ফিরতেই দ্যাখি নেই তুমি।
এদিক ওদিক কোথাও নেই?
অদৃশ্য তুমি ছায়ালোকে।
না পেয়ে তোমায়, আমি দাঁড়াতে থাকলাম।
দাঁড়াতে থাকলাম সেখানে, 
যেখানে আজ থেকে ঠিক একশত দিন আগে

“ এই, এই রিকশা যাবে?”

ডাকটায় এক ছিপছিপে নৌকোর নাম দিয়েছিলাম নন্দিনী!

Monday, December 3, 2018

চশমা













ডাক্তার বলছিলো কাছের দৃষ্টি ধ্বসে গ্যাছে আমার-


আমি বুঝে উঠতে পারিনি,


একদিন ঘাম মুছে দিতে গিয়ে


তোমার আঁচলে তুমি কপাল থেকে আমার


মুছে দিলে তোমাকেই বড্ড যত্নে, আদরে।






আমি টের পাইনি- ।


অবশ্য ডাক্তার বলেছিলো আগেই আমাকে,


কাছের দৃষ্টি কমে গেছে বড্ড " চশমা নিয়ে নিন মশাই।"






Friday, November 2, 2018

দ্যাখা অদ্যাখা কাব্য ১-৩



দ্যাখা – অদ্যাখা কাব্যঃ ১


আমি চাই তোমার সাথে কোথাও কখনোই আমার দেখা না হউক,
আমি চাই, প্রানপনে চাই।
তাই এড়িয়ে যাই, তোমার হাটা পথ
এড়িয়ে যাই পরীবাগ, মালিবাগ,বাসাবো এবং ছায়াবীথি।
এড়িয়ে যাই প্রানের শহরটাও।
এখন বুঝবেনা তুমি,
যে তুমি ভালোবাসা মাড়িয়ে হেটে গ্যাছো,
যে তুমি অস্বীকার করে পালিয়েছো ভালোবাসা থেকে,
যে তোমায় ইতিহাস মনে রাখবে হত্যাকারী,ভালোবাসার!

সেই তোমার সাথে আমার কোনো কথা নাই।
তুমি আজীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী ভালোবাসার,
বন্দীত্ব তোমার সোনার খাচায় আর কৌশলী ভিড়ে।

আমি চাই 
তোমার সাথে এ জন্মে আমার আর দ্যাখা না হউক।
আমি চাই আমার সাথে একবার, তোমার দ্যাখা হউক।

আমি চাই একবার,
এককাপ ধোয়া ওঠা চায়ের কাপে,
চোখে চোখ রাখা আমার তোমার দ্যাখা হউক।
আমি চাই একবার,
তুমি আমার চোখে চোখ রেখে দ্যাখে নাও 
আমি তোমাকে, আমার চোখে 
তোমাকে কিভাবে দ্যাখি?
একবার দ্যাখা উচিত তোমার।

মিথ্যা ঠাস-বুনটের শহরে আমি চাই, একবার
আমার সাথে তোমার দ্যাখা হয়ে যাক।
আমি শুনতে চাই আমার তুমি কি বলো আমায়?
আমি দ্যাখাতে চাই তোমায়, আমার অস্তিত্ব।
আমার জন্ম-মৃত্যুর পরিসংখ্যান,
আমার প্রতিমুহুর্তে হারিয়ে ফেলা নি:শ্বাস,
আমার বেগুনি পদ্ম, তোমার রংমেশানোসত্য।
আমার সান্ধ্যকালীন ফটোগ্রাফ কি বলে তোমায়?
আমি চাই, হ্যা হ্যা হ্যা আমি খুব করে চাই।
আমি চাই তোমার সাথে আমার দ্যাখা না হউক।
আমি চাই আমার সাথে একবার তোমার দ্যাখা হউক।
দ্যাখা-অদ্যাখা কাব্যের শেষ হউক,অন্তত।


Sunday, June 3, 2018

ছোঁবো

ঢেউ নৌকা হয়ে ফিরে আসে জল- প্রতিবাদে।
উদোম দরোজায় নজরবন্দী ছায়াছবি হাটছে পৃথিবীর পথে।
সামুদ্রিক বর্ণিল মাছ,
ঘুমপাড়ানি পাখি,
অন্ধকার নির্ঘুম রাত আলুথালু চুলে
সবটুকু ঢুকে পড়ে মিথ্যে মিথ্যেয় হারিয়ে যাবার হা...

