ভুলে যাও কেনো সবাই এখনও ফেরেনি?
ভুলে যাও কেনো তোমার ইবনে বতুতা হৃদয়?
ভুলে যাও কেনো খাঁচার ভেতর পোষা পাখি?
ভুলে যাও কেনো
পাঁচিলে সেঁটে দেওয়া বিজ্ঞাপনের মত
রোদ-জল-বৃষ্টির ভালবাসায় ছিঁড়ে পড়ছে আপাতকালীন ক্রুসেড।
কবিতা-টিপ
নারী শরীরের নিগুঢ় রহস্য টানেনি আমায় কখনও, যতটা টেনেছে চোখ অথবা কপালে লাল/কালো বিচ্ছিন্নতাবাদী দ্বীপ।
যদি আমি পারতাম তবে আকাশে রেখে মেঘ, বৃষ্টি ঝরাতাম বারোমাস। বৃষ্টি থেকে টিপ রক্ষার নিমিত্তে রেখে দিতাম আমার ঠোঁট কপালে তোমার।
অজ্ঞাতনামা নীরবতা
নীরবতা ছিন্ন হতে হতে
গাঢ় সন্ধ্যা নেমে আসে আঁচল খসে পড়া বুকের ভাঁজে ভাঁজে।
তোমাকে বলা হয়নি,
বলা হয়ে উঠেনি একদিন সমস্ত সত্যগুলো মিথ্যে হয়ে যায়,
একদিন সমস্ত পথ এসে দাঁড়িয়ে যায়,
ঠিক যেখান থেকে ভাবি আমি পঁচিশ পয়সার জীবন উড়িয়ে দিয়ে
অজ্ঞাতবাসে নিয়ে যাবো সুনিশ্চিত মৃত্যু।
তোমাকে বলা হয়না
তার আগেই গাছেদের প্রাণ আবিস্কার সাড়া ফেলে পৃথিবীতে,
তোমাকে বলতে পারিনি তার আগেই দেখি তুমি যাচ্ছো,
হেসে হেসে যাচ্ছো, রাস্তায় রিক্সায় ; পেরিয়ে যাচ্ছো
বুকের ভিটা, উজান শিথানে রাখা কবিতা।
তুমি যাচ্ছো দূর্বিনীত ক্রোধে গর্জনরত
কঙ্ক্রীট-মিক্সারের মুখ থুবড়ে পড়া রাস্তা থেকে কুড়িয়ে
অট্টালিকার হাসিতে জর্জরিত হৃদয়।
তুমি যাচ্ছো স্থিমিত সূর্যাস্তে ক্লান্ত চোখে বিষন্ন রোদ
তুমি যাচ্ছো সবুজ রঙের একটি নতুন ক্যাকটাস,
তুমি যাচ্ছো অবহেলায় হাত পেছনে ফেলে
তুমি যাচ্ছো তো যাচ্ছো, থামছো থামতে চাইছো না
নিজেকে ভেবে নিচ্ছো প্লেটো এরিষ্টটলের বুর্বাক।
তুমি হাসছো সোফিয়া লরেন, তুমি তাকালেই এলিযাবেথ টেলর, কনফ্লিক্ট।
তুমি অস্থির তোলপাড় অথচ কি শান্ত জলে ভেসে আসে তোমার কন্ঠ।
তুমি পালাবেনা পালাবেনা করে পালিয়ে যাচ্ছো,
ছেড়ে যাচ্ছো তোমার অজস্র রাত।
তুমি বেঁচে থাকার তীব্র উন্মাদনায় মথুরা আগুন,
তুমি বেঁচে থাকছো নিরাভরণ নিরাপদ অন্তত,
তুমি দেখছো অথচ বুঝতে চাইছোনা
তুমি বুঝে নিয়ে পৃথিবীর সকল হাত ঘড়িতে
সকাল আটটা বাইশ ছুড়ে ফেলে দিচ্ছো ছেলেবেলার ছবিফ্রেম।
তোমাকে বলতে গিয়েও অগনিত বার এইসব কথাগুলো
আমি ফিরে ফিরে ধরেছি শাটল ট্রেন,
তোমাকে বলতে গিয়েও শামসুন্নাহার হল
আমি ফিরে ফিরে এসেছি ওয়েটিং রুম।
তোমাকে বলতে গিয়েও চারুলতা স্কুল
আমি হেটে হেটে এসেছি রেললাইন তোমার বাড়ির নীচ,
তোমার শহর,
তোমার সন্ধ্যার উপকূল সংলগ্ন স্নানঘরও।
তোমাকে বলতে গিয়েও ছুড়ে ফেলে দিয়ে আসি
শহরময় ছড়িয়ে আমাদের হাসি-হাসিমুখ বিকেল চারটা সাতাশ।
তোমাকে বলা হয় না, বলে দিতে পারিনা
রোধ করে দাড়াতে পারিনা,
নিরোধক শহর স্ফীত বিন্দুর ছোঁয়ায় ফাটছে ভীষণ।
তোমাকে বলা হয়না
বিষন্নতার প্রবল রঙে যে নদীটা একেছিলাম একদিন
তোমার নাভীদেশ ছুয়ে
সেখানে সান্ধ্য আইন ভেঙে বেরিয়ে পড়েছে মিছিল ঘামেদের,
সকল সলজ্জ সাজসজ্জা ছুড়ে দিয়ে অসীম নন্দনে
আত্মহত্যা যেহেতু পাপ তাই হত্যা করতে চাই অন্তত।
আমি বেড়িয়ে যাই ইশকুল,
আয়নায় মুখোমুখি গিমিকের উর্ধ্বে,
আমি ছায়া মাড়িয়ে চোখের
কোলে শুয়ে থাকা শিশু থেকে বের করে আনি ঘাতক, আজন্ম চে'র ঘাতক।
তোমাকে বলা হয়নি
বলতে পারিনি
বলা যায়নি,
আমি হত্যা করে ফেলি তাকে,
যাকে একদিন তুমি সকাল নয়টা সাতাশ,
অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিলে সমুদ্রে,
যেখানে এখনও,
এখনও কান পেতে জোনাকি,
শুনে নেয় ঘর ; বাড়ি ফেরেনি।
ফেরেনি রাত ;বুকের অনন্ত পোতাশ্রয়ে।
শুধু জেগে থাকে অপেক্ষার শরণার্থী শিবির ; একদিন বাড়ি যাবে বলে৷
তেমন কিছুই নেই
তেমন কোনও বিষয় বাকি নেই, যা নিয়ে শুরু করতে পারি আবার।
বিশ্বাস করো- বলে নিজেকেই বিশ্বাস করাচ্ছিলাম বোধহয়।
ইচ্ছে করেনা, ইচ্ছে করেনা বলে চুপচাপ বসে থাকি,
ইচ্ছে করেনা বলে সিগারেট শেষ হলেও বের হওয়া হয়না।
ইচ্ছে করেনা বলেই আজকাল সংবাদপত্র অথবা কবিতা সাময়িকী উল্টানো হয়না।
ইচ্ছে করেনা বলে নিজের ভেতর ওথকে কাঠচেরাইয়ের মতন গুড়ো গুড়ো করি,
ইচ্ছে করেনা বলে নিজের ভেতর নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করে উড়িয়ে দেই,
ইচ্ছে করেনা বলে কবিতা লেখার মতন সহজ কাজটাও করা হয় না,
ইচ্ছে করেনা বলে “বৃষ্টিচ্ লিখে খাতায় জানলা দিয়ে হাত বাড়াই না আর।
তাই তেমন কিছুই বাকি নেই বলে শুরুটা করতে পারছিনা।
জীবনের চেয়ে বানোয়াট, মৃত্যুর চেয়ে ছেনাল আর কিছু
দেখবার বাকি নেই বলে ইচ্ছে করেনা খোলা মাছি ওড়া যোণীপথ এড়িয়ে যাই।
স্তব্ধতার সময়ে রান্নাঘর থেকে রানুখালার অন্তর্বাস মুখে নিয়ে দৌড় দিয়েছে বিড়ালছানা,
রাত বিরাতে নাইটগার্ড চীৎকার করে – ঘুমান।
ভাবি, দ্যাখা হলে এসব নিয়ে আলোচনা করবো,
কিন্তু কিভাবে দেখা হবে তা জানা নাই।
তাই এইসব কথা দেরাজবন্দী করে দেখি,
তুমি আসার আগে আমার একটা জীবন ছিলো,
তুমি আসার পর আমার একটা জীবন ছিলো,
তুমি চলে যাবার পর আমির একটা জীবন হলো,
এইযে তিন তিনটে জীবন এরমাঝেকার দৃশ্যমান ব্রীজ ভেঙ্গে গ্যাছে
তাই নতুন এমন কোন বিষয় নেই যা নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি,
নতুন এমন কিছুই নেই যা নিয়ে শুরুটা হতে পারে।
শুন্যতার ব্যবচ্ছেদে তোমার সাথে আমার আর কোনও কথা থাকতে পারেনা, কথা থাকতে নেই।
।বুকের ভেতর স্তব্ধতায় করতলজুড়ে বৃষ্টি,
কপালে নেমে আসা পাখিঘর আর হামাগুড়ি দেয়া খামারবাড়ি
হৃদপিন্ড থেকে শিরা উপশিরায় পাখির মতন হরমোনজুড়ে
গান গায়, অথচ কি আশ্চর্য দেখো!
স্পষ্টত ঠোঁট কোনও ভাষা,
জিহবা কোনও শব্দ,
নাক কোনও তরঙ্গ উচ্চারণ করেনা।
কেবল চোখ- দুজোড়া চোখ একে অন্যের দিকে
পারস্পরিক দূরত্ব বাড়াতে বাড়াতে, অপলক দৃষ্টিতে
মোটর জাহাজ,
মোটর জাহাজের আধখোলা জানলা দিয়ে একটা বিদায়ী সম্ভাষণ,
কড়া নেড়ে দূর থেকে দূরে যায় অনুচ্চারে,
দূরে যেতে যেতে সদ্যবিদায়ে সব ঝাপসা,
সব ধোঁয়াটে।। ইস্পাত দৃঢ় অস্পষ্টতা।
নভেম্বরের রাত সাড়ে এগারোয়
কুয়াশা-মেঘ-অবদমিত কষ্ট
নিপীড়িত দ্বীর্ঘশ্বাস,
থেমে থেমে আধঘুমে চলাচলে স্পন্দনগুলো
বৃষ্টি হয়ে নামে বুক থেকে শহরের সু-প্রাচীন কালো রাস্তায়।
অথচ জানো জুই,
দোয়েল-শাপলার মূদ্রাস্ফিতি,
ষাটগম্বুজ মসজিদের হাতবদলি বাহকে,
ঘুচিয়ে পাশাপাশি শুয়ে থাকা অমার্জিত অভাব।
দু-দন্ড স্বস্তিতে হুডখোলা রিকশায়, চায়ের কাপের পিঠ বেয়ে নামা
সোনালী জলে, প্রজাপতির ডানায় ভর করে
পরমাত্মীয় সকল দুঃখবোধের কার্ফ্যু ভেঙে
দু-জোড়া ভালোবাসা-বাসি পায়ে হেটে চলা হাসিতে
তুমি- আমি শব্দযুগলে, আমাদের হবার কথা।
দশ-দশটা আঙুলের সংসারে,
দিনগুলো খুনসুটি
রাতগুলোতে কপট রাগের সন্তাপে ভেঙে পড়া মিছরির
টুকরো টুকরো মূহুর্তে তোমার সুখী গৃহিণী জোছনায়,
আনন্দঘন আমাদের একটা চার দেয়ালে,
একটা আকাশ,
একটা বাড়ি,
একটা ঘর, একটা বিষাদে- অসুখের সুখে
একটা ঘর হবার কথা।
প্যান্টের পকেট থেকে,
শাড়ির আচল থেকে,
শীতকাল আসন্ন অনিবার্য জেনেও
তোমার কপালে একটা অনন্ত বসন্ত সেটে দেবার কথা।
অথচ, দৃশ্যের অন্দরমহলে সম্প্রচারিত দৃশ্যে তুমি যাচ্ছো বহুদূর।
আসলে
বিদায় শব্দটা আমি বুঝে উঠতে পারিনা
মাতামুহুরির করালগ্রাসে ডুবোচর আমি,
পৃথিবীর ইতিহাস থেকে বিদায় শব্দটা লিখেও
কেটে দিয়েছি।
কেটে দিয়ে বুকের উঠানে হৃদপিন্ডের শিথানে
আশাবাদী রোদের চাষে,
লিখে দিয়েছি মুক্তির কবিতা,
লিখে দিয়েছি
" বিজয় শ্লোগাণ
লেখা হবে, লেখা হবে জন্ম উপাখ্যান " ভালোবাসি।
কেবল এবং কেবলমাত্র তুমি আসবার পর।।"
আমাকে প্রত্যাখ্যান করে আর যাবে কতদূর,
বলো- বলো দেখি?
আমাকে উপেক্ষায় আততায়ী তোমার ঠোঁট আর কতকাল?
কতকাল তুমি ঘরে বসে থেকে থেকে বাড়াবে বয়স চোখের।-
আমি যাচ্ছি- জানি তুমিও যাচ্ছো সমুদ্রে অন্যপথে
বিষণ্ণতায়- অথচ আমাকে বলছো তুমি ঘরে বসে থাকবে
আমাকে বলছো আকাশে যাবে?
চাপা দিয়ে পাথর তুমি অবসাদের ব্যবচ্ছেদে হেসে ফেলছো কড়ে আঙুলে।
আচ্ছা তুমি কি জানো-
এমন পাথর চাপায় জন্মায়নি পাথরকুচিও।
অনেক কিছু হয়ত বলতে চাই আমি কিন্তু শহুরে কোলাহল গ্রাস করে শব্দ,
অসারতা নামে সলজ্জিত আলোয় বাক্যে জিহবায়।
হয়ত ব্যর্থতা নিয়ে বুকে-
একদিন আমি সটান শুয়ে পড়বো তোমার বৃষ্টি বিধৌত তলপেটে-
হয়ত একদিন তোমার চিবুকের মহাসড়কে নামাবো অঝোর বৃষ্টি।
হয়ত একদিন তোমার চোখে রেখে ঠোঁট শুষে নেবো বেদনার আহত বোধ।
হয়ত কোনকিছুই পারবোনা - হয়ে কাচের কাক তাকিয়ে থাকবো
বুকের উদ্যানে তোমার একটু আশ্রয়ের তাগিদে-
আমি পেতে দেবো আমার কাঁধ - বলে হয়ত দেবো ঘুমাতে পারো- নিরাপদ আমার কাঁধে রেখে তোমার মুখ
তুমি জ্বালাতে পারো নিরাপরাধ দেয়াশলাইতে একটি মোমবাতি।
অথবা- খুলে ফেলে সকল জড়তার আড়ষ্ট আড়ত -
তুমি হেটে যেতে পারো- তুমি আঙুল বোলাতে পারো
তুমি বলে দিতে পারো -
প্রেমিক আমার-
উন্মোচন করে দাও তোমার বুকের আমাজন।
আমি জ্বরের বুকে উড়াবো ঘুড়ি।
নদীগড়া আনন্দে তুমি কেঁদে দিতে পারো
তুমি হেসে উঠতে পারো ভোরের খিলখিল শব্দে।
তুমি দু-বেনী ঝুলিয়ে ঢুকে পড়তে পারো
হৃদয়ে আমার - তোমার একমাত্র ইশকুল।
আমি বাধা দেবোনা- আমি হুহুবাহু'তে ছেড়ে দিয়ে ওজোনস্তর
লিখে দেবো - আঙুলের বায়োডাটা জেনে যদি যাও ক্ষতি নেই
দুপুর থেকে
সন্ধ্যে থেকে
বিকেল থেকে
রাত থেকে
এমনকি নাভীতলদেশে উন্নতশিরের ভোর থেকে
অপহরণ করে নিয়ে যাবো একদিন।
একদিন মুছে দেবো মাকড়শারজাল - তীব্র পোষ্টার
আর কাঁধে নিয়ে তোমার পা বন্ধ করে দেবো
নখ ভর্তি নেইলপলিশে মিথ্যে মিথ্যার মুখভর্তি হা।
মুছে দেবো চিরতরে যোণীর অকাল বিরক্তভাব।
যে হোটেলে তুমি ভাত খেলে,
ভাত খেতে আসা সবাইকে কি তুমি চেনো?
আমি শাহবাগ যেতে চাই না, মুখ ঠিকঠাক রাখতে চাই। অথচ শাহবাগ গেলে আমি আমাকে থামাতে পারিনা শুয়োরের বাচ্চা শব্দটা উচ্চারিত হয়ে যায়।
অসহনীয় শনিবার
বহুদিন হয়ে গ্যালো নিশ্চয়তার সামাজিক নোখে অভ্যস্ত যাপিত জীবন থেকে কাউকে কলার চেপে ধরে নামিয়ে রাস্তায়, কবিতা বলছেনা " চোপ শালা বানচোদ, লেখ, একটা কবিতা লেখ।"
দুঃখিত শব্দটা বলে দেয়া উচিৎ ছিলো ; পারিনি। তাই দুঃখিত শব্দটি যোণীর অন্ধকার খুটছে!
শুনেছি স্বপ্নেই গর্ভবতী তুমি,
বিদ্যুৎচমকের মতন তাকালো বারান্দায় তোমার ফুপি -
আলো আর অন্ধকারে খুলে কার নাইটি - বলছিলাম
স্বপ্নে তোমাকে গর্ভবতী করবার দায় আমি কেনো নেবো?
তোমার স্বপ্নে তো আর আমি ছিলাম না।
যদিও আমি কিছুটা বিভ্রান্ত আছি, যদিও এখন রাত একটা সাতাশ ,
তবুও শার্টের বুক পকেট থেকে একটা সমুদ্র বেরিয়ে আসে,
একাকীত্ব একটা বেগানা আওরাতের লম্বা শুয়ে থাকে।।
ভালোবাসা যাদুঘরে সম্পর্ক এক রোদ বিষয়ক স্মৃতির সেমিনার!
পকেটহীন পাজামায়, মুঠোয় আটকানো বাবু নিয়ে টানাটানি খেলা!
এতদিন খেলেছি বৃথাই, রিকশা।
বুকের ভেতর অনাবিষ্কৃত নীলনদে পরম অনাত্মীয় এক আত্মীয়ের বসবাস ।
মাদক বিরোধী আন্দোলনের নামে চলছে সাংসদীয় মাদক ব্যবসা।
মধ্যরাতের রেডিও প্রচার করছে অনুরোধের হস্তমৈথুন বার্তা।
সামরিক,বেসামরিক সব জিপে পাচার হচ্ছে জলপাই!
ধর্ম বর্ম হচ্ছে.....
প্রতিক্রিয়ায়, রতি-খেলার ঘরটায় লাল মদের আসরে শরীরে
বিক্রি হয় এনজিও ফোরাম!
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব যোণীতে ক্যামোফ্লেজ সঙ্গমে বাড়ছে ঋণ ,
বাড়ছে প্রজনন শুয়োরের।
"শেষ হওয়া দরকার খোলা জানলার মতন , অচ্ছুৎ এক জীবন।"
" শীতের দুপুর অনেকটা হেলে পড়া মধ্যবয়সী মূখরা রমণীর মতন; ছিড়ে যাওয়া অস্তিত্বে স্থায়িত্ব কম নিয়ে আসে।"
অতঃপর - "আঁজলা ভরা পানিতে জামা ভেজা নিয়ে যে আমি আপনার কবিতা পড়বো বলে দাঁড়িয়ে থাকি,
সে আমার; আপনার প্রস্থানের পর সেখানে থাকাটা প্রয়োজন মনে করিনা।
বিকাল তিনটা নয় মিনিট-
একটা চু'পের মাঝে চুপচাপ বসে ভাবি;
আচ্ছা মেলোড্রামাটিক নিস্তব্ধতার বিছানায় শুয়ে --
আমি এত বছর ঘুমিয়েছি কি?
নাকি পোট্রেট শুয়ে বসে লেজ নাড়িয়েছি
ল্যান্ডস্কেপ বিছানাপত্র জুড়ে; যেন এক বিষন্ন কুকুর।
আমি জানি না
জানা হয় না
আমার সামনে হতাশার সমুদ্র,
ঘুমাতে পারিনা
এড়াতে পারিনা সাঁতার কেটে বেরুতেও পারিনা....
শেষরাতের তাহাজ্জুদে শুধু দেখি
বিব্রতকর হাই তুলে হেটে যায় হাসপাতাল।
দেখি হেরে যাওয়া রক্তের উপর মাছি।
দেখি শেষতক কসমোপলিটান নাগরিক বিতানে,
ব্ল্যাককফি উইথ ডুবডুব ফিনাইল
ফেনায় ফেনায় প্রেম সেলস গার্ল হয়-
জিভ থেকে জিভে টরে টক্কা উফহ ফাঁকেফাঁকে হুম,
একটা আততায়ী হুররে,
একটা নিস্তব্ধ উপর-নীচে ঘাতক নিউরো সিফিলিস,
ঘুপচি আংগুলের ফাঁকেফাঁকে
ক্রেডিট কার্ডের বারকোডে ঝুলানো ব্রেসিয়ার,
মোড়ে মোড়ে ফায়ারিং স্কোয়াড, করে থোড়াই পরোয়া
নগ্ন দেহে বাড়ি বাড়ি আত্মা বিক্রি করে।
একপাল শুয়োরের কামে
পেপসির ভেতরে সোডিয়াম কার্বনেট বুদবুদ-
অর্থাৎ ঐ যে শোনো ডাকে মর্ডানিজম,
যেখানে নিজের ঘর তুলতে
অন্যের
হলদে জন্ডিস চোখে
ইজারা দেয়া নিজের স্বপ্ন।
হয়না এভাবে হয় না - এভাবে আমি পারিনা -
আমাকে তোমার পা কাঁধে তুলে নিতে হয় -
তাই শুয়ে শুয়ে আমি পারিনা বলেই
সবশেষে,
আবার,
যখন বিরতিহীন মর্ডান শ্লোক সংবলিত
সোশ্যাল নেটিভ রানওয়ে জুড়ে চলছে ঋজু সভ্যতার বিনির্মাণ-
তখন প্রাগৈতিহাসিক পাজামার ফিতে খুলে তাই
আবার আমি একটা চু'পের মাঝে গোল হয়ে
চুপচাপ
বসে থাকি!
দাউদাউ রবিবার
দুপুর একটা নয় মিনিট -
মানুষ যায় আর আসে, সবকিছু এক জায়গায় স্থির থাকেনা, থেমে থাকেনা। আবার কেউ চলে গিয়েও ফিরে আসে। ফিরে এলে দেখতে পায় একটা জখম আড়ালের ধোঁয়া। সবাই ফিরে আসে হয় বৃত্তে না হয় কেন্দ্রে। আমার মনে হয় ফিরতে হবে, এই নক্ষত্রমন্ডলীর মাঝে হাঁসফাঁসের জীবন। মিথ্যে দরোজা খোলার আয়োজন আর ভালো লাগছেনা আমার।
বিকেল চারটা-
তোমার টেলিফোন ও ঘড়ি অস্থিরতায়, মাঝরাতে রান্নাঘর থেকে বের হয় সময় নিয়ে
লোক দ্যাখানো নদী বিশয়ক আলোচনা।
সন্ধ্যা সাতটা নয়-
" অবাক আয়নার শহর,তুমি।
যতটা আর্থিক তুমি ততটা আত্মিক নও।
রাত এগারোটা-
অন্তহীন জার্নাল এভাবেই পরে থাকে আলোকচাতুর্যে।
এই নভেম্বরে আর কোনও কবিতা লেখা হয়না।
রাত দুইটা উনত্রিশ
সরব বিক্ষোভ নীরব থাকার
এখন প্রতিযোগিতা প্রলেতারিয়ার
একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে চুপ করে থাকো,
কথা বলবার কি প্রয়োজন?
একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার।
একটা দুটো শ্লোক ভেঙ্গে খেতে হয় শোক।
আমি সবুজের দাপাদাপি বুকচাপা দিয়ে,
মুখ নীচু ঢুকে পড়ি নিজের ভেতর,
পরাস্ত আমার ভেতর পরাজিত এক আমি।
অথচ অভি, আমার বলার ছিলো
আমার বলার ছিলো অনেক কিছুই।
আমার বলার ছিলো -
তোমার ব্যক্তিগত জেলে জাল ফেলে রাখে মোহনায়,
আমি প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেনেছি
একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার,
তাই যোগগুলোকে গুন ভাগ না করে,
যোগগুলোকে বিয়োগাত্মক বিদায়ে মুগ্ধতার কাছে
জন্মান্ধ আমি নাবিক ; তোমার নাভী উপকুলে হুহু বাতাসে
জোছনার জাহাজে চাঁদের সমুদ্রসীমা পেরিয়ে চলে যাবো।
জেব্রাক্রসিং- দেবতাদের ঠা ঠা হাসি ছাপিয়ে শব্দের গর্জন
এখন একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার,
যতিচিহ্নহীন মাইলফলকে বাড়ছে নীরব কাউন্টডাউন
এক... দুই.... তিন.... দুই.... এক!
এখন এক দারুন প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার,
বৃষ্টি টেনে নেয় অবাধ্য প্রেমিক
রোদের ভেতর থেকে বুকের স্তব্ধীভূত পাজরে।
একটা নীরব... একটা বাধ্যগত শান্ত..
একটা প্রতিযোগিতা...
একটা সময়... চলছে নীরব থাকার।
সোমবারটা ভালো লাগে না আমার -
একদিন পথভুলে কোথাও চলে এসেছিলাম নাকি কেউ নিয়ে এসেছিলো তা চিন্তা করাটা অবান্তর।
সন্ধ্যা সাতটা ছাব্বিশ-
" এই রিকশা, এই যাবেন , যাবেন আমার বাড়ি, আমার ধুলো জমা মহল্লায়।"
রাত দুইটা ছয়-
শাড়ি খুললেই তোমার বয়স বেড়ে যায় -
ভোর চারটা-
আর কতকাল রোদের জরায়ু ভিজবে,
ভুল বুঝে আশটে আলসার কুয়াশায়?
বিকাল তিনটা বাইশ
বয়েস ১৩ যখনঃ
আমি জানি,আমার তখন ১৩...
আমি জানি, এটা নিশ্চিত জেনেই জানি
অনেকেই ঘটনা থেকে; ঘটনার রটনায় মনোযোগী ছাত্র!
আমি জানি,
যখন আমি আমার শৈশবের রং হারাচ্ছিলাম তখনকার গল্প।
আমি জানি,
যখন শিক্ষয়িত্রী কর্তৃক আমি ধর্ষিত হচ্ছিলাম,
তখন কোথাও সাইরেন বেজে উঠেনি-
বাজেনি করুন বিউগল অথবা
নতর্কীর উদ্দাম নৃত্য আমার শরীর উপকুল ছুয়ে
শব্দহীন কর্পুরে উড়ে যাচ্ছিলো শ'বে!
তখন নারী মাত্রই ধর্ষিতা! ধর্ষক!! হয়ত কখনওই নয়!
তাই
আমি জানি,কিভাবে আকাশ বারান্দায় নামে?
আমি জানি,সন্ধ্যেটা কখন চোখের পাতায়?
আমি জানি,নরকের মেঘ মাথায় নিয়ে কিভাবে তুমি যুদ্ধাগ্রস্ত?
আমি জানি,এ শহরের কোন কোন ঘরে ঈশ্বরের যাতায়াত?
আমি জানি,তিনি অবৈধ কোথায়?
রেডিওতে চলছে দিনবদলের গান,
মুষ্টিমেয় উন্নয়ন, অরাজকতার শ্রেণীবিন্যাস।
এর মাঝে ধর্ষিত আমার
অবাক তাকিয়ে থাকার সবাক সময়ে চলছে নির্বাক চলচ্চিত্র!
আমি জানি, নারী তুমি বড্ড ক্ষুধার্ত।
পিপাসার্ত তুমি রক্ত উপাসনায়!
আমি এও জানি, তুমি পেছনে ফিরে তাকাবেনা,
আমি জানি, তাকালেই তুমি বন্দী;আমার চোখে।
আমার নখে,
ঠোটে,
বুকে,
অথবা
আমাদের অতীতের সিড়িঘরের হাজার সন্ধ্যায়...
আমি জানি, আমি মরতে শিখে গ্যাছি রোজকার নিয়মে।
আমি জানি, তখন আমি ২৩..
আমি জানি, দুঃস্পর্শ রাত্রিতে হয়ত আমি ৩০...
হয়ত আমি জানি,
১৩ বা ২৩ অথবা ৩০ যা'ই হউক না ক্যানো?
পুরুষ কখনওই ধর্ষিত নয়, তোমার টি.আর.পি সময়ে।
কিংবা হয়ত পুরুষ - মানুষই নয়
অথবা ছিলোই না কোনো জন্মে।
তাই আমি জানি,
২০১৫ সালের টিভিতে ১৯৯৪
এক শোকাবহ স্যাটায়ার - যেখানে মৃত আত্মায়..গুলি চলছে।
নুয়ে পড়া জঙ্গলেই তবে মঙ্গলবার -
সকাল এগারোটা বাইশ
এইযে স্কুল, এইযে স্কুল ইউনিফর্মে হেঁটে যাওয়া কৈশোর।
আমি আটকে আছি ষোলোতে'ই।
বিকাল তিনটা
আচ্ছা শুভা, ভালোবাসা থেকে কি বের হওয়া যায়?
এর সদর দরোজা কোথায়?
রাত দশটা সাত মিনিট
আকাশ প্রহরী মাথার উপর, বারান্দার নীচে মালিবাগের শিউলি গাছ সংলগ্ন বাড়িটার নাম " অলকানন্দা।"
দুইঃ
যে কথা , যে কবিতা কখনও লিখতে চাইনা।
চোখের গভীরে তীব্র আকাঙ্খার বাষ্প জমে আছে।
শরীর ঘুরে যায়, নাকে পাই তোমার বিগত গন্ধ।
উড়ে যাওয়া বাতাসের রাডারে ধরা পড়ছে তোমার ঠোঁট,
ফিরোজা শাড়ি, সবুজ টিপ।
নিঃসঙ্গ ক্ষমাপ্রার্থণা করা বাড়িগুলো জেগে থাকে- ঘুমায় না।
স্মৃতির ভারে ডুবে যাচ্ছে পুরো ছায়াবীথি,
হলদে পাখি শেষ রাতেও উড়ছে, নষ্টালজিক আকাশে।
যে কথা, যে কবিতা লিখবার কথা ছিলোনা,
স্মৃতিকাতর রাস্তাগুলোতে লুটোপুটি খায় আমার ধুলো।
অলকানন্দা নামের বাড়িটা থেকে তোমার ছায়া পড়ে দীর্ঘশ্বাসের ক্ষেতে।
ভোর চারটা-
মধ্যবিত্ত বুকপকেটে সযত্নে তোলা থাকে একটা শব্দ, আজন্ম শীতের কুয়াশায় তোলা থাকে দুই অক্ষরের সমুদ্র '' তুমি''।
ক্লান্ত স্থির বুধবার
সকাল এগারোটা চব্বিশ
- ক্ষুধার্ত।
রাত আটটা -
আমি এক ব্যর্থ চ্যাপলিনঃ
এইযে শুনুন,
আমি ব্যর্থ চ্যাপলিন- সিস্টাইন চ্যাপেলের।
প্রিয় নারীরা
যদি আপনাদের কখনও আকাশ ছুঁতে ইচ্ছে হয়,
তবে সিকি শতাব্দী পূর্বে
সাতশ নারীস্তন থেকে আমি যে ডানা এনেছিলাম,
অস্বাস্থ্যসম্মত প্রত্যাখানে আবার
যে ডানায় আমি উড়ে গিয়েছিলাম কর্পুরের মতন,
সে ডানা চাইলে নিয়ে
আকাশের বুক থেকে আকাশের সামিয়ানায় উড়ে বেড়াতে পারেন।
যদি কখনও আপনারা হারিয়ে ফেলেন ঠিকানা,
হারিয়ে ফেলেন আশ্রয়।
চাইলে রাত বারোটার লোকাল এসে পড়বার পর,
শহরের বা-প্রান্তের
শেষ বাড়িটার কড়া নেড়ে দ্যাখতে পারেন,
কড়া নাড়লেই ভেতর থেকে উদোম গায়ে
বেরিয়ে আসবেন হাতে নিয়ে জ্বলন্ত হৃদয়
একজন কবি- একজন রাষ্ট্রদ্রোহী,
একজন সামাজিক বেশ্যালয় পরিত্যাগ করা
পৃথিবীর জীবিত থাকা একমাত্র প্রেমিক।
আপনারা ওখানে তার কাছে গিয়ে বসতে পারেন।
দ্যাখে নিতে পারেন " পাবলো নেরুদার জন্ম!"
দ্যাখে নিতে পারেন " সেবাষ্টিয়ানের মৃত্যু"
শুনে নিতে পারেন " আ জম্বি হোয়েন ক্রাই" অথবা হুইস্কি লুলাবাই।
এবার ভোরবেলায় আপনার চোখে মুখে নিয়ে কুয়াশা
ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন চলন্ত ট্রাকের সামনে,
ঠিক যেভাবে আপনি আবিস্কার করলেন
এতটা সময় যেখানে কাটালেন
সেটা আসলে শহরের শেষ কবর, শেষ বাড়িটার ভেতর।
যার ফলকে লেখা -
সোয়েব মাহমুদ বাড়ি আসেন নি,
শেষ লোকালেও আসেনি প্রজাপতি।
আমার সাদা প্রজাপতি।
খুনে বৃহস্পতিবার
রাত বারোটা দশ
শুভা, ও কিছুনা, কিছু হয়নি আমার।
শুধু দেখতে চেয়েছিলাম
স্ট্রেইটকাট ছুরি ঢুকিয়ে দিলে কতটুকু যন্ত্রণা হয় বাম অলিন্দে।
শুধু বুঝতে চেয়েছিলাম
উপুর্যপরি ছুরিকাঘাতে প্রেমিকার, প্রেমিক বাঁচে কিনা।
ওসব বুঝবে না তুমি - স্বতন্ত্র নেইলকাটার হৃদয়ে তুমি বুঝবে না
বোঝার কথাও নয়! অথচ কি দারুণ আস্থাহীনতায়
সেন্ট পিটার্সবারগের রাস্তাটা ঠিক আমার বুক বরাবর ঢুকে যায়।
যেমন ট্রাকের পেটে ঢুকে যায় রিকশা
রিকশা চেনোতো মেয়ে! রিকশা -
আচ্ছা বলোতো, এভাবে কি বাঁচে মানুষ?
আমি জানি তুমি ধমক দিয়ে চোখ পাঁকাবে,
আমি জানি সিড়ি ল্যান্ডিংটার হাতলে ভর করে কাঁদবে তুমি, সরিয়ে চশমা।
ঠিক এইসময় ঢাকা আর অসলো এককাতারে দাঁড়ায়।
কোনও মাথামোটা অর্থনীতিবিদ তার অথর্ব সূচকে আলাদা করতে পারেনা।
আলাদা করতে পারেনা কান্নায় ধোয়ামোছা চোখ।।
এতটুকু লিখতেই নার্স মোটামুটি হিব্রু ভাষার
মুখ নিয়ে ডাঃ ডাকতে থাকে।
আমি এবার কাঁটা চামচে খুবলে তুলছিলাম
বাঁ হাতের চামড়া অথবা মাংস।।
ডাঃ বেশ সিরিয়াস, বলো'তো সুন্দরীরা সিরিয়াস হলে কি মানায়?
বলোতো, এভাবে কি হয়?
ক্লান্তিকর মুকাভিনয় আর সাদার সমুদ্রে কেটে যায় সাড়ে চারমাস।।
নিরাপরাধ দেয়াশলাই আমি ক্যালেন্ডারে তাকাতেই বুঝি,
ডিভোর্সের একবছর হলো আজ, আজ তেরোই ফেব্রুয়ারী।।
শুভা, আচ্ছা তোমাকে কি বলেছিলাম আমার স্ত্রীর কথা?
বলে কি ছিলাম হামাগুড়ি দেয়া শিশু!
জানো আমায় অনেক ভালোবাসতো ও,
আর তাই এগারো বছরের সংসার তছনছ করে ,
বদলে শাড়ির আঁচলে অশ্রুর দাগ বসিয়েছে নতুন আবাস।
আবাস পরিবর্তনের ফর্মটায় লিখেছে কুমারী এবং প্রথম বিয়ে!!
এক কলমের খোঁচায় কার কি হয়েছে জানিনা?
তবে আমার এগারোটি বছর,
আমার শহর
আমার হাতের মুঠোয়
এগারোটি বছর হুর হুশ করে শুন্যতার হা হা কা র!
আমার তারুণ্য আমি দেখতে পারিনি -
আমার অবশ শরীর- অলৌকিক বৃষ্টিতে ঘুম -
ঘুমঘুম ষ্টেশন ঘুমঘুম সময় -
কেবোল হয়ে থাকলো এক এবং এক নামক দুটো সংখ্যা।
আমি কাউকেই দোষ দিচ্ছিনা খন্ডন করছিনা কোন যুক্তি -
আমি - হাটছি না।
আমি- বসছি না।
আমি- কাদছি না।
আমি - হাসছি না।
আমি - ঝুলে গিয়ে ইতিহাস বইটায়
হতে পারছিনা ধুলো পড়া স্মৃতি।
এ এক অসহ্য অসহায় স্মৃতি বিজরিত অনন্ত বর্ষার জাদুঘর
এ এক অদ্ভুতদর্শনের আবহাওয়া অধিদপ্তর
এ এক মহামারী পরিস্থিতিতে বিনাচিকিৎসায় শুয়ে থাকা মর্গ!
খুব আবোলতাবোল বকছি -
আসলে বুকের ভেতর জ্বর নিয়ে কথা বলা যায় না,
শোনো শুভা মাথার উপরে একটা আকাশ-
আকাশে বাদুর দৌড় - ভোঁ ভোঁ শব্দে সম্পর্কের জানাযায়
আমার মাথায় ঘুরছে কবির কবিতা—
বহুবছর আগে কবি লিখে গ্যাছেন—
আমি জানি আমার মৃত্যুর পর পৃথিবী বিধবা হবে,
তাই পৃথিবীকে
দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিয়ে যাচ্ছি, আমি।
আজ রাখছি, চিঠি পেলে জানিও পরবর্তী চিঠি আসবে কি না জানিনা?
( শুভা ১৭ )
আঞ্জুমানে শুক্রবার
রাত ১১টা ৫৮
বিধবার রঙ মেখে আমি দাড়াই আমার জানাযায় একদিন।
শেষ ফুলষ্টপ
গ্রীনরুমে আয়নাতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি পর্বে নাকের উপর বসানোর জন্য প্রেয়সীর প্রিয় লাল; আগুন মুখো লাল বল খুজছি...... "থার্ডব্লো- শেষ ফুলষ্টপ ১৫ এর সন্ধ্যায়"- শো একটু পর....
দিকশুন্যপুরের জাহাজীকে কোনও এক ডিসেম্বরের ৫তারিখে ভালোবাসি বলে জাহাজ নোঙ্গর করিয়ে; কিছুদিন পর ঠোঁটের উপর কালো টিপের মেয়ে হঠাত বলে ওঠে-
"তোমাকে পাখি ভেবেছিলাম, এখন দ্যাখি তুমি জরাজনিত আকাশ। পাখি যতটা টানে ততটা আকাশ আমাকে টানেনা, আকুল করেনা।। তাই আজ থেকে আমরা দু-জন দুরের দ্বীপ।"
বীজগণিত, হিসাববিজ্ঞানে কাচা ছেলেটা ফ্রয়েডিয় ব্যার্থ মনোবিজ্ঞানের গিনিপিগ হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিড়িতে হাটতে হাটতে দ্যাখে পাবলিক হেলথের দোরগোড়ায় আড়াইবছর আগেকার ৫০% শিক্ষাবৃত্তি।এক মানবীর পানি উবে গিয়ে লবন জমা চোখে এক বোকা দ্যাখেছিলো, জেনেছিলো, পড়েছিলো "আমি, তুমি ছাড়া বড্ড একা।" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশেরও কবি - বাক্যটার মতই যা এক ডাহা মিথ্যে......
তুমি দাঁড়াও একটু আমি আসছি- এ কথাটা একমাত্র ভালোবাসা আর শৈশব বলে ছিলো।
"-- শৈশব!! সে আবার কে? বোদলেয়ারের চরিত্র নাকি? তারপর কি হলো? গল্প থামালে কেনো ?
-- তারপর এক দৈত্য ভেজা পা'য়ে টুটি চেপে মেরে ফেলে শৈশবকে,ভালোবাসা হয়ে যায় সামাজিক আলমারির চাবীর গোছাটার মতন ভারী। কেবল হাসফাস করে।প্রেয়সীর ভেজা চোখে তার নিজের স্বপ্নবৃত্তান্ত এর কোথাও ছেলেটা ছিলোনা, তবুও পিপড়ের শহরে ছেলেটা ভালোবেসে নিজের চোখে দৃশ্যমান করে প্রেয়সীর স্বপ্ন, ছুটে চলে।
ছুটতে ছুটতে হঠাত জেনে যায় --
"তুমি অতি ভালোবাসার মানসিক অসুখে ভুগছো"- নামক বিদায় বৃত্তান্ত।
-- "তারপর..তারপর কি হলো, উফফ..আবার থামলে ক্যানো! কোথায় যাচ্ছ .. আরেহ্ "
-- "আজ কয় তারিখ?এখন কয়টা বাজে? বলবে কি?
--"আজ ১৬ই ডিসেম্বর, রাত এখন ১১টা ৪৩মিঃ।"
-- "সাক্ষাত ঈশ্বর হয়ে মানিক মিয়া এভ্যুনিউ'তে রাত ১১টা৪৩মিঃূ কোনও এক ১৬, ডিসেম্বর
ছেলেটা ছুঁয়ে ছিলো ভালোবাসার ঠোঁট। আহ বৃষ্টি নামবে।। যাই এবার।"
--"গল্পটা শেষ হয়নি তো, এই..এইযে...কি আজব বৃষ্টিও পড়ছে দেখি।"
হঠাত সম্বিত ফেরে -
-- "এক্সকিউজ মি, আপনি কার সাথে কথা বলছিলেন এতক্ষন ম্যাডাম! আপনি সুস্থ্য আছেন তো।"
-- "কেনো দেখেন নি, কমলা টি-শার্টের একজন ছিলো তো। নাকি চোখের মাথা খেয়েছেন।"
-- "কেউ ছিলোনা ম্যাম, বৃষ্টি থেমেছে এবার বাড়ি যান। ১২টা বাজতে চললো।"
মেয়েটি রেষ্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামতেই শুনতে থাকে.. কে যে নো কবিতা পড়ছে বাতাসে শুয়ে।।
“-আকাশের রানওয়েতে ভোরের আযান...
অসময়ের পত্রিকা বলে দিচ্ছে সুন্দরের চোখ সুন্দর খুঁজে বেড়ায়।
তাই আমার, চোখের ভেতরকার জলোচ্ছ্বাস তোমায় ভেজাবে না....
বুকের ভেতরকার জ্বরের আঁচ ছুঁবেনা তোমায়...
দর্শক অভিবাদন গ্রহন করুন এক বোকা প্রেমিক,এক অ-প্রেমিকের।
স্টেজের আলোতে ঝলসে যাওয়া মুখ দেখুন আর.. দর্শক আংগুলে মুহুর্মুহু কড়া নাড়ুন..
শো- জমজমাট.....আর ক্লাউন আমি, জোকার আমি মুখটা উপরে তুললে...
ঈশ্বর অপেক্ষায় ফুলষ্টপ মেরে দ্যাখেন আমায়...
দেখেন একাকীত্বের অপেক্ষাকথনে ক্লাউন আমি ,
হাহ্, অপেক্ষার জলজ্যান্ত কবিতা, আমি।।
এক মস্ত সস্তা পাণ্ডুলিপি ১৬ই ডিসেম্বর রাত ১১টা৪৩মিঃ এর অলিখিত চুমু'তে।।
সমাপ্ত লেখা হয়না এক অভিমানী রেল লাইনের জেদি ভালোবাসায়।
যেখানে নিজেকে শেষকরা ইতিহাসের পৃষ্ঠা কোথাও কোনও এক ভবিষ্যতে সিগারেট বানাতে কাজে লাগবে।।চ্
খুলে
এক মস্ত দীঘির চুল উড়ছে হাওয়ায়,
দুইহাজার বারো সালের চুল এসে পড়ছে,
আমার চোখ, মুখ, নাক আর হৃদয় স্পর্শ করছে মানচিত্রে।
একটা রিকশার খোঁজে দাড়িয়েই আছি আজন্মকাল।
তোমার নীল চুড়ি আমার বুক পকেটে,
তোমায় পড়িয়ে দিতে না পারায়,
দুঃখও একদিন সাম্যবাদ হয়ে যায়।
রাস্তার ধার জুড়ে প্রেমিকের লাশগুলো আমাকে ডাকছে,
শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত নব্বই যেনো,
রুপকথার বইয়ে পড়া গণতন্ত্র যেনো,
যেনো উড়ন্ত সসার থেকে কুড়িয়ে পাওয়া চাবি, এক।
যা দিয়ে আজ অন্তত,
আমি মৃত্যুকে অথবা তোমাকে খুলতে শিখে যাব প্রিয়তমা।
কবিতা- রোদ্দুর
প্রিয় রোদ্দুর,
সম্পর্কের যুক্তাক্ষর থেকে অক্সিজেন উঠে যাওয়া সময়ে,
তোমার অ-বিশ্বাসী হৃদয়,
তোমার নষ্ট মাথা আমি মুড়ে দিয়েছিলাম ভালোবাসায়।
একদিন বুঝতে পারবে তুমি,
বুঝবে তোমার মাতৃতান্ত্রিক ঠোঁট, ঠোঁটের নখ।
আর বুঝবে গাদাগাদা কবিতার স্তুপে
প্রতি শব্দে নিহত অপেক্ষার প্রজাপতি সভায়,
একদিন তোমার সাথে
তোমার অথবা তোমার সাথে আমার দ্যাখা হয়ে যাবার পর
এক জরায়ুবন্ধক দেয়া নারী যখন আকাশে মেঘভর দাঁড়িয়েছিল,
দাঁড়িয়েছিল একদিন মোহম্মদপুরের রাস্তায়,
যেভাবে দু চোখে নিয়ে সিওরালিওনে অকালপ্রয়াত শিশুদের
কান্না,
ঠিক সেভাবে আমি তার দুচোখের কান্না বুকপকেটে নিয়ে আসতে পারিনি।
নিয়ে আসতে পারিনি একজোড়া হাত, যেখানে আশ্রয়।
মাঝেমাঝে দুপুরগুলো বুকের উচ্ছেদকৃত ভিটায় দাঁড়িয়ে থাকে,
নিশ্চল দুপুর বব ডিলানের গান।
মাঝেমাঝে পথিক ছবি দিয়ে জানান দেয় পর্যটক হয়ে গ্যাছে,
অথচ আমি মাঝেমাঝে সামনে একটু ঝুকে থাকা মেয়েটার
বুকে তাকিয়ে বারবার পথ ভুল করে
পর্যটক হয়ে উঠি।
রোদ নামতায় ভুল করে ফেলি,
চোখের নালিশে হাওয়ার বালিশ উন্নাসিক স্বপ্নের ঘোর
মাঝেমাঝে দুপুরবেলার ঘ্রাণে আমাকে বলে দেয়
পিতাহীন জন্মের দায় কতটুকু কতটুকু হলে
ব্যর্থতার জীবন একটা বাংলাদেশ হয়ে যায়।
আসলে আমি আমাকে চালনা করছিনা বেশ কয়েকদিন।
আসলে আমি বেশ কয়েকদিন যাবত আমাকে ছেড়ে দিয়েছি,
ঘুড়ি, ভোকাট্টা ঘুড়িটার মতন আমি মেলে দিয়েছি শরীর বাতাসে।
সে যেথায় নেবে আমিও যাবো সেথায়,
ইচ্ছে নেই অনিচ্ছের দাবী নেই।
কষ্টের বোধ সে এক ভাতের মতন আমৃত্যু তাড়া করে বেড়ানো
ব্যাধিগ্রস্থ ব্যাধিবোধ।
আমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছি জলে - ভর শুন্য করে
শুন্যপথের দরোজায় ছেড়ে দিয়ে হাটছি যখন-
তখন জানলাম আমি, আমি তো সাতার জানিনা।
আচ্ছা একটা কবিতায় কি একটা কবিতার বেড়ে ওঠা
নিশ্চিত কল্পগল্পেই হতে হবে?
থাকতে হবে নির্দিষ্ট রুপরেখায় নির্দিষ্ট সমাপ্তি রেখা?
একটা কবিতায় কি আমি অনেকগুলো কবিতা লিখতে
পারিনা,
ঠিক যেমন একজীবনে লিখে চলছি
বহন করছি অনেকগুলো জীবন!
কবিতা কি জীবনের বাইরে কিছু/
আমি জানিনা-
আসলে মাঝেমাঝে দুপুরগুলো বুকের ভেতর প্রচন্ড দুপুর হয়ে যায়-
আর আমি জরায়ুহীন নারীর কালো ইষৎকালো " খন্ড ত "ধারণ করে
আমার তলপেট সংলগ্ন জন্ম অবতারে অনুভূত জ্বরের সন্তানদের পিতা হয়ে যাই।
অথচ জরায়ুবন্ধক দিয়ে আমার সামনে বসে থাকেন অপর্ণা সেন,
আমি শুন্যতায় দ্যার্থবাদের রাস্তাটার টার্ম ফাইনালে,
আমার মাথাটাকে দু আঙুলের ছাপে
মুদ্রণ অযোগ্যতায় করূন আনন্দে জড়িয়ে ধরি,
চেপে ধরি
আমি আমাকে, আমার ছায়ায়।
মাঝেমাঝে দুপুরগুলো যখন দুপুর হয়ে ওঠে রিটায়ার্ড শোকে,
পেনশন বুকপকেটে যখন গণগনে বিজিত বিকেল,
তখন আজানের দিকে যেতে থাকা উল্লসিত বিষাদ
.......... আসলে মাঝেমাঝে দুপুরগুলোতে
মেটাফোর আলেয়ার আলোয় - আমি হয়ত বোঝাতে পারছিনা।
আমি হয়ত বোঝাতে পারছিনা ফেটে পড়তে পারছিনা
আনন্দে অথবা বেদনায়....
সামটাইমস এসাইলাম এসেন্স সামটাইমস ফিলিং লাইক হোর.
এবসার্ড অডিসি.......
মাঝেমাঝে আমি একবার ঝুলে পড়ে জাদুঘরে
হয়ে উঠি খুচরো দর্শনীর বিনিময়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
জামা কাপড় খুলে নগ্ন বেশ্যা যার সামনে সেই কৈশরে আমার,
হাটু মুড়ে কেপে ওঠা প্রথম প্রার্থনা।
শীতের ভোররাতে মধ্যবিত্ত স্বপ্নহীনতার ভেতর আমাকে দেখে পাড়ার
সব বেশ্যারা হো হো করে হেসে ওঠে।
এক-
হৃদয় নামক মহাসড়কে নিরাপদ জেব্রাক্রসিং নেই।
দুই-
মাতৃজঠরে বেড়ে ওঠা আমি জানি ক্ষমাশীলতা স্ত্রীবাচক শব্দ আর তাই কোন নারীকে ক্ষমা করবার ধৃষ্টতা আমি দেখাতে পারিনা।
তিন-
পৃথিবীর বুকে নারী যেভাবে সবুজ আর নীল ধারণ করেছে ঠিক সে অনুপাতেই ঘাতক হলদে ছুরিতে বহন করেছে জরায়ুমুখের পেয়াজ লাল।
কবিতার প্রাচীন নারী
ধ্বংস্তুপের পাশে দাঁড়িয়ে দৃশ্যত একটা চাঁদ ঢুকিয়ে নেয় যোণীতে।
যারা জীবিত কবি ছিলো তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শামুকের আদলে দীর্ঘ হতে থাকে।
এপথে কোনো বাস কাউন্টার নেই, নেই ট্রাফিক সিগন্যাল।
ধিরে ধিরে শামুকগুলো ঝিমপোকা হতে থাকে,
কৃত্তিম আলো ছড়িয়ে খুন করতে থাকে মিছিল।"
যদি চলে যেতে হয়, যাবো।
নিঃশব্দে বলে যাবো - খুন হওয়া মিছিলগুলো
একদিন কবিতা হয়ে ওঠে।
মৃত্যুকে দহনে সহজ করে তোলে ভয়ের কাছে।
আর
যৌণ আচরণে মাছিদের স্বপ্নান্তরে স্বপ্নদোষ ঘটে।
আমার দুঃখবোধের কোনো গল্প ব্যক্তিগত নয় বোলেই জিহবায় ভর করে মৃত্যু অসারতা!
আকাশে শুয়ে দেখি গণিকালয় থেকে বিতারিত গনতান্ত্রিক রাস্তাগুলো হাসপাতাল যাচ্ছে, রোজ।
দ্বিধাগ্রস্ত একনিষ্ঠ ফ্রয়েডের ছাত্রী, সিভিয়ার ডিপ্রেশন কি তবে তোমার রঙ করা ডানায় পলায়নমুখর সময়,
যেখানে বাতাসের শব্দ নেই, নেই গন্ধটুকুও।
আমি তীব্র ক্ষোভে ; ঈশ্বরের উপর পুঞ্জিভূত ক্ষোভে ফেটে পরতে চেয়েছি। পেরেছি কিনা জানিনা, তবে রাতে রাস্তার পাহারাদার কুকুর আমার পায়ে পায়ে দুই স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল দিয়েছে।
ঠিক যেমনটার অভাবে পতাকাবাহী গাড়িগুলো পা হড়কে পড়ে যায় গর্তে।
বুকে চোখ রেখে দেখে নাও শেষবার,যেখানে নখ দিয়ে লিখেছি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা
তবুও ভুখা নাঙ্গা হাভাতের দল, দল বেঁধে গণতন্ত্র দ্যাখতে আসে।
ধ্রুপদী বিষন্নতায় আলগোছে একটা শব্দ।
একটা শব্দযেনো সামনে বোতাম সম্বলিত ব্লাউজে,
আধুনিক পোষাকী সভ্যতার নিরংকুশ আধিপত্যে একটা ভয়ানক শীতের জবুথবু সন্ধ্যা হয়ে যায়।
আর আমি এক জেদী "প্রাগৈতিহাসিক" কাশবনের মাঝে জেগে থাকা ট্রেন হয়ে খুজে বেড়াই পার্থক্য প্রেম এবং ভালোবাসার
কি স্মার্ট নৃশংসতা লেপ্টে থাকে তোমার উচ্চারিত ভালোবাসায়,
অথচ ভুলে যাও সৃষ্টির কান্না বয়ে চলা সমুদ্রের সাথে কোনও খেলা চলেনা।
কিন্তু সত্যিসত্যি কেও কাউকে ছুঁতে পারবোনা।
তবে ভালোবাসা আর অভিশাপের মধ্যে পার্থক্য কতোটুকু,
এ প্রশ্নের উত্তর এক না একদিন পেয়ে যাবে ,দেখো!!
আমি চুপ করে বসে থাকি -অন্ধকারে ''জিভ দিয়ে ছুঁয়ে দেখেছি মৃত্যু
নিজেকে ন্যাংটো করাটাকে কি বলে?প্রেম?
বৃষ্টি বলে কোনও বাধা নেই,
নিলাজ্ব সম্ভ্রমে লুকিয়ে প্রজাপতি ডানা;
আমি তাকিয়ে থাকি ভীষণ বিষাদে।
জানো, জানো বাবুই-
বুকপকেটের নীচে চাপা পড়ে গ্যাছে হৃদয়
আত্মবিক্রয় কেন্দ্রে পুড়ে যাওয়া অমাবস্যার ঠোঁট
বিপণনযোগ্যতা হারিয়ে- কাছাকাছি থাকে নদীর।
কার্যত আকাশ মেঘলা থাকায় শুধুই
আমার সরিসৃপ জীবন,
ছাপোষা মাছির মৃত্যু,
সূর্যাস্তের আগে আগে ডাকপিয়নের চিঠির ভাজে
লুকিয়ে রাখি ক্রন্দন
লুকিয়ে রাখি ইচ্ছে অনিচ্ছে।
কেবল মাছরাঙ্গা পোষা হাসিতে হাসিতে বলে ফেলি
রঙধনু দেখতে পারিনা আমি কেবল জন্মান্ধ রিকশায় সওয়ারী বলে।
''আমি শুধু ঘুরি, আর ঘুরে মরি চেয়ে দেখি,
আমার জীবনে শুধু রাস্তা পরে আছে- ধু-ধু-রাস্তা পড়ে
আছে শুধু। রিকশা থেকে নামতে-নামতে আমি বুড়ো হয়ে গেলাম ঢাকায় , আমার জীবন,
আমি কার্পেটের মত ঢাকাশহরে বিছিয়ে দিয়েছি
খোলা দরোজা অ-প্রেমিকের অস্ত্র, প্রেমিক আমি তাই বুক-পকেটে হাতুড়ি নিয়েই ঘুরে বেড়াই।
ফেব্রুয়ারী ২৪
আমি জানি একদিন আমার সব অসুখ সেরে যাবে,
আমি জানি একদিন আমি আর প্রশ্ন করবো না -
মাছেরা কেনো নদীতে ঘুমায়?
পাখিরা কেনো আকাশে শুয়ে থাকে নির্বিকার?
ইঁদুরের শরীরে সঞ্চারিত ব্যথা নিয়ে
টিকটিকি কিভাবে ঘুমিয়ে থাকে,
পুরোটা ইশকুল জুড়ে পেজাতুলোর ডানায় কি করে ওড়ে
কবরস্থানের প্রজাপতি!
