Search This Blog
Sunday, December 10, 2017
বইমেলা
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Tuesday, December 5, 2017
সধবা
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Sunday, July 16, 2017
সাক্ষাৎকার- ১ ( কালের কন্ঠ পত্রিকায়)
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Saturday, July 15, 2017
সংসার থাকুক দুধে ভাতে
আপনার বাসায় সবাই কেমন আছে?
- আছে ভালোই। আমার মেয়েটা ডাক্তার, মেয়ের স্বামীটাও ডাক্তার।
ব্যস্ততায় ওরা আছে ভালোই।
সামাজিক দূরালাপনিতে করা কথোপকথন শেষে বাবা
আমার সামনে দিয়েই হেটে যান।
আমি থাকি বেদনা বিভোর।
মায়ের অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে
যখন রাত কাটাচ্ছি নির্ঘুম,
একদিন শুনি ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গলের সামাজিক প্রশ্নে
মায়ের উত্তর - মেয়েটা আমার সবে ডাক্তার হলো, দোয়া করবেন।
একদিন বাসা ভর্তি লোক,
জিজ্ঞেস করার আগেই বলা হয়ে গ্যাছে
পরিবার বলতে বাবা-মা-বোনের ছোট্ট সংসার।
বাজারে যাই, ঈদগাহে যাই।
যাই মসজিদ মন্দির প্যাগোডায়,
যাই যেখানেই উত্তর পাই পারিবারিক শব্দে
ঘোর সামাজিকতায় আমাদের মেয়েটা বেশ ভালোই আছে।
আমি আমাকে কোথাও,
চারদেয়ালের কোথাও,
পারিবারিক ছবির এলবামে
কোথাও আমাকে খুঁজে পাইনা।
মাঝেমাঝে ঘুমঘোরে নিজের হাতে নিজে চিমটি মেরে বুঝতে চাই আসলেই বেঁচে আছি কিনা।
একদিন মা'কে বলেছিলাম- মা তুমি ভেজা জামা যেখানেই শুকাতে দাওনা কেনো
সেইতো আমার উপরেই পানি পড়ে,
সেইতো ভিজে যাই আমি।
- কথায় কথায় কবিতা ভালো লাগেনা। কবিতাটা ছেড়ে দে!
দিচ্ছি বলে আমি কবিতা আরও আকড়ে ধরি,
যে রাতে, সে রাতে তীব্র ব্যথায় রক্ত চুইয়ে পড়তে থাকে কান বেয়ে,
আমি প্রথম, প্রথম এবং শেষবার চীতকার করি, ভুলে গিয়ে অমোঘ সত্য-
পারিবারিক কাঠামোতে আমার স্থান যেখানে নেই সেখানে
এইসব চীতকার পাশের ঘর পর্যন্ত পৌছাবে এই দূরাশায় কষ্ট পেয়ে বসি।
জানো মা পরদিন সকালেই আমি সব ছেড়ে দিয়ে কানে
গুজে সিগারেটের ছাই, আকড়ে ধরি কবিতা।
ব্যর্থতা আর শব্দের অপ্রতুলতায় কতবার কষিয়ে থাপ্পড় খেয়েও
ভয়াল সাতাশশো রাত জেগে জেগে
আমি কবিতায় শুয়ে থাকি,
কবিতা খাই, নিঃশ্বাস নেই ও কবিতায়।
ছাইপাঁশ লিখতে লিখতে নাম দেয়া
কবিতায় মারাও যাই প্রতি ওয়াক্তের নিয়মে,
আবার... আবার মাঝেমধ্যে
লেখা শেষে বেচে উঠি বেচে দেয়া অক্সিজেনে আমার মনে থাকেনা।
এইসব কথা লিখতে লিখতে
আবার বেজে ওঠে বাবার মুঠোভরা মুঠোফোন,
আবার শুনতে পাই " আছে সবাই ভালো আছে,
মেয়েটা আমার ডাক্তার, মেয়ের জামাইটাও তাই।
ব্যস্ততায় ওরা ভালোই আছে।
হ্যালো হ্যালো নেটওয়ার্ক সমস্যা কথা শুনতে পাচ্ছিনা।"
বাবা- অযাচিত কবি ছেলের মঙ্গল চান বলেই ফোন কোম্পানির ব্যর্থতায়
বারবার এড়িয়ে যান,
অসাড় হ্যালো শব্দে।
জানো-
বাবার উপর আমার কোনও রাগ নেই,
মায়ের উপর নেই কোনও অভিমান,
জীবনের উপর নেই কোনো জন্মের কষ্টটুকুও।
আমি দিব্যি ভালো আছি দ্যাখো।
আমি বেশ ভালো আছি দ্যাখো।
সরকারি বেতনবিভাগ জানেনা পরবর্তী বেতন হাতে পেলেই
শহরের দেয়ালে আবার লিখবো-
সুবোধ; তুই পালিয়ে যা।
নইলে লিখে দে মাই এইম ইন লাইফ রচনায়
আমি একদিন বাবা হতে চাই, কবিপুত্রের গর্বিত পিতা।"
হা হা হা হা হা হা হা দেয়ালে নির্ভর বিকেলে
কোথাও যেনো আবার আবারো কেউ বলছে -
মেয়েটা আমার ডাক্তার, দোয়া করবেন।
হা হা হা হা হা হা রোদের বুকে জ্বর নিয়ে
বাবা আমার; দুঃখ পোষে কবিপুত্রের।
মা আমার; কষ্ট সেলাই করেন কবিতার।
আর আমি,
আমি অপেক্ষায় থাকি মাসের ত্রিশ তারিখের।
সোয়েব মাহমুদ।
শ্যামলী।
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Thursday, July 13, 2017
dog
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Friday, March 24, 2017
কবি'কে মেধাবী নয় প্রতিবাদী হতে হয় -২
শুনানী হচ্ছে বদ্ধঘরে, শুণানী হচ্ছে মৃত্যেুর উগান্ডা নামক গণতান্ত্রিক এক বুর্জোয়াবাদী শাষন ব্যবস্থায়
শুনানী হচ্ছে বদ্ধঘরে, শুণানী হচ্ছে মৃত্যেুর পর ধর্ষণের শিকার রাষ্ট্রের।
বলা হচ্ছে মৃত্যুর পর বুক থেকে খসে যাওয়া আঁচল নাকি মন্ত্রীর ছেলেকে বাধ্য করেছে ধর্ষন করতে।
বলা হচ্ছে নেকরোফিলিয়া রোগাক্রান্ত হলে এর কোনও বিচারিক দায় নেই, বিচার ব্যবস্থায়।
তোমাদের নরকের মেঘ স্ফিত হয় না।
তাই প্যান্টের জিপার খুলেও আটকে ফেলি।
ভাবছেন কোনও অসহায় মেয়ে আমার সামনে শুয়ে?
ভুল ভাবছেন তবে।
ধর্ষন করতেও আজকাল মেধা দরকার,
অতটা মেধাবী ,উগান্ডার যেমন খুশি তেমন শিক্ষা ব্যবস্থা অন্তত
আমাকে বানাতে পারেনি।
আমি জিপার খুলে ফেলি,
আমার সামনে আমার উদর পূর্তির সরকারী চাকরী,
আমার সামনে উপ-সচিব মহোদয়া,
আমার সামনে বক্ষবন্ধনীহীন বক্ষ উন্মোচনের অপেক্ষায়
সহ- পরিচালক (রাজস্ব) এবং (আইন)
সামনে ধর্মান্ধ এবং ধর্ম বিদ্বেষী বেনিয়ার দল,
সামনে নির্লজ্ব বেহায়া মন্ত্রি- পরিষদ।
সামনে বসা অন্তর্বাস চুলকানো মাণবাধিকার কাউন্সিল।
গোয়েন্দা সংস্থার হোতকা মোটা পরিচালক ব্যস্ত মাদকের টাকা ভাগ-বাটোয়ারায়
রাস্তা থেকে রাষ্ট্র ডাকনামে তুলে এনে আমায়,
বিচার হচ্ছে,, বিচার হচ্ছে ভয়ঙ্কর আমার!
বিচার হচ্ছে শব্দের যা কবিতায় আওয়াজ করেছে।
বুদ্ধি বেশ্যারা ,বানচোদরা নসিহতে ব্যস্ত আঙুল থামিয়ে শুনছে ট্রায়াল।
ঠিক সেই মুহূর্তে আমি জিপার খুলে মুতে দেই আমার রাষ্ট্রে।মুতে দেই বিচারিক ব্যবস্থায়,
মুতে দেই উগান্ডা বইমেলা পরিষদের জুতোয়
মুতে দেই পাসপোর্ট , নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট,আমার সরকারি চাকরীর উপর।
ভাবছেন বোকার হদ্দ আমি একি করলাম?
জ্বি বোকা আমি,
কবিকে মেধাবী নয় প্রতিবাদী হতে হয়।
শুনেছি বাংলাদেশেও নাকি মেধাবী কবি’র ছড়াছড়ি,
প্রতিবাদহীনতায় ,পুরষ্কারে ভেসে যায় অন্তর্গত বীজতলা,
শুনেছি এত এত মেধায় গত চব্বিশ বছর বন্ধ্যাত্ব বাংলা কবিতায়,
শুনেছি পা চেটে খাওয়া কুকুরের অভ্যাসে সব মেধাবী কবি
লিখতে পারেনি একটা কবিতাও, কেবল হামবড়া আমিত্ববাদে।।
“তবে জিপার খুলে মুতে দিয়ে ভালোই করেছিস” –
বন্ধু নবারুনে হুশ ফেরে উগান্ডার ,বাংলার কি ফিরবে?
বাংলাও কি বুঝবে কখনও –
“কবি ‘কে মেধাবী নয় প্রতিবাদী হতে হয়।“
পর ধর্ষণের শিকার রাষ্ট্রের।
বলা হচ্ছে মৃত্যুর পর বুক থেকে খসে যাওয়া আঁচল নাকি মন্ত্রীর ছেলেকে বাধ্য করেছে ধর্ষন করতে।
বলা হচ্ছে নেকরোফিলিয়া রোগাক্রান্ত হলে এর কোনও বিচারিক দায় নেই, বিচার ব্যবস্থায়।
তোমাদের নরকের মেঘ স্ফিত হয় না।
তাই প্যান্টের জিপার খুলেও আটকে ফেলি।
ভাবছেন কোনও অসহায় মেয়ে আমার সামনে শুয়ে?
ভুল ভাবছেন তবে।
ধর্ষন করতেও আজকাল মেধা দরকার,
অতটা মেধাবী ,উগান্ডার যেমন খুশি তেমন শিক্ষা ব্যবস্থা অন্তত
আমাকে বানাতে পারেনি।
আমি জিপার খুলে ফেলি,
আমার সামনে আমার উদর পূর্তির সরকারী চাকরী,
আমার সামনে উপ-সচিব মহোদয়া,
আমার সামনে বক্ষবন্ধনীহীন বক্ষ উন্মোচনের অপেক্ষায়
সহ- পরিচালক (রাজস্ব) এবং (আইন)
সামনে ধর্মান্ধ এবং ধর্ম বিদ্বেষী বেনিয়ার দল,
সামনে নির্লজ্ব বেহায়া মন্ত্রি- পরিষদ।
সামনে বসা অন্তর্বাস চুলকানো মাণবাধিকার কাউন্সিল।
গোয়েন্দা সংস্থার হোতকা মোটা পরিচালক ব্যস্ত মাদকের টাকা ভাগ-বাটোয়ারায়
রাস্তা থেকে রাষ্ট্র ডাকনামে তুলে এনে আমায়,
বিচার হচ্ছে,, বিচার হচ্ছে ভয়ঙ্কর আমার!
বিচার হচ্ছে শব্দের যা কবিতায় আওয়াজ করেছে।
বুদ্ধি বেশ্যারা ,বানচোদরা নসিহতে ব্যস্ত আঙুল থামিয়ে শুনছে ট্রায়াল।
ঠিক সেই মুহূর্তে আমি জিপার খুলে মুতে দেই আমার রাষ্ট্রে।
মুতে দেই বিচারিক ব্যবস্থায়,
মুতে দেই উগান্ডা বইমেলা পরিষদের জুতোয়
মুতে দেই পাসপোর্ট , নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট,আমার সরকারি চাকরীর উপর।
ভাবছেন বোকার হদ্দ আমি একি করলাম?
জ্বি বোকা আমি,
কবিকে মেধাবী নয় প্রতিবাদী হতে হয়।
শুনেছি বাংলাদেশেও নাকি মেধাবী কবি’র ছড়াছড়ি,
প্রতিবাদহীনতায় ,পুরষ্কারে ভেসে যায় অন্তর্গত বীজতলা,
শুনেছি এত এত মেধায় গত চব্বিশ বছর বন্ধ্যাত্ব বাংলা কবিতায়,
শুনেছি পা চেটে খাওয়া কুকুরের অভ্যাসে সব মেধাবী কবি
লিখতে পারেনি একটা কবিতাও, কেবল হামবড়া আমিত্ববাদে।।
“তবে জিপার খুলে মুতে দিয়ে ভালোই করেছিস” –
বন্ধু নবারুনে হুশ ফেরে উগান্ডার ,বাংলার কি ফিরবে?
বাংলাও কি বুঝবে কখনও –
“কবি ‘কে মেধাবী নয় প্রতিবাদী হতে হয়।“
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Thursday, March 23, 2017
ক্লাউন
গ্রীনরুমে আয়নাতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি পর্বে নাকের উপর বসানোর জন্য প্রেয়সীর প্রিয় লাল; আগুন মুখো লাল বল খুজছি......
দিকশুন্যপুরের জাহাজীকে কোনও এক ডিসেম্বরের ৫তারিখে ভালোবাসি বলে জাহাজ নোঙ্গর করিয়ে; কিছুদিন পর ঠোঁটের উপর কালো টিপের মেয়ে হঠাত বলে ওঠে
"তোমাকে পাখি ভেবেছিলাম, এখন দ্যাখি তুমি জরাজনিত আকাশ। পাখি যতটা টানে ততটা আকাশ আমাকে টানেনা, আকুল করেনা।। তাই আজ থেকে আমরা দু-জন দুরের দ্বীপ।"
বীজগণিত, হিসাববিজ্ঞানে কাচা ছেলেটা ফ্রয়েডিয় ব্যার্থ মনোবিজ্ঞানের গিনিপিগ হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিড়িতে হাটতে হাটতে দ্যাখে পাবলিক হেলথের দোরগোড়ায় আড়াইবছর আগেকার ৫০% শিক্ষাবৃত্তি।এক মানবীর পানি উবে গিয়ে লবন জমা চোখে এক বোকা দ্যাখেছিলো, জেনেছিলো, পড়েছিলো "আমি, তুমি ছাড়া বড্ড একা।" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশেরও কবি - বাক্যটার মতই যা এক ডাহা মিথ্যে......
তুমি দাঁড়াও একটু আমি আসছি- এ কথাটা একমাত্র
ভালোবাসা আর শৈশব বলে ছিলো।
"-- শৈশব!! সে আবার কে? বোদলেয়ারের চরিত্র নাকি? তারপর কি হলো? গল্প থামালে কেনো ?
-- তারপর এক দৈত্য ভেজা পা'য়ে টুটি চেপে মেরে ফেলে শৈশবকে,ভালোবাসা হয়ে যায় সামাজিক আলমারির চাবীর গোছাটার মতন ভারী। কেবল হাসফাস করে।প্রেয়সীর ভেজা চোখে তার নিজের স্বপ্নবৃত্তান্ত এর কোথাও ছেলেটা ছিলোনা,
তবুও পিপড়ের শহরে ছেলেটা ভালোবেসে নিজের চোখে দৃশ্যমান করে প্রেয়সীর স্বপ্ন, ছুটে চলে।।
ছুটতে ছুটতে হঠাত জেনে যায় --
"তুমি অতি ভালোবাসার মানসিক অসুখে ভুগছো"- নামক বিদায় বৃত্তান্ত।
-- "তারপর..তারপর কি হলো, উফফ..আবার থামলে ক্যানো! কোথায় যাচ্ছ .. আরেহ্ "
-- "আজ কয় তারিখ?এখন কয়টা বাজে? বলবে কি?
--"আজ ১৬ই ডিসেম্বর, রাত এখন ১১টা ৪৩মিঃ।"
-- "সাক্ষাত ঈশ্বর হয়ে মানিক মিয়া এভ্যুনিউ'তে
রাত ১১টা৪৩মিঃ~ কোনও এক ১৬, ডিসেম্বর
ছেলেটা ছুঁয়ে ছিলো ভালোবাসার ঠোঁট
আহ বৃষ্টি নামবে।। যাই এবার।"
--"গল্পটা শেষ হয়নি তো, এই..এইযে...কি আজব বৃষ্টিও পড়ছে দেখি।"
হঠাত সম্বিত ফেরে -
-- "এক্সকিউজ মি, আপনি কার সাথে কথা বলছিলেন এতক্ষন ম্যাডাম! আপনি সুস্থ্য আছেন তো।"
-- "কেনো দেখেন নি, কমলা টি-শার্টের একজন ছিলো তো। নাকি চোখের মাথা খেয়েছেন।"
-- "কেউ ছিলোনা ম্যাম, বৃষ্টি থেমেছে এবার বাড়ি যান। ১২টা বাজতে চললো।"
মেয়েটি রেষ্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামতেই শুনতে থাকে.. কে যে নো কবিতা পড়ছে বাতাসে শুয়ে।।
“-আকাশের রানওয়েতে ভোরের আযান...
অসময়ের পত্রিকা বলে দিচ্ছে সুন্দরের চোখ সুন্দর খুঁজে বেড়ায়।
তাই আমার, চোখের ভেতরকার জলোচ্ছ্বাস তোমায় ভেজাবে না....
বুকের ভেতরকার জ্বরের আঁচ ছুঁবেনা তোমায়...
দর্শক অভিবাদন গ্রহন করুন এক
বোকা প্রেমিক,এক অ-প্রেমিকের।
স্টেজের আলোতে ঝলসে যাওয়া মুখ দেখুন আর..
দর্শক আংগুলে মুহুর্মুহু কড়া নাড়ুন..
শো- জমজমাট.....
আর ক্লাউন আমি, জোকার আমি
মুখটা উপরে তুললে...
ঈশ্বর অপেক্ষায় ফুলষ্টপ মেরে দ্যাখেন আমায়...
দেখেন একাকীত্বের অপেক্ষাকথনে ক্লাউন আমি ,
হাহ্, অপেক্ষার জলজ্যান্ত কবিতা, আমি।।
এক মস্ত সস্তা পাণ্ডুলিপি ১৬ই ডিসেম্বর রাত
১১টা৪৩মিঃ এর অলিখিত চুমু'তে।।
সমাপ্ত লেখা হয়না এক অভিমানী
রেল লাইনের জেদি ভালোবাসায়।
যেখানে নিজেকে শেষকরা ইতিহাসের পৃষ্ঠা
কোথাও কোনও এক ভবিষ্যতে সিগারেট
বানাতে কাজে লাগবে।।”
(আড়াইতলার সিঁড়িঘরটায় ঠোটের উপর ফুলষ্টপ)
সোয়েব মাহমুদ।।
আই.সি.ডি.ডি.আর.বি।
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
৩ টা ৪৩
“তখন বোধহয় আমার মধ্যপ্রদেশীয় ঘড়িতে বেলা ৩টা ৪৩মি:..
আমি ছুটি নিচ্ছি,ছুটি। কিছুক্ষণ আগে বৈরুত থেকে ফিরলাম, আমার ছোট্ট স্টুডিও এপার্ট’স ,ছোট্ট শহর ইরফার্ট এ। যেখান থেকে আসলেই কেউ বুঝতেই পারবেনা ঠিক কতটা ক্ষমতার ক্ষুধায় রাস্তায় পড়ে আছে শিশু। এইরকম এক শিশুর সাথে পরিচয় হয় জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরে, বিশ্বাস করো গত আট মাস বিশ দিন আমাকে এতটা পরিনত এতটা বৃদ্ধ করে তুলবে বুঝতে পারিনি গত প্রায় নয় মাসে তিনটা যুদ্ধ ফ্রন্টে থাকা চব্বিশের আমার বয়েস বেড়ে হয়েছে ছাপ্পান্ন। প্রতি মূহুর্তে মূহুর্মুহু মৃত্যু যেনো প্রবল উল্লাসে শোধ করছে পুঁজিবাদী হলিউডের ঋণ। আমি ঘুমাতে চেষ্টা করিনা আর। আমি জেগে থাকি। ঘরের দরজায় স্টিকি নোটে তুমি রেখে গ্যাছো ডাঃ এর ঠিকানা আমি উড়িয়ে ফেলে ট্যুর অপারেটরকে ফোন দেই টিকেট বুক করি বোগোটো, কলম্বিয়া। ”
দীর্ঘ একবছর পর সাইপ্রাসের নিকোশিয়া শহরের ফ্ল্যাটে ডায়েরীর এই পৃষ্ঠাটা পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে মনে হলো গত একটা বছরে শুধু মাত্র একে সাতচল্লিশ, ট্যাঙ্ক, ধর্ষিতা শিশুর কান্না, দেয়ালে ঝুলন্ত বাবা, মায়ের বিবস্ত্র শরীর, নারী শরীরের বিশেষ অঙ্গগুলোর আটান্নটি মোসাদীয় উপনাম ভুলতে কোথায় যাইনি আমি? অজস্ত্র রাত কাটিয়েছি ইহুদী কন্যার উপর, ভোর করে ফেলেছি আইরিশ মেয়েটার বুকে রাখা পয়েন্ট ফাইভ কোকেন টানতে টানতে। কলম্বিয়ার সৈকতে পড়ে থেকেছি, লাওসের দালালের কাছ থেকে জেনে নিয়েছি মিথামাইটিন আইসের ঠিকানা। বুয়েন্স আইরেসের বস্তিতে ঘুরে ঘুরে খুঁজেছি ফুটবল ঈশ্বরকে। রিগাতে অথবা ব্রাসেলসে কিঙবা প্যারিসের সেভেন্থ এভ্যুনিউ এর পানশালায় চীৎকার করে লিভারপুল আর্সেনালের চার চার গোলে ড্র হয়ে যাওয়া ম্যাচটাও দেখেছি কিন্তু অর্ধেক পৃথিবী দেখে ফেলা আমি ন্যাপোলি শহরের রেড লাইট ষ্ট্রিটে প্রসাব করতে গিয়েও চোখ থেকে মুছে ফেলতে পারিনি যুদ্ধাবস্থার আট মাস বিশ দিন। জানো একাত্তরে ঠিক এই আট মাস বিশ দিনে আমার বাবা, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে , তিন লক্ষ বীরাঙ্গনার আহাজারিতে একটা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছিলো। আর আমি বাবার করা আমার পতাকার যুদ্ধ বুঝতে ঢুকে পরেছিলাম যুদ্ধে । স্বেচ্ছাসেবক আমার গলায় ছিলো বেশ্যাবেনিয়া জাতিসংঘের কার্ড। সেই কার্ড ছিড়ে ফেলেছিলাম কসাভোতে সত্তর ধর্ষিত বোনের লাশ সরাতে সরাতে।
আমি আজকাল আমার বুকের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি, এক ব্যক্তিগত আকাশ। আকাশে থাকা আট মাস বিশ দিনের সকল আত্মীয় আমায় ঘুমাতে দেয়না মরতে দেয়না, নিঃশ্বাসটুকুও চুরী করে লেডি অন রেড।
তাই , আমি আজকাল মৃতদের হাত ধরে ধরে রাস্তায় হাটা শেখাই, ভালোবাসা ব্যাধিতে মৃতদের নেতা বনে যাই, এ শহরের।তাই গত তিনহাজার দুইশ রাত আমি জেগে জেগে অসহায় কবিতা লিখি , লিখি উদ্বাস্তু শরণার্থী শিবিরের সাহস। ভয় শব্দটা চৌদ্দ বছর বয়সী মাহেরের বুকে বাঁধা আত্মঘাতী মাইনে ধর্ষক ব্রিটিশ রানীর জাতীয় সংগীতহীন কাপুরুষ ছিন্নভিন্ন যোনী পথে হারিয়ে যায়।
আমার ঘুমানো হয়না বৃহঃপতিবার। আমার ঘুমানো হয়না তিন হাজার দুইশ রাত। আমার ঘুমানো হয়না হে পৃথিবী। আমি জেগে থাকি, জেগে থাকে মা। জেগে থেকে থেখে “তখন বোধহয় আমার মধ্যপ্রদেশীয় ঘড়িতে বেলা ৩টা ৪৩মি:..
আমি ছুটি নিচ্ছি,ছুটি। কিছুক্ষণ আগে বৈরুত থেকে ফিরলাম, আমার ছোট্ট স্টুডিও এপার্ট’স ,ছোট্ট শহর ইরফার্ট এ। যেখান থেকে আসলেই কেউ বুঝতেই পারবেনা ঠিক কতটা ক্ষমতার ক্ষুধায় রাস্তায় পড়ে আছে শিশু। এইরকম এক শিশুর সাথে পরিচয় হয় জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরে, বিশ্বাস করো গত আট মাস বিশ দিন আমাকে এতটা পরিনত এতটা বৃদ্ধ করে তুলবে বুঝতে পারিনি গত প্রায় নয় মাসে তিনটা যুদ্ধ ফ্রন্টে থাকা চব্বিশের আমার বয়েস বেড়ে হয়েছে ছাপ্পান্ন। প্রতি মূহুর্তে মূহুর্মুহু মৃত্যু যেনো প্রবল উল্লাসে শোধ করছে পুঁজিবাদী হলিউডের ঋণ। আমি ঘুমাতে চেষ্টা করিনা আর। আমি জেগে থাকি। ঘরের দরজায় স্টিকি নোটে তুমি রেখে গ্যাছো ডাঃ এর ঠিকানা আমি উড়িয়ে ফেলে ট্যুর অপারেটরকে ফোন দেই টিকেট বুক করি বোগোটো, কলম্বিয়া। ”
দীর্ঘ একবছর পর সাইপ্রাসের নিকোশিয়া শহরের ফ্ল্যাটে ডায়েরীর এই পৃষ্ঠাটা পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে মনে হলো গত একটা বছরে শুধু মাত্র একে সাতচল্লিশ, ট্যাঙ্ক, ধর্ষিতা শিশুর কান্না, দেয়ালে ঝুলন্ত বাবা, মায়ের বিবস্ত্র শরীর, নারী শরীরের বিশেষ অঙ্গগুলোর আটান্নটি মোসাদীয় উপনাম ভুলতে কোথায় যাইনি আমি? অজস্ত্র রাত কাটিয়েছি ইহুদী কন্যার উপর, ভোর করে ফেলেছি আইরিশ মেয়েটার বুকে রাখা পয়েন্ট ফাইভ কোকেন টানতে টানতে। কলম্বিয়ার সৈকতে পড়ে থেকেছি, লাওসের দালালের কাছ থেকে জেনে নিয়েছি মিথামাইটিন আইসের ঠিকানা। বুয়েন্স আইরেসের বস্তিতে ঘুরে ঘুরে খুঁজেছি ফুটবল ঈশ্বরকে। রিগাতে অথবা ব্রাসেলসে কিঙবা প্যারিসের সেভেন্থ এভ্যুনিউ এর পানশালায় চীৎকার করে লিভারপুল আর্সেনালের চার চার গোলে ড্র হয়ে যাওয়া ম্যাচটাও দেখেছি কিন্তু অর্ধেক পৃথিবী দেখে ফেলা আমি ন্যাপোলি শহরের রেড লাইট ষ্ট্রিটে প্রসাব করতে গিয়েও চোখ থেকে মুছে ফেলতে পারিনি যুদ্ধাবস্থার আট মাস বিশ দিন। জানো একাত্তরে ঠিক এই আট মাস বিশ দিনে আমার বাবা, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে , তিন লক্ষ বীরাঙ্গনার আহাজারিতে একটা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছিলো। আর আমি বাবার করা আমার পতাকার যুদ্ধ বুঝতে ঢুকে পরেছিলাম যুদ্ধে । স্বেচ্ছাসেবক আমার গলায় ছিলো বেশ্যাবেনিয়া জাতিসংঘের কার্ড। সেই কার্ড ছিড়ে ফেলেছিলাম কসাভোতে সত্তর ধর্ষিত বোনের লাশ সরাতে সরাতে।
আমি আজকাল আমার বুকের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি, এক ব্যক্তিগত আকাশ। আকাশে থাকা আট মাস বিশ দিনের সকল আত্মীয় আমায় ঘুমাতে দেয়না মরতে দেয়না, নিঃশ্বাসটুকুও চুরী করে লেডি অন রেড।
তাই , আমি আজকাল মৃতদের হাত ধরে ধরে রাস্তায় হাটা শেখাই, ভালোবাসা ব্যাধিতে মৃতদের নেতা বনে যাই, এ শহরের।তাই গত তিনহাজার দুইশ রাত আমি জেগে জেগে অসহায় কবিতা লিখি , লিখি উদ্বাস্তু শরণার্থী শিবিরের সাহস। ভয় শব্দটা চৌদ্দ বছর বয়সী মাহেরের বুকে বাঁধা আত্মঘাতী মাইনে ধর্ষক ব্রিটিশ রানীর জাতীয় সংগীতহীন কাপুরুষ ছিন্নভিন্ন যোনী পথে হারিয়ে যায়।
আমার ঘুমানো হয়না বৃহঃপতিবার। আমার ঘুমানো হয়না তিন হাজার দুইশ রাত। আমার ঘুমানো হয়না হে পৃথিবী। আমি জেগে থাকি, জেগে থাকে মা। জেগে থেকে থেকে সেলাই করেন তিন হাজার দুইশ রাত।
সোয়েব মাহমুদ।
ঢাকা-
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Saturday, March 18, 2017
দুপুর
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
অসাধারন হয়ে মরে যাবো??
কিন্তু গন্ধের ভিতরে যাওয়ার মতন সাধারণ হওয়ারও সুযোগ পাবো না।
আমরা অসাধারণ হয়ে থাকতে থাকতে মরে যাবো।
হিস্টিরিয়াগ্রস্ত রোগীর পুরানো নষ্ট হয়ে যাওয়া রেডিওর
মতন রিপিটেশনে বিপ্লব বিপ্লব করতে থাকবো।
আমরা
মশারীর ভেতর , ছুড়ে ফেলা জালের ভেতর , গর্ভের
ভেতর কেবল বিস্ফোরণে বাড়াতে থাকবো মানচিত্রের জনসংখ্যা।
আমাদের জীবনটা কেটে যাবে আবেদনপত্র লিখতে লিখতে,
আমরা ভুলে যাবো জোছনা ছোঁয়ার সময়।
ভুলে যাবো চিঠি, যে চিঠিতে তোমার গন্ধ পাওয়া যেতো , যে চিঠি
হাতে লেখা যে চিঠিতে চাইলেই বর্ষা কেটে বসন্ত লিখে
দেয়া যেতো, আমরা ভুলে যাবো সে চিঠি লিখতে।
একদিন আমি এবং আমরা তোমাদের ভদ্রস্থতার মুখ ও
মুখোশের সমাজকে লাথি মেরে বৃষ্টিস্নানের পর যেভাবে পথ
থেকে মুছে যায় ধুলোর স্পর্শ , ঠিক সেভাবে মুছে যাবো,
তোমরাও আনন্দে ভুলে যাবে পথ থেকে পায়ে মাখা ধুলোর দাগ মুছে
দিলে্ পরে থাকে দাগ মুছে দেয়া দাগ।
একদিন তোমরা জানবে প্রতিবাদ করতে থাকা কৃষ্ণচুড়া ঘরে
ফেরে রাত দশটায়, প্রতিবাদহীন রজনীগন্ধার শোপিস হয়ে নতজানু করজোরে!
তারপর সেদিন সব খুলতে খুলতে সুখি শুকর যাপন অভ্যস্থতায়
তোমরা বুঝতেই পারবেনা, ফুলেদের পাখিদের কোনও পোশাক থাকেনা।
ভুলে যাবে তোমাদের বগলে থাকা বাইবেল~
“ধর্ম মানেই মানুষ, মানুষ মানেই বিশ্বাস, ভালোবাসা।
ভালোবাসা মানেই অনুভূতিহীন কামার্ত শরীর নয়, নয় উন্মত্ত ভোগ!
শরীর মানে হৃদয়, শরীর মানে অন্যকিছু।
হৃদয় , সেতো শরীর থেকে আলাদা কিছু নয়।”
একদিন এইসব শব্দে ভ্রু কুচকে হেসে উঠবে চোখ বয়ে যাওয়া ক্ষরা
একদিন এইসব পাগলাচোদা সংলাপ পড়তে পড়তে
সামাজিক অশ্লীলতায় খোলা জানলার মতন
অসভ্য বিকৃত যৌন আচরণের বিনির্মিত নাগরিক সভ্যতায়
মেতে ওঠবে সময় মৌতাতে,
নসিহতে হবে মশগুল ক্ষয়প্রাপ্ত ধাতুর পৃথিবী তোমাদের
সকল আদমশুমারই থেকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করবে আমাদের।
একদিন প্রেমিকাহীন গণিকার সভ্যতায় বিরল হবে হৃদয়
অথচ প্রেমহীন শরীরের সুলভ দাসত্বে ঝুলে থাকবে তোমাদের চোখ, কেটে
নেয়া জিভে বলবে- একটা প্রেমের কবিতা চাই, রগরগে!
ইজেরবন্দী আলোয় ফুলে ওঠা উরুসন্ধির সুশীলতায়
আলোহীন অন্ধ নজরবন্দী জীবনে খুঁজতে থাকবে পেটিকোটের নারা!
এইসব অসাধারনত্বের রক্ত, পরিযায়ী রক্তে সাধারন না
হতে পারা আক্ষেপে একদিন আমরা মরে গিয়ে হাল্কা করবো পতাকার , কবিতার ঋণ!
সোয়েব মাহমুদ।
( একটি প্রেমের কবিতাই লিখবো রাকিবুল হায়দার! )
বারোই মার্চ, দুইহাজার সতেরো।
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Thursday, March 16, 2017
টাইপরাইটার
কোনও টাইপরাইটারের শব্দ নেই,থেমে গ্যাছে শহরময়, কোলাহল।
তুমি, নীল জামাটা মেলে শুয়েছো বিছানায়,শুয়েছো চুল খুলে, নাকফুলে।তাকালেই দেখবে জানলা থেকে সরে গ্যাছে আকাশ,ভেঙ্গে পড়ছে পিরামিড,গলে যাচ্ছে এভারেষ্ট,ছিড়ে গ্যাছে ব্যবিলন শব্দহীন।নিস্তব্ধ সরু রাস্তার, মতোনলম্বা করিডোর। তোমার হৃদয় জুড়ে শুধুইএকটা আলপিন।সিঁড়ির কোন থেকে সরে যাবে বেড়াল রান্নাঘরে।
শুধু,একজন মানুষ,শুধু,একজন প্রেমিক, অস্বাস্থ্যসম্মত প্রত্যাখানেআজ সারারাত বিগত মৃত্যু শোকে খোলা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকবে।তুমি শুনতে পারছোনা,একটা অনারম্বর ট্রেন দৌড়াচ্ছে,তুমি দেখতে পারছোনা,বুকে ক্রল করে এগুনো প্রেম।আমি স্পষ্ট শুনতে পারছি,বিবিধ বেঁচে থাকা ব্যবহৃত কাদা মাটি সরিয়ে,দিব্যি শুনতে পারছি,নিঃশ্বাসের শব্দ, দেখতে পারছিতোমার মুখ, চিবুক এবং গ্রীবা।আয়তচোখে তোমার, দেখা যাচ্ছে বাঁকবদল।আমি দেখতে পারছি,জানলা থেকে সরে যাওয়া অবয়ব,বিছানায় শুয়ে আছে নীল জামা মেলে ধরে।তুমি শুয়ে আছো,আমার বুকের ভেতরকার জ্বরে, চোখের নোনাধরা বৃষ্টিতে,নিঃশ্বাসের বিগত উত্তাপে, নয়!তুমি জেগে আছো,শুয়ে আছো।পুরানো পত্রিকার মতোন, স্মৃতিবিনাশের কারন হয়ে।মনে আছে,আমি, আমি এক ফুঃ দিয়ে নেভানো মশাল!আমি জানি,আত্মহত্যাপ্রবণ হৃদয়ে, স্পন্দিত কবিতা কিভাবেবুকের বামপাশ থেকে সরে নিমিষেই পালিয়ে যায়, ভুলের ভুলেওমনে করেনা। তাই আমি ব্যস্ত হয়ে উঠিনা মৃত্যু পরবর্তী আত্মহত্যায়।আমি দেখি, তুমি আছো।তুমিও দেখো জানি, তুমি আছো।শুয়ে বিছানায়,নীল জামা খুলে , বাতি নিভিয়ে।অন্তর্বাসহীন , নিরাভরণ।পাশবালিশে অদৃশ্যমান ,অনুমোদণহীন মর্গ থেকে চুরী হওয়া বেওয়ারিশ প্রেমিক,হিম ঠান্ডা চোখ।একদা,তোমাকে খুলে ফেলা নরোম রোদতোমার আর ভালো লাগবেনা জানি,জানলা খুলে।
মধ্যরাত অবাক বিস্ময়ে জোনাক জ্বেলে দেখে-শুয়ে আছো নীল জামা খুলে, নিরাভরন তুমি।শুয়ে আছি গোলাপ চাপায়, মৃত আমি।শুয়ে আছি আমরা , পাশাপাশি অথচ স্পর্শহীন অনন্তরাত।
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Sunday, March 12, 2017
সোয়েব মাহমুদ : ২৫ কবিতা
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Tuesday, February 21, 2017
আটই ফাল্গুণ তেরোশো আটান্ন সাল
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
প্রথম ভাষা শহীদ
বাবা আপনার খুব দুঃখ ছিলো, আপনার ছেলে প্রথম হতে পারেনি কোনদিন। আপনার সকল বন্ধুদের ছেলেরা জীবনে কোনো না কোনদিন প্রথম হয়েছিলো। এ ব্যর্থতা বয়ে নিয়ে গ্যাছেন জীবনের শেষ মূহুর্তেও। আপনারা আমার লাশটাও দেখতে পারেন নি, কবরটাও না। এরচেয়ে বড় দুঃখের কিছু কি আছে?
বাবা মনে আছে বাবুবাজারের প্রেসটা বন্ধ করেই দুদিন আগে, ১৯ই ফেব্রুয়ারি আমি মানিকগঞ্জ গিয়ে দেখা করে আসি আপনার সাথে, আমি বোঝাতে পারলাম না এই ছাব্বিশের যৌবন আগুন পলাশের যৌবন, বিয়ে করবার যৌবন নয়। আপনার মেয়ে ঠিক করে রেখেছেন কিন্তু বাবা পাকিস্তান সরকার আমাদের উপর চাপিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রভাষা উর্দু সেটা মেনে নিয়ে আমি বিয়ের পিড়িতে বসতে পারিনা। তাই লুকিয়ে ঢাকা চলে আসি ২০ তারিখ।
একুশ তারিখ সকাল থেকেই উত্তেজনা, ছাত্রছাত্রীরা জমা হচ্ছে, ভাঙা হবে ১৪৪.... সামনে পুলিশ তো কি হয়েছে, সামনে কামান তো কি হয়েছে। বাঙালী, বাংলা ভাষার এতটা মরিয়া হতে পারে জানা ছিলোনা।
বেলা তিনটা সাত, হঠাত পুলিশ গুলি ছুড়তে থাকে টিয়ার শেল উড়তে থাকে। বাবা একজন পড়ে গ্যালো। আমি ধরতে দৌড়াচ্ছি, গ্যাস চোখ মুখ জ্বালাচ্ছে আমি তুলে নিয়ে হাতে হাত দৌড়াচ্ছি। ঠা ঠা ঠা শব্দে আমি লুটিয়ে পড়লাম, আমার মাথায় রাইফেলের গুলি ঢুকে উড়িয়ে নিয়ে যায় খুলি। বাবা ভীষন যন্ত্রনায় দেখতে পেলাম ডঃ মশাররফুর খানের হাতে ছিটকে পড়া আমার মগজ, আমি পড়ে থাকি মেডিকেল হোষ্টেলের ১৭ নং রুমের পুর্বপাশে। আমার লাশ ধরাধরি করে রাখা হয় এনাটমি হলের বারান্দায়।
বাবা জানেন গুলিটা একটু সুযোগ দেয়নি মৃত্যুর আগে যে বলব -
আমি রফিকউদ্দিন, একটু আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল কলেজ ব্যারাকে ফিরছিলাম। ছাত্র জনতার উপর পুলিশের হঠাত নারকীয় হামলায় রাস্তায় পড়ে থাকা একজনকে তুলে নিয়ে।"
আমার বাবাকে বলবেন আমি ভাষার জন্য, আমাদের বর্ণমালার জন্য শহীদ হয়েছি। আমার রক্তেভেজা শার্ট নিয়ে গ্যাছে তরুন, আগামীকাল মিছিলে ঝোলাবে বলে। আমি রফিকউদ্দিন আহমেদ, বাবা আবদুল লতিফ, অরক্ষিত অঞ্চলে কবর দেয়ায় চিন্হীত করা যায়নি আমার কবর,আমার বাবাকে বলবেন ম্যাজিস্ট্রেট ওবায়দুল্লাহ জানে আমাকে কোথায় চিন্হহীন দাফন করেছে সরকার?
শহীদ রফিকউদ্দিন।। ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
"বুক পকেটে একটা মস্ত বসন্তকাল হা করে গিলে ফেলার পর যে বলে- হারিয়ে যাবার সময় আমার পড়নে কি ছিলো তা আমি জানিনা।”
(Everywhere is an walking distance if you want!)
Featured Post
দ্যাখা অদ্যাখা কাব্য ১-৩
দ্যাখা – অদ্যাখা কাব্যঃ ১ আমি চাই তোমার সাথে কোথাও কখনোই আমার দেখা না হউক, আমি চাই, প্রানপনে চাই। তাই এড়িয়ে যাই, তোমার হাটা পথ...




