Search This Blog

Sunday, July 16, 2017

সাক্ষাৎকার- ১ ( কালের কন্ঠ পত্রিকায়)

Saturday, July 15, 2017

সংসার থাকুক দুধে ভাতে

আপনার বাসায় সবাই কেমন আছে?

- আছে ভালোই। আমার মেয়েটা ডাক্তার, মেয়ের স্বামীটাও ডাক্তার।
ব্যস্ততায় ওরা আছে ভালোই।

সামাজিক দূরালাপনিতে করা কথোপকথন শেষে বাবা
আমার সামনে দিয়েই হেটে যান।

আমি থাকি বেদনা বিভোর।

মায়ের অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে
যখন রাত কাটাচ্ছি নির্ঘুম,
একদিন শুনি ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গলের সামাজিক প্রশ্নে
মায়ের উত্তর - মেয়েটা আমার সবে ডাক্তার হলো, দোয়া করবেন।

একদিন বাসা ভর্তি লোক,
জিজ্ঞেস করার আগেই বলা হয়ে গ্যাছে
পরিবার বলতে বাবা-মা-বোনের ছোট্ট সংসার।

বাজারে যাই, ঈদগাহে যাই।
যাই মসজিদ মন্দির প্যাগোডায়,
যাই যেখানেই উত্তর পাই পারিবারিক শব্দে
ঘোর সামাজিকতায় আমাদের মেয়েটা বেশ ভালোই আছে।

আমি আমাকে কোথাও,
চারদেয়ালের কোথাও,
পারিবারিক ছবির এলবামে
কোথাও আমাকে খুঁজে পাইনা।
মাঝেমাঝে ঘুমঘোরে নিজের হাতে নিজে চিমটি মেরে বুঝতে চাই আসলেই বেঁচে আছি কিনা।

একদিন মা'কে বলেছিলাম- মা তুমি ভেজা জামা যেখানেই শুকাতে দাওনা কেনো
সেইতো আমার উপরেই পানি পড়ে,
সেইতো ভিজে যাই আমি।

- কথায় কথায় কবিতা ভালো লাগেনা। কবিতাটা ছেড়ে দে!
দিচ্ছি বলে আমি কবিতা আরও আকড়ে ধরি,
যে রাতে, সে রাতে তীব্র ব্যথায় রক্ত চুইয়ে পড়তে থাকে কান বেয়ে,
আমি প্রথম, প্রথম এবং শেষবার চীতকার করি, ভুলে গিয়ে অমোঘ সত্য-
পারিবারিক কাঠামোতে আমার স্থান যেখানে নেই সেখানে
এইসব চীতকার পাশের ঘর পর্যন্ত পৌছাবে এই দূরাশায় কষ্ট পেয়ে বসি।

জানো মা পরদিন সকালেই আমি সব ছেড়ে দিয়ে কানে
গুজে সিগারেটের ছাই, আকড়ে ধরি কবিতা।

ব্যর্থতা আর শব্দের অপ্রতুলতায় কতবার কষিয়ে থাপ্পড় খেয়েও
ভয়াল সাতাশশো রাত জেগে জেগে
আমি কবিতায় শুয়ে থাকি,
কবিতা খাই, নিঃশ্বাস নেই ও কবিতায়।
ছাইপাঁশ লিখতে লিখতে নাম দেয়া
কবিতায় মারাও যাই প্রতি ওয়াক্তের নিয়মে,
আবার... আবার মাঝেমধ্যে
লেখা শেষে বেচে উঠি বেচে দেয়া অক্সিজেনে আমার মনে থাকেনা।
এইসব কথা লিখতে লিখতে

আবার বেজে ওঠে বাবার মুঠোভরা মুঠোফোন,
আবার শুনতে পাই " আছে সবাই ভালো আছে,
মেয়েটা আমার ডাক্তার, মেয়ের জামাইটাও তাই।
ব্যস্ততায় ওরা ভালোই আছে।

হ্যালো হ্যালো নেটওয়ার্ক সমস্যা কথা শুনতে পাচ্ছিনা।"

বাবা- অযাচিত কবি ছেলের মঙ্গল চান বলেই ফোন কোম্পানির ব্যর্থতায়
বারবার এড়িয়ে যান,
অসাড় হ্যালো শব্দে।

জানো-
বাবার উপর আমার কোনও রাগ নেই,
মায়ের উপর নেই কোনও অভিমান,
জীবনের উপর নেই কোনো জন্মের কষ্টটুকুও।

আমি দিব্যি ভালো আছি দ্যাখো।
আমি বেশ ভালো আছি দ্যাখো।
সরকারি বেতনবিভাগ জানেনা পরবর্তী বেতন হাতে পেলেই
শহরের দেয়ালে আবার লিখবো-
সুবোধ; তুই পালিয়ে যা।
নইলে লিখে দে মাই এইম ইন লাইফ রচনায়
আমি একদিন বাবা হতে চাই, কবিপুত্রের গর্বিত পিতা।"

হা হা হা হা হা হা হা দেয়ালে নির্ভর বিকেলে
কোথাও যেনো আবার আবারো কেউ বলছে -
মেয়েটা আমার ডাক্তার, দোয়া করবেন।

হা হা হা হা হা হা রোদের বুকে জ্বর নিয়ে

বাবা আমার; দুঃখ পোষে কবিপুত্রের।
মা আমার; কষ্ট সেলাই করেন কবিতার।
আর আমি,
আমি অপেক্ষায় থাকি মাসের ত্রিশ তারিখের।

সোয়েব মাহমুদ।
শ্যামলী।

Thursday, July 13, 2017

dog

am I god...


কবিতা

Featured Post

দ্যাখা অদ্যাখা কাব্য ১-৩

দ্যাখা – অদ্যাখা কাব্যঃ  ১ আমি চাই তোমার সাথে কোথাও কখনোই আমার দেখা না হউক, আমি চাই, প্রানপনে চাই। তাই এড়িয়ে যাই, তোমার হাটা পথ...