Search This Blog

Monday, November 30, 2015

গনতন্ত্র

এই মানচিত্রের মানপত্রে যখন রাজনৈতিক বেশ্যার আস্ফালন।
টুটি চেপে ধরা সেলফ সেন্সরশিপ।
তখন কবি হয়ে উঠেন সব্যসাচী!
সাহিত্যের পাতায় চর্বি সম্বলিত কবিতা।
দু-চোখে কাচপোকাদের ভুল আর
যাদুঘরে সাজানো বাক-স্বাধীনতা মনে করিয়ে দেয়
গনতন্ত্র, আজ বংগভবন যায়।
গণতন্ত্র, আজ বিটি আর সি 'র নজরদারীর
ব্যান্ডউইথ!
গনতন্ত্র, নুর হোসেন-মিলনের খুনীদের
পুনর্বাসন কেন্দ্র।
গনতন্ত্র, এক বেশ্যাগমনের রিকশাবাহক।
গনতন্ত্র, হ্জ করে,মক্কা শরীফ যায়।
গনতন্ত্র, মন্দির-গির্জা-প্যাগোডায় ঈশ্বর
হয়।
গনতন্ত্র, ঘন তারল্যে ধর্ম হেফাজত করে।
গনতন্ত্র, সামাজিক বেশ্যা পোষে।
গণতন্ত্র, সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে,
কুচকে যাওয়া যোনী হাতায়,
বৃদ্ধ স্তনে বেচে দ্যায় দ্যাশ।
গনতন্ত্র, উদারপন্থী হয়,
গনতন্ত্র, ইয়াবার রুপোলী মায়ায় ধর্ষণ
করে।
গনতন্ত্র, নারী উন্নয়নের জনসভায় মৈথুন
করে।
গনতন্ত্র, এক গানের জাতীয় পুরস্কার।
গনতন্ত্র, বাংলা একাডেমীর শব্দ
সেন্সরের মহাউতসব।
গনতন্ত্র, লাল মদে রক্তের মচ্ছব!
গনতন্ত্র, ধুলো জমে জমে মানচিত্রে আজ
আবে-জমজম ঘুরছে আটরশি, দেওয়ানবাগ, চরমোনাই।
ভক্তের টাকায় শিল্পিত পুন্য-নগরী হচ্ছে
সাংহাই!
আমি ঢাকায় বসে কড়ে গুনে বলছি
বাহ বাজপাখির শ্যেনদৃষ্টি আজ উন্নয়নমুখী!
তক্তপোশ আজ বীর্যবতী!
রক্তের খরপোষে মৃত আত্মাধীন জনপদে
কোনো আশা নেই।
ভালোবাসা নেই।
ইচ্ছেরা বুলেট বিদ্ধ।
প্রজন্ম আজ চ্যাতনা বিক্রেতা অথবা
ক্রেতা।
ধুস শালা নিরোধমুক্ত শুয়োরের সাথে
সহবাসে ঘাতক কখন ত্রাতা হয় জানা নেই!
নিরঞ্জন, আজ একটা ঠোঁটের মিছিল
চাই।
নিরঞ্জন, আজ একটা প্রতিবাদী কবিতা
চাই।
নিরঞ্জন, আজ একটা শ্লোগান মুখর রাজপথ চাই।
বেশ্যানগরী, গোড়াই।
টাংগাইল।

Friday, November 20, 2015

দ্যাখা অদ্যাখা কবিতা -২

এক ক্ষয়িষ্ণু, শহরের ইট-পাথরে ঘষেঘষে
বুকে
বয়ে নিয়ে যাওয়া হৃদয় আর দেয়ালে
ভর দেয়া
কথাগুলো; যা বলা হয়নি তোমায়।
তা পাশে নিয়ে বসে বসে দ্যাখছি,
আত্মবিধ্বংসী খেলায় মত্ত আমি দু-
চোখ ভরে দ্যাখছি
বিলবোর্ড ভালোবাসার শহর তোমার।
কত উজ্জ্বলতা, কত আত্মপ্রবঞ্চক হাসি
নিয়ে
সূখ সূখ হাসি মুখ নামক বিজ্ঞাপনচিত্রে
তুমি,
ফেইড ইন অর আউট।
ঝুলে আছো ভালোবাসা কটাক্ষ করে!
তাই আমি চাই,
হ্যা আমি চাই তোমার সাথে কখনওই
আমার দ্যাখা না হউক!

হ্যা আমি চাই অন্তত একবার মিথ্যে
করে হলেও
তোমার সাথে, তোমার দ্যাখা হউক!

আমি চাই আমাদের অদেখা
অথচ
খুব চেনা দেবদারু-রাধাচূড়ার
সারিসারি ছায়ায়,
এক নিয়তি নির্ভর জেব্রাক্রসিং এ,
কিংবা কোনও রাস্তায় কবিতাময়
লিফলেটে
অথবা
কোনও এক ২৩শে পরীবাগের কোনায়
আমার যে তুমি,
কেবলই আমার।
আমার সাথে সেই তোমার দ্যাখা হয়ে
যাক.....
সোয়েব।
দ্যাখা অদ্যাখা কবিতা -২)

Friday, November 13, 2015

বুকেপিঠে

বুকে ইটের শিরায় শিরায় ঘুমঘোর।

মানচিত্রের হৃদপিন্ডে সাদা চাদরে মৃত্যু।

আজ নয়,
নয় কাল,
অথবা,
আগামীকাল...

তোমায় দিচ্ছি
প্রতিদিনের
প্রতিনিয়ত
প্রতিনিধি
"তোমায় ভালোবাসি।"

নোটস

শুক্রবারটা তুমি বের হওনি কখনওই নাকি কেবল আমার ক্ষেত্রেই এই বাধা বিপত্তি তা জানিনা।

শুক্রবারের দুপুরে একটা ভাতঘুমে, তোমার বুকে আঁকিবুঁকি সোনালি সময়।
তখন,তখনও কিন্তু জেগে থাকে সাহিত্যের প্রহরী।
জেগে জেগে অন্তঃমিল,ছন্দমিল,শৈলী কতকিছুই যে খোঁজে তারাই কেবল জানে।
আর
আমি, আমি একে দেই চার শব্দ ভালোবাসি।

তাদের নিয়ে আমি মাথা ঘামাইনা।
আমি তোমায় ভালোবাসি,তোমার সাথে বলে দেয়া আমার কোনো কথাই পরিকল্পনামাফিক হয়নি। যা ইচ্ছে হয়েছে বলেছি। আমি বিশ্বাস করি ভালোবাসা কোনো পরিকল্পনায় হয় না।

"এইযে তুমি দাঁড়িয়ে ভাবছো অথচ তোমার পাশে অথবা সাথে আমি ছাড়া,কোথাও কেউ নেই।"

Thursday, November 12, 2015

মৃত্যু

পৃথিবীর সব্বাই জানুক মরে গ্যাছি আমি।
কেবল,
হ্যা,কেবল তুমি জেনে নাও আমি আছি,থাকব এবং ছিলাম।
তোমার ঠোঁটে - নাকে- মুখে
হয়ে তোমার বুকের ঘাম।
আমি বেচে থাকবো আমৃত্যু; তোমার
আমি অস্বিকারের ভেতর।

Wednesday, November 4, 2015

বেশ্যা কবি

শুরুটা হয়েছিলো রক্তে রঞ্জিত মানচিত্রে শুয়োরের আস্ফালন শীর্ষক কবিতায়।

মাঝে একটা অন্তর্জালে প্রচ্ছন্ন ৫৭
ধারার চোখ রাংগানো।

তারপর আমার বিছানায় সব গ্রীক
নাহঃ
সব ১০ টাকার সাহিত্যবিশারদ বেশ্যা
আর রাত্রিযাপন এর সব্যসাচী কবিতা।
অতঃপর শিরোনাম পাল্টে"দ্যাশে আজ
দুগ্ধপোষ্য শান্ত্রিসেপাই "
একুশে পদক সে বগলদাবা করেছিলাম
মনন্ত্বর এর বছর।
তারপর নতুন কেউ লিখতে চাইলে আমি
বলি এটা হয়নি,ওটা হয়নি।
সাহিত্যপাতার দখল আমার শিষ্য সব অ-
কবি বৃন্দ।
বাংলা একাডেমি তা ভাড়ের
আড্ডাখানা।
শুক্রবার শিল্পকলায় বোদ্ধা চর্বিত জন্ম।
সরকারি পৃষ্ঠপোষক আমার শব্দের।
তাই,
এখন লক্ষ্য "নো-বেল"
সেই স্থিরতা নিয়ে কবিতাংগনের
অভিভাবক সেজে,
এর ওর স্তন ঘেটে যোণী ঘুটে লিখে
দেই
"Infact The Nonsense Are More Happy"
প্রতিবাদ করলেই দ্যাখে নিবো
কিভাবে পুরস্কার পাও তুমি!!
শালা,যত্তসব!

Monday, November 2, 2015

রুমির চিঠি

ফ্লন এর ৩৪ নং হাইওয়ে এক্সিট,
বেরিয়ে স্টকহোম এ যাচ্ছি আমি।
নভেম্বর এখানে শীত নামিয়ে আনে।
গতকাল ডাকবিভাগের ভুলে গতমাসের
চিঠি হাতে পেয়েছি!দ্যাশ থেকে
আসা চিঠিগুলোর বুক থেকে আগে গন্ধ
নিয়ে নেই আমি।অজান্তেই নিজের;
লিখতে লিখতে গন্ধ ছড়িয়ে যায়
চিঠির প্রতি শব্দে।
২০১২,০২ নভেম্বর আজ,চিঠি পড়'তে
পড়'তে স্নায়ু সিথিল হয়ে যায়। উড়িয়ে
দেই প্রথমবার প্রিয়তমা বাংলাদেশ
তোমার চিঠিটা।তোমায়
ভালোবাসি বলে গ্লাস ভর্তি রক্তমদ
আর এফ.এম রেডিও জুড়ে আমার
ধুমপানের গল্প। বুকজোড়া সরকারি মর্গ,
চোখজোড়া শ্মশানঘাট, নিঃশ্বাসে
রেলপথ আর সদ্যবিদায়ী ট্রেনে
হাহাকাররত কুলিমজুরের ক্রমাগত
হট্টগোল। বুকের ঘাম হতে চাওয়া আমার
চোখ জোড়া নদী;ক্রমাগত বহতা যে
নদী তা উন্নয়ন নামক
কথায় রং মেখে মৃত্যুফাঁদ।
তখন তুমি,হ্যা,নার্সিসাস তুমি ব্যস্ত!
আমি অসহায় করাতকলে কাটা পড়তে
থাকি,
তখন পকেটে আমার শেষ মার্সেনারী
কবিতা,
১৬টাকা মাত্র!নির্ধারিত মুল্য।বুক
পকেটে মৃতপ্রায় বসন্ত, ২১পয়সা!ব্যাক
পকেটে জীবনমৃত পুর্নিমা রাত!
অথবা,তুমিহীনতার ফটোগ্রাফে সুইডিশ
ক্রোনা সরিয়ে শুন্য মানিব্যাগ!
গাড়ি চলছে ১৩০ কিঃমিঃতে।
জানো ক্যানো উড়িয়েছি চিঠি
তোমার?আজ চিঠির বুকে তোমার
অপছন্দের আমলকী গন্ধটা জানিয়ে
দেয়,কেউ একজন তৃতীয় পুরুষ ছুঁয়েছে এ
চিঠি।
"কে ভেতরে?" পকেটের দরজায় একটা
ছোটগপ্পো আর উপন্যাসের অনিবার্য
কড়া নাড়া! আমি হেটেই দরজা খুলি
আর ফ্রিজের দিকে মুখ ঘুরিয়ে
"নানারকম স্বপ্নের বেচে থাকা"
অনুষ্ঠান আনন্দঘন উদ্বেগে,
অন্যকেউ ঢুকে পড়ার আগ পর্যন্ত দ্যাখতে
থাকি। দ্য ব্লু অতি রোমাঞ্চে,স্নায়ু
সিথিলতায় অচেনা ঘরে হঠাৎ ঘুম।
মাথার ভারে তুলোধুনো বালিশ।
বিছানায় গড়াগড়ি মৃত্যুদর্শি
একাকীত্বে রাত ফুরোলেই ভোর।
অথচ প্রিয় একমাত্র প্রেমিকা
আমার,প্রিয় স্বদেশ তোমার বুকে
হায়েনার বসত।
আগাছায় ভরে গ্যাছে বনভুমি।এই
শোকার্ত অঞ্চলে কেবল গভীর হয় রাত,৬
পেগ ভদকায় উড়াতে বিশ্বসংস্থার
অনুমোদনহীন শীতকার আমি আমাকে
টেনে হিচড়ে সরকারি বেশ্যালয়ে
ঢুকাই।
শুয়োরের সাথে মোকাবেলাটা
নাকি কিছুটা শুয়োর হয়েই করতে হয়।
তবে জেনে রাখো আজ থেকে আমলকী
আর ভালোবাসায় তীব্র অরুচি আমার।
হৃদয়নগরে রিফিউজি অনাহারী অনাহুত
শিশুর আর্তচীতকার আর কিশোরীর
আরক্তনয়ন শুদ্ধ ফিনাইলে ধুয়ে মুছে
কেবল রতীক্রিয়ার উচ্চ মার্গীয়
আন্তর্জাতিক লোকজ বিশুদ্ধতম শব্দভার।
প্রিভিয়াস চ্যাপ্টারে
প্রিভিলেজপ্রাপ্ত "তুমি"; নেক্সট
চ্যাপ্টার জুড়ে অকাল প্রয়াত হেমন্তের
ফসলহীন রুক্ষ বুক।
সোয়েব মাহমুদ।
২০১২ এর পথচলতি চিঠি।

Featured Post

দ্যাখা অদ্যাখা কাব্য ১-৩

দ্যাখা – অদ্যাখা কাব্যঃ  ১ আমি চাই তোমার সাথে কোথাও কখনোই আমার দেখা না হউক, আমি চাই, প্রানপনে চাই। তাই এড়িয়ে যাই, তোমার হাটা পথ...