অথচ
কথা ছিলো এমন, আমি তোমাকে পাঁজাকোলা করে
হেটে হেটে যাবো কেটে কেটে অন্ধকার।
কথা ছিলো বুকের জানলায় মুখ রেখে দেখে নেবো
পাখি। অথবা মেঘমালা - কপালে একে দিয়ে শতাব্দীর ক্ষরায়
ক্ষুধায় মৃতপ্রায় বলিষ্ঠ- দীর্ঘকালীন - সুতীব্র চুম্বন।
আর পায়ের পাতায় লিখে দেবো তোমাকে; রক্তজবার রঙ -এ।

কথা ছিলো-
আমাদের প্ররোচিত দেয়ালে আমি তোমাকে চেপে ধরে বিলীন হবো
নাভিদেশ উন্মুক্ত নরোম ঘাসের মাঠে।
অথচ দ্যাখো আমার একটি আঙুলও আর অবশিষ্ট নেই।
আর! আর ভাবি আমার তো তোমাকে ছোবার কথা। বোকার মতন।
অপেক্ষারত প্রেমিকের মতন আমার তো গলে গলে যাবার কথা,
তোমার ওইকান্তিক ইচ্ছের ঘুলঘুলিতে।

অথচ তোমাকে ছোঁবে তো ছ ' আঙুলের হাতখানা।
যাদের একজন বিকলাঙ্গ, অনুভূতিশুন্য।
চোখের ভেতর জন্ম দিয়ে লেবুগন্ধা রাত
পাঁজরে জমে থাকে আনরিকনসাইল্ড এন্ট্রি।
একাকীত্বে ডুবে যাবে আরো একটি কণ্ঠস্বর।

Tuesday, May 8, 2018

আজ পঁচিশ বছর,

পদ্যলেখক, বুঝলে - এতটা না করলেও হতো।

আমিতো বহুবার শুনেছি যারা লেখে হৃদয় তারা নাকি

সুযোগ পেলেই ছুঁয়ে ফেলে বৃষ্টি,

নিভিয়ে আগুন, বাড়িয়ে দেয় তৃষ্ণা।

আমি পোড়া আগুনে আর পুড়তে চাইনি বলে দূরে দূরে ছিলাম।

তাই বলে পদ্যলেখক, তুমিও.।!।


রাত দুটো দশ... 

বারান্দায় আমি...

সংসার একটা হয়েছে আমার বটে..

ছেলে মেয়ে ছেলে- বেশ আছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়, টুকটাক এনজিও ফ্রিল্যান্সিং

মাঝে মাঝে শবাসন,

মাঝেমাঝে বারো তরকারি..

মাঝেমাঝে ঝড়..

মাঝেমাঝে.. মুঠোফোন থেকে বের করে আনি মুঠোবার্তা।

জানো ওদের বয়স হয়েছে আজ পঁচিশ!


পঁচিশ বছর, 

পঁচিশটা বছর পেরিয়ে গ্যালো মুঠোগলে।

অথচ-

মনে হয় এইত সেদিন আমাদের কথা বলে ওঠা।

অথচ-

মনে হয় এইত সেদিন প্রথম দ্যাখা।

মন্ব হয় এইত সেদিন - বহুদিন পরপর চায়ের নিমন্ত্রণ

মনে হয় এইত সেদিন এক দুপুরবেলা হঠাত মুখোমুখি ভাত খেতে বসা।

অনেকগুলো ক্ষণ বছর উড়ে গেলো চোখের নিমিষেই।

অথচ-

মনে হয় এইত সেদিন

বৃষ্টিঝড়,

একটা রিকশা,

ছোটখাটো পর্দা,

হুড তুলে দিয়ে নামিয়ে ফেলা,

উচ্ছল হাসি তোমার।

বিড়বিড় করে কেবল কবি এবং কবিতার কথা বলা।

আর আমার- তোমারামার মাঝখানে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরীর ব্যর্থ চেষ্টা।

মনে হয় এইত সেদিন...


পঁচিশটা বছর পেরিয়ে গেলো হাটি হাটি পা পা করে।


পদ্যলেখক



" ঝড় শুরু হয়ে যেতে পারে এখনই,
এখনই উড়ে যেতে পারে ওড়না ঢাকা ভালোবাসাবিতান প্রেমিকাদের।
বৃষ্টির জল মুছে দিতে পারে এখনই,
তোমার ঠা ঠা শব্দে শুকিয়ে যাওয়া ঠোটের দেশ।
উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে আমার কান পেতে রাখায়
তোমাদের জঙ্ঘাদেশে ফোটা হলুদ হরতকি ফুল।"


যখন ভাবছি তোমার এইসব কবিতার লাইন তখন সত্যি সত্যি ঝড় হচ্ছে।

জানো পদ্যলেখক আজকাল আকাশে তাকালে তোমাকে দেখা যায় না।

জানো আমার সাথে দ্যাখা হয়েছিলো তোমার সকল প্রাক্তণের।

জানো সবাই বলছিলো 

" ও অসুস্থ খুব, কবিতা খেয়ে নিয়েছে ওর ভেতরবাড়ি পুরোটাই।

নাহলে কি ওর মন খারাপে, ওর তীব্র বিষাদে ঝড় হয় ভাদ্র আশ্বিনের রাতেও

ওর ধ্বসে গ্যাছে জীবন। 

ওর আঙুল নাড়ায় দেখেছি নড়ে ওঠেছে মহাকাশের ক্লীট।"


পদ্যলেখক, বহু উজ্জ্বল মাছেদের অনুজ্জ্বল ভীড়

ফেব্রুয়ারির বইমেলা,

কতশত লাইন লিখে রাখে পৃথুলা পৃথিবী।

অথচ

কোথাও" হল্ট থামুন"- বলে আদেশ নেই,

কোথাও " রাত বারোটার শহরে পর্দানশীন উরুস্তম্ভ

কাপড় নেমে গেলেই সরকারী ছুটির রাত!" বলে শ্লেষ নেই,

নেই তীব্র বিষাদ,

অবসাদহীন অবসাদে হেটে যাচ্ছে বাংলা কবিতা।

সবটাই ব্যাকরণ, নিয়ম এটে লোহার ব্রেসিয়ার।

প্রতিবাদ নেই,

কোথাও অভিমানে কবিতার স্বেচ্ছামৃত্যু নেই,

নেই শিরদাঁড়া সোজা করে জ্বরে জ্বলজ্বল চোখে সদম্ভে হেটে যাওয়া কবিতার।


আজ পঁচিশ বছর হলো, পঁচিশটা বছর।

তুমি হয়ে গ্যাছো স্বেচ্ছা নির্বাসনে আকাশের ব্যস্ততাহীন

জনপদের স্থায়ী বাসিন্দা।

আজ পঁচিশ বছর,

পঁচিশ টা বছর হলো।


পদ্যলেখক (১)

৮ই মে, ২০১৮.

নুরজাহান রোড মোহম্মদপুর।

Sunday, April 22, 2018

আমি আসবো।

একদিন রাত দুটোর শহরে ফিরে আসবোই 

দেখে নিতে আমাদের চা'য়ের সংসার। 

একদিন ঘুমভাঙানি রক্তজবা চোখে; 

করাঘাতে খুলে দুয়ার তুমি দেখবে

পৃথিবীর গর্ভ থেকে নিয়ে 

তেত্রিশ কোটি গ্লাডিওলাস দাঁড়িয়ে আমি

        বুকের উঠানে

            ঠোঁটের শিথানে

               চোখের বারান্দায়।


থেকো; অপেক্ষায় থেকো- আমি আসবো।


তেইশ লক্ষ মৃত্যু উপেক্ষায়,

পরাজিত হাতের পরাস্ত রেখাগুলোকে,

সিগারেটের ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিয়ে - 

হাঁটবো জীবনের মত ছেনাল; 

স্ফিত হওয়া লোহার ব্রেসিয়ার খুলে, 

উড়িয়ে দেব 

মিথ্যা নয়, মিথ্যা নয়-

কারসাজিতে লিপ্ত 

সত্যগোপনে 

এরিষ্টটলের কৌশলী 

আড়াইহাজার বছরের বন্দী 

বুকের জোড়া

          পাখি- 

স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে আমি আসবো।


পাখি আমার ডানা ঝাপটানো পাখি, 

আমি আসবো, আমাকে আসতেই হবে-


পা বের করে শুয়ে থাকা 

দুক্ষের স্বজনেরা আমার,

আমি আসবো, 

হত্যা পরবর্তী সাতচল্লিশ বছর পর,

যীশুবিদ্ধ ক্রুশ চেপে বুকে 

আমি আসবো লিখে দিতে

        " কবিতা মূলত একটা শ্লোগানমূখর মিছিল, ব্যাস। " 

আমি আসবো 

সে সকল উন্নয়নের দেরাজ 

থেকে বের হয়ে আসা 

কালনাগিনীর বিষাক্ত 

ছোবলের জিভ টেনে ছিড়ে ফেলতে

যারা মুছে দিতে চায় 

             

     - কিংবদন্তীর মৃত্যু নেই।


পাখি আমার একলা পাখি - 

অপেক্ষায় থেকো

যে ভোরের সূর্য 

লাল টকটকে চোখে 

বিপ্লবোপদ্রুত আকাশে 

ধরে রাখবে চোখের কাজল

মনে রেখো আমি আসব।

আমি আসব, থেকো অপেক্ষায় থেকো।।



ঢাকা - ১১ই এপ্রিল।

Featured Post

দ্যাখা অদ্যাখা কাব্য ১-৩

দ্যাখা – অদ্যাখা কাব্যঃ  ১ আমি চাই তোমার সাথে কোথাও কখনোই আমার দেখা না হউক, আমি চাই, প্রানপনে চাই। তাই এড়িয়ে যাই, তোমার হাটা পথ...