আমি জানি একদিন হৃদপিন্ডে
স্বল্পায়ুর বিকেলে ঝড়ের মতন শব্দ করা
" হ্যাঁ অথবা না " সরিয়ে,
সকল অনিশ্চিত গতিবিধির রাত জেগে থেকে
হাজরে আসওয়াদ চোখে চুমু খেয়ে নেবো একদিন।
২)
আমি জানি একদিন আমার এইসব অসুখ সেরে যাবে,
সেরে উঠবে আরেকটি প্রাচীন মাতৃকা দেবতার জন্মযন্ত্রণা।
বন্ধ হয়ে যাবে ভালোবাসা-বাসির আশ্রম।
খুলে যাবে একটা নেই শব্দে
খুলে যাবে সকল জুন মাসের তপ্তদুপুরবেলা।
একদিন, একদিন আমি জানি, আমিও ফিরবো ঘরে।
ঘরে ফিরে একদিন আমিও কোমরের নীচে আবিস্কার করে ফেলবো
একটা গাঢ় নীল নদ,
এরপর তুমি যতই জলদস্যু বলো আমায়,
তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে
আমি জানি একদিন আমি সকল অসুস্থতা থেকে
হ ন হ ন
হেঁটে বেরিয়ে আসবো খুলে সকল অন্ধ দরোজা-
একদিন আমি জানি,
জানলায় উঁকি দিয়ে একটা সকাল, চা খেতে খেতে পরীবাগের রাস্তায়
আমি হয়ত ভাস্কর নভেরাকে,
তোমার কানে এসে জানিয়ে দেবো - সেদিনটা মাসের তৃতীয় শুক্রবার।
সেপ্টেম্বর ৬
খুব সম্ভব একদিন সে আর আসতে পারবেনা,
খুব সম্ভব একদিন নিভে যাবে জ্বলতে থাকা প্রেইরির বন।
খুব সম্ভব একদিন হিম ঠান্ডা হয়ে যাবে সমস্ত আগুন,
খুব সম্ভব একদিন বরফকণাগুলো
রোদাচ্ছাদিত বরফকলের মিহিন সুতোয় হাঁটতে হাঁটতে গলতে শিখে যাবে।
শিখে যাবে বুকের উপর ভূমি থেকে আজানুলম্বিত সেলাইটায়
কতটা রক্তঝরে নির্বিকার অনিঃশেষ অন্ধকারে!
খুব সম্ভব একদিন ইচড়ে পাকা ধেড়ে ইঁদুরগুলো লেঙটি পড়ে
ইশকুল ফেরত ইতিহাস বইটা কাটতে শুরু করবে,
খুব সম্ভব ঠিক সে সময় চাঁদের বুড়ির চড়কা চালানো গল্পের শব্দে-
আমরা আনমনা হয়ে
গড়িয়ে পড়তে থাকবো নাভীদেশের বানিজ্যিক আচরণে।
খুব সম্ভব একদিন বাবার জামা ঠিক ন'য়ে ছ'য়ে গলায় ঝুলিয়ে,
সন্তানগুলো বাবা হয়ে উঠেই
আসন সংখ্যা বাড়াতে প্রজ্ঞাপন জারি করবে,
সেইদিনের পর থেকে মাথানত চৌরাস্তার পাগল হয়ে,
কিছু মানুষ চোখে নিয়ে স্বতন্ত্র নেইলকাটার, কেটে যাবে দাঁতের নখ।
আর সামাজিক ব্যবস্থাপনার বিপক্ষে
দাঁড়ানো
সস্তার কুকুরের স্থান হবে পৃথিবী নামক বৃদ্ধাশ্রমে।
খুব সম্ভব সেদিন,
সেদিনই হঠাৎ মাটি ফুড়ে বেরিয়ে আসা আলোয়
আহত কলম- লিখে ফেলবে হঠাৎ
চারপাশে রোশনাই আলো
আর মিথ্যের তোপধ্বনিতে সেনাবাহিনীর চৌকস যাত্রা -
তোমাদের বুকের কাছে বপন করে আসা অভিধানে
তোমরা যাকে মৃত্যু বলেই জানো।
খুব সম্ভব এরপর
খুব শীঘ্রই তোমরা জানবে
মৃত্যুর উদোম বুকে ক্যু হয়ে যাবার প'র অভিধান আর কোথাও কোন কাজে আসেনা।
পাচ
জরায়ু থেকে আয়ুপ্রাপ্ত যে শিশু, সেই শিশু হত্যার দায় এড়াতে না পেরে অক্ষম আমি,
যোনীর লালায় লোভী পৃথিবীতে জরায়ু নিষিদ্ধ করছি।
রাত অনুবাদ করার মতো কোন স্মৃতি রাখতে নেই, বোতামের বুকে শুয়ে থাকতে নেই।
তাই ফুঁ দিচ্ছি, দিচ্ছি হাওয়া-
আর মিলিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ অর্থহীন ; "সম্পর্ক পুস্তিকায়"
বাষ্পীয় চোখের করোটিতে ঘর বাঁধে সদা হাস্যোজ্বল বিষাদ।
কপালের ভাঁজে ভাঁজে কমছে আয়ু জোনাকীর,
চারদেয়ালের ভেতর বৃষ্টিপাত্রে নিঃশ্বাসজুড়ে
পাখা পোড়ানোর উৎসব করছে তেলাওয়াত,
আওরাচ্ছে নখের গভীরতায় শ্লোক - ঘর, বাড়ি ফিরেনি।
আহত প্রজাপতি ফিরেনি শেষ লোকালেও।
দরোজা বন্ধ, কপাট খোলা জানলায় ভিজছে শাড়ির আঁচল আয়না,
আমার সাথে আমার দেখা নাই,
আমার সাথে আমার কথা নাই তাই
আমার ভেতরে গহীন বন্দরে আমিও থাকিনা বহুকাল।
চোখের ভেতর থেকে গড়িয়ে পড়লেই বিস্মিত বিস্ময়,
দৃশ্যের বাইরে গেলেই স্মৃতিভুক মানুষ ভুলে যায়
সোয়েব মাহমুদ বাড়ি নেই,
সোয়েব মাহমুদ বাড়ি ফেরেনা।
কবিতা পড়ে থাকে মর্গে- আহ জীবন, ছেনাল জীবন।
থেমে থেমে রয় আড়াই চালের ঘোড়া, বিভ্রম শুধু জেগে থাকে
বুকে নিয়ে গাঙচিল- " ঘর, তুমি বাড়ি'টা ফিরবে কবে?"
যোণী
যেখানে তোমারামার নিকাহ্ হয়না বিচ্ছেদ হয়না।
যেখানে তুমি ছেনাল জীবনের মতন লাফিয়ে উঠে পড়ো ঘোড়ায়;
যেখানে আমি লম্পট মৃত্যুর ন্যায় সমস্ত পেয়াজ ছাড়ানো কোষে সমগ্র আয়ুতে।
ঘড়ি ভাঙছে সিঁড়ি।।
ত্রুটি
কিছুটা জ্বরে বাকিটা দহনে সমুদ্র নিয়ে চোখে সমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিষাদগণিকারা।
প্রেমিকার বুকে থাকা পদ্ম ফুলে নাক ঘষতে ঘষতে আমি কেবল শতবৎসরের বিগত কিংবা আগত আবহাওয়া বার্তাটাই পাই, আর কিছু নয়।
এইসব বৃহস্পতিবার দুপুর মেঘের সাথে লুটোপুটিতে
ছেনাল রোদের দুপুর আমার ভেতর আমাকে,
তোমার ভেতর আমাকে সাংবিধাণীক অথচ লাস্যময়ী
বিপন্ন বিষাদে ডুবিয়ে রাখা ছাড়া আর কি ই বা দিতে পেরেছে বলো।
আগে এইতো অল্প কিছুদিন আগেই, ভেবে দ্যাখো-
সমস্ত পৃথিবী আড়াল করে তোমার গালের তিলটাতে
চুমু খেয়ে আমি একটা পথ হয়ে গিয়েছিলাম।
হয়ে গিয়ে ছিলাম পাখি, তোমার বুকের আকাশে এক কিংবদন্তী পাখি!
মনে আছে?
তাই হয়ত শোকপ্রস্তাবে,
অনুচ্চারিত থেকে যায় নিকোটিন আর পেন্সিল হিল।
তাই হয়ত মন খারাপের দুপুরবেলায়
তোমার চোখের ভেতর চোখ হয়ে কাঁদতে পারিনা।
দূরত্ব - বলে কিছু নেই। বিকেলবেলাটা মাইলষ্টোন হিসেবে কবিতার খাতায় বসে থাকে প্রৌঢ় বৃদ্ধের ন্যায়, বসে বসে আকাশের ক্যালেন্ডারে দেখে তারিখের উপর তারিখ শুয়ে পড়ে কেবোল শেষ দুটো সংখ্যাই পরিবর্তন করতে পারছে এরবেশি কিছু পারছেনা।
চোখ নিভে যাওয়া ক্লান্তি ,দূরত্বকে স্পর্শ করে কেবোল আঙ্গুলের সাথে আঙ্গুলের দেখা না হওয়া কার্যকারণে।
দূরত্ব বলে কিছু নেই, শুভা।
ব্যক্তিগত বিছানা বলে কিছু নেই, মর্গের ড্রয়ারে
মাত্র, এইমাত্র মারা গেলো ....... কেউ হয়ত!
কবিতা লিখতে গিয়ে মারা পড়লো আজন্ম সাধের
শেষ বিকেলের রোদ মেখে।
মাত্র , এই মাত্র একজন কবি কলম তুলে নিয়ে মারা পড়লেন তীব্র ক্ষোভে বিচ্ছুরিত বিষণ্নতায়।
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে - একা থাকাটাই ভুলে গেছি রাত,
আত্মহননে হয়ত আমাদের দেখা হবে- আমাদের হয়ত দেখা হবে ফেব্রুয়ারী;
বুকে উড়তে থাকা মাছির ডানায়- আজরাইলের নিঃশ্বাস অনুভব করতে করতে
আমাদের দেখা হবে নিশ্চিত!
ক্লান্ত আমি,
একা একা থাকতে থাকতে থাকতে
তাই ভুলে যাচ্ছি একা থাকা রাতগুলোতে মরে যায় কিভাবে য্যানো মানুষ?
আমাদের তাই দেখা হবে বিষাদে ফুটে ওঠা নরোম মৃত্যুতে বারবার
একা থাকা বালিশের একা থাকা বিছানায় সাড়ে তিন হাত আশ্রয় অথবা চুল্লিতে।
একা থাকতে থাকতে,
থাকতে থাকতে আমার ভেতর একটা সবুজ গাছ জন্মাবে।
কোন ফল নেই,
ফুল নেই,
গাছের নীচে কোনও ছায়াও নেই।
একা থাকতে থাকতে ,
থাকতে থাকতে
আমার ভেতর জন্মাবে একটা বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিদ্যুতহীন।
এভাবেই,
ঠিক এভাবেই
একা থাকতে থাকতে,
থাকতে থাকতে
একদিন আমি আমার ঘরেই আমি একা পড়ে থাকবো
মৃত;স্বজনহীন।
কেউ জানবেনা, কেউ জানার নেই। কেউ খুঁজবে না, খোঁজার নেই কেউ।
একা থাকতে থাকতে,
থাকতে থাকতে
একা থাকা শব্দটাও দপ্তরহীন দপ্তর হয়ে,
একা একাই বাজিয়ে ঘন্টা ছুটির,
একা -একাই বন্ধ হবে একদিন।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকাটাই অভ্যাস হয়ে গ্যাছে আজ।
ঘুমিয়ে পড়েছে বিছানা বালিশ, ঘুমিয়ে পড়ে রাত দুটো আট মিনিটের ঘড়ি।
বুকের ভেতর জেগে থাকা চোখে - মস্ত শ্লোকে,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা বোধে একা লাগেনা আর।
শুধু মাঝেমাঝে বেড়াল, কালো হুলো বেড়ালের দৌড়ে কেটে দেয়া রাতে
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে একা থাকা হয়না আমার,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে একাকীত্ব বুঝতে পারিনা আর,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে বুকের ভেতর " লু - হাওয়ায়"
আমি দ্যাখি একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে হয়ে গ্যাছি আমি আস্ত এক গোপাল ভাড়,
আমি দ্যাখি একা বিছানায় পা বের করে শুয়ে থাকে আমার দুক্ষে'রো স্বজন।
আমি দ্যাখি নির্জনতার ভীড় ঠেলে উঠে দাঁড়ায় প্রতিরাতে আমার লাশ,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে - আমার সাথে রোজ রাত্তিরে
দ্যাখা হতে গিয়েও দেখা হয়না একাকীত্বের প্রতিশব্দ আমার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - একা থাকা হয়ে উঠেনা আমার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - আজকাল বুকের ভেতর,
চোখের ভেতর আমার ভেতর মরে পড়ে থাকি আমি,
আমি এক নির্জনতার মুখ থুবড়ে পড়া লাশ, আমি এক যুক্তাক্ষরহীন কান্নার জলে,
উঠান ভর্তি কষ্টের সন্তানদের নিঃসন্তান বোধে অযাচিত চীতকার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - অসহায়ত্বের মিছিলে আমিই এক অদ্বিতীয় ঈশ্বর,
যাকে খুজতে আসেনা বলে কবর দিয়ে হেটে চলে যাওয়া ইনসান দেখে,
আঞ্জুমান মফিদুলে নিভে যায় আমার শবে আমারই উঠে দাঁড়িয়ে ধরিয়ে ফেলা সিগারেট,
নাকে লেগে থাকা কোকেন আর উরু থেকে সন্ধির বিচ্ছেদে পড়ে থাকে নিস্ফল বৃষ্টি।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে,
তাই আর অভ্যাসের একা থাকা শার্টের ওপর একা থাকা হয়না আমার।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে রাত
ভোর হয়ে আসে,
তবু কুয়াশা সরেনা,
তবু বৃষ্টি থামেনা।
তবুও জেগে থাকে ঘুম।
তবুও জেগে থাকাটার মৃত্যু হয়না,
ঘুমটার ঘুমও আসেনা,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা হাতঘড়িটার হাসিতে।
যা তোমাক েছোঁব েনা-
তোমাকে যা ছোঁবে না, হু হু শিশ দেয়া পাখি।
তোমাকে যা ছোঁবে না, অপরাধশুন্য মধ্যাহ্ন।
তোমাকে যা ছোঁবে না, জানুয়ারির ছোট্টরাতের রাস্তাটা।
আচ্ছা তোমার চোখের কোলে কি..... নাহ থাক।
কাকে'র শবদেহ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কাকে'র স্বজন।
মৃত্যু চিরকালীন নিরাপদ একটা সড়ক, যেখানে
নীরবতা অন্তিম রহস্যের গন্ধ নিয়ে পাড়ি দেয় বেলা।
আচ্ছা তোমার ঠোঁটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা
আমার স্পর্শটা তুলে নিয়েছিলে তো,
নাকি এখনও ওখানে ক্ষুধার্ত জনপদের শিশুদের আদল,
নাকি এখনও ওখানে.......
যা তোমাকে ছোঁবে না,
আসলে যা তোমাকে একবার ভাবাবেনা,
আসলে যা তোমাকে একবার মনে করাবে না,
সেদিন বেলা চারটা,
অন্ধকার - টুপ বৃষ্টিতে মাথা ভিজিয়ে আকাশ দাড়িয়েছিলো।
তুমি " জানলাটা লাগাও একটু।"
বলতেই ঘোর অন্ধকারে বিদ্যুৎ ঝলসে উঠলো,
আমি তোমাকে আর পেলাম না,
অন্ধকারের জরায়ুসন্তান
আমি আলোতে হারিয়ে ফেললাম।
অ
থ
চ
আমার চা খেতে সময় লাগে দু'মিনিট।
অথচ এখন প্রচন্ড দুপুর,
অথচ ছুতার সেলাই করছে দুঃখজনক শব্দ।
অথচ যা তোমাকে ছোঁবে না,
দেখো
গড়াতে
গড়াতে
গড়াতে
গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছেটা কোথায়?
কোন শহরের, কোন জানলায় যেখানে চায়ের কাপে
ভেসে ওঠা সর তুমি হাল্কা সরিয়ে টেনে নিচ্ছো হেমলক?
একই শহরে একই আকাশে উড়তে থাকা ভেজা মেঘ
বুকে নিয়ে সেই অক্টোবরের শহরে থেমে আছি,
কোন ঘুম নেই, কোন নিখুঁত বিন্যাসের নিখোঁজ সংবাদ নেই।
অ
থ
চ
মরে যাওয়া আছে, বিনুনি করা অযত্নের মরে যাওয়া আছে।
তুমি কি শুনতে পাচ্ছোনা
তুমি কি শুনতে পাচ্ছোনা আমি একা.... থাকতে পারিনা।
তুমি কি বুঝতে পারছোনা আমি একা..... হাঁটতে পারিনা।
হোঁচটে হোঁচটে ক্লাউন আমি,
হাত পা নাড়াচ্ছি যন্ত্রণায় আর মানুষ, আলোকিতগুলো হাসছে বিনোদনে।
তুমি কি এখনও রোদ কেটে নিয়ে বসে থাকবে?
তুমি কি এখনও জেব্রার শরীরে দুইশ সাতাশ সাদাকালো দাগের এলজেবরায়
এড়িয়ে যাবে হৃদয়... যা মূলত তোমাকে ছোঁবে না।
ফেব্রুয়ারী ২৪
আমি জানি একদিন আমার সব অসুখ সেরে যাবে,
আমি জানি একদিন আমি আর প্রশ্ন করবো না -
মাছেরা কেনো নদীতে ঘুমায়? পাখিরা কেনো আকাশে শুয়ে থাকে নির্বিকার?
ইঁদুরের শরীরে সঞ্চারিত ব্যথা নিয়ে টিকটিকি কিভাবে ঘুমিয়ে থাকে,
পুরোটা ইশকুল জুড়ে পেজাতুলোর ডানায় কি করে ওড়ে কবরস্থানের প্রজাপতি!
আমি জানি একদিন হৃদপিন্ডে স্বল্পায়ুর বিকেলে ঝড়ের মতন শব্দ করা " হ্যাঁ অথবা না " সরিয়ে,
সকল অনিশ্চিত গতিবিধির রাত জেগে থেকে হাজরে আসওয়াদ চোখে চুমু খেয়ে নেবো একদিন।
আমি জানি একদিন আমার এইসব অসুখ সেরে যাবে,
সেরে উঠবে আরেকটি প্রাচীন মাতৃকা দেবতার জন্মযন্ত্রণা।
বন্ধ হয়ে যাবে ভালোবাসা-বাসির আশ্রম।
খুলে যাবে একটা নেই শব্দে খুলে যাবে সকল জুন মাসের তপ্তদুপুরবেলা।
একদিন, একদিন আমি জানি, আমিও ফিরবো ঘরে।
ঘরে ফিরে একদিন আমিও কোমরের নীচে আবিস্কার করে ফেলবো
একটা গাঢ় নীল নদ, এরপর তুমি যতই জলদস্যু বলো আমায়,
তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে আমি জানি একদিন আমি সকল অসুস্থতা থেকে
হ ন হ ন হেঁটে বেরিয়ে আসবো খুলে সকল অন্ধ দরোজা-
একদিন আমি জানি, জানলায় উঁকি দিয়ে একটা সকাল, চা খেতে খেতে পরীবাগের রাস্তায়
আমি হয়ত ভাস্কর নভেরাকে, তোমার কানে এসে জানিয়ে দেবো - সেদিনটা মাসের তৃতীয় শুক্রবার।
ডায়েরির পাতা থেকে ২৩১
শুনেছি তূমি নিজেই যেখানে অসুখ কারো!
সেই তোমার ও অসুখ হয়! আর প্রেসক্রিপশন এ জড়াজড়ি তোমার নিউরন!
ভুলে যাওয়া শোক
তুমি ভুলে গেছো গতজন্মের শোকসভায় আমি , জুতার ভিড়
খুলে রাখা জুতার ভিড়ে আমিও ছিলাম!!
ডিকশনারি
মানুষের জন্য ডিকশনারি লিখতে লিখতে আমার ঘুম ভেঙে যায়, আমি স্বপ্নের ভেতর ঘুমে আতকে উঠে বসি। আমি ঘেমে উঠি, আমি খাতা কলম নিয়ে বসতেই দ্যাখি ক্যালেন্ডারে লেখা আছে মৃত্যুর ক্ষণ।
আমি ঘুমের ভেতর স্বপ্নে, স্বপ্নের ভেতর ঘুমে - দুঃসাহসে পত্রিকা খুঁজি - খুঁজতে খুঁজতে দ্যাখি গতকালকের পত্রিকার এক কোনায় লেখা আছে - নাম পরিচয়হীন একটি মৃতদেহ উদ্ধার। লেখা আছে - মারা যাবার সময় তার পরনে ছিলো কালো টি শার্ট আর জিন্স। আমি স্বপ্নের ভেতর ঘুমে.. আমি ঘুমের ভেতর স্বপ্নে হাসতে হাসতে লিখে - অথচ হারাবার কালে আমার পরনে কি ছিলো তা আমি জানিনা। আবার ঘুমিয়ে পড়ি।
এভাবে
এভাবে অন্ধকার থেকে আলো সরাতে সরাতে আমাদের ছবি থেকে আমি ক্রমশ দূরে সরে যাই। বিকেলের কণে দেখা আলো দেখা হয়না । ছোঁয়া যায়না তুমি অথবা তোমাকে। এমিফিটামিন আমার চারপাশটায় একটা রুপোলি টিভিস্কৃনে।আটকে ফেলে আমায়, ঠিক যেভাবে দুবছর আগে মৃত ডাকহরকরার মেয়েটাকে আটকে ফেলেছিলো অজ্ঞাত অবয়ব। আমি আজকাল কিছু মনে রাখিনা। মনে রেখে হবেটা কি? একটা পদ্মপুকুর অথবা নিরাপরাধ দিয়াশলাই এইতো, তাইনা। তাই আজকাল আমার মন থেকে যায় আটশ ছাব্বিশ চিঠি, সোয়ালক্ষ অলিখিত চুমু এবং মৃত্যু তোমাকে দেখতে থাকা চোখ এখন রোদ মাখে কপালে; ঘামে ভেজেনা ।আজকাল আমি সেই মেয়েটিকে চিঠি লিখি, চাদের থেকেও একা যে মেয়েটি আয়নায় দাড়িয়ে বুক থেকে আমার; সরিয়েছিলো পাথরের চাই।সিড়ির পায়ে জুতো জোড়া তুলে রেখে যে তুমি বুকে হাটো তোমাকে লিখছিনা অনেককাল।মনে আছে সেই চিঠি সেই হলুদ খাম, মনে আছে। ডাকহরকরার মেয়ে ফিরে এসে একরাতে ঝুলে গ্যালো কোনার হিজল গাছে। কিন্তু তুমি; তুমি হয়ে উঠলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যার সূর্যাস্ত নেই।তাই দাতে ঠোট আকরে আমি বলছি এখানেই শেষ, এখানেই শেষ নার্সিসাস। এখান থেকে প্রমিথিউসের হাত ধরে একটা ফিনিক্স পাখি উড়বে । আকাশে কোনো সীমান্তবর্তী গ্রাম নেই, নেই নিরাপত্তা চৌকি।তাই দাতে ঠোট আকরে আমি বলছি এখানেই শেষ, এখানেই শেষ নার্সিসাস। এখান থেকে প্রমিথিউসের হাত ধরে একটা ফিনিক্স পাখি উড়বে । আকাশে কোনো সীমান্তবর্তী গ্রাম নেই, নেই নিরাপত্তা চৌকি। হয়ত একদিন সেই সময়েরা মরে যাবে – একদিন আমরা অনেকেই পাশ থেকে সিঁড়ি ভাঙবার সময় সেইসব স্নিগ্ধ মহিলাদের বাড়িতে গিয়ে উঠে যাবো রাতের অন্ধকারে, যারা হাতে হাত ঘষে আগুন জ্বালাতে সিদ্ধহস্ত। আমরা তাদের ভেতর গিয়ে আসন পেতে বসে হাসতে হাসতে সারারাত বলে যাবো
এখানে বসন্ত নেই, শরীরবিদ্যুৎ তাপে আর চাপে ক্রমাগত সব গ্রীষ্মের অবিশ্বাস্য ঘামে ভেজা রাত।আর বিদ্যুৎউৎপাদন কেন্দ্রের চলচ্চিত্র উৎসবে চিনিহীন গুনগুনে অর্থহীণ হয়ে যাবে উচ্চারিত সকল পবিত্র রাত, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ।
তোমার মেয়ে
একদিন তোমার বেগুনী ফ্রকের মেয়েটা , শাড়ি পড়বে!
একদিন তোমার ছোট্ট ছোট্ট পায়ের মেয়েটা দাঁড়াবে ইতিহাস বিভাগ,
মনোবিজ্ঞান বিভাগ মাড়িয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে।
অথবা লেকচার থিয়েটার ২ কিংবা কক্ষ্য ১০২৪ !
একদিন আধোবোলের শিশুটি তোমাকে জিজ্ঞেস করবেই-
" মা, সোয়েব মাহমুদ কে?"
আমি সেইদিনের অপেক্ষায়
আজ এখন মৃতবৎ জীবনে মৃত্যুকালীন সনদ পড়ছি।
তুমি, তুমি সেদিন জানবে
আজ কেনো উড়াল সেতুকে সপাটে চাবকে
ঈশ্বর ভয়ঙ্কর চাপা নিনাদে রোদ তুলে নিয়েছেন ; মাঝদুপুরেই।
চলে যাবো-
এতটা নিঃশব্দে দরোজা আটকে চলে যাবো, যতটা নিঃশব্দে ধূমপানও হয়ত
করা যায় না।
মা
রাতের বুক থেকে আঁচল খসে গেলেই নগ্নতা নয়; নগ্নতা নয়।
চোখের পর্দায় জেগে ওঠে কেবল বিমুগ্ধ জননী!
সুইসাইডাল এটেম্পট
একদিন আয়নায় ব্যবচ্ছেদে হৃদয়
আমি রিক্সা থেকে লাফিয়ে পড়ে এরোপ্লেনের নীচে, আত্মহত্যা করেছিলাম।
নির্জনতা জেঁকে বসেছে ৬৭
একটা মিথ্যেতে মুছে যাবে সত্য, নিহত হবে শাদা শিফনের নারীর জন্য ভালোবাসা। চিরদিনের মেথমানুষের ভীড়ে চীরকালের না বলা ভালোবাসা হয়ে যাবে – স্মৃতি। কোনও দিন কেউ জানবেনা , কেবোল অট্টহাসির ভেজা আয়নায় ফুঁটে উঠবে “ কখনওই টিকেট পাওয়া যায়নি।
হয়না ফেব্রুয়ারির রাত
এভাবে হয়না, এভাবে দিনেদুপুরে রাতবিরাতে ডেকে উঠতে পারেনা শিয়াল,
এভাবে সব সময় এই পৃথিবীর শ'বে উঠে
যেতে যেতে তন্ত্রে মন্ত্রে বারবার চালু হয়ে যেতে পারেনা বৈদ্যুতিক চুল্লী।
মরে যেতে পারেনা মৃত মানুষের জন্য অযোধ্যার গায়েবানা জানাজা,
চীতকার করে বারবার তিলাওয়াত হতে পারেনা তোমাকে ফেরাবার,
উলটো করে পড়া সুরা;
এভাবে বারবার চৌবাচ্চায় শুয়ে ইউরেকা ইউরেকা বলতে বলতে ক্লান্ত আমি,
ভীষণ নগ্নতায় মন খারাপ নিয়ে বসে বসে
কমাতে পারিনা ভালোবাসার আয়ু, অর্থহীণ কবিতার যাপিত জীবনে।
এবার তাই সমুদ্র ছোবে সমুদ্র তোমার।
উড়িয়ে পুড়িয়ে সকল লিখিত অলিখিত কবিতা,
মৃত্যুগুলো থেকে উঠে দাঁড়াবে বিগত অজস্র মৃত্যুবোধ।
অসুখে, অনিচ্ছুক মর্গ থেকে ছুটে ছুটে আসবে একটা বাবুই।
মার্চের রোদ
জানলার পাশেই যে রাস্তা, সেখানে রাত বাড়ে না, সকালও হয়না।
লাল টকটকে চোখে কেবলই জ্বর।
স্বজনহীন আমি পলক ফেলিনা, কেউ আসার কথা,
কাউকে আসতে হতো ওড়নায় নিয়ে রোদ।
অথচ সেখান থেকে এবার আর কেউ দ্যাখতে আসেনা, আমায়।
আমি চেয়ে থাকি, আমি কেবলই চেয়ে থাকি।
চোখের সাথে চোখের দ্যাখা হয়না।
আকাশের নীল মেখে গা'য়, দাঁড়িয়েছো বর্গাকার পাথরের চোখে।
একটা জন্ম- বেগুনী হরতকি জন্মে, হৃদয় থেকে তোমার; নিয়ে অবাক ভালোবাসা,
সমুদ্রের বুকে আমি সমুদ্র ছোঁবো নিশ্চিত।
তা যতই অভিমান থাকুক,
থাকুক সংবাদ শিরোনামে অব্যাহতি প্রাপ্ত বিজ্ঞাপন,
আমি হেরে যেতে দিতে পারিনা তোমায়।
আমি পরাস্ত হতে হতে পরাজিত বেশে,
অপেক্ষার হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে থেকে
হতে পারিনা মুক বধিরতার বাসস্ট্যান্ড।
আমি তোমাকে আমার তোমাকে,
তোমার তোমাকে,
তোমার আমাকে,
ভিজিয়ে দিয়ে জলে, হয়ে যেতে পারিনা নিরুদ্দিষ্ট মেঘ।
নয়'টা পঁচিশ
সকাল নয়টা পঁচিশ, জানুয়ারির শীতে খুলে বসেছো পত্রিকা।
কাপছো খাপছাড়া চায়ের কাপে.... তা একটু নড়েচড়ে বসো'তো,
তোমার বাষ্পরুদ্ধ নিরেট শরীরে প্রবেশ করতে দাও রোদ্দুর।
দাঁড়াও.... একটু দাঁড়াও।
ডায়েরির পাতা থেকে ক্রমশ
পালিয়ে বেড়ানো হরিণীর বুকডানায় বিকেলটা বিরক্তিকর সন্ধ্যায় যাচ্ছে,
বাবা খুঁজছেন জায়নামাজ, মায়ের হাতে বোনের বই।
দরোজা জুড়ে ডাকটিকেটের বাঘ ভাল্লুক সিংহ,
জুতোর ভেতর মোজা এবং স্কুল শার্ট গড়াগড়ি বিছানায়।
এসব মধ্যবিত্ত দৃশ্য হ্যাঙ্গারে ফেলে,
যে আমি জীবন ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম না বলে
ঠিক যেভাবে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়।
হতচকিত জীবনের রিকশায় বসে অ-বানিজ্যিক
সে আমার জন্য আমার আজ বড্ড মায়া হয়।
ডায়েরির পাতা থেকে ক্রমশ
সাতাশটা ঘুমের ঔষধ গিলে ফেলে
মাতাল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা অথবা হাত কেটে বোঝাবার
কি খুব প্রয়োজন ভালোবাসা আছে ওখানে?
মায়ের মুখ থেকে অস্ফুট ইশ শুনে তাকালে বোকাবাক্সে যেখানে বলছিলো
মাত্র, এইমাত্র মারা গেলো ....... কেউ হয়ত!
কবিতা লিখতে গিয়ে মারা পড়লো আজন্ম সাধের
শেষ বিকেলের রোদ মেখে।
মাত্র , এই মাত্র একজন কবি কলম তুলে নিয়ে মারা পড়লেন তীব্র ক্ষোভে বিচ্ছুরিত বিষণ্নতায়।
একা থাকতে থাকতে
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে - একা থাকাটাই ভুলে গেছি রাত,
আত্মহননে হয়ত আমাদের দেখা হবে- আমাদের হয়ত দেখা হবে ফেব্রুয়ারী;
বুকে উড়তে থাকা মাছির ডানায়- আজরাইলের নিঃশ্বাস অনুভব করতে করতে
আমাদের দেখা হবে নিশ্চিত!
ক্লান্ত আমি,
একা একা থাকতে থাকতে থাকতে
তাই ভুলে যাচ্ছি একা থাকা রাতগুলোতে মরে যায় কিভাবে য্যানো মানুষ?
আমাদের তাই দেখা হবে বিষাদে ফুটে ওঠা নরোম মৃত্যুতে বারবার
একা থাকা বালিশের একা থাকা বিছানায় সাড়ে তিন হাত আশ্রয় অথবা চুল্লিতে।
এইসব বৃহস্পতিবার দুপুর মেঘের সাথে লুটোপুটিতে
ছেনাল রোদের দুপুর আমার ভেতর আমাকে,
তোমার ভেতর আমাকে সাংবিধাণীক অথচ লাস্যময়ী
বিপন্ন বিষাদে ডুবিয়ে রাখা ছাড়া আর কি ই বা দিতে পেরেছে বলো।
আগে এইতো অল্প কিছুদিন আগেই, ভেবে দ্যাখো-
সমস্ত পৃথিবী আড়াল করে তোমার গালের তিলটাতে
চুমু খেয়ে আমি একটা পথ হয়ে গিয়েছিলাম।
হয়ে গিয়ে ছিলাম পাখি, তোমার বুকের আকাশে এক কিংবদন্তী পাখি!
মনে আছে?
তাই হয়ত শোকপ্রস্তাবে,
অনুচ্চারিত থেকে যায় নিকোটিন আর পেন্সিল হিল।
তাই হয়ত মন খারাপের দুপুরবেলায়
তোমার চোখের ভেতর চোখ হয়ে কাঁদতে পারিনা।
যোণী
যেখানে তোমারামার নিকাহ্ হয়না বিচ্ছেদ হয়না।
যেখানে তুমি ছেনাল জীবনের মতন লাফিয়ে উঠে পড়ো ঘোড়ায়;
যেখানে আমি লম্পট মৃত্যুর ন্যায় সমস্ত পেয়াজ ছাড়ানো কোষে সমগ্র আয়ুতে।
ঘড়ি ভাঙছে সিঁড়ি।।
ত্রুটি
কিছুটা জ্বরে বাকিটা দহনে সমুদ্র নিয়ে চোখে সমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিষাদগণিকারা।
প্রেমিকার বুকে থাকা পদ্ম ফুলে নাক ঘষতে ঘষতে আমি কেবল শতবৎসরের বিগত কিংবা আগত আবহাওয়া বার্তাটাই পাই, আর কিছু নয়।
চলে যাবো-
এতটা নিঃশব্দে দরোজা আটকে চলে যাবো, যতটা নিঃশব্দে ধূমপানও হয়ত
করা যায় না।
মা
রাতের বুক থেকে আঁচল খসে গেলেই নগ্নতা নয়; নগ্নতা নয়।
চোখের পর্দায় জেগে ওঠে কেবল বিমুগ্ধ জননী!
সুইসাইডাল এটেম্পট
একদিন আয়নায় ব্যবচ্ছেদে হৃদয়
আমি রিক্সা থেকে লাফিয়ে পড়ে এরোপ্লেনের নীচে, আত্মহত্যা করেছিলাম।
নির্জনতা জেঁকে বসেছে ৬৭
একটা মিথ্যেতে মুছে যাবে সত্য, নিহত হবে শাদা শিফনের নারীর জন্য ভালোবাসা। চিরদিনের মেথমানুষের ভীড়ে চীরকালের না বলা ভালোবাসা হয়ে যাবে – স্মৃতি। কোনও দিন কেউ জানবেনা , কেবোল অট্টহাসির ভেজা আয়নায় ফুঁটে উঠবে “ কখনওই টিকেট পাওয়া যায়নি।
তোমায় দিলাম, রোদের ভীড়ে ভীষণ একচিমটি মেঘ-" বাড়ি এসো।
একা থাকতে থাকতে ২
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে আমার ভেতর একটা সবুজ গাছ জন্মাবে। কোন ফল নেই, ফুল নেই, গাছের নীচে
কোনও ছায়াও নেই। একা থাকতে থাকতে , থাকতে থাকতে আমার ভেতর জন্মাবে একটা বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিদ্যুতহীন।
এভাবেই, ঠিক এভাবেই একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একদিন আমি আমার ঘরেই আমি একা পড়ে থাকবো
মৃত;স্বজনহীন।
কেউ জানবেনা, কেউ জানার নেই। কেউ খুঁজবে না, খোঁজার নেই কেউ।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা শব্দটাও দপ্তরহীন দপ্তর হয়ে, একা একাই বাজিয়ে ঘন্টা ছুটির, একা
একাই বন্ধ হবে একদিন।
একা থাকতে থাকতে ৩
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকাটাই অভ্যাস হয়ে গ্যাছে আজ।
ঘুমিয়ে পড়েছে বিছানা বালিশ, ঘুমিয়ে পড়ে রাত দুটো আট মিনিটের ঘড়ি।
বুকের ভেতর জেগে থাকা চোখে - মস্ত শ্লোকে,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা বোধে একা লাগেনা আর।
শুধু মাঝেমাঝে বেড়াল, কালো হুলো বেড়ালের দৌড়ে কেটে দেয়া রাতে
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে একা থাকা হয়না আমার,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে একাকীত্ব বুঝতে পারিনা আর,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে বুকের ভেতর " লু - হাওয়ায়"
আমি দ্যাখি একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে হয়ে গ্যাছি আমি আস্ত এক গোপাল ভাড়,
আমি দ্যাখি একা বিছানায় পা বের করে শুয়ে থাকে আমার দুক্ষে'রো স্বজন।
আমি দ্যাখি নির্জনতার ভীড় ঠেলে উঠে দাঁড়ায় প্রতিরাতে আমার লাশ,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে - আমার সাথে রোজ রাত্তিরে
দ্যাখা হতে গিয়েও দেখা হয়না একাকীত্বের প্রতিশব্দ আমার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - একা থাকা হয়ে উঠেনা আমার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - আজকাল বুকের ভেতর,
চোখের ভেতর আমার ভেতর মরে পড়ে থাকি আমি,
আমি এক নির্জনতার মুখ থুবড়ে পড়া লাশ, আমি এক যুক্তাক্ষরহীন কান্নার জলে,
উঠান ভর্তি কষ্টের সন্তানদের নিঃসন্তান বোধে অযাচিত চীতকার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - অসহায়ত্বের মিছিলে আমিই এক অদ্বিতীয় ঈশ্বর,
যাকে খুজতে আসেনা বলে কবর দিয়ে হেটে চলে যাওয়া ইনসান দেখে,
আঞ্জুমান মফিদুলে নিভে যায় আমার শবে আমারই উঠে দাঁড়িয়ে ধরিয়ে ফেলা সিগারেট,
নাকে লেগে থাকা কোকেন আর উরু থেকে সন্ধির বিচ্ছেদে পড়ে থাকে নিস্ফল বৃষ্টি।
একা থাকতে থাকতে ৪
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে,
তাই আর অভ্যাসের একা থাকা শার্টের ওপর একা থাকা হয়না আমার।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে রাত
ভোর হয়ে আসে,
তবু কুয়াশা সরেনা,
তবু বৃষ্টি থামেনা।
তবুও জেগে থাকে ঘুম।
তবুও জেগে থাকাটার মৃত্যু হয়না,
ঘুমটার ঘুমও আসেনা,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা হাতঘড়িটার হাসিতে।
তোমাকে যা ছোঁবে না, হু হু শিশ দেয়া পাখি।
তোমাকে যা ছোঁবে না, অপরাধশুন্য মধ্যাহ্ন।
তোমাকে যা ছোঁবে না, জানুয়ারির ছোট্টরাতের রাস্তাটা।
আচ্ছা তোমার চোখের কোলে কি..... নাহ থাক।
কাকে'র শবদেহ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কাকে'র স্বজন।
মৃত্যু চিরকালীন নিরাপদ একটা সড়ক, যেখানে
নীরবতা অন্তিম রহস্যের গন্ধ নিয়ে পাড়ি দেয় বেলা।
আচ্ছা তোমার ঠোঁটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা
আমার স্পর্শটা তুলে নিয়েছিলে তো,
নাকি এখনও ওখানে ক্ষুধার্ত জনপদের শিশুদের আদল,
নাকি এখনও ওখানে.......
যা তোমাকে ছোঁবে না,
আসলে যা তোমাকে একবার ভাবাবেনা,
আসলে যা তোমাকে একবার মনে করাবে না,
সেদিন বেলা চারটা,
অন্ধকার - টুপ বৃষ্টিতে মাথা ভিজিয়ে আকাশ দাড়িয়েছিলো।
তুমি " জানলাটা লাগাও একটু।"
বলতেই ঘোর অন্ধকারে
বিদ্যুৎ ঝলসে উঠলো,
আমি তোমাকে আর পেলাম না,
অন্ধকারের জরায়ুসন্তান
আমি আলোতে হারিয়ে ফেললাম।
অ
থ
চ
আমার চা খেতে সময় লাগে দু'মিনিট।
অথচ এখন প্রচন্ড দুপুর,
অথচ ছুতার সেলাই করছে দুঃখজনক শব্দ।
অথচ যা তোমাকে ছোঁবে না,
দেখো
গড়াতে
গড়াতে
গড়াতে
গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছেটা কোথায়?
কোন শহরের, কোন জানলায় যেখানে চায়ের কাপে
ভেসে ওঠা সর তুমি হাল্কা সরিয়ে টেনে নিচ্ছো হেমলক?
একই শহরে একই আকাশে উড়তে থাকা ভেজা মেঘ
বুকে নিয়ে সেই অক্টোবরের শহরে থেমে আছি,
কোন ঘুম নেই, কোন নিখুঁত বিন্যাসের নিখোঁজ সংবাদ নেই।
অ
থ
চ
মরে যাওয়া আছে, বিনুনি করা অযত্নের মরে যাওয়া আছে।
তুমি কি শুনতে পাচ্ছোনা
তুমি কি শুনতে পাচ্ছোনা আমি একা.... থাকতে পারিনা।
তুমি কি বুঝতে পারছোনা আমি একা..... হাঁটতে পারিনা।
হোঁচটে হোঁচটে ক্লাউন আমি,
হাত পা নাড়াচ্ছি যন্ত্রণায় আর মানুষ, আলোকিতগুলো হাসছে বিনোদনে।
তুমি কি এখনও রোদ কেটে নিয়ে বসে থাকবে?
তুমি কি এখনও জেব্রার শরীরে দুইশ সাতাশ সাদাকালো দাগের এলজেবরায়
এড়িয়ে যাবে হৃদয়... যা মূলত তোমাকে ছোঁবে না।
মানুষের জন্য ডিকশনারি লিখতে লিখতে আমার ঘুম ভেঙে যায়,
আমি স্বপ্নের ভেতর ঘুমে আতকে উঠে বসি।
আমি ঘেমে উঠি,
আমি খাতা কলম নিয়ে বসতেই দ্যাখি
ক্যালেন্ডারে লেখা আছে মৃত্যুর ক্ষণ।
আমি ঘুমের ভেতর স্বপ্নে,
স্বপ্নের ভেতর ঘুমে - দুঃসাহসে
পত্রিকা খুঁজি -
খুঁজতে খুঁজতে দ্যাখি
গতকালকের পত্রিকার
এক কোনায় লেখা আছে " নাম পরিচয়হীন একটি মৃতদেহ উদ্ধার।"
লেখা আছে " মারা যাবার সময় তার পরনে ছিলো কালো টি শার্ট আর জিন্স।"
আমি স্বপ্নের ভেতর ঘুমে..
আমি ঘুমের ভেতর স্বপ্নে হাসতে হাসতে
লিখে " অথচ হারাবার কালে আমার পরনে কি ছিলো তা আমি জানিনা।"
আবার ঘুমিয়ে পড়ি।।
মৃত্যুসনদ
ব্যাস এইতো, এতটুকুই ছিলো এখানে বলবার। স্রেফ এতটুকুই ছিলো একটা জীবন, যা একটু আগে হাসপাতালে মাথার উপর রাখা জ্যামিতিক রেখা থেমে যাওয়া যন্ত্রে থেমে গিয়ে বসে আছে, দমকা একটা বাতাস বুকে জড়িয়ে, আসলে জমাট বেধে গ্যাছে বাতাস, বেরুচ্ছেনা। ব্যাস এতটুকুই ছিলো আয়ু এখানে, তবুও কত শত কান্না, বাজারে গিয়ে আমি কখনও কাউকে খুশি করতে পারিনি বলে মাছের সাথে নিয়ে আসতাম নিরুৎসাহিত লাল শাক, মাঝেমাঝে তেলের সাথে ছোট্ট একটা বাদামের খোসা।
বুজে গ্যাছে চোখ, চোখের পাতা, থিতু হয়ে গ্যাছে অবশেষে নিঃশ্বাসহীনতা অথচ জীবন আমাকে থিতু হতে দেয়নি জীবনে। কি যেনো একটা চাই, একটা চাই কিছু একটা। ছুটে ছুটে বেরিয়েছি এখান থেকে সেখানে, ওখান থেকে এখানে, শিথান থেকে উঠানে, উজান থেকে ভাটিতে, দৌড়ে দৌড়ে গ্যাছি শুধু, সাতরে সাতরে গ্যাছি ঠাই পাইনি।
অথচ আমার একটা বাবুই ছিলো, ছিলো একটা ক্যাকটাস, ছিলো অপহরণের বাসভ্রমণ শেষে সমুদ্রে আমাদের নিঃশ্বাসে সূর্যাস্তে আমাদের পা। অথচ আমার একটা শহর ছিলো, ছিলো পরীবাগ, খিলক্ষেত, কমলাপুর, মিরপুর। ছিলো বইমেলা ফেব্রুয়ারি ২৪, ছিলো একটা আশ্রয়। অথচ আমাদের একটা কথা ছিলো, আমাদের বুকের ভেতর মরে যাওয়া পাখিদের মিছিল ছিলো, যেখান থেকে ধ্বংসডানায় উড়ে উড়ে আমরা হাসছিলাম ফিনিক্স পাখির মতন।
আমার বাবা ছিলো মা ছিলো ভাগ্নে ছিলো বোনও ছিলো। আমার ছিলো ছাদের উপর একটা ঘর, যেখান থেকে আমি দেখে দেখে যেতাম আমার ভাই যাচ্ছে উড়োজাহাজে স্বপ্ন সত্যিতে, যেভাবে একদিন আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম। আমার একটা বন্ধু ছিলো, যে বলতে পারতোনা থেকে যা, শুধু শকুনের শুশ্রূষা নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের গালাগাল করতো। আমার একটা কুকুর ছিলো, একটা কুকুর যে কিনা আমাদের রেমন্ডের ঘড়িটার নিচে
দাঁড়িয়ে থাকতো আমি আসবো আবার ফিরে। আমার একটা বাস ছিলো, যতবার আমি থমকে গ্যাছি ততবার আমাকে একটা ফার্মেসীর সামনে নিয়ে দাড় করিয়ে দিতো, আমার একটা নাম্বার ছিলো যতবার আমি হাটু গেড়ে বসে পড়েছি স্বপন ভাইসহ একটা চায়ের দোকানে আমাকে বলেছে আপনাকে বাচতে হবে আমার জন্য, কবিতার জন্য। এত
সহজে হার মানছিনা। ব্যাস এতটুকুই তো ছিলো আমার, আর কিছু না, একটা বাবুই একটা ব্লাউজ একটা কাঠ গোলাপ, একটা পল্লবী একটা মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, একটা সময় একটা শিশিরে ভিজে যাওয়া স্নান, একটা স্নাতকোত্তর বিপন্ন দুক্ষবোধ, এইতো কেটে যাওয়া জীবন অথচ রক্ত দেখেনি কেউ।
আমি, এইতো আছি এখন চলে যাবো বলে। আমি এইতো আছি থাকবোনা আর কিছুতেই। আজকাল বেঁচে থাকা এতোটা ভারবাহী হয়ে উঠেছিলো যে চোখ বুঝলেই উদোম আমার আমিকে বৃদ্ধাশ্রম ভেবে মিলিয়ে যেতো সমস্ত মাতৃসদন।
ব্যাস এইতো আমি নিথর নার্সিংহোমে, নিশ্চিত মৃত্যুতে। এইতো আমি বারবার দেরী হয়ে যেতো বলে আজ মৃত্যুর বহু আগে থেকেই এগিয়ে গিয়ে আলিঙ্গন করে সময়ের আগেই, সময় করিয়েছি মৃত্যুসাক্ষাতের, বলা তো যায়না যদি দেরী হয়ে যেতো আবার।
ডাক্তার অবশ্য আমার পরিচয় বের করতে পারেনি এখনও, ভাবছি যাবার আগে,শেষ দমকা বাতাস যা আটকে আছে বুকে'তে - তা বের করে দিতে দিতে বলে যাবো " আমি, ব্যাস এতটুকুই ছিলো আয়ু এখানে, দুক্ষবোধের দুক্ষিতরোগ পুড়ে গিয়ে জমিন আসমানের সব পেয়েছিলো পরমায়ু। আমি আমি কেউনা, এটাই একমাত্র পরিচয়। যদি সত্যিই চান জানতে তবে বিজ্ঞাপন দিয়ে দিন জনাব, একটা লাশ যার মানিব্যাগে ছিলো কিছু কপালের টিপ আস্ত সূর্যোদয় সূর্যাস্ত রাখা, দেখবেন একটি খবর পাঠাবে কেউ। ব্যাস এতটুকুই, নার্স আমাকে একটু উঁচু করে ধরুন, আমি শুয়ে শুয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারিনা, আমাকে ধরে বসান প্লিজ, আমি শুধু উত্তরহীন জীবনে শেষ প্রশ্নে মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করতে চাই মৃত্যুকালে মৃত্যুর বয়স হয়েছে কত? আমি একবার জড়িয়ে ধরে বলতে চাই " দেরী হলো কেন আসতে?"
ব্যাস এতটুকুই তো ছিলো একটা জীবন যাকে সহজ শব্দটা লিখতে পারার চেয়েও ছিলো সহজ ভুল বুঝবার। ব্যাস এতটুকুই
আমার মৃত্যুর পর অবশেষে বৃষ্টি নামলো, ভিজিয়ে দিয়ে আমাকে।
অবশ্য সরে গেলে তোমরা,
এ-ই সাতই জুনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যারা ছিলে।
এ-ই সাতই জুনের রাস্তায় যারা ছিলে না,
এ-ই সাতই জুনের রাস্তায়... হাহ..
অবশেষে জানলাম
জন্মেই একা আমি, মৃত্যুতে আঞ্জুমান মফিদুল।
অবশেষে দেখলাম-
কোথাও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত হয় নি,
কোথাও শোকে তাপে দগ্ধ কালো ব্যাজ ছিলো না।
একাডেমি, শহীদ মিনার
না স্মৃতিসৌধ ; বিতর্ক নেই।
সাতদিনের শোক প্রস্তাব রাখা হয়নি জাতিসংঘে।
শুধু
আমার মৃত্যুর পর বৃষ্টি নামলো।
শুধু
আমার মৃত্যুর পর তোমরা সরে গেলে, তোমাদের ছাতা ছিলোনা।
শেষ ফুলষ্টপ
গ্রীনরুমে আয়নাতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি পর্বে নাকের উপর বসানোর জন্য প্রেয়সীর প্রিয় লাল; আগুন মুখো লাল বল খুজছি...... "থার্ডব্লো- শেষ ফুলষ্টপ ১৫ এর সন্ধ্যায়"- শো একটু পর....
দিকশুন্যপুরের জাহাজীকে কোনও এক ডিসেম্বরের ৫তারিখে ভালোবাসি বলে জাহাজ নোঙ্গর করিয়ে; কিছুদিন পর ঠোঁটের উপর কালো টিপের মেয়ে হঠাত বলে ওঠে-
"তোমাকে পাখি ভেবেছিলাম, এখন দ্যাখি তুমি জরাজনিত আকাশ।পাখি যতটা টানে ততটা আকাশ আমাকে টানেনা, আকুল করেনা।।তাই আজ থেকে আমরা দু-জন দুরের দ্বীপ।"
বীজগণিত, হিসাববিজ্ঞানে কাচা ছেলেটা ফ্রয়েডিয় ব্যার্থ মনোবিজ্ঞানের গিনিপিগ হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিড়িতে হাটতে হাটতে দ্যাখে পাবলিক হেলথের দোরগোড়ায় আড়াইবছর আগেকার ৫০% শিক্ষাবৃত্তি।এক মানবীর পানি উবে গিয়ে লবন জমা চোখে এক বোকা দ্যাখেছিলো, জেনেছিলো, পড়েছিলো "আমি, তুমি ছাড়া বড্ড একা।"রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশেরও কবি - বাক্যটার মতই যা এক ডাহা মিথ্যে......
তুমি দাঁড়াও একটু আমি আসছি- এ কথাটা একমাত্র ভালোবাসা আর শৈশব বলে ছিলো।
"-- শৈশব!! সে আবার কে? বোদলেয়ারের চরিত্র নাকি? তারপর কি হলো? গল্প থামালে কেনো ?
-- তারপর এক দৈত্য ভেজা পা'য়ে টুটি চেপে মেরে ফেলে শৈশবকে,ভালোবাসা হয়ে যায় সামাজিক আলমারির চাবীর গোছাটার মতন ভারী।কেবল হাসফাস করে।প্রেয়সীর ভেজা চোখে তার নিজের স্বপ্নবৃত্তান্ত এর কোথাও ছেলেটা ছিলোনা, তবুও পিপড়ের শহরে ছেলেটা ভালোবেসে নিজের চোখে দৃশ্যমান করে প্রেয়সীর স্বপ্ন, ছুটে চলে।
ছুটতে ছুটতে হঠাত জেনে যায় --
"তুমি অতি ভালোবাসার মানসিক অসুখে ভুগছো"- নামক বিদায় বৃত্তান্ত।
-- "তারপর..তারপর কি হলো, উফফ..আবার থামলে ক্যানো! কোথায় যাচ্ছ .. আরেহ্ "
-- "আজ কয় তারিখ?এখন কয়টা বাজে? বলবে কি?
--"আজ ১৬ই ডিসেম্বর, রাত এখন ১১টা ৪৩মিঃ।"
-- "সাক্ষাত ঈশ্বর হয়ে মানিক মিয়া এভ্যুনিউ'তে রাত ১১টা৪৩মিঃূ কোনও এক ১৬, ডিসেম্বর
ছেলেটা ছুঁয়ে ছিলো ভালোবাসার ঠোঁট।আহ বৃষ্টি নামবে।।যাই এবার।"
--"গল্পটা শেষ হয়নি তো, এই..এইযে...কি আজব বৃষ্টিও পড়ছে দেখি।"
হঠাত সম্বিত ফেরে -
-- "এক্সকিউজ মি, আপনি কার সাথে কথা বলছিলেন এতক্ষন ম্যাডাম! আপনি সুস্থ্য আছেন তো।"
-- "কেনো দেখেন নি, কমলা টি-শার্টের একজন ছিলো তো।নাকি চোখের মাথা খেয়েছেন।"
-- "কেউ ছিলোনা ম্যাম, বৃষ্টি থেমেছে এবার বাড়ি যান।১২টা বাজতে চললো।"
মেয়েটি রেষ্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামতেই শুনতে থাকে.. কে যে নো কবিতা পড়ছে বাতাসে শুয়ে।।
-আকাশের রানওয়েতে ভোরের আযান...
অসময়ের পত্রিকা বলে দিচ্ছে সুন্দরের চোখ সুন্দর খুঁজে বেড়ায়।
তাই আমার, চোখের ভেতরকার জলোচ্ছ্বাস তোমায় ভেজাবে না....
বুকের ভেতরকার জ্বরের আঁচ ছুঁবেনা তোমায়...
দর্শক অভিবাদন গ্রহন করুন এক বোকা প্রেমিক,এক অ-প্রেমিকের।
স্টেজের আলোতে ঝলসে যাওয়া মুখ দেখুন আর.. দর্শক আংগুলে মুহুর্মুহু কড়া নাড়ুন..
শো- জমজমাট.....আর ক্লাউন আমি, জোকার আমি মুখটা উপরে তুললে...
ঈশ্বর অপেক্ষায় ফুলষ্টপ মেরে দ্যাখেন আমায়...
দেখেন একাকীত্বের অপেক্ষাকথনে ক্লাউন আমি ,
হাহ্, অপেক্ষার জলজ্যান্ত কবিতা, আমি।।
এক মস্ত সস্তা পাণ্ডুলিপি ১৬ই ডিসেম্বর রাত ১১টা৪৩মিঃ এর অলিখিত চুমু'তে।।
সমাপ্ত লেখা হয়না এক অভিমানী রেল লাইনের জেদি ভালোবাসায়।
যেখানে নিজেকে শেষকরা ইতিহাসের পৃষ্ঠা কোথাও কোনও এক ভবিষ্যতে সিগারেট বানাতে কাজে লাগবে।।
আমাদের বুকের ভেতর একটা নদী
বছর কুড়ি পর মনে পরবে
আজ থেকে বছর কুড়ি পর তোমার মনে পড়বে,
তোমার মনে পড়বে, তোমার চশমার কাচেই আমার অজ্ঞাতবাস
তোমার মনে পড়বে শেষ কথোপকথনে কোনও এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছি-
“আপাতত এক -না এর সাথে আছি
তোমার মনে পড়বে এক দুপুরে একা দাঁড়িয়ে থাকা রোদ্দুর একশ পাঁচ
মনে পড়বে ক্ষুধার্ত ঠোঁটে অপেক্ষায় অবসন্ন সন্ধ্যেটার অবস্থান ধর্মঘট,
মনে পড়বে মিছিলে দেখেছিলে রেললাইন জুড়ে নিস্তব্ধতার পাইনবন, দোল খায়
কড়া নাড়ে, মাঝেমাঝে বুক থেকে বুক বরাবর এক রক্তাক্ত সরলরৈখিক শরীর আড়াল করে
আড়াল করে মন খারাপের বুধবার রাত আড়াইটা,
চোখের পলকেই ছুঃমন্তর একফোঁটা বৃষ্টির ছিপনৌকোর ভোর ছয়টা!
এমন অনেককিছুই মনে পড়তে পড়তে
আজ থেকে বছর কুড়ি পর তুমি এবং তোমরা জানবে,
একদিন তোমাদের অবহেলায় তোমাদের বুকের মেঘে স্তব্ধতায় আমার হারিয়ে যাবার গল্প
জানবে, কোনও এক চশমার জোড়া আকাশে আমার আজীবন অজ্ঞাতবাস
ব্লাউজটা আকাশ হয়ে গেছে?
তোমার ব্লাউজটা যেনো আকাশ হয়ে গ্যাছে,
ভেতরে আমার শীতকাল সরানো রোদ্দুর, তুমি পুষে রাখো,
পুষে রাখো হেম –
পুষে রাখো আগুন,
ভয় দেখাও হঠকারিতার রাষ্ট্রের
দাঙ্গা পুলিশের মতন।
তুমি বোঝোনা
আগুন আগুনে পোড়ে না,
আমি তো এক আগুনপাখি,
আগুন খাই,
আগুনে জ্বলে জ্বলে যায় রাতভর ঈশপের গল্প।
তোমার পিঠখোলা রানওয়ে,
আমার নিশপিশ আঙ্গুল
ছুঁয়ে ছুঁয়ে নিস্তরঙ্গ জ্যোৎস্নার নিসর্গ ফাঁদ,
এক লহমায় অতিথি হয়ে ওঠে বিরল!
তোমাকে একটা সন্ধ্যায়
ছাদে নিয়ে যাবো বলে কতবার,
কতবার বারান্দায় নিয়ে দাঁড় করাই তুমি জানোনা।
কতবার ছাদের অন্ধকারে তুমি দাঁড়িয়ে আছো,
আমি দেখছি ব্লাউজ,
আমি দেখছি তোমার অবাক লাজুক পাতা,
আমি দেখছি শাড়ি,
আমি দেখছি আয়নায় বেগুনী টিপ,
আমি দেখছি খোলা পিঠ,
আমি দেখছি স্নাতক স্নানঘরে
একটা অবদমিত আকাঙ্ক্ষা
একটা অবান্তর মূহুর্ত ইতিহাস।
তুমি বোঝ না অথচ যা আসেনা,
অথচ আমি ভয় পাই ভীষণ।
আমি জ্বর পুষি বুকের ভেতর,
চোখে পুষি আস্ত বর্ষা কেটে দিয়ে শীতকাল।
বাষ্পীভূত চোখের কোনে লেগে থাকে
কুয়াশার দাগ।
কিছুই বলা হয়না আমার,
আমি ভয় পাই,
আমি ভয় পাই,
হুহু কান্নার মতন বাতাস ঢুকে পড়ে
বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি,
হুহু কান্নার মতন বেবাক হেডলাইন নিস্তব্ধ
গভীর বুকে নিয়ে,
খেলে কাটাকুটি খেলা।
হুহু কান্নার মতন নির্জনতার শোক হৃদয়ে।
তুমি জানোনা,
প্রিয়তমা হাজার বছর ধরে
স্বাধীকার বসে থাকে জানলায় লালরঙা ছদ্মবেশে।
তুমি দেখোনা,
তুমি বোঝোনা,
কতবছর আগে বেগুনী চুড়ি আর
কানে ঝুলন্ত ব্যবিলন অপেক্ষায়
তুমি শোনোনা
তুমি বোঝোনা।
অনিদ্রার শোকচিণ্হ থেকে কুমারী পর্দা ওঠাও,
নিঃশব্দতা থামাও এবার।
আর কতবার নিজের বুকে চেপে ধরে
নিজের মুখ
আমি স্বান্তনা দেবো
আমার হাত রেখে আমারই হৃদয়ে।
কতসহস্র বছর আমি শীতকাল যাপনে
লিখে যাবো বিষাদের সংবিধান
একাকীত্বের জাতীয় সঙ্গীত,
তুমি কি বুঝতে পারোনা,
কতশতবার তোমার মুখ তুলে ধরতে চেয়ে
আমার দু হাত পিছিয়ে গিয়ে
এক রিকশাতেও সিটিয়ে গ্যাছে?
তুমি কি বুঝতে পারোনা
কতবার তোমার চোখে বারংবার খুন হই বলে
আমি চোখ ফিরিয়ে নিয়েছি?
কথা হারিয়ে ফেলেছি কত কোটিবার
তুমি জানোনা!
তুমি জানোনা!
আমিতো আস্ত পাগল,
যে হৃদয়; প্ররোচিত হৃদয় ছোঁবে আঙ্গুলে তোমার।
বসে থাকে হাপিত্যেশের হাতঘড়িতে।
বসে থাকে অপমানিত গ্লানির কবিতায়,
বসে থাকে অভিমান করে,
অভিমানে দূরে যায় তবু ফিরে আসে কবিতায়,
নির্লজ্জতায় সময়ের
সবচেয়ে বড় টর্নেডোর
আঘাতেও নুয়ে পড়েনা লিঙ্গহীন রাষ্ট্র,
একাডেমী,
প্রাতিষ্ঠানিক বেশ্যার বিছানায়।
বারংবার নিষিদ্ধতা পিঠে চেপে,
বসে বসে পড়ে ভুল বোঝাবুঝি ভাইয়ের উপাখ্যান।
কেবল একটা সন্ধ্যা
আকাশের নির্লিপ্ততার হ্যাজাকবাতি ধরিয়ে
তোমার পিঠখোলা ব্লাউজ
তোমার মসৃন তলপেট হয়ে উঠে জাতীয় পতাকা।
তোমার বুকের পাশ দিয়ে নেমে আসা
আশ্বিনের মেঘ থেকে বর্ষার জলধোয়া টাপুরটুপুর
ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেবে ছুটির দিন-
তুমি জানোনা,
তুমি বোঝোনা,
অথচ কোন এক ভোরবেলায়
তুমি অপহরণ করেছিলে আমাকে,
দেখাতে তোমায় সমুদ্র তীরবর্তী সহস্রগ্রাম।
তুমি ভুলে যাও,
তোমার মনে নেই।
জেনে গ্যাছি
জেনে গ্যাছি, দুজনে দুপথের পথিক সবশেষে।
জেনে গ্যাছি, শীত তোমার দূর্সম্পর্কের প্রেমিক,
কুয়াশায় রোদ সরিয়ে সম্মতিহীন বুকে যে রেখেছিলো হাত।
তুমিও জেনেছো,
অযাচিত অপেক্ষায় আমি,
তিরতির করে কেপেকেপে ওঠা হারিয়ে ফেলা মূহুর্তের খোঁজে
আমি দাগ কেটে কেটে মরে যাওয়া ক্যালেন্ডার এক।
তারপর প্রকৃতির হেঁয়ালী আচরণে
দুজনেই এসেছি কিছুটা সময়, কয়েক সন্ধ্যা পাশাপাশি বসে গন্ধ মাখতে।
হঠাত কবিতায় স্থান করে নাও তুমি,
হঠাত মনের অজান্তে নিষিদ্ধ যাত্রার পূর্বাভাষ।
তখনই ব্যারিকেড অনিশ্চিতের নিষিদ্ধ যাত্রায়,
আটকে দেই জানলা দরোজা সন্তর্পণ বিদ্যায়।
তারপর কথা হবেনা,
তারপর দ্যাখা হবেনা,
তারপর আমি আমার স্মৃতিবিলাসী রোদে,
তারপর তুমি তোমার হারানো আকাশে মেঘ খুঁজে বেড়াচ্ছ।
অনেকদিন পর আবার দ্যাখায় আমি বলে দেবো হয়ত,
মাটির ভেতর জেগে উঠতে চাওয়া ফিসফাস,
গোপন জলসিড়ি সব ফেলে দিয়ে,
ফেলে দিয়ে সুখি হবার কিছুটা প্রয়াসে,
হতে চেয়ে মিশে মিলে জলকণা,
কান্নার মিছিলে,
প্রত্যাখ্যাত কার্ফুতে।
দ্বিধাতে কাছে থাকার চেয়ে,
ঢের ভালো দ্বিধাহীন দূরে থাকা কিভাবে রপ্ত করেছিলাম আমি?
অথচ খেয়াল করিনি,
এসব লিখতে লিখতে ইতিহাসের ঠোঁটে নেমে আসে অসুখ।
রাত দীর্ঘায়িত হতে থাকে ভেঙে দিয়ে আমার প্রতিটা সাহস।
ভুল বানানে অস্পৃশ্য ভালোবাসা।
নিষিদ্ধ লোবানে ভালোবাসা ছিলোনা–
মৃত্যু পরবর্তী সাক্ষাৎকারে তুমি বলেছিলে, আমার স্মরণে।
দুইশো তেত্রিশ কিলোমিটার পথ
দুইশো তেত্রিশ কিলোমিটার পেরিয়ে গেছে সেইসব দিন সযত্নে,
আসলে সকালগুলো, বিকেলের মধ্যবয়সী রমনী অথবা
দুপুরের মতন পকেটখাওয়া মধ্যবিত্ত পুরুষ নয়
যে বানিয়ে বানিয়ে সত্যের মতন করে মিথ্যে বলে দেবে তোমাকে।
আসলে,
তোমাকে আশ্চর্য করে দেবার কোন আশ্চর্য প্রদীপ ছিলোনা আমার কাছে,
শুধু জানতাম ভালোবেসে এইযে পাশাপাশি
আমাদের কাছাকাছি নিঃশ্বাস নেয়া অবস্থান,
এরচেয়ে আশ্চর্যের কিছু থাকতে পারেনা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডজুড়ে।
সে যাক পুরনো ঘাস থাকুক আমার বুক পকেটে।
তা আছো কেমন?
চোখ আজকাল খুব বেশিই কুঁচকে যাচ্ছে বোধহয়।
সানগ্লাস পড়াটা শিখে নাও ভালো লাগবে নতুন যিনি পুরাতন তোমার,
অথবা নতুন তোমার নতুন যিনি, তিনি বিমুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকবে
সেজন্য দুইশ তেত্রিশ কিলোমিটার দূর থেকে আমি অপেক্ষায় আছি।
তা আজকাল মিলে যাচ্ছে খুব,
যে কথাগুলো বলেছিলাম কবিতায়,
যে কথাগুলো বলেছিলাম ঘুমন্ত তোমার দিকে অপলক তাকিয়ে জেগে থাকা আমি।
তোমাকে বলেছিলাম কবিথকে ভালোবাসার পর
তোমার ভেতর জেগে উঠবে
সুপ্ত থাকা ভালোবাসার নতুন ভূমি।
যদি কখনও কবিথর হাত ছেড়ে চলে যাও দূরে,
তখন এই নব্যভূমি তোমাকে মেরে ফেলতে
চাইবে ভালোবাসাহীনতায়।
অথচ আশ্চর্যের বিষয় হবে সেটাই যা
তুমি ভাববেনা কখনো।
তুমি জানবেনা তুমি কবিকে ভালোবাসো-
কবি তোমাকে ভালোবাসে,
তোমরা তোমাদের ভালোবাসো খুব,
খবর রাষ্ট্র হতেই জন্মাবে অজস্র প্রেমিক তোমার।
তারা অনেকেই বলবে তোমায় –
সাহস করে উঠতে পারেনি বলে বলতে পারেনি এতদিন।
তারা বলবে তোমায় অপেক্ষায় থাকবে তারা।
তুমি জানবেনা তোমার প্রেমিক একজন কবি
এ সংবাদের ভিত্তিতে তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী হবে
প্রতি বর্গকিলোমিটারে একজন করে,
তোমাকে হঠাৎ ছেড়ে যাবে তোমার এতদিনের বান্ধবীরা
তোমার মন খারাপে ওরা আরো মনখারাপের
কান্ড ঘটিয়ে বসে থাকবে রোজ।
তোমাকে হতে হবে নিগৃহীত,
তোমার ভেতরে তোমার পারিপার্শ্বিকতা
জন্ম দেবে নব্য-বাস্তবতা নামক শুয়োপোকার।
তুমি দেখবে শুধু
এত এত গোয়েন্দা হবে তোমার,
এত এত সংবাদদাতা হবে তোমার
নিজস্ব মানচিত্র জুড়ে,
বিম্বিত ইতিউতি উঁকি মেরে
তোমাকে জানাবে তথ্য,
দেবে খবর,
কেবল তুমি কবিথকে ভালোবাসো এই প্রচারের পর।
হাহ
দহন গাঢ় নিদ্রা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে,
কথা বলবো এখন দ্রুত।
শুনছোথতোৃ
সহনশীলতার কক্ষে
একদিন তুমি হেরে যাবে না বলে,
বলে দেয়া যাবে একদিন তুমি জিতে যাবে – ছেড়ে দেবে হাত কবিথর,
যা তোমার অবহেলার মনে হবে।
তুমি ছেড়ে যাবে শহর,
ফিরে যাবে পুরানো ডেরায়।
গিয়ে বলতেই তুমি পারমাণবিকবোমার নিরস্ত্রীকরণে হিরোশিমা নাগাসাকি ধ্বংসের ধ্বনিতে চলে এসেছো, ফিরে।
দেখবে তৎক্ষণাৎ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছগুলোর সংখ্যায়,
রক্ষণাবেক্ষণকারীদের আচরণের মতন,
তোমার কাছে চলে আসবে অজস্র প্রেমিক বন্ধু।
তোমার কাছে এসে চোখ মুছিয়ে দেবে
এত মানুষ যা পায়নি সৌদি আরব প্রজাতন্ত্র প্রধানও।
হুহু হাওয়া চেপে আছে –
একটু দাঁড়াতে হবে এবার, গলাটা শুকিয়ে কাঠ।
বেশি স্থিতিশীল সামষ্টিক অথচ ব্যক্তিগত শ্মশান আমার।
একটু দাঁড়াতেই হবে এবার,
সপ্তচ্ছদ রপ্ত করেছে বলে খবর রটেছে রসিকতার পাড়ায়।
প্রচন্ড জ্বর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তুমি জানবে
কবি তোমাকে অবহেলা বৈ ভালোবাসেনি।
তোমার সু-হৃদেরা তোমাকে নবজীবনের,
ঋতু পরিবর্তনের কথা বলবে।
তুমি একজোড়া হাত ছেড়ে দিয়ে দু-সপ্তাহে ধরে ফেলবে নতুন হাত।
তুমি গাইবে গান, শুনেশুনে লোকে দেখবে,
কবি তোমাকে ভালোবাসে প্রকাশ্যে তাই তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী বেড়েছে রোজ।
তোমার নব্যপ্রস্তরযুগীয় প্রেমিক
তোমার সকল অপূর্নতা পূরণ করে যাচ্ছে
তোমাকে ঘুম থেকে বের করে – হাহ..
এতটা নতজানু হয়নি হৃদয় আজো,
রিকশাটা পালটে ফেলি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে।
একটু দাঁড়াও, দাঁড়াতে হবে এবার।
তোমার দেয়া সেই ক্যাকটাস আজ বড় হচ্ছে এমাজনের মতন।
সবকিছু আছে আগেরকার মতন,
মাঝখানে শামসুন্নাহার হল –
শুধুই কবি তোমাকে ভালোবাসে
বিধায় পৃথিবী তোমাকে সময় দেয় নি একা থাকার, মাত্র পনেরোদিন।
তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমাৃ
অভিনন্দন আরেকবার ৃ
তোমার জন্য থামিয়ে দেয়া হবে সকল স্তব্ধতা আরৃ.
এর বেশি কিইবা পারে একজন কবিৃ
এযে দুহাতের ব্যর্থ দশটি আঙ্গুল চেপে ধরে রক্তের জুতো পরে,
নিজের বুকে থাকা তোমাকে বাঁচিয়ে,
লিখে গ্যাছে তোমায় অমর করতে, নিজ আয়ুতে ব্যর্থ কবিতা।
দেখো, শোনো বিউগলের শব্দ,
বাতাস দাঁড়িয়েছে সশস্ত্র মার্চপাষ্টে, এগুচ্ছে তোমার জানলায়।
অভিবাদন প্রিয়তমা,
অভিনন্দন তোমায়,
সকালের সূর্য তোমার পায়ে লুটোপুটি খাচ্ছে,
কর্তৃপক্ষ বলছে ব্যর্থতা জ্ঞাপনে
সুইসাইড নোট পালটে রিক্সা সদর দরোজায়,
বসে আছে, প্রথম মৃত্যুর দিন।
যা পাঠানো হয়েছে দুইশ তেত্রিশ কিলোমিটার দূর থেকে।
সকাল মিথ্যে বলেনি কোথাও কখনওই৷
চিঠি - যা দেয়া হয়নি।
আত্মহত্যার পর আমার –
কোনও ঝড়ের রাতে লোডশেডিং
তোমার দেয়া রুহের মাগফেরাতে
আমি ফিরে ফিরে আসবো প্রিয় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ –
তোমাকে জিজ্ঞেস করবো কতটা কৌশলে
প্রকৌশল বিদ্যা শিখলে তুমি-
জিজ্ঞেস করবো কতটা হাঁসছো তুমি বেনোজলে,
কতটা কাঁদছো শরণার্থী রোদে-
আর কিছু নয় – কিছু নয় হয়তো।
হয়তো
একেবারেই কিছু জিজ্ঞেস না করে চলে যেতে পারি,
একেবারেই স্পর্শ না করে
ক্যাকটাস আমি হেঁটে যেতে পারি, ছায়াদের মায়ায় ছায়ায়!
শুধু বুকপকেটে
মেরিলিন মনরো-সোফিয়া লোরেন-লিন্ডসে ওয়াগনার পাগলের মতো আর্তনাদ করলো,
চীতকার করে বললো চাররাস্তার পাগলটা
আত্মহত্যার পর আমি ফিরে আসতে পারি –
তোমার দেয়া রুহের মাগফেরাতে – বারবার
কোনও ঝড়ের রাতে – লোডশেডিং –
তোমাকে দেখা হয়নি
তোমাকে দেখা হয়নি অথচ তুমি বিষন্নতার মতন তীব্র এবঙ
একমাত্র স্বচ্ছ বোধে বাঁধো আমায়, আষ্টেপৃষ্ঠে ।
একদিন খুব ভোরে বায়ে শুয়ে থাকা তোমায় দ্যাখে ঘুম ভাঙবে আমার।
একদিন খুব ভোরে টেনে নেবো চায়ের কাপের সাথেই তোমার হাত।
একদিন খুব ভোরে মুখ ধোবার আগেই তুমি ছুঁয়ে দেবে নাক,
ঠোঁট কপালের বলিরেখা।
একদিন খুব ভোরবেলা সারারাত জেগে থাকা চোখ জোড়া ক্লান্তিহীন
মিছিলে হেঁটে যাবে ।
একদিন খুব ভোরবেলা তুমি জানবে তোমার চারপাশ ঘিরে থাকা আশ্চর্য হাততালি
তোমাকে বাঁচাবেনা,
তুমি জানবে প্রতিবাদী মুষ্ঠিবদ্ধ হাত কখনও মিথ্যে বলেনা।
একদিন যখন তুমি জানবে, বুঝবে সব সত্য তখন কোপার্নিকাসের
মৃত্যুর সাতশো বছর পেরিয়ে যাবে।
একদিন তুমি দেখবে বগলে বাইবেল নিয়ে হেঁটে হেঁটে সাম্যবাদের গান
গাইতে থাকা এরিষ্টটল মিথ্যের ভারে ন্যুজ্ব।
অথচ ঠিক সাতশো বছর পেরিয়ে গ্যাছে প্রিয়তমা।
তখন বুঝবে এই কবিতার শুরুতে বর্নিত বাক্য গুলো
বায়ে শুয়ে থাকা তুমি, চায়ের কাপ, অনাবৃত স্তন, নিরাভরন শরীর,
শরতের যোনীফুল সবটাই, সবটাই মুড়ে রেখেছিলাম যে বিশ্বাসে,
তাকে তুমি খুন করেছো নিজহাতে , আলোর ধাঁধায়।
মরিচিকাসম হিপোক্রেসিতে।
একদিন ঠিক নবশতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে আমি আবার জন্ম নেই,
একদিন ঠিক পূর্বজন্মের মতই তুমি এবঙ তোমরা আবার খুনী হয়ে ওঠো ,
আবার প্রিয় হয়ে ওঠে লাশের উপর ভনভন করা মাছি,
প্রিয় হয়ে ওঠে শস্যক্ষেতের উপর থাকা পঙ্গপাল।
একদিন অথবা সবদিন ঠিক আগেকার ইতিহাসের মতন
মেয়রের অবিশ্বাসী দৃষ্টির ভারী বৃষ্টিপাতে যোনীর অনাহুত গর্ভপাতে
তুমি এবঙ তোমরা মা হয়ে ওঠো সন্তানের খুনী হয়ে।
তোমাদের চোখের নষ্টামোতে একজন ম্যাজিশিয়ান
একজন ভ্যানগগের মৃত্যুতে সিগমুন্ড ফ্রয়েড অহঙ্কারী হয়ে উঠেন
শিষ্টাচারী মনোউপনিবেশিক বিজ্ঞানে।।
একদিন আবার হয়তো কেউ এখানে নয় ওখানে নয়,
তোমার বুক মানচিত্রে একটা স্বাধীন পতাকায় গর্বিত কবিতা লিখে
দেবার দায়ে তোমাদের সমাজেসমাজচ্যুত হয়ে ক্রুশবিদ্ধ যিশু হয়ে ঝুলবে।
এটাই কবিতার নিয়ম, সত্যের নিয়তী।
তাই আবার কখনও জন্মালে আমি;
প্রেমিক নয় মানুষ হয়ে, শাদা শার্টের মানুষ হয়েই জন্মাবো নিশ্চিত।
দেবী,
তোমাকে লিখছি, মেট্রোরেলের আগমনবার্তায়। ক্যামন আছো? প্রশ্নটি করা উচিৎ হয়নি কারণ তুমিতো ভালোই থাকো। শুনেছি অসুস্থ ছিলে তুমি। যতটা তোমার বান্ধবী জানায় আমায়, আমি তো জানি ততটুকুই। বইমেলার শেষদিন তোমার বান্ধবী পদোন্নতির খবরটাও দিলো কিন্তু অবাক হলো বইটার উৎসর্গথতে তোমার নাম দেখে। আমি এর বেশী আর কিথবা দিতে পারি,বলো দেবী।
জানোই তো কবিথদের দু-চার পাতা লেখা শুকনো কবিতার বই, শব্দ দিয়ে ভেজানো।
আচ্ছা, আমি আমার যাপিত সময় থেকে একটা ই-কার, একটা আ-কার উঠিয়ে নিলে কি খুব বেশী ক্ষতি হয়ে যাবে দেবী? মনে হয়না। তুমিতো জানোই মিথ্যে অপবাদ, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে অথবা শরীর আর সম্পর্ক খুলতে পাসওয়ার্ড লাগেনা কোনো।
মনে আছে কি তোমার? সেই রাত দুটো। যখন এক উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা হয়েছিলো দুথজনের। এতদিন পর আমার ভেতর প্রশ্ন জাগে, আচ্ছা আমরা দুজন, সত্যিই কি হেটেছিলাম একসাথে? জানি এ প্রশ্ন পৌঁছায় না তোমার দোরগাড়ায়। কদাচিৎ যদিওবা পৌঁছায়, তুমি মেতে ওঠো এক ক্রুর পৈশাচিক বিজয়োৎসবে।
তুমি অগ্রাহ্য করে একজোড়া ঠোঁটের গল্পে একে দাও তোমার কালোয় আচ্ছাদিত পাহাড়ের সম্পাদিত ছবিখানা যেখানে আকাশের কোনও গন্ধ নেই। হয়ত ক্যালেন্ডার থেকে লুকিয়ে ফেলো অতীত। তোমার এক প্রবল হঠকারিতায় জানি আমি কমে যাচ্ছি আমাদের এলবাম থেকে।
গত দু-বছর পাচ মাস যাবত তুমি সুখ থেকে উঠে গিয়ে অসুখের গভীরে আমাকে ঠেলে দিলে,তারপর থেকে আমি প্রতিমুহূর্ত সিঁড়ি ভাঙি। আমার চারপাশে আদ্রতা হারানো দীর্ঘ শীতকাল। জানো আমি অবাক হয়ে দেখি তোমার প্রিয় বান্ধবী তোমার হঠকারি সিদ্ধান্তে কিভাবে আনন্দিত হয়? কিভাবে আরেকটা মেয়ে খুশী হয় একটা মেয়ের ভালোবাসা থেকে দূরত্ব বাড়ানোর খেলায়? অথচ খুব দরকার ছিলো একটা মেয়ে বুঝে নিচ্ছে আরেকটা মেয়ের কান্নার পৃথিবী।
জানো, আজকাল তোমার চোখে বড্ড ভীড়। তাই ওদিকটায় যাওয়া হয়না আমার। ইদানিং একা আমার বেশী কথা বলতেও ইচ্ছে হয়না। মনে হয় আগেকার মতনই আমি “ভাচ্ বললেই গলা জড়িয়ে বলবে “ভালোবাসা।চ্ আর “চুচ্ বললেই দৌড়ে এসে দিয়ে দেবে “চুমু।চ্ কি অদ্ভুত অতীতচারী আমার জীবন তাইনা? আমার এই সব ছুঁয়ে দেয়ার ইচ্ছেগুলোতেই জানি জিতে গ্যাছো তুমি, জিতে যাও বারবার। মাড়িয়ে ভালোবাসা। ভালোবাসা মাড়িয়েও জানি তুমি
একা নও,একা ছিলেনা কখনো। যা কিছু ছিলো সবটাই ঈশ্বরের একা থাকা বিষয়ক নাটকের মঞ্চায়ন। আমি নামক অধ্যায়টি তুমি মঞ্চস্থ করার ইচ্ছে পোষণ না করে অবহেলাভরে ফেলে দিলে।
অথচ আমি মেনে নিতে না পেরে জেদি কিশোরের মত ঠোঁটে ঠোঁট কামড়ে ছিলাম অপেক্ষায়। অথচ তোমার কাছে আমি এবং ভালোবাসা ছিলো মনোবিজ্ঞানের গবেষণা কাজে ব্যবহৃত এক গিনিপিগ। কুকুরের খাদ্যতালিকার অংশ হওয়ার নূন্যতম যোগ্যতা যার নেই।
চিঠিটা শেষ করছি। এটা কোনও উপন্যাস নয় যে টেনে নিতে হবে। তবে শোনো—
চ্ যে গল্প কবিতা হতে পারেনি,
যে কবিতায় গল্পের লাইনগুলো নেই।
সেই চার অক্ষরের গানে হৃদয় এবং যন্ত্রণার ব্যবধানে
চোখের জলে নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টি হয়।
বুকের ঘামে জোনাকীরা রোদ পোহায়।
সন্ধ্যে নামার আগেই নিঃশ্বাসৃৃৃ..চ্
মৃতদেহের পাশে কুড়িয়ে পাওয়া চিঠিটির এতটুকুন পড়ে পুলিশ ফিরে যায় হয়ত ফিরে আসবে বলে।।
কবিতা- আমি ভাবতে ভালোবাসি।
আমি ভাবতে ভালোবাসি,
ভালোবাসি ভাবতে আমার প্রস্থানে থেমে যাবে গোটা কয় জীবন।
ভালোবাসি ভাবতে আমার থেকে যাওয়ায় হেসে উঠবে সূর্যমুখীর বনাঞ্চল।
ভালোবাসি ভাবতে, আমি ভাবতে ভালোবাসি -
পাগলের মতন ভাবনার সুতো ছিড়তে দেই না আমি।
অথচ
আমার থেকে যাওয়া সময়ে তুমি লিখোনি একটা কবিতাও ; অরু।
তুমি বলোনি অথচ আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছো অজস্র রাত।
অথচ
আমার প্রস্থানের পর আমি হেরে যাইনা
আমার প্রস্থানের পর আমি গর্বিত হয়ে উঠি তোমার একের পর কবিতায়
প্রতিটি শব্দে আমার ভীষণ মায়ায় কান্না পায়।
অরু, আমাদের মুখোমুখি ভাত খাওয়া অজস্র মুহুর্তের
ইতিহাসবিদ বাক্যটাকে অন্যের কথায় ঠাঁই দিয়োনা কোথাও!
প্রয়োজন হলে আমি চলে যাবো ততদূর, যতদূর গেলে পড়ে
আমাকে খুঁজেও পাবেনা পৃথিবীর বুকে কথার জন্ম দেয়া প্রসুতী সদন।
অরু আজ সন্ধ্যায় তাকিয়ে দেখো কি দারুন ফুলে ফুলে উঠেছে আকাশ।
তুমি থেমে যেওনা, এগুতে থাকো-
প্রয়োজনে খুন করে ফেলো আমাদের সতেরোশো রাত,
আমি তাতে আনন্দই পাবো বরং শুধু জেনো
তোমার কবিতাতেই আমার একমাত্র স্বস্তির শয়নকক্ষ।
কবিতা- গুমরে উঠিনা
আমি গুমরে কেঁদে উঠবোনা তোমার হৃদয়ে,
আমি আকড়ে ধরবো না আমার আমাকে তোমার আঙ্গুলে,
আমি নাক বাড়িয়ে চুল থেকে গন্ধ নিতে নিতে বলে উঠবোনা
"আয়ু বাড়াই আয়ু। "
আমি একলা একা রোদ দুস্থ মলিন হয়ে উড়ে যাই তোমার
থমকে থাকা স্পর্শের ছুঁয়ে দেয়া জীবন থেকে।
ঠিক যেভাবে বেওয়ারিশ জন্মে কেঁদে কেঁদে উঠেছিলাম মায়ের বুকে।
রাস্তা খুঁজছো....
খোঁজার ছলে ঢেকে দিচ্ছো
..... ক্যালেন্ডারের পোড়ামুখ আমার।
শেষ পর্যন্ত কী যে হয়
তা দেখার ইচ্ছে নেই আমার,
যেভাবে যা'ই কিছু হউক না কেন,
আমি তো জানিই
সে'ই তো একা হয়ে গ্যাছে সমস্ত প্রক্রিয়াটি,
দুইজোড়া চোখে বিষাদ নিয়ে সেই তো
দাঁড়িয়ে থাকে ল্যাম্পপোষ্টের বাইরে সন্ধ্যেটা।
যে সন্ধ্যেটা বিধবার রঙ সম্প্রচার করতে করতে ক্লান্ত।
যে সন্ধ্যের উদোম আকাশে উড়ে যায় খঞ্জর
হয়তো-বা ঘাতক নয়
হয়তো-বা আঘাত এড়াতেই ছদ্মবেশ ধারণে প্রয়োজন।
রাত একটা বাইশ ভারত সীমান্তবর্তী চৌকি একুশ
- ক্যায়া হ্যায়,
- স্যার ইশতারাফ এক লাশ হ্যায় আজনবী!
- ক্যায়া, কোই আইডেন্টিটিফিকেশন মার্ক জিসকে জারিয়ে হাম লাশ কো এক নাম দে সাকতি হুঁ
- ন্যাহি স্যার।
সকাল সাত - বাংলাদেশ চৌকি
- কিছু পাওয়া গেলো লাশটার,
- হ্যাঁ স্যার ছয়সাতদিনের বৃষ্টিতে বুকপকেটে একটা মোবাইল নাম্বার পাওয়া গ্যাছে
আর একটা কবিতা।
দুইদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাওয়া গেছে লাশ!
সংবাদ পৌছায় পত্রিকা অফিসে, গুরুত্বহীন এ-ই সংবাদ
ছোট্ট কলামে ছেপে দায়িত্ব পালন।
আর চিরকুটে পাওয়া কবিতায়
যদি তুমি পরিবর্তনশীল টগবগিয়ে সময়ে বেড়ি পড়িয়ে
রাখতে পারো ধরে তোমার নাম্বার মোবাইলের।
তবে, একদিন......
- হ্যালো, আমি বাংলাদেশ সীমান্ত চৌকি থেকে বলছিলাম,
- হ্যাঁ আপনারা পেয়েছেন একটা লাশ যার বুকপকেটে ছিলো নাম্বার, তাইতো!
- হ্যাঁ কিভাবে জানলেন? ( অবাক হওয়া চাপা নিঃশ্বাস ছাড়া স্বস্তির শব্দ)
- ওটা একজন কবি'র লাশ যদি পারেন নাম ঠিকানাহীন দাফন করে দিন লাশটা, পুড়িয়ে ফেলুন সব কিছু।
এটাই তার শেষ ইচ্ছা। শুধু জানাবেন আমাকে, লাশটা কি হাসছে? মানে মৃত শরীরের ঠোঁটে কি হাসি লেগে আছে?
- হ্যাঁ, কিন্তু আপনি কে?
- আমি কেউ না!
একদিন আমি আমাকে ছেড়ে দিয়ে একা,
চলে যাবো বাবুই,
যেখানে কোন ক্যাকটাস গাছ নেই,
যেখানে কাঁচা হাতে তৈরী শৈশবের ছবিফ্রেম নেই,
যেখানে নেই কোন অপহরণ করে সমুদ্র দেখাবার
স্মৃতিস্মারক -
একদিন আমি আমার হাত ছেড়ে দিয়ে ঠিকানাহীন চিঠি হবো
উড়ে যাবো অথচ তোমাকে নেবো না,
মৃত্যু ছোবেনা জলজ্যান্ত কবিতার শরীর।
অন্ধকার অডিটোরিয়াম সদৃশ হাতের রেখায় আঁকা আমার জীবনে
মৃত্যু প্রত্যক্ষ করতে পারবো এ আশাটা দুঃসাহসেরই নামান্তর হয়তো,
সবাই মৃত্যুর দিকেই ধাবিত হয় অথচ স্বচক্ষে দেখে যেতে পারেনা
টানটান ম্যাটিনি শো'র আদলে মৃত্যুদৃশ্য,
ঠিক যেভাবে দেখতে পারে জন্মান্তর কতো শত।
নিজ মৃত্যুদৃশ্যটি পর্দায় দেখতে পাবো বলে
আমি ঘুমাচ্ছিনা, জেগে থাকছি বছরের পর বছর।
দেখে যাচ্ছি রাতের অন্ধকারে প্রতিটি দৃশ্যমান জামগাছ,
দেখছি নৈশপ্রহরীর কাম,
কুকুরের দু'পায়ের ফাঁকে সুকৌশলে লুকিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধী,
দেখছি অন্ধকার মানেই জন্ম,
আলোর জাদুঘরে প্রত্নতাত্ত্বিক মিথ্যা,
দেখছি আর ভাবছি
নিজ মৃত্যুদৃশ্য দেখতে পাবো এ দাহ্য জীবনে সে দুরাশা হয়ত করছিনা।
অথচ সবাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অথচ মৃত্যু দেখতে পায়না।
অনেকদিন পর তোমাকে,
তোমাকে দেখলাম জড়িয়ে হলুদ আর কালো,
তোমাকে দেখলাম সাদা লাল আর সবুজের পাশে, আছো দাঁড়িয়ে।
দেখলাম তোমায় চোখে লেপ্টে থাকা মেঘের উঠোন,
কানে দোদুল্যমান আরামকেদারায়,
একটা প্রথম বিকেলের ফটোগ্রাফে হাসছো তুমি,
সূখি সুখি সময়েও বেড়ে গ্যাছে বয়স তোমার।
দেখলাম,
অনেকদিন পর দেখলাম তোমায়,
মুখবইয়ের হঠাৎ চলে আসা পাতায় - অন্যের পোর্টফলিওতে।
তোমাকে দেখলাম হঠাৎ।
কী ভীষণ কান্না আকাশের, মুছে।
কী ভীষণ শাপগ্রস্ত হাত আমার,
আমি সরিয়ে নিলাম যদি পুড়ে যাও
অন্যের পোর্টফলিওতে ' তো তুমি আছো দাঁড়িয়ে
বছরের শেষদিনে তোমার বিরতিহীন নতুন শাটলে,
আমার হেয় প্রতিপন্ন অবসাদের বুকে
যুক্তাক্ষর
নিয়ে একা হয়ে উড়ে যাওয়া মুক্ত গাঙচিল।
তোমাকে - হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকে দেখলাম আমি
আজ অনেকদিন পর।
নীরবতা ছিন্ন হতে হতে
গাঢ় সন্ধ্যা নেমে আসে আঁচল খসে পড়া বুকের ভাঁজে ভাঁজে।
তোমাকে বলা হয়নি,
বলা হয়ে উঠেনি একদিন সমস্ত সত্যগুলো মিথ্যে হয়ে যায়,
একদিন সমস্ত পথ এসে দাঁড়িয়ে যায়,
ঠিক যেখান থেকে ভাবি আমি পঁচিশ পয়সার জীবন
উড়িয়ে দিয়ে অজ্ঞাতবাসে যাবো সুনিশ্চিত মৃত্যুতে।
তোমাকে বলা হয়না
তার আগেই গাছেদের প্রাণ আবিস্কার সাড়া ফেলে পৃথিবীতে,
তোমাকে বলতে পারিনি
তার আগেই দেখি তুমি যাচ্ছো, হেসে হেসে যাচ্ছো, রাস্তায় রিক্সায় ;
পেরিয়ে যাচ্ছো বুকের ভিটা, উজান শিথানে রাখা কবিতা।
তুমি যাচ্ছো দূর্বিনীত ক্রোধে গর্জনরত কঙ্ক্রীট-মিক্সারের
মুখ থুবড়ে পড়া রাস্তা থেকে কুড়িয়ে অট্টালিকার হাসিতে জর্জরিত হৃদয়।
তুমি যাচ্ছো স্থিমিত সূর্যাস্তে ক্লান্ত চোখে বিষন্ন রোদ
তুমি যাচ্ছো সবুজ রঙের একটি নতুন ক্যাকটাস,
তুমি যাচ্ছো অবহেলায় হাত পেছনে ফেলে
তুমি যাচ্ছো তো যাচ্ছো, থামছো থামতে চাইছো না
নিজেকে ভেবে নিচ্ছো প্লেটো এরিষ্টটলের বুর্বাক।
তুমি হাসছো সোফিয়া লরেন,
তুমি তাকালেই এলিযাবেথ টেলর, কনফ্লিক্ট।
তুমি অস্থির তোলপাড় অথচ কি শান্ত জলে ভেসে আসে তোমার কন্ঠ।
তুমি পালাবেনা পালাবেনা করে পালিয়ে যাচ্ছো,
ছেড়ে যাচ্ছো তোমার অজস্র রাত।
তুমি বেঁচে থাকার তীব্র উন্মাদনায় মথুরা আগুন,
তুমি বেঁচে থাকছো নিরাভরণ নিরাপদ অন্তত,
তুমি দেখছো অথচ বুঝতে চাইছোনা
তুমি বুঝে নিয়ে পৃথিবীর সকল হাত ঘড়িতে সকাল আটটা বাইশ
ছুড়ে ফেলে দিচ্ছো ছেলেবেলার ছবিফ্রেম।
তোমাকে বলতে গিয়েও অগনিত বার এইসব কথাগুলো
আমি ফিরে ফিরে ধরেছি শাটল ট্রেন,
তোমাকে বলতে গিয়েও শামসুন্নাহার হল
আমি ফিরে ফিরে এসেছি ওয়েটিং রুম
তোমাকে বলতে গিয়েও চারুলতা স্কুল
আমি হেটে হেটে এসেছি রেললাইন তোমার বাড়ির নীচ,
তোমার শহর, তোমার সন্ধ্যার উপকূল সংলগ্ন স্নানঘরও।
তোমাকে বলতে গিয়েও ছুড়ে ফেলে দিয়ে আসি
শহরময় ছড়িয়ে আমাদের হাসি-হাসিমুখ বিকেল চারটা সাতাশ।
তোমাকে বলা হয় না, বলে দিতে পারিনা
রোধ করে দাড়াতে পারিনা,
নিরোধক শহর স্ফীত বিন্দুর ছোঁয়ায় ফাটছে ভীষণ।
তোমাকে বলা হয়না বিষন্নতার প্রবল রঙে যে নদীটা একেছিলাম একদিন
তোমার নাভীদেশ ছুয়ে
সেখানে সান্ধ্য আইন ভেঙে বেরিয়ে পড়েছে মিছিল ঘামেদের,
সকল সলজ্জ সাজসজ্জা ছুড়ে দিয়ে অসীম নন্দনে
আত্মহত্যা যেহেতু পাপ তাই হত্যা করতে চাই অন্তত
আমি বেড়িয়ে যাই ইশকুল, আয়নায় মুখোমুখি গিমিকের উর্ধ্বে
আমি ছায়া মাড়িয়ে চোখের কোলের শিশু থেকে বের করে আনি
ঘাতক,
তোমাকে বলা হয়নি বলতে পারিনি বলা যায়নি,
আমি হত্যা করে ফেলি যাকে একদিন তুমি সকাল নয়টা সাতাশ
অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিলে সমুদ্রে,
যেখানে এখনও, এখনও কান পেতে জোনাকি
শুনে নেয় ঘর বাড়ি ফেরেনি, ফেরেনি রাত বুকের অনন্ত পোতাশ্রয়ে
শুধু জেগে থাকে অপেক্ষার শরণার্থী শিবির ; একদিন বাড়ি যাবে বলে৷
কবিতা শাদা কাগজের পাখি
শাদা কাগজের একটা পাখি, অন্ধকারে অন্ধরাত্তিরে ডাধা ঝাপটায়।
আর আমি কয়েকদিন যাবৎ লিখতে পারছিনা শুভা।
এই লিখতে পারা ও না পারায় তীব্র কোনও শব্দ হবেনা,
গড়িয়ে পড়বেনা অশ্রু, একটা চিঠির পাতায় কোনও বৃষ্টির শব্দও হবেনা নিশ্চিত।
এই না লিখতে পারায় তুমি হয়ত বলবে – আপদ গ্যাছে তবে!...
তোমাকে লিখবে না কবিতায় অথবা চিঠিতে কোনও অথর্ব বিকেলবেলা
কেউ হয়ত স্মৃতির ঝোলাব্যাগ থেকে বের করে আনবে বিগত উজ্জ্বল সন্ধ্যেবেলা।
যেখানে উড়তে থাকা প্রজাপতির ডানায় চারপাশ অন্ধকার; রাত্রি রাত্রি ভাব ।
ছায়াশুন্য মুখগুলো ভাসতে ভাসতে.......
থাক ওসব।
ভয়- দুর্ঘটনাময় সেইসব কবিতার প্রতি চরণে চরণে অন্ধকার থেকে অন্ধকারে ডুবে গিয়ে নিশ্বাসবন্ধ হাসফাসে
ছুটে যাবো ঘরের ভেতরে ছিটমহলে অন্তর্গত রান্নাঘরে, যেখানে সারাদিনরাতের গত ত্রিশ বছরে আমাকে করা
মানুষের অপঘাত- আঘাতে জর্জরিত আমার চোখ- ঠোট প্রথমবার এই ত্রিশে দাঁড়ানো আমার ব্যাথায়- বেদনায়- হেমলকে
অথবা নিকোটিনে কালো হয়ে যাওয়া ঠোট তুমি তুলে নিলে প্রবল মমতায়, গভীর ভালোবাসায়।
তোমার শাড়ীর আঁচলে লুকাতে লুকাতে গোপনে আমরা পরস্পরের মুখ দেখে নেব
চোখের কোনে জলের দাগ থাকলে, ঠোঁটে মুছে নিয়ে তোমাকেই লিখে দিতে ভালোবাসি।
রোদের জিভ লকলকে অবয়বে সমস্ত প্রাচীর ভেঙে আমার শরীরে উঠে দাঁড়ায়।আমার কোন তাড়া নেই, অগাধ স্বাধীনতা, অবাধ স্বেচ্ছাচারিতা।কোনও ডাকাডাকি নেই।সন্ধ্যে নামে ধীরে, আমি তখনও শুয়ে বিছানায়।আসলে বিছানা থেকে নামতে পারছিনা আমি, বিছানার পুরোটাতে তোমার গন্ধ মিশে আছে, তোমার আমার সাতারের দাগ লেগে আছে।মাথার উপরে ঘরটার একমাত্র জানলা, চড়ুইপাখিটার ঘুলঘুলি।যেখানে তাকিয়ে থেকে কেটে গ্যাছে আমার ভীষণ শৈশব, যেখান থেকেই শেখা সকল জিওমেট্রি।
জানো মেয়ে আমি বেঁচে আছি।কি ভীষণভাবে সিগারেটের ধোয়ায় সরাচ্ছি এমিফিটামিন, ওপিয়াম তুমি বুঝবেনা।কি দ্যোতক চাহনীতে আমি শব্দহীন শব্দঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে গ্লাসকে গ্লাস ঢকঢক ভদকায় ফেরারী মদের কন্টেইনারে আমি বেচে আছি তুমি জানবেনা।আমার শরীরে এমন একটি শিরাও অবশিষ্ট নেই যেখানে বাদর ডারউইনের বাদর বাঁ দিকে ঝুকে শুষে নেয়নি ইস্পাত নিব তুমি বুঝবেনা, দ্যাখো আমি বেচে আছি।সকল জীবনীশক্তি কবিবন্ধুদের বিলিয়ে দিয়ে গত শুক্রবারের বিরতিহীন ডকইয়ার্ডে- ফ্ল্যাশ ব্যাকে কবিবন্ধুর বিয়ে সংসার সব আয়োজনে নিদারুণ দুর্ভিক্ষে চাষাবাদী অবিশ্বাসী বাক্যে আমি অপাংক্তেয়। অবশ্য যাবার আগে প্রাগৈতিহাসিক বাক্যে সে বলেছিলো - রণ বলেছে আপনার সাথে তার প্রেম, তাই আপনি যাচ্ছেন না আমার বিয়েতে, আপনি আমার দুদন্ডের প্রেমিকার সাথে কাটান লংডিস্টেন্স রিলেশন জ্বর।
আমি হাসতে হাসতে চেপে ধরে আমার কণ্ঠনালী চিৎকার করেছি বোবার মতন, তবু কিছু বলিনি তখন।একদিন কবিবন্ধু জানালো আমি তার প্রকাশকের সাথে ঝামেলা করছি, তার উন্নয়নে বাধা দিচ্ছি।আমি আবার চুপচাপ বলিনি আপনার প্রকাশকের সাথে কথা হয়না আমার সেই মার্চ ২০১৬ থেকেই।একবার সেই কবিবন্ধু বলে উঠলেন তার সাড়ে নয়শ কবিতা লিখতে না পারার কারন আমি, আমি কুকড়ে গ্যাছি ভয়ানক তাপে মুষড়ে গ্যাছি।তবু বলিনি কিছুই।একদিন মাঝেমাঝে এমন একদিন আসে যেদিন আশ্রয় চায় মানুষ।আমিও বলেছিলাম আজ রাতটা আপনার বাসায় থাকা যাবে কি? উনি রুঢ়তায় কুকুর আমাকে সকল লোকালয়, কানাডার উজ্জ্বল আলোয় বলে দিলেন "স্থান সংকুলান হবেনা।"আমি দাতে চেপে ঠোঁট বলেছি "আচ্ছা।"এরপর প্রতিমাসেই একটার পর একটা ভুল বের করতে করতে আমার কবিবন্ধু ক্লান্ত হয়ে আমাকে সামাজিকতায় যখন ছাড়তে চেয়েও পারছিলেন না, যখন তিনি একের পর এক কারণদর্শাতে থাকেন কবিতা না লেখার তখন আমি, আমি একটা আত্মীয়হীন কুকুর তার স্বপ্ন বুকে নিয়ে তাকে ছেড়ে আসি।আমার মনে হচ্ছিলো ছেড়ে আসলেই আমি উনি হবেন আগের সেই মানুষের কবি, আমি ছেড়ে আসলেই ফাড়া কাটবে তার, আমি ছেড়ে আসলেই বন্ধ হবে হাহাকার, খুলবে আমার প্রতিবাদে বন্ধ হওয়া যোণী অথবা দরোজা।আমি ঠিক আমাকে, আমার একমাত্র বেচে থাকা অথবা মরে যাবার অবলম্বন কে সন্ধ্যা রায়ের মতন আলো মিত্রের মতন বীরেন ঘোষালের মতন রুদ্রের মতন ভাস্কর হয়ে সোয়েব মাহমুদকে ছেড়ে আসি রামপুরা বাজারে।এত এত অবহেলায় করুণার হাত পাতা আমার ভীষণ জন্মযন্ত্রণাকে ওয়াপদা রোডের হলদে বাড়িতে একবার উকি দিতে গিয়ে দ্যাখি ওরা সব ডেভিড কপারফিল্ডের জাদু শিখে - নাও ইউ ক্যানট সি মি পান্ডুলিপিতে অদৃশ্য করে রেখেছেন।।
দ্যাখো আমি বেচে আছি, জঙ্গি ব্ল্যাক আউটে কিছু মনে না নিয়ে যারা বেচে থাকে,- আমিও তাদের দলে বেচে আছি।
যারা বেচে গ্যাছে, তারা জানেনা তারা বেচে নেই তারা বেচে ছিলোনা তবুও বেগুনী সৌখিন বোতলে ধরে রাখি মৃত্যু তাদের জন্য নির্ধারিত মৃত্যুবোধ আমার নষ্টালজিক বুকে চেপে।বিষাক্ত বিশ্বাসের রক্তে মুক্তিহীন সৈনিকের আয়নায় বরফের যে জানলা খুলে যায় ঘর্মাক্ত গোপন দুপুরে, গোপন দুপুরে আততায়ী শরীর নাভী স্তনের বেয়নেট খুলে যদি কেউ বেচে থাকে - তবে আমি বেচে যাই।
অপসৃত শহরের ঘুমে বৃষ্টির আওয়াজে সমুদ্রের পাড় ভাঙে, এত শীতলতায় তবু শীতল হয়না চোখ, সরে যায় দু ইঞ্চি ; প্রবিষ্ট দন্ড - জ্বলামুখ থেকে, পিছলে যায়, শিউরে ওঠে ক্রোমোজম, জমি গ্যাছে জন্মে।ঈশ্বর, শয়তানের মুখ থেকে লালা থেকে দ্রুত ছুটে আসা ডাকপিয়নহীন ডাকে আদিম অশ্লীল উল্লাস আর আমার গলায় ছুরী, ভাগ্যের নীল শিরায় লিকলিক করছে লতানো সাপের মূর্ছা যাওয়া জিভ, ফায়ার এলার্ম, সেক্সপিলের সেক্স এলার্মের চেয়েও পরিকল্পিত সুস্থ খুনের জলছাপ নিয়ে যারা বেচে আছে - দ্যাখো আমি বেচে ছিলাম আমি বেচে থাকি, আমি বেচে আছি।
ঠোঁটে চেপে ধরা সিগারেট মাথা কৌণিক ভাবে হেলিয়ে লাইটারের আগুন সূর্যাস্তের রঙ ধরতেই কেবল জ্বলে ওঠে, দুর থেকে বোঝা গেলো সিগারেট ধরানোও একটা শিল্প।এভাবে শুরুটা হলে বেশ ভালো হতো।ঠিক এভাবে শুরুটা হলে প্যারিসের অভিজাত পাড়ার কোলঘেষে দাঁড়ানো পানশালার গল্পটা একটু টানটান হয়।
যাক টানটান গল্পটা বলার জন্য আমি এখানে আসিনি।এসেছি চল্লিশবছর আগেকার স্মৃতিরোমন্থনে।বিশ-বাইশের এক তরুনী হঠাৎ কবির পাশে বসে একটা প্যাকেটের ভেতর থেকে একখানা ষ্টিকি নোট বের করে দেয়।মৃদু হেসে সামনে থাকা মানুষটি বুকপকেট থেকে ছোট্ট ডায়েরী বের করে এপ্রিলের ত্রিশে সাঁটিয়ে দেন।
পড়লেন না!শুনেই হাসির দমকে কেঁপে ওঠে পলেস্তরা খসে খসে পড়বার উপক্রম রেস্তোরার।
কবি বলতে থাকে আগেকার আটান্নটার মতই এখানে লেখা-
আমি তোমার যোগ্য নই, তুমি আমার চেয়ে যোগ্যতর কাউকে খুঁজে পাবেই।যে বুঝবে তোমায় ভালোবাসবে তোমায়।
ক্ষমা করো।চললাম।
আমি আপনাকে ভালোবাসতে চাই- মেয়েটি বলার আগেই ক্ষ্যাপাটে প্রেমিক মুল সড়কে উঠে চীৎকার করে
ভালোবাসা পেতে, ভালোবাসা ছাড়া কতটুকু আর কতটুকু যোগ্যতা দরকার, প্লিজ আমাকে জানাও কেউ! আমি
যোগ্যতর প্রেমিক হবো আমার যোগ্যতর প্রেমিকা চাই।
একটা লরি , একটা লরি উঠে পিষে ফেলে কালো পিচের রাস্তায়।এভাবে মারা না গেলে হয়ত ডায়েরীর পাতায় বাড়তে থাকতো ষ্টিকি নোট।আজ চল্লিশ বছর হলো , প্যারিসের রাস্তায় কান পাতলেই শোনা যায়, নোনা ধরা বুকের পৃষ্ঠা থেকে শব্দগুলো উচ্চারন হয়, কম্পনে ধীর থেকে ধীরতর হয় তবুও স্পষ্টত বোঝা যায় –
যোগ্যতা প্রেমিকের ঠিক কতটুকু যোগ্যতা থাকতে হয়
প্রেমিকার হাত ধরে বসে থাকার জন্য।ঠিক কতটুকু, ঠিক কতটুকু যোগ্যতা চাই......
শাদা কাগজের একটা পাখি, অন্ধকারে অন্ধরাত্তিরে ডাধা ঝাপটায়।
আর আমি কয়েকদিন যাবৎ লিখতে পারছিনা ।
এই লিখতে পারা ও না পারায় তীব্র কোনও শব্দ হবেনা,
গড়িয়ে পড়বেনা অশ্রু, একটা চিঠির পাতায় কোনও বৃষ্টির শব্দও হবেনা নিশ্চিত।
এই না লিখতে পারায় তুমি হয়ত বলবে –আপদ গ্যাছে তবে!...
তোমাকে লিখবে না কবিতায় অথবা চিঠিতে কোনও অথর্ব বিকেলবেলা
কেউ হয়ত স্মৃতির ঝোলাব্যাগ থেকে বের করে আনবে বিগত উজ্জ্বল সন্ধ্যেবেলা।
যেখানে উড়তে থাকা প্রজাপতির ডানায় চারপাশ অন্ধকার; রাত্রি রাত্রি ভাব ।
ছায়াশুন্য মুখগুলো ভাসতে ভাসতে....... থাক ওসব।
আসলে কতটুকু ঠিক কতটুকু যোগ্যতা চাই প্রেমিকের কতটুকু!
ভুলে যাও কেনো সবাই এখনও ফেরেনি?
ভুলে যাও কেনো তোমার ইবনে বতুতা হৃদয়?
ভুলে যাও কেনো খাঁচার ভেতর পোষা পাখি?
ভুলে যাও কেনো
পাঁচিলে সেঁটে দেওয়া বিজ্ঞাপনের মত
রোদ-জল-বৃষ্টির ভালবাসায় ছিঁড়ে পড়ছে আপাতকালীন ক্রুসেড।
কবিতা-টিপ
নারী শরীরের নিগুঢ় রহস্য টানেনি আমায় কখনও, যতটা টেনেছে চোখ অথবা কপালে লাল/কালো বিচ্ছিন্নতাবাদী দ্বীপ।
যদি আমি পারতাম তবে আকাশে রেখে মেঘ, বৃষ্টি ঝরাতাম বারোমাস। বৃষ্টি থেকে টিপ রক্ষার নিমিত্তে রেখে দিতাম আমার ঠোঁট কপালে তোমার।
অজ্ঞাতনামা নীরবতা
নীরবতা ছিন্ন হতে হতে
গাঢ় সন্ধ্যা নেমে আসে আঁচল খসে পড়া বুকের ভাঁজে ভাঁজে।
তোমাকে বলা হয়নি,
বলা হয়ে উঠেনি একদিন সমস্ত সত্যগুলো মিথ্যে হয়ে যায়,
একদিন সমস্ত পথ এসে দাঁড়িয়ে যায়,
ঠিক যেখান থেকে ভাবি আমি পঁচিশ পয়সার জীবন উড়িয়ে দিয়ে
অজ্ঞাতবাসে নিয়ে যাবো সুনিশ্চিত মৃত্যু।
তোমাকে বলা হয়না
তার আগেই গাছেদের প্রাণ আবিস্কার সাড়া ফেলে পৃথিবীতে,
তোমাকে বলতে পারিনি তার আগেই দেখি তুমি যাচ্ছো,
হেসে হেসে যাচ্ছো, রাস্তায় রিক্সায় ; পেরিয়ে যাচ্ছো
বুকের ভিটা, উজান শিথানে রাখা কবিতা।
তুমি যাচ্ছো দূর্বিনীত ক্রোধে গর্জনরত
কঙ্ক্রীট-মিক্সারের মুখ থুবড়ে পড়া রাস্তা থেকে কুড়িয়ে
অট্টালিকার হাসিতে জর্জরিত হৃদয়।
তুমি যাচ্ছো স্থিমিত সূর্যাস্তে ক্লান্ত চোখে বিষন্ন রোদ
তুমি যাচ্ছো সবুজ রঙের একটি নতুন ক্যাকটাস,
তুমি যাচ্ছো অবহেলায় হাত পেছনে ফেলে
তুমি যাচ্ছো তো যাচ্ছো, থামছো থামতে চাইছো না
নিজেকে ভেবে নিচ্ছো প্লেটো এরিষ্টটলের বুর্বাক।
তুমি হাসছো সোফিয়া লরেন, তুমি তাকালেই এলিযাবেথ টেলর, কনফ্লিক্ট।
তুমি অস্থির তোলপাড় অথচ কি শান্ত জলে ভেসে আসে তোমার কন্ঠ।
তুমি পালাবেনা পালাবেনা করে পালিয়ে যাচ্ছো,
ছেড়ে যাচ্ছো তোমার অজস্র রাত।
তুমি বেঁচে থাকার তীব্র উন্মাদনায় মথুরা আগুন,
তুমি বেঁচে থাকছো নিরাভরণ নিরাপদ অন্তত,
তুমি দেখছো অথচ বুঝতে চাইছোনা
তুমি বুঝে নিয়ে পৃথিবীর সকল হাত ঘড়িতে
সকাল আটটা বাইশ ছুড়ে ফেলে দিচ্ছো ছেলেবেলার ছবিফ্রেম।
তোমাকে বলতে গিয়েও অগনিত বার এইসব কথাগুলো
আমি ফিরে ফিরে ধরেছি শাটল ট্রেন,
তোমাকে বলতে গিয়েও শামসুন্নাহার হল
আমি ফিরে ফিরে এসেছি ওয়েটিং রুম।
তোমাকে বলতে গিয়েও চারুলতা স্কুল
আমি হেটে হেটে এসেছি রেললাইন তোমার বাড়ির নীচ,
তোমার শহর,
তোমার সন্ধ্যার উপকূল সংলগ্ন স্নানঘরও।
তোমাকে বলতে গিয়েও ছুড়ে ফেলে দিয়ে আসি
শহরময় ছড়িয়ে আমাদের হাসি-হাসিমুখ বিকেল চারটা সাতাশ।
তোমাকে বলা হয় না, বলে দিতে পারিনা
রোধ করে দাড়াতে পারিনা,
নিরোধক শহর স্ফীত বিন্দুর ছোঁয়ায় ফাটছে ভীষণ।
তোমাকে বলা হয়না
বিষন্নতার প্রবল রঙে যে নদীটা একেছিলাম একদিন
তোমার নাভীদেশ ছুয়ে
সেখানে সান্ধ্য আইন ভেঙে বেরিয়ে পড়েছে মিছিল ঘামেদের,
সকল সলজ্জ সাজসজ্জা ছুড়ে দিয়ে অসীম নন্দনে
আত্মহত্যা যেহেতু পাপ তাই হত্যা করতে চাই অন্তত।
আমি বেড়িয়ে যাই ইশকুল,
আয়নায় মুখোমুখি গিমিকের উর্ধ্বে,
আমি ছায়া মাড়িয়ে চোখের
কোলে শুয়ে থাকা শিশু থেকে বের করে আনি ঘাতক, আজন্ম চে'র ঘাতক।
তোমাকে বলা হয়নি
বলতে পারিনি
বলা যায়নি,
আমি হত্যা করে ফেলি তাকে,
যাকে একদিন তুমি সকাল নয়টা সাতাশ,
অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিলে সমুদ্রে,
যেখানে এখনও,
এখনও কান পেতে জোনাকি,
শুনে নেয় ঘর ; বাড়ি ফেরেনি।
ফেরেনি রাত ;বুকের অনন্ত পোতাশ্রয়ে।
শুধু জেগে থাকে অপেক্ষার শরণার্থী শিবির ; একদিন বাড়ি যাবে বলে৷
তেমন কিছুই নেই
তেমন কোনও বিষয় বাকি নেই, যা নিয়ে শুরু করতে পারি আবার।
বিশ্বাস করো- বলে নিজেকেই বিশ্বাস করাচ্ছিলাম বোধহয়।
ইচ্ছে করেনা, ইচ্ছে করেনা বলে চুপচাপ বসে থাকি,
ইচ্ছে করেনা বলে সিগারেট শেষ হলেও বের হওয়া হয়না।
ইচ্ছে করেনা বলেই আজকাল সংবাদপত্র অথবা কবিতা সাময়িকী উল্টানো হয়না।
ইচ্ছে করেনা বলে নিজের ভেতর ওথকে কাঠচেরাইয়ের মতন গুড়ো গুড়ো করি,
ইচ্ছে করেনা বলে নিজের ভেতর নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করে উড়িয়ে দেই,
ইচ্ছে করেনা বলে কবিতা লেখার মতন সহজ কাজটাও করা হয় না,
ইচ্ছে করেনা বলে “বৃষ্টিচ্ লিখে খাতায় জানলা দিয়ে হাত বাড়াই না আর।
তাই তেমন কিছুই বাকি নেই বলে শুরুটা করতে পারছিনা।
জীবনের চেয়ে বানোয়াট, মৃত্যুর চেয়ে ছেনাল আর কিছু
দেখবার বাকি নেই বলে ইচ্ছে করেনা খোলা মাছি ওড়া যোণীপথ এড়িয়ে যাই।
স্তব্ধতার সময়ে রান্নাঘর থেকে রানুখালার অন্তর্বাস মুখে নিয়ে দৌড় দিয়েছে বিড়ালছানা,
রাত বিরাতে নাইটগার্ড চীৎকার করে – ঘুমান।
ভাবি, দ্যাখা হলে এসব নিয়ে আলোচনা করবো,
কিন্তু কিভাবে দেখা হবে তা জানা নাই।
তাই এইসব কথা দেরাজবন্দী করে দেখি,
তুমি আসার আগে আমার একটা জীবন ছিলো,
তুমি আসার পর আমার একটা জীবন ছিলো,
তুমি চলে যাবার পর আমির একটা জীবন হলো,
এইযে তিন তিনটে জীবন এরমাঝেকার দৃশ্যমান ব্রীজ ভেঙ্গে গ্যাছে
তাই নতুন এমন কোন বিষয় নেই যা নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি,
নতুন এমন কিছুই নেই যা নিয়ে শুরুটা হতে পারে।
শুন্যতার ব্যবচ্ছেদে তোমার সাথে আমার আর কোনও কথা থাকতে পারেনা, কথা থাকতে নেই।
।বুকের ভেতর স্তব্ধতায় করতলজুড়ে বৃষ্টি,
কপালে নেমে আসা পাখিঘর আর হামাগুড়ি দেয়া খামারবাড়ি
হৃদপিন্ড থেকে শিরা উপশিরায় পাখির মতন হরমোনজুড়ে
গান গায়, অথচ কি আশ্চর্য দেখো!
স্পষ্টত ঠোঁট কোনও ভাষা,
জিহবা কোনও শব্দ,
নাক কোনও তরঙ্গ উচ্চারণ করেনা।
কেবল চোখ- দুজোড়া চোখ একে অন্যের দিকে
পারস্পরিক দূরত্ব বাড়াতে বাড়াতে, অপলক দৃষ্টিতে
মোটর জাহাজ,
মোটর জাহাজের আধখোলা জানলা দিয়ে একটা বিদায়ী সম্ভাষণ,
কড়া নেড়ে দূর থেকে দূরে যায় অনুচ্চারে,
দূরে যেতে যেতে সদ্যবিদায়ে সব ঝাপসা,
সব ধোঁয়াটে।। ইস্পাত দৃঢ় অস্পষ্টতা।
নভেম্বরের রাত সাড়ে এগারোয়
কুয়াশা-মেঘ-অবদমিত কষ্ট
নিপীড়িত দ্বীর্ঘশ্বাস,
থেমে থেমে আধঘুমে চলাচলে স্পন্দনগুলো
বৃষ্টি হয়ে নামে বুক থেকে শহরের সু-প্রাচীন কালো রাস্তায়।
অথচ জানো জুই,
দোয়েল-শাপলার মূদ্রাস্ফিতি,
ষাটগম্বুজ মসজিদের হাতবদলি বাহকে,
ঘুচিয়ে পাশাপাশি শুয়ে থাকা অমার্জিত অভাব।
দু-দন্ড স্বস্তিতে হুডখোলা রিকশায়, চায়ের কাপের পিঠ বেয়ে নামা
সোনালী জলে, প্রজাপতির ডানায় ভর করে
পরমাত্মীয় সকল দুঃখবোধের কার্ফ্যু ভেঙে
দু-জোড়া ভালোবাসা-বাসি পায়ে হেটে চলা হাসিতে
তুমি- আমি শব্দযুগলে, আমাদের হবার কথা।
দশ-দশটা আঙুলের সংসারে,
দিনগুলো খুনসুটি
রাতগুলোতে কপট রাগের সন্তাপে ভেঙে পড়া মিছরির
টুকরো টুকরো মূহুর্তে তোমার সুখী গৃহিণী জোছনায়,
আনন্দঘন আমাদের একটা চার দেয়ালে,
একটা আকাশ,
একটা বাড়ি,
একটা ঘর, একটা বিষাদে- অসুখের সুখে
একটা ঘর হবার কথা।
প্যান্টের পকেট থেকে,
শাড়ির আচল থেকে,
শীতকাল আসন্ন অনিবার্য জেনেও
তোমার কপালে একটা অনন্ত বসন্ত সেটে দেবার কথা।
অথচ, দৃশ্যের অন্দরমহলে সম্প্রচারিত দৃশ্যে তুমি যাচ্ছো বহুদূর।
আসলে
বিদায় শব্দটা আমি বুঝে উঠতে পারিনা
মাতামুহুরির করালগ্রাসে ডুবোচর আমি,
পৃথিবীর ইতিহাস থেকে বিদায় শব্দটা লিখেও
কেটে দিয়েছি।
কেটে দিয়ে বুকের উঠানে হৃদপিন্ডের শিথানে
আশাবাদী রোদের চাষে,
লিখে দিয়েছি মুক্তির কবিতা,
লিখে দিয়েছি
" বিজয় শ্লোগাণ
লেখা হবে, লেখা হবে জন্ম উপাখ্যান " ভালোবাসি।
কেবল এবং কেবলমাত্র তুমি আসবার পর।।"
আমাকে প্রত্যাখ্যান করে আর যাবে কতদূর,
বলো- বলো দেখি?
আমাকে উপেক্ষায় আততায়ী তোমার ঠোঁট আর কতকাল?
কতকাল তুমি ঘরে বসে থেকে থেকে বাড়াবে বয়স চোখের।-
আমি যাচ্ছি- জানি তুমিও যাচ্ছো সমুদ্রে অন্যপথে
বিষণ্ণতায়- অথচ আমাকে বলছো তুমি ঘরে বসে থাকবে
আমাকে বলছো আকাশে যাবে?
চাপা দিয়ে পাথর তুমি অবসাদের ব্যবচ্ছেদে হেসে ফেলছো কড়ে আঙুলে।
আচ্ছা তুমি কি জানো-
এমন পাথর চাপায় জন্মায়নি পাথরকুচিও।
অনেক কিছু হয়ত বলতে চাই আমি কিন্তু শহুরে কোলাহল গ্রাস করে শব্দ,
অসারতা নামে সলজ্জিত আলোয় বাক্যে জিহবায়।
হয়ত ব্যর্থতা নিয়ে বুকে-
একদিন আমি সটান শুয়ে পড়বো তোমার বৃষ্টি বিধৌত তলপেটে-
হয়ত একদিন তোমার চিবুকের মহাসড়কে নামাবো অঝোর বৃষ্টি।
হয়ত একদিন তোমার চোখে রেখে ঠোঁট শুষে নেবো বেদনার আহত বোধ।
হয়ত কোনকিছুই পারবোনা - হয়ে কাচের কাক তাকিয়ে থাকবো
বুকের উদ্যানে তোমার একটু আশ্রয়ের তাগিদে-
আমি পেতে দেবো আমার কাঁধ - বলে হয়ত দেবো ঘুমাতে পারো- নিরাপদ আমার কাঁধে রেখে তোমার মুখ
তুমি জ্বালাতে পারো নিরাপরাধ দেয়াশলাইতে একটি মোমবাতি।
অথবা- খুলে ফেলে সকল জড়তার আড়ষ্ট আড়ত -
তুমি হেটে যেতে পারো- তুমি আঙুল বোলাতে পারো
তুমি বলে দিতে পারো -
প্রেমিক আমার-
উন্মোচন করে দাও তোমার বুকের আমাজন।
আমি জ্বরের বুকে উড়াবো ঘুড়ি।
নদীগড়া আনন্দে তুমি কেঁদে দিতে পারো
তুমি হেসে উঠতে পারো ভোরের খিলখিল শব্দে।
তুমি দু-বেনী ঝুলিয়ে ঢুকে পড়তে পারো
হৃদয়ে আমার - তোমার একমাত্র ইশকুল।
আমি বাধা দেবোনা- আমি হুহুবাহু'তে ছেড়ে দিয়ে ওজোনস্তর
লিখে দেবো - আঙুলের বায়োডাটা জেনে যদি যাও ক্ষতি নেই
দুপুর থেকে
সন্ধ্যে থেকে
বিকেল থেকে
রাত থেকে
এমনকি নাভীতলদেশে উন্নতশিরের ভোর থেকে
অপহরণ করে নিয়ে যাবো একদিন।
একদিন মুছে দেবো মাকড়শারজাল - তীব্র পোষ্টার
আর কাঁধে নিয়ে তোমার পা বন্ধ করে দেবো
নখ ভর্তি নেইলপলিশে মিথ্যে মিথ্যার মুখভর্তি হা।
মুছে দেবো চিরতরে যোণীর অকাল বিরক্তভাব।
যে হোটেলে তুমি ভাত খেলে,
ভাত খেতে আসা সবাইকে কি তুমি চেনো?
আমি শাহবাগ যেতে চাই না, মুখ ঠিকঠাক রাখতে চাই। অথচ শাহবাগ গেলে আমি আমাকে থামাতে পারিনা শুয়োরের বাচ্চা শব্দটা উচ্চারিত হয়ে যায়।
অসহনীয় শনিবার
বহুদিন হয়ে গ্যালো নিশ্চয়তার সামাজিক নোখে অভ্যস্ত যাপিত জীবন থেকে কাউকে কলার চেপে ধরে নামিয়ে রাস্তায়, কবিতা বলছেনা " চোপ শালা বানচোদ, লেখ, একটা কবিতা লেখ।"
দুঃখিত শব্দটা বলে দেয়া উচিৎ ছিলো ; পারিনি। তাই দুঃখিত শব্দটি যোণীর অন্ধকার খুটছে!
শুনেছি স্বপ্নেই গর্ভবতী তুমি,
বিদ্যুৎচমকের মতন তাকালো বারান্দায় তোমার ফুপি -
আলো আর অন্ধকারে খুলে কার নাইটি - বলছিলাম
স্বপ্নে তোমাকে গর্ভবতী করবার দায় আমি কেনো নেবো?
তোমার স্বপ্নে তো আর আমি ছিলাম না।
যদিও আমি কিছুটা বিভ্রান্ত আছি, যদিও এখন রাত একটা সাতাশ ,
তবুও শার্টের বুক পকেট থেকে একটা সমুদ্র বেরিয়ে আসে,
একাকীত্ব একটা বেগানা আওরাতের লম্বা শুয়ে থাকে।।
ভালোবাসা যাদুঘরে সম্পর্ক এক রোদ বিষয়ক স্মৃতির সেমিনার!
পকেটহীন পাজামায়, মুঠোয় আটকানো বাবু নিয়ে টানাটানি খেলা!
এতদিন খেলেছি বৃথাই, রিকশা।
বুকের ভেতর অনাবিষ্কৃত নীলনদে পরম অনাত্মীয় এক আত্মীয়ের বসবাস ।
মাদক বিরোধী আন্দোলনের নামে চলছে সাংসদীয় মাদক ব্যবসা।
মধ্যরাতের রেডিও প্রচার করছে অনুরোধের হস্তমৈথুন বার্তা।
সামরিক,বেসামরিক সব জিপে পাচার হচ্ছে জলপাই!
ধর্ম বর্ম হচ্ছে.....
প্রতিক্রিয়ায়, রতি-খেলার ঘরটায় লাল মদের আসরে শরীরে
বিক্রি হয় এনজিও ফোরাম!
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব যোণীতে ক্যামোফ্লেজ সঙ্গমে বাড়ছে ঋণ ,
বাড়ছে প্রজনন শুয়োরের।
"শেষ হওয়া দরকার খোলা জানলার মতন , অচ্ছুৎ এক জীবন।"
" শীতের দুপুর অনেকটা হেলে পড়া মধ্যবয়সী মূখরা রমণীর মতন; ছিড়ে যাওয়া অস্তিত্বে স্থায়িত্ব কম নিয়ে আসে।"
অতঃপর - "আঁজলা ভরা পানিতে জামা ভেজা নিয়ে যে আমি আপনার কবিতা পড়বো বলে দাঁড়িয়ে থাকি,
সে আমার; আপনার প্রস্থানের পর সেখানে থাকাটা প্রয়োজন মনে করিনা।
বিকাল তিনটা নয় মিনিট-
একটা চু'পের মাঝে চুপচাপ বসে ভাবি;
আচ্ছা মেলোড্রামাটিক নিস্তব্ধতার বিছানায় শুয়ে --
আমি এত বছর ঘুমিয়েছি কি?
নাকি পোট্রেট শুয়ে বসে লেজ নাড়িয়েছি
ল্যান্ডস্কেপ বিছানাপত্র জুড়ে; যেন এক বিষন্ন কুকুর।
আমি জানি না
জানা হয় না
আমার সামনে হতাশার সমুদ্র,
ঘুমাতে পারিনা
এড়াতে পারিনা সাঁতার কেটে বেরুতেও পারিনা....
শেষরাতের তাহাজ্জুদে শুধু দেখি
বিব্রতকর হাই তুলে হেটে যায় হাসপাতাল।
দেখি হেরে যাওয়া রক্তের উপর মাছি।
দেখি শেষতক কসমোপলিটান নাগরিক বিতানে,
ব্ল্যাককফি উইথ ডুবডুব ফিনাইল
ফেনায় ফেনায় প্রেম সেলস গার্ল হয়-
জিভ থেকে জিভে টরে টক্কা উফহ ফাঁকেফাঁকে হুম,
একটা আততায়ী হুররে,
একটা নিস্তব্ধ উপর-নীচে ঘাতক নিউরো সিফিলিস,
ঘুপচি আংগুলের ফাঁকেফাঁকে
ক্রেডিট কার্ডের বারকোডে ঝুলানো ব্রেসিয়ার,
মোড়ে মোড়ে ফায়ারিং স্কোয়াড, করে থোড়াই পরোয়া
নগ্ন দেহে বাড়ি বাড়ি আত্মা বিক্রি করে।
একপাল শুয়োরের কামে
পেপসির ভেতরে সোডিয়াম কার্বনেট বুদবুদ-
অর্থাৎ ঐ যে শোনো ডাকে মর্ডানিজম,
যেখানে নিজের ঘর তুলতে
অন্যের
হলদে জন্ডিস চোখে
ইজারা দেয়া নিজের স্বপ্ন।
হয়না এভাবে হয় না - এভাবে আমি পারিনা -
আমাকে তোমার পা কাঁধে তুলে নিতে হয় -
তাই শুয়ে শুয়ে আমি পারিনা বলেই
সবশেষে,
আবার,
যখন বিরতিহীন মর্ডান শ্লোক সংবলিত
সোশ্যাল নেটিভ রানওয়ে জুড়ে চলছে ঋজু সভ্যতার বিনির্মাণ-
তখন প্রাগৈতিহাসিক পাজামার ফিতে খুলে তাই
আবার আমি একটা চু'পের মাঝে গোল হয়ে
চুপচাপ
বসে থাকি!
দাউদাউ রবিবার
দুপুর একটা নয় মিনিট -
মানুষ যায় আর আসে, সবকিছু এক জায়গায় স্থির থাকেনা, থেমে থাকেনা। আবার কেউ চলে গিয়েও ফিরে আসে। ফিরে এলে দেখতে পায় একটা জখম আড়ালের ধোঁয়া। সবাই ফিরে আসে হয় বৃত্তে না হয় কেন্দ্রে। আমার মনে হয় ফিরতে হবে, এই নক্ষত্রমন্ডলীর মাঝে হাঁসফাঁসের জীবন। মিথ্যে দরোজা খোলার আয়োজন আর ভালো লাগছেনা আমার।
বিকেল চারটা-
তোমার টেলিফোন ও ঘড়ি অস্থিরতায়, মাঝরাতে রান্নাঘর থেকে বের হয় সময় নিয়ে
লোক দ্যাখানো নদী বিশয়ক আলোচনা।
সন্ধ্যা সাতটা নয়-
" অবাক আয়নার শহর,তুমি।
যতটা আর্থিক তুমি ততটা আত্মিক নও।
রাত এগারোটা-
অন্তহীন জার্নাল এভাবেই পরে থাকে আলোকচাতুর্যে।
এই নভেম্বরে আর কোনও কবিতা লেখা হয়না।
রাত দুইটা উনত্রিশ
সরব বিক্ষোভ নীরব থাকার
এখন প্রতিযোগিতা প্রলেতারিয়ার
একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে চুপ করে থাকো,
কথা বলবার কি প্রয়োজন?
একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার।
একটা দুটো শ্লোক ভেঙ্গে খেতে হয় শোক।
আমি সবুজের দাপাদাপি বুকচাপা দিয়ে,
মুখ নীচু ঢুকে পড়ি নিজের ভেতর,
পরাস্ত আমার ভেতর পরাজিত এক আমি।
অথচ অভি, আমার বলার ছিলো
আমার বলার ছিলো অনেক কিছুই।
আমার বলার ছিলো -
তোমার ব্যক্তিগত জেলে জাল ফেলে রাখে মোহনায়,
আমি প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেনেছি
একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার,
তাই যোগগুলোকে গুন ভাগ না করে,
যোগগুলোকে বিয়োগাত্মক বিদায়ে মুগ্ধতার কাছে
জন্মান্ধ আমি নাবিক ; তোমার নাভী উপকুলে হুহু বাতাসে
জোছনার জাহাজে চাঁদের সমুদ্রসীমা পেরিয়ে চলে যাবো।
জেব্রাক্রসিং- দেবতাদের ঠা ঠা হাসি ছাপিয়ে শব্দের গর্জন
এখন একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার,
যতিচিহ্নহীন মাইলফলকে বাড়ছে নীরব কাউন্টডাউন
এক... দুই.... তিন.... দুই.... এক!
এখন এক দারুন প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার,
বৃষ্টি টেনে নেয় অবাধ্য প্রেমিক
রোদের ভেতর থেকে বুকের স্তব্ধীভূত পাজরে।
একটা নীরব... একটা বাধ্যগত শান্ত..
একটা প্রতিযোগিতা...
একটা সময়... চলছে নীরব থাকার।
সোমবারটা ভালো লাগে না আমার -
একদিন পথভুলে কোথাও চলে এসেছিলাম নাকি কেউ নিয়ে এসেছিলো তা চিন্তা করাটা অবান্তর।
সন্ধ্যা সাতটা ছাব্বিশ-
" এই রিকশা, এই যাবেন , যাবেন আমার বাড়ি, আমার ধুলো জমা মহল্লায়।"
রাত দুইটা ছয়-
শাড়ি খুললেই তোমার বয়স বেড়ে যায় -
ভোর চারটা-
আর কতকাল রোদের জরায়ু ভিজবে,
ভুল বুঝে আশটে আলসার কুয়াশায়?
বিকাল তিনটা বাইশ
বয়েস ১৩ যখনঃ
আমি জানি,আমার তখন ১৩...
আমি জানি, এটা নিশ্চিত জেনেই জানি
অনেকেই ঘটনা থেকে; ঘটনার রটনায় মনোযোগী ছাত্র!
আমি জানি,
যখন আমি আমার শৈশবের রং হারাচ্ছিলাম তখনকার গল্প।
আমি জানি,
যখন শিক্ষয়িত্রী কর্তৃক আমি ধর্ষিত হচ্ছিলাম,
তখন কোথাও সাইরেন বেজে উঠেনি-
বাজেনি করুন বিউগল অথবা
নতর্কীর উদ্দাম নৃত্য আমার শরীর উপকুল ছুয়ে
শব্দহীন কর্পুরে উড়ে যাচ্ছিলো শ'বে!
তখন নারী মাত্রই ধর্ষিতা! ধর্ষক!! হয়ত কখনওই নয়!
তাই
আমি জানি,কিভাবে আকাশ বারান্দায় নামে?
আমি জানি,সন্ধ্যেটা কখন চোখের পাতায়?
আমি জানি,নরকের মেঘ মাথায় নিয়ে কিভাবে তুমি যুদ্ধাগ্রস্ত?
আমি জানি,এ শহরের কোন কোন ঘরে ঈশ্বরের যাতায়াত?
আমি জানি,তিনি অবৈধ কোথায়?
রেডিওতে চলছে দিনবদলের গান,
মুষ্টিমেয় উন্নয়ন, অরাজকতার শ্রেণীবিন্যাস।
এর মাঝে ধর্ষিত আমার
অবাক তাকিয়ে থাকার সবাক সময়ে চলছে নির্বাক চলচ্চিত্র!
আমি জানি, নারী তুমি বড্ড ক্ষুধার্ত।
পিপাসার্ত তুমি রক্ত উপাসনায়!
আমি এও জানি, তুমি পেছনে ফিরে তাকাবেনা,
আমি জানি, তাকালেই তুমি বন্দী;আমার চোখে।
আমার নখে,
ঠোটে,
বুকে,
অথবা
আমাদের অতীতের সিড়িঘরের হাজার সন্ধ্যায়...
আমি জানি, আমি মরতে শিখে গ্যাছি রোজকার নিয়মে।
আমি জানি, তখন আমি ২৩..
আমি জানি, দুঃস্পর্শ রাত্রিতে হয়ত আমি ৩০...
হয়ত আমি জানি,
১৩ বা ২৩ অথবা ৩০ যা'ই হউক না ক্যানো?
পুরুষ কখনওই ধর্ষিত নয়, তোমার টি.আর.পি সময়ে।
কিংবা হয়ত পুরুষ - মানুষই নয়
অথবা ছিলোই না কোনো জন্মে।
তাই আমি জানি,
২০১৫ সালের টিভিতে ১৯৯৪
এক শোকাবহ স্যাটায়ার - যেখানে মৃত আত্মায়..গুলি চলছে।
নুয়ে পড়া জঙ্গলেই তবে মঙ্গলবার -
সকাল এগারোটা বাইশ
এইযে স্কুল, এইযে স্কুল ইউনিফর্মে হেঁটে যাওয়া কৈশোর।
আমি আটকে আছি ষোলোতে'ই।
বিকাল তিনটা
আচ্ছা শুভা, ভালোবাসা থেকে কি বের হওয়া যায়?
এর সদর দরোজা কোথায়?
রাত দশটা সাত মিনিট
আকাশ প্রহরী মাথার উপর, বারান্দার নীচে মালিবাগের শিউলি গাছ সংলগ্ন বাড়িটার নাম " অলকানন্দা।"
দুইঃ
যে কথা , যে কবিতা কখনও লিখতে চাইনা।
চোখের গভীরে তীব্র আকাঙ্খার বাষ্প জমে আছে।
শরীর ঘুরে যায়, নাকে পাই তোমার বিগত গন্ধ।
উড়ে যাওয়া বাতাসের রাডারে ধরা পড়ছে তোমার ঠোঁট,
ফিরোজা শাড়ি, সবুজ টিপ।
নিঃসঙ্গ ক্ষমাপ্রার্থণা করা বাড়িগুলো জেগে থাকে- ঘুমায় না।
স্মৃতির ভারে ডুবে যাচ্ছে পুরো ছায়াবীথি,
হলদে পাখি শেষ রাতেও উড়ছে, নষ্টালজিক আকাশে।
যে কথা, যে কবিতা লিখবার কথা ছিলোনা,
স্মৃতিকাতর রাস্তাগুলোতে লুটোপুটি খায় আমার ধুলো।
অলকানন্দা নামের বাড়িটা থেকে তোমার ছায়া পড়ে দীর্ঘশ্বাসের ক্ষেতে।
ভোর চারটা-
মধ্যবিত্ত বুকপকেটে সযত্নে তোলা থাকে একটা শব্দ, আজন্ম শীতের কুয়াশায় তোলা থাকে দুই অক্ষরের সমুদ্র '' তুমি''।
ক্লান্ত স্থির বুধবার
সকাল এগারোটা চব্বিশ
- ক্ষুধার্ত।
রাত আটটা -
আমি এক ব্যর্থ চ্যাপলিনঃ
এইযে শুনুন,
আমি ব্যর্থ চ্যাপলিন- সিস্টাইন চ্যাপেলের।
প্রিয় নারীরা
যদি আপনাদের কখনও আকাশ ছুঁতে ইচ্ছে হয়,
তবে সিকি শতাব্দী পূর্বে
সাতশ নারীস্তন থেকে আমি যে ডানা এনেছিলাম,
অস্বাস্থ্যসম্মত প্রত্যাখানে আবার
যে ডানায় আমি উড়ে গিয়েছিলাম কর্পুরের মতন,
সে ডানা চাইলে নিয়ে
আকাশের বুক থেকে আকাশের সামিয়ানায় উড়ে বেড়াতে পারেন।
যদি কখনও আপনারা হারিয়ে ফেলেন ঠিকানা,
হারিয়ে ফেলেন আশ্রয়।
চাইলে রাত বারোটার লোকাল এসে পড়বার পর,
শহরের বা-প্রান্তের
শেষ বাড়িটার কড়া নেড়ে দ্যাখতে পারেন,
কড়া নাড়লেই ভেতর থেকে উদোম গায়ে
বেরিয়ে আসবেন হাতে নিয়ে জ্বলন্ত হৃদয়
একজন কবি- একজন রাষ্ট্রদ্রোহী,
একজন সামাজিক বেশ্যালয় পরিত্যাগ করা
পৃথিবীর জীবিত থাকা একমাত্র প্রেমিক।
আপনারা ওখানে তার কাছে গিয়ে বসতে পারেন।
দ্যাখে নিতে পারেন " পাবলো নেরুদার জন্ম!"
দ্যাখে নিতে পারেন " সেবাষ্টিয়ানের মৃত্যু"
শুনে নিতে পারেন " আ জম্বি হোয়েন ক্রাই" অথবা হুইস্কি লুলাবাই।
এবার ভোরবেলায় আপনার চোখে মুখে নিয়ে কুয়াশা
ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন চলন্ত ট্রাকের সামনে,
ঠিক যেভাবে আপনি আবিস্কার করলেন
এতটা সময় যেখানে কাটালেন
সেটা আসলে শহরের শেষ কবর, শেষ বাড়িটার ভেতর।
যার ফলকে লেখা -
সোয়েব মাহমুদ বাড়ি আসেন নি,
শেষ লোকালেও আসেনি প্রজাপতি।
আমার সাদা প্রজাপতি।
খুনে বৃহস্পতিবার
রাত বারোটা দশ
শুভা, ও কিছুনা, কিছু হয়নি আমার।
শুধু দেখতে চেয়েছিলাম
স্ট্রেইটকাট ছুরি ঢুকিয়ে দিলে কতটুকু যন্ত্রণা হয় বাম অলিন্দে।
শুধু বুঝতে চেয়েছিলাম
উপুর্যপরি ছুরিকাঘাতে প্রেমিকার, প্রেমিক বাঁচে কিনা।
ওসব বুঝবে না তুমি - স্বতন্ত্র নেইলকাটার হৃদয়ে তুমি বুঝবে না
বোঝার কথাও নয়! অথচ কি দারুণ আস্থাহীনতায়
সেন্ট পিটার্সবারগের রাস্তাটা ঠিক আমার বুক বরাবর ঢুকে যায়।
যেমন ট্রাকের পেটে ঢুকে যায় রিকশা
রিকশা চেনোতো মেয়ে! রিকশা -
আচ্ছা বলোতো, এভাবে কি বাঁচে মানুষ?
আমি জানি তুমি ধমক দিয়ে চোখ পাঁকাবে,
আমি জানি সিড়ি ল্যান্ডিংটার হাতলে ভর করে কাঁদবে তুমি, সরিয়ে চশমা।
ঠিক এইসময় ঢাকা আর অসলো এককাতারে দাঁড়ায়।
কোনও মাথামোটা অর্থনীতিবিদ তার অথর্ব সূচকে আলাদা করতে পারেনা।
আলাদা করতে পারেনা কান্নায় ধোয়ামোছা চোখ।।
এতটুকু লিখতেই নার্স মোটামুটি হিব্রু ভাষার
মুখ নিয়ে ডাঃ ডাকতে থাকে।
আমি এবার কাঁটা চামচে খুবলে তুলছিলাম
বাঁ হাতের চামড়া অথবা মাংস।।
ডাঃ বেশ সিরিয়াস, বলো'তো সুন্দরীরা সিরিয়াস হলে কি মানায়?
বলোতো, এভাবে কি হয়?
ক্লান্তিকর মুকাভিনয় আর সাদার সমুদ্রে কেটে যায় সাড়ে চারমাস।।
নিরাপরাধ দেয়াশলাই আমি ক্যালেন্ডারে তাকাতেই বুঝি,
ডিভোর্সের একবছর হলো আজ, আজ তেরোই ফেব্রুয়ারী।।
শুভা, আচ্ছা তোমাকে কি বলেছিলাম আমার স্ত্রীর কথা?
বলে কি ছিলাম হামাগুড়ি দেয়া শিশু!
জানো আমায় অনেক ভালোবাসতো ও,
আর তাই এগারো বছরের সংসার তছনছ করে ,
বদলে শাড়ির আঁচলে অশ্রুর দাগ বসিয়েছে নতুন আবাস।
আবাস পরিবর্তনের ফর্মটায় লিখেছে কুমারী এবং প্রথম বিয়ে!!
এক কলমের খোঁচায় কার কি হয়েছে জানিনা?
তবে আমার এগারোটি বছর,
আমার শহর
আমার হাতের মুঠোয়
এগারোটি বছর হুর হুশ করে শুন্যতার হা হা কা র!
আমার তারুণ্য আমি দেখতে পারিনি -
আমার অবশ শরীর- অলৌকিক বৃষ্টিতে ঘুম -
ঘুমঘুম ষ্টেশন ঘুমঘুম সময় -
কেবোল হয়ে থাকলো এক এবং এক নামক দুটো সংখ্যা।
আমি কাউকেই দোষ দিচ্ছিনা খন্ডন করছিনা কোন যুক্তি -
আমি - হাটছি না।
আমি- বসছি না।
আমি- কাদছি না।
আমি - হাসছি না।
আমি - ঝুলে গিয়ে ইতিহাস বইটায়
হতে পারছিনা ধুলো পড়া স্মৃতি।
এ এক অসহ্য অসহায় স্মৃতি বিজরিত অনন্ত বর্ষার জাদুঘর
এ এক অদ্ভুতদর্শনের আবহাওয়া অধিদপ্তর
এ এক মহামারী পরিস্থিতিতে বিনাচিকিৎসায় শুয়ে থাকা মর্গ!
খুব আবোলতাবোল বকছি -
আসলে বুকের ভেতর জ্বর নিয়ে কথা বলা যায় না,
শোনো শুভা মাথার উপরে একটা আকাশ-
আকাশে বাদুর দৌড় - ভোঁ ভোঁ শব্দে সম্পর্কের জানাযায়
আমার মাথায় ঘুরছে কবির কবিতা—
বহুবছর আগে কবি লিখে গ্যাছেন—
আমি জানি আমার মৃত্যুর পর পৃথিবী বিধবা হবে,
তাই পৃথিবীকে
দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিয়ে যাচ্ছি, আমি।
আজ রাখছি, চিঠি পেলে জানিও পরবর্তী চিঠি আসবে কি না জানিনা?
( শুভা ১৭ )
আঞ্জুমানে শুক্রবার
রাত ১১টা ৫৮
বিধবার রঙ মেখে আমি দাড়াই আমার জানাযায় একদিন।
শেষ ফুলষ্টপ
গ্রীনরুমে আয়নাতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি পর্বে নাকের উপর বসানোর জন্য প্রেয়সীর প্রিয় লাল; আগুন মুখো লাল বল খুজছি...... "থার্ডব্লো- শেষ ফুলষ্টপ ১৫ এর সন্ধ্যায়"- শো একটু পর....
দিকশুন্যপুরের জাহাজীকে কোনও এক ডিসেম্বরের ৫তারিখে ভালোবাসি বলে জাহাজ নোঙ্গর করিয়ে; কিছুদিন পর ঠোঁটের উপর কালো টিপের মেয়ে হঠাত বলে ওঠে-
"তোমাকে পাখি ভেবেছিলাম, এখন দ্যাখি তুমি জরাজনিত আকাশ। পাখি যতটা টানে ততটা আকাশ আমাকে টানেনা, আকুল করেনা।। তাই আজ থেকে আমরা দু-জন দুরের দ্বীপ।"
বীজগণিত, হিসাববিজ্ঞানে কাচা ছেলেটা ফ্রয়েডিয় ব্যার্থ মনোবিজ্ঞানের গিনিপিগ হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিড়িতে হাটতে হাটতে দ্যাখে পাবলিক হেলথের দোরগোড়ায় আড়াইবছর আগেকার ৫০% শিক্ষাবৃত্তি।এক মানবীর পানি উবে গিয়ে লবন জমা চোখে এক বোকা দ্যাখেছিলো, জেনেছিলো, পড়েছিলো "আমি, তুমি ছাড়া বড্ড একা।" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশেরও কবি - বাক্যটার মতই যা এক ডাহা মিথ্যে......
তুমি দাঁড়াও একটু আমি আসছি- এ কথাটা একমাত্র ভালোবাসা আর শৈশব বলে ছিলো।
"-- শৈশব!! সে আবার কে? বোদলেয়ারের চরিত্র নাকি? তারপর কি হলো? গল্প থামালে কেনো ?
-- তারপর এক দৈত্য ভেজা পা'য়ে টুটি চেপে মেরে ফেলে শৈশবকে,ভালোবাসা হয়ে যায় সামাজিক আলমারির চাবীর গোছাটার মতন ভারী। কেবল হাসফাস করে।প্রেয়সীর ভেজা চোখে তার নিজের স্বপ্নবৃত্তান্ত এর কোথাও ছেলেটা ছিলোনা, তবুও পিপড়ের শহরে ছেলেটা ভালোবেসে নিজের চোখে দৃশ্যমান করে প্রেয়সীর স্বপ্ন, ছুটে চলে।
ছুটতে ছুটতে হঠাত জেনে যায় --
"তুমি অতি ভালোবাসার মানসিক অসুখে ভুগছো"- নামক বিদায় বৃত্তান্ত।
-- "তারপর..তারপর কি হলো, উফফ..আবার থামলে ক্যানো! কোথায় যাচ্ছ .. আরেহ্ "
-- "আজ কয় তারিখ?এখন কয়টা বাজে? বলবে কি?
--"আজ ১৬ই ডিসেম্বর, রাত এখন ১১টা ৪৩মিঃ।"
-- "সাক্ষাত ঈশ্বর হয়ে মানিক মিয়া এভ্যুনিউ'তে রাত ১১টা৪৩মিঃূ কোনও এক ১৬, ডিসেম্বর
ছেলেটা ছুঁয়ে ছিলো ভালোবাসার ঠোঁট। আহ বৃষ্টি নামবে।। যাই এবার।"
--"গল্পটা শেষ হয়নি তো, এই..এইযে...কি আজব বৃষ্টিও পড়ছে দেখি।"
হঠাত সম্বিত ফেরে -
-- "এক্সকিউজ মি, আপনি কার সাথে কথা বলছিলেন এতক্ষন ম্যাডাম! আপনি সুস্থ্য আছেন তো।"
-- "কেনো দেখেন নি, কমলা টি-শার্টের একজন ছিলো তো। নাকি চোখের মাথা খেয়েছেন।"
-- "কেউ ছিলোনা ম্যাম, বৃষ্টি থেমেছে এবার বাড়ি যান। ১২টা বাজতে চললো।"
মেয়েটি রেষ্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামতেই শুনতে থাকে.. কে যে নো কবিতা পড়ছে বাতাসে শুয়ে।।
“-আকাশের রানওয়েতে ভোরের আযান...
অসময়ের পত্রিকা বলে দিচ্ছে সুন্দরের চোখ সুন্দর খুঁজে বেড়ায়।
তাই আমার, চোখের ভেতরকার জলোচ্ছ্বাস তোমায় ভেজাবে না....
বুকের ভেতরকার জ্বরের আঁচ ছুঁবেনা তোমায়...
দর্শক অভিবাদন গ্রহন করুন এক বোকা প্রেমিক,এক অ-প্রেমিকের।
স্টেজের আলোতে ঝলসে যাওয়া মুখ দেখুন আর.. দর্শক আংগুলে মুহুর্মুহু কড়া নাড়ুন..
শো- জমজমাট.....আর ক্লাউন আমি, জোকার আমি মুখটা উপরে তুললে...
ঈশ্বর অপেক্ষায় ফুলষ্টপ মেরে দ্যাখেন আমায়...
দেখেন একাকীত্বের অপেক্ষাকথনে ক্লাউন আমি ,
হাহ্, অপেক্ষার জলজ্যান্ত কবিতা, আমি।।
এক মস্ত সস্তা পাণ্ডুলিপি ১৬ই ডিসেম্বর রাত ১১টা৪৩মিঃ এর অলিখিত চুমু'তে।।
সমাপ্ত লেখা হয়না এক অভিমানী রেল লাইনের জেদি ভালোবাসায়।
যেখানে নিজেকে শেষকরা ইতিহাসের পৃষ্ঠা কোথাও কোনও এক ভবিষ্যতে সিগারেট বানাতে কাজে লাগবে।।চ্
খুলে
এক মস্ত দীঘির চুল উড়ছে হাওয়ায়,
দুইহাজার বারো সালের চুল এসে পড়ছে,
আমার চোখ, মুখ, নাক আর হৃদয় স্পর্শ করছে মানচিত্রে।
একটা রিকশার খোঁজে দাড়িয়েই আছি আজন্মকাল।
তোমার নীল চুড়ি আমার বুক পকেটে,
তোমায় পড়িয়ে দিতে না পারায়,
দুঃখও একদিন সাম্যবাদ হয়ে যায়।
রাস্তার ধার জুড়ে প্রেমিকের লাশগুলো আমাকে ডাকছে,
শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত নব্বই যেনো,
রুপকথার বইয়ে পড়া গণতন্ত্র যেনো,
যেনো উড়ন্ত সসার থেকে কুড়িয়ে পাওয়া চাবি, এক।
যা দিয়ে আজ অন্তত,
আমি মৃত্যুকে অথবা তোমাকে খুলতে শিখে যাব প্রিয়তমা।
কবিতা- রোদ্দুর
প্রিয় রোদ্দুর,
সম্পর্কের যুক্তাক্ষর থেকে অক্সিজেন উঠে যাওয়া সময়ে,
তোমার অ-বিশ্বাসী হৃদয়,
তোমার নষ্ট মাথা আমি মুড়ে দিয়েছিলাম ভালোবাসায়।
একদিন বুঝতে পারবে তুমি,
বুঝবে তোমার মাতৃতান্ত্রিক ঠোঁট, ঠোঁটের নখ।
আর বুঝবে গাদাগাদা কবিতার স্তুপে
প্রতি শব্দে নিহত অপেক্ষার প্রজাপতি সভায়,
একদিন তোমার সাথে
তোমার অথবা তোমার সাথে আমার দ্যাখা হয়ে যাবার পর
এক জরায়ুবন্ধক দেয়া নারী যখন আকাশে মেঘভর দাঁড়িয়েছিল,
দাঁড়িয়েছিল একদিন মোহম্মদপুরের রাস্তায়,
যেভাবে দু চোখে নিয়ে সিওরালিওনে অকালপ্রয়াত শিশুদের
কান্না,
ঠিক সেভাবে আমি তার দুচোখের কান্না বুকপকেটে নিয়ে আসতে পারিনি।
নিয়ে আসতে পারিনি একজোড়া হাত, যেখানে আশ্রয়।
মাঝেমাঝে দুপুরগুলো বুকের উচ্ছেদকৃত ভিটায় দাঁড়িয়ে থাকে,
নিশ্চল দুপুর বব ডিলানের গান।
মাঝেমাঝে পথিক ছবি দিয়ে জানান দেয় পর্যটক হয়ে গ্যাছে,
অথচ আমি মাঝেমাঝে সামনে একটু ঝুকে থাকা মেয়েটার
বুকে তাকিয়ে বারবার পথ ভুল করে
পর্যটক হয়ে উঠি।
রোদ নামতায় ভুল করে ফেলি,
চোখের নালিশে হাওয়ার বালিশ উন্নাসিক স্বপ্নের ঘোর
মাঝেমাঝে দুপুরবেলার ঘ্রাণে আমাকে বলে দেয়
পিতাহীন জন্মের দায় কতটুকু কতটুকু হলে
ব্যর্থতার জীবন একটা বাংলাদেশ হয়ে যায়।
আসলে আমি আমাকে চালনা করছিনা বেশ কয়েকদিন।
আসলে আমি বেশ কয়েকদিন যাবত আমাকে ছেড়ে দিয়েছি,
ঘুড়ি, ভোকাট্টা ঘুড়িটার মতন আমি মেলে দিয়েছি শরীর বাতাসে।
সে যেথায় নেবে আমিও যাবো সেথায়,
ইচ্ছে নেই অনিচ্ছের দাবী নেই।
কষ্টের বোধ সে এক ভাতের মতন আমৃত্যু তাড়া করে বেড়ানো
ব্যাধিগ্রস্থ ব্যাধিবোধ।
আমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছি জলে - ভর শুন্য করে
শুন্যপথের দরোজায় ছেড়ে দিয়ে হাটছি যখন-
তখন জানলাম আমি, আমি তো সাতার জানিনা।
আচ্ছা একটা কবিতায় কি একটা কবিতার বেড়ে ওঠা
নিশ্চিত কল্পগল্পেই হতে হবে?
থাকতে হবে নির্দিষ্ট রুপরেখায় নির্দিষ্ট সমাপ্তি রেখা?
একটা কবিতায় কি আমি অনেকগুলো কবিতা লিখতে
পারিনা,
ঠিক যেমন একজীবনে লিখে চলছি
বহন করছি অনেকগুলো জীবন!
কবিতা কি জীবনের বাইরে কিছু/
আমি জানিনা-
আসলে মাঝেমাঝে দুপুরগুলো বুকের ভেতর প্রচন্ড দুপুর হয়ে যায়-
আর আমি জরায়ুহীন নারীর কালো ইষৎকালো " খন্ড ত "ধারণ করে
আমার তলপেট সংলগ্ন জন্ম অবতারে অনুভূত জ্বরের সন্তানদের পিতা হয়ে যাই।
অথচ জরায়ুবন্ধক দিয়ে আমার সামনে বসে থাকেন অপর্ণা সেন,
আমি শুন্যতায় দ্যার্থবাদের রাস্তাটার টার্ম ফাইনালে,
আমার মাথাটাকে দু আঙুলের ছাপে
মুদ্রণ অযোগ্যতায় করূন আনন্দে জড়িয়ে ধরি,
চেপে ধরি
আমি আমাকে, আমার ছায়ায়।
মাঝেমাঝে দুপুরগুলো যখন দুপুর হয়ে ওঠে রিটায়ার্ড শোকে,
পেনশন বুকপকেটে যখন গণগনে বিজিত বিকেল,
তখন আজানের দিকে যেতে থাকা উল্লসিত বিষাদ
.......... আসলে মাঝেমাঝে দুপুরগুলোতে
মেটাফোর আলেয়ার আলোয় - আমি হয়ত বোঝাতে পারছিনা।
আমি হয়ত বোঝাতে পারছিনা ফেটে পড়তে পারছিনা
আনন্দে অথবা বেদনায়....
সামটাইমস এসাইলাম এসেন্স সামটাইমস ফিলিং লাইক হোর.
এবসার্ড অডিসি.......
মাঝেমাঝে আমি একবার ঝুলে পড়ে জাদুঘরে
হয়ে উঠি খুচরো দর্শনীর বিনিময়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
জামা কাপড় খুলে নগ্ন বেশ্যা যার সামনে সেই কৈশরে আমার,
হাটু মুড়ে কেপে ওঠা প্রথম প্রার্থনা।
শীতের ভোররাতে মধ্যবিত্ত স্বপ্নহীনতার ভেতর আমাকে দেখে পাড়ার
সব বেশ্যারা হো হো করে হেসে ওঠে।
এক-
হৃদয় নামক মহাসড়কে নিরাপদ জেব্রাক্রসিং নেই।
দুই-
মাতৃজঠরে বেড়ে ওঠা আমি জানি ক্ষমাশীলতা স্ত্রীবাচক শব্দ আর তাই কোন নারীকে ক্ষমা করবার ধৃষ্টতা আমি দেখাতে পারিনা।
তিন-
পৃথিবীর বুকে নারী যেভাবে সবুজ আর নীল ধারণ করেছে ঠিক সে অনুপাতেই ঘাতক হলদে ছুরিতে বহন করেছে জরায়ুমুখের পেয়াজ লাল।
কবিতার প্রাচীন নারী
ধ্বংস্তুপের পাশে দাঁড়িয়ে দৃশ্যত একটা চাঁদ ঢুকিয়ে নেয় যোণীতে।
যারা জীবিত কবি ছিলো তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শামুকের আদলে দীর্ঘ হতে থাকে।
এপথে কোনো বাস কাউন্টার নেই, নেই ট্রাফিক সিগন্যাল।
ধিরে ধিরে শামুকগুলো ঝিমপোকা হতে থাকে,
কৃত্তিম আলো ছড়িয়ে খুন করতে থাকে মিছিল।"
যদি চলে যেতে হয়, যাবো।
নিঃশব্দে বলে যাবো - খুন হওয়া মিছিলগুলো
একদিন কবিতা হয়ে ওঠে।
মৃত্যুকে দহনে সহজ করে তোলে ভয়ের কাছে।
আর
যৌণ আচরণে মাছিদের স্বপ্নান্তরে স্বপ্নদোষ ঘটে।
আমার দুঃখবোধের কোনো গল্প ব্যক্তিগত নয় বোলেই জিহবায় ভর করে মৃত্যু অসারতা!
আকাশে শুয়ে দেখি গণিকালয় থেকে বিতারিত গনতান্ত্রিক রাস্তাগুলো হাসপাতাল যাচ্ছে, রোজ।
দ্বিধাগ্রস্ত একনিষ্ঠ ফ্রয়েডের ছাত্রী, সিভিয়ার ডিপ্রেশন কি তবে তোমার রঙ করা ডানায় পলায়নমুখর সময়,
যেখানে বাতাসের শব্দ নেই, নেই গন্ধটুকুও।
আমি তীব্র ক্ষোভে ; ঈশ্বরের উপর পুঞ্জিভূত ক্ষোভে ফেটে পরতে চেয়েছি। পেরেছি কিনা জানিনা, তবে রাতে রাস্তার পাহারাদার কুকুর আমার পায়ে পায়ে দুই স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল দিয়েছে।
ঠিক যেমনটার অভাবে পতাকাবাহী গাড়িগুলো পা হড়কে পড়ে যায় গর্তে।
বুকে চোখ রেখে দেখে নাও শেষবার,যেখানে নখ দিয়ে লিখেছি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা
তবুও ভুখা নাঙ্গা হাভাতের দল, দল বেঁধে গণতন্ত্র দ্যাখতে আসে।
ধ্রুপদী বিষন্নতায় আলগোছে একটা শব্দ।
একটা শব্দযেনো সামনে বোতাম সম্বলিত ব্লাউজে,
আধুনিক পোষাকী সভ্যতার নিরংকুশ আধিপত্যে একটা ভয়ানক শীতের জবুথবু সন্ধ্যা হয়ে যায়।
আর আমি এক জেদী "প্রাগৈতিহাসিক" কাশবনের মাঝে জেগে থাকা ট্রেন হয়ে খুজে বেড়াই পার্থক্য প্রেম এবং ভালোবাসার
কি স্মার্ট নৃশংসতা লেপ্টে থাকে তোমার উচ্চারিত ভালোবাসায়,
অথচ ভুলে যাও সৃষ্টির কান্না বয়ে চলা সমুদ্রের সাথে কোনও খেলা চলেনা।
কিন্তু সত্যিসত্যি কেও কাউকে ছুঁতে পারবোনা।
তবে ভালোবাসা আর অভিশাপের মধ্যে পার্থক্য কতোটুকু,
এ প্রশ্নের উত্তর এক না একদিন পেয়ে যাবে ,দেখো!!
আমি চুপ করে বসে থাকি -অন্ধকারে ''জিভ দিয়ে ছুঁয়ে দেখেছি মৃত্যু
নিজেকে ন্যাংটো করাটাকে কি বলে?প্রেম?
বৃষ্টি বলে কোনও বাধা নেই,
নিলাজ্ব সম্ভ্রমে লুকিয়ে প্রজাপতি ডানা;
আমি তাকিয়ে থাকি ভীষণ বিষাদে।
জানো, জানো বাবুই-
বুকপকেটের নীচে চাপা পড়ে গ্যাছে হৃদয়
আত্মবিক্রয় কেন্দ্রে পুড়ে যাওয়া অমাবস্যার ঠোঁট
বিপণনযোগ্যতা হারিয়ে- কাছাকাছি থাকে নদীর।
কার্যত আকাশ মেঘলা থাকায় শুধুই
আমার সরিসৃপ জীবন,
ছাপোষা মাছির মৃত্যু,
সূর্যাস্তের আগে আগে ডাকপিয়নের চিঠির ভাজে
লুকিয়ে রাখি ক্রন্দন
লুকিয়ে রাখি ইচ্ছে অনিচ্ছে।
কেবল মাছরাঙ্গা পোষা হাসিতে হাসিতে বলে ফেলি
রঙধনু দেখতে পারিনা আমি কেবল জন্মান্ধ রিকশায় সওয়ারী বলে।
''আমি শুধু ঘুরি, আর ঘুরে মরি চেয়ে দেখি,
আমার জীবনে শুধু রাস্তা পরে আছে- ধু-ধু-রাস্তা পড়ে
আছে শুধু। রিকশা থেকে নামতে-নামতে আমি বুড়ো হয়ে গেলাম ঢাকায় , আমার জীবন,
আমি কার্পেটের মত ঢাকাশহরে বিছিয়ে দিয়েছি
খোলা দরোজা অ-প্রেমিকের অস্ত্র, প্রেমিক আমি তাই বুক-পকেটে হাতুড়ি নিয়েই ঘুরে বেড়াই।
ফেব্রুয়ারী ২৪
আমি জানি একদিন আমার সব অসুখ সেরে যাবে,
আমি জানি একদিন আমি আর প্রশ্ন করবো না -
মাছেরা কেনো নদীতে ঘুমায়?
পাখিরা কেনো আকাশে শুয়ে থাকে নির্বিকার?
ইঁদুরের শরীরে সঞ্চারিত ব্যথা নিয়ে
টিকটিকি কিভাবে ঘুমিয়ে থাকে,
পুরোটা ইশকুল জুড়ে পেজাতুলোর ডানায় কি করে ওড়ে
কবরস্থানের প্রজাপতি!
আমি জানি একদিন হৃদপিন্ডে
স্বল্পায়ুর বিকেলে ঝড়ের মতন শব্দ করা
" হ্যাঁ অথবা না " সরিয়ে,
সকল অনিশ্চিত গতিবিধির রাত জেগে থেকে
হাজরে আসওয়াদ চোখে চুমু খেয়ে নেবো একদিন।
২)
আমি জানি একদিন আমার এইসব অসুখ সেরে যাবে,
সেরে উঠবে আরেকটি প্রাচীন মাতৃকা দেবতার জন্মযন্ত্রণা।
বন্ধ হয়ে যাবে ভালোবাসা-বাসির আশ্রম।
খুলে যাবে একটা নেই শব্দে
খুলে যাবে সকল জুন মাসের তপ্তদুপুরবেলা।
একদিন, একদিন আমি জানি, আমিও ফিরবো ঘরে।
ঘরে ফিরে একদিন আমিও কোমরের নীচে আবিস্কার করে ফেলবো
একটা গাঢ় নীল নদ,
এরপর তুমি যতই জলদস্যু বলো আমায়,
তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে
আমি জানি একদিন আমি সকল অসুস্থতা থেকে
হ ন হ ন
হেঁটে বেরিয়ে আসবো খুলে সকল অন্ধ দরোজা-
একদিন আমি জানি,
জানলায় উঁকি দিয়ে একটা সকাল, চা খেতে খেতে পরীবাগের রাস্তায়
আমি হয়ত ভাস্কর নভেরাকে,
তোমার কানে এসে জানিয়ে দেবো - সেদিনটা মাসের তৃতীয় শুক্রবার।
সেপ্টেম্বর ৬
খুব সম্ভব একদিন সে আর আসতে পারবেনা,
খুব সম্ভব একদিন নিভে যাবে জ্বলতে থাকা প্রেইরির বন।
খুব সম্ভব একদিন হিম ঠান্ডা হয়ে যাবে সমস্ত আগুন,
খুব সম্ভব একদিন বরফকণাগুলো
রোদাচ্ছাদিত বরফকলের মিহিন সুতোয় হাঁটতে হাঁটতে গলতে শিখে যাবে।
শিখে যাবে বুকের উপর ভূমি থেকে আজানুলম্বিত সেলাইটায়
কতটা রক্তঝরে নির্বিকার অনিঃশেষ অন্ধকারে!
খুব সম্ভব একদিন ইচড়ে পাকা ধেড়ে ইঁদুরগুলো লেঙটি পড়ে
ইশকুল ফেরত ইতিহাস বইটা কাটতে শুরু করবে,
খুব সম্ভব ঠিক সে সময় চাঁদের বুড়ির চড়কা চালানো গল্পের শব্দে-
আমরা আনমনা হয়ে
গড়িয়ে পড়তে থাকবো নাভীদেশের বানিজ্যