Search This Blog

Tuesday, May 8, 2018

আজ পঁচিশ বছর,

পদ্যলেখক, বুঝলে - এতটা না করলেও হতো।

আমিতো বহুবার শুনেছি যারা লেখে হৃদয় তারা নাকি

সুযোগ পেলেই ছুঁয়ে ফেলে বৃষ্টি,

নিভিয়ে আগুন, বাড়িয়ে দেয় তৃষ্ণা।

আমি পোড়া আগুনে আর পুড়তে চাইনি বলে দূরে দূরে ছিলাম।

তাই বলে পদ্যলেখক, তুমিও.।!।


রাত দুটো দশ... 

বারান্দায় আমি...

সংসার একটা হয়েছে আমার বটে..

ছেলে মেয়ে ছেলে- বেশ আছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়, টুকটাক এনজিও ফ্রিল্যান্সিং

মাঝে মাঝে শবাসন,

মাঝেমাঝে বারো তরকারি..

মাঝেমাঝে ঝড়..

মাঝেমাঝে.. মুঠোফোন থেকে বের করে আনি মুঠোবার্তা।

জানো ওদের বয়স হয়েছে আজ পঁচিশ!


পঁচিশ বছর, 

পঁচিশটা বছর পেরিয়ে গ্যালো মুঠোগলে।

অথচ-

মনে হয় এইত সেদিন আমাদের কথা বলে ওঠা।

অথচ-

মনে হয় এইত সেদিন প্রথম দ্যাখা।

মন্ব হয় এইত সেদিন - বহুদিন পরপর চায়ের নিমন্ত্রণ

মনে হয় এইত সেদিন এক দুপুরবেলা হঠাত মুখোমুখি ভাত খেতে বসা।

অনেকগুলো ক্ষণ বছর উড়ে গেলো চোখের নিমিষেই।

অথচ-

মনে হয় এইত সেদিন

বৃষ্টিঝড়,

একটা রিকশা,

ছোটখাটো পর্দা,

হুড তুলে দিয়ে নামিয়ে ফেলা,

উচ্ছল হাসি তোমার।

বিড়বিড় করে কেবল কবি এবং কবিতার কথা বলা।

আর আমার- তোমারামার মাঝখানে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরীর ব্যর্থ চেষ্টা।

মনে হয় এইত সেদিন...


পঁচিশটা বছর পেরিয়ে গেলো হাটি হাটি পা পা করে।


পদ্যলেখক



" ঝড় শুরু হয়ে যেতে পারে এখনই,
এখনই উড়ে যেতে পারে ওড়না ঢাকা ভালোবাসাবিতান প্রেমিকাদের।
বৃষ্টির জল মুছে দিতে পারে এখনই,
তোমার ঠা ঠা শব্দে শুকিয়ে যাওয়া ঠোটের দেশ।
উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে আমার কান পেতে রাখায়
তোমাদের জঙ্ঘাদেশে ফোটা হলুদ হরতকি ফুল।"


যখন ভাবছি তোমার এইসব কবিতার লাইন তখন সত্যি সত্যি ঝড় হচ্ছে।

জানো পদ্যলেখক আজকাল আকাশে তাকালে তোমাকে দেখা যায় না।

জানো আমার সাথে দ্যাখা হয়েছিলো তোমার সকল প্রাক্তণের।

জানো সবাই বলছিলো 

" ও অসুস্থ খুব, কবিতা খেয়ে নিয়েছে ওর ভেতরবাড়ি পুরোটাই।

নাহলে কি ওর মন খারাপে, ওর তীব্র বিষাদে ঝড় হয় ভাদ্র আশ্বিনের রাতেও

ওর ধ্বসে গ্যাছে জীবন। 

ওর আঙুল নাড়ায় দেখেছি নড়ে ওঠেছে মহাকাশের ক্লীট।"


পদ্যলেখক, বহু উজ্জ্বল মাছেদের অনুজ্জ্বল ভীড়

ফেব্রুয়ারির বইমেলা,

কতশত লাইন লিখে রাখে পৃথুলা পৃথিবী।

অথচ

কোথাও" হল্ট থামুন"- বলে আদেশ নেই,

কোথাও " রাত বারোটার শহরে পর্দানশীন উরুস্তম্ভ

কাপড় নেমে গেলেই সরকারী ছুটির রাত!" বলে শ্লেষ নেই,

নেই তীব্র বিষাদ,

অবসাদহীন অবসাদে হেটে যাচ্ছে বাংলা কবিতা।

সবটাই ব্যাকরণ, নিয়ম এটে লোহার ব্রেসিয়ার।

প্রতিবাদ নেই,

কোথাও অভিমানে কবিতার স্বেচ্ছামৃত্যু নেই,

নেই শিরদাঁড়া সোজা করে জ্বরে জ্বলজ্বল চোখে সদম্ভে হেটে যাওয়া কবিতার।


আজ পঁচিশ বছর হলো, পঁচিশটা বছর।

তুমি হয়ে গ্যাছো স্বেচ্ছা নির্বাসনে আকাশের ব্যস্ততাহীন

জনপদের স্থায়ী বাসিন্দা।

আজ পঁচিশ বছর,

পঁচিশ টা বছর হলো।


পদ্যলেখক (১)

৮ই মে, ২০১৮.

নুরজাহান রোড মোহম্মদপুর।

Featured Post

দ্যাখা অদ্যাখা কাব্য ১-৩

দ্যাখা – অদ্যাখা কাব্যঃ  ১ আমি চাই তোমার সাথে কোথাও কখনোই আমার দেখা না হউক, আমি চাই, প্রানপনে চাই। তাই এড়িয়ে যাই, তোমার হাটা পথ...