গতরাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটানা বারো বছর ; পেরিয়ে গেলাম হঠাৎ।
আকাশের বুকে চেপে নিয়ে কথা ; একটা উদোম স্নান আর টান টান কলমীলতা।
কতকিছুই না বললাম দু'জন,
কতকিছুই না শুনলাম দু'জন,
প্রকট বসন্তে নেমে আসা বর্ষায় ভুলে গিয়ে
একটা বাবুই উড়ে যায় ক্যাকটাসের ছায়ায় ছায়ায়;
মায়ায় লেপ্টে জড়িয়ে থাকা দুর্ভিক্ষ পীড়িত এলাকায়।
কতকিছুই না বলার ছিলো, অথচ বলতে পারিনি।
আকাশের পেটে বোমা মারলেও ছাঁই,
তেত্রিশ কোটি দেবতাকে স্বাক্ষী রাখলেও লাপাত্তা বৈশাখ,
শুধু ক্যালেন্ডার থেকে সরে গেলে হারিয়ে যায় আহত আগুন,
যে আগুন
একদিন প্রেমিক আমায় নিয়ে গিয়েছিলো মিছিলে,
যে আগুন
আমাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলো সোয়েবের লাশ নিয়ে
কাতারে কাতার
যে শুন্যস্থান, যা কানায় কানায় পূর্ন হিলিয়ামে,
ঠিক সেই বারো বছর
আগে নববর্ষের আগের রাতটায়,
ঠিক যখন সরকারী আর্দালীরা বলে উঠেন শহরে জ্বর,
কাজেই চুপ থাকতে হবে ভোর বেলায়।
মনে আছে তোমার,
একটা ক্যাকটাস - একটা বাবুই- একটা আকাশ।
মনে আছে তোমার
বলা হয়েছিলো এ আমার জন্মোৎসব,
এ আমার ইতিহাস হাজার বছরের,
ধর্ম নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে যে ধর্মব্যবসায়ীরা
আঙ্গুল চালাচ্ছেন কবিতায়,
খামোশ।
মনে আছে তোমার
গতরাতে উঠে এসেছিলো সব কথা,
মনে আছে তোমার
গতরাতে শুয়ে পড়েছিলো সকল নিদ্রাহীনতা,
মনে আছে তোমার
বিভ্রান্তিহীন বিভ্রাটের সময় পেরিয়ে গেলে জেগে উঠে
একটা চীতকার,
স্নানঘরে ঢুকে পড়ে শ্রেনীহীনা
শোষিত মানুষের সাথে মানুষের দেখা হবার দৃশ্য।
বুকের ভিটায় তপ্ত দুপুরে
যে শহরে গোলাপের দাম বেড়ে যায়,
অবহেলায় পড়ে থাকে জুঁই,
প্রেমিকেরা প্রেমিকাদের নির্যাতিত শিশুদের পাশে
ঘুম পাড়িয়ে সিগারেট ধরায়,
সেখানে বিপ্লব নেই, সেখানে প্রতিরোধ হতে পারেনা।
মনে আছে তোমার
চেনা দৃশ্যের প্রতারণায়, চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে
আমি জীবিত একমাত্র প্রেমিক
সার্কাস একা দেখাতে দেখাতে ক্লান্ত হয়ে গ্যাছি,
মিছিলের শ্লোগান বুকে
বুলেটে তাজা রক্তে একে দিয়ে পহেলা বৈশাখ,
আমি কথা বলার স্বাধীনতা দিয়ে গেছি।
মনে আছে কি তোমার, বাবুই -
বলেছিলাম সেই বারো বছর আগেই-
ভালোবাসি শব্দটা উচ্চারণের পর আর কোন বিপ্লব বাকি থাকে কি?
প্রেমিকের চেয়ে বড় কোন বিপ্লবী থাকে কি?
বলেছিলাম শাষকের চোখে চোখ রেখে -
প্রধানমন্ত্রী একটা কবিতা পড়ে নিন ,
প্রেসিডেন্ট একটা ফুল থেকে ফুলকি আলাদা করে নিয়েছি।
সেনাপ্রধান রসো, শুনে নিন ভালোবাসা-বাসি সময়ের গান।
মনে কি আছে তোমার?
মনে কি পড়ে?
নাকি তুমিও বারো বছর পর শিখে গেছো ন্যাকামোর ঢংটুকু,
গিলে ফেলে নিজের ভেতর নিজের চীতকার,
কানে বেজে ওঠা রাইফেলের শব্দে হাসতে হাসতে
তুমিও কি ঘুমিয়ে পড়েছো পাঠিয়ে মুঠোবার্তা '' শুভ নববর্ষ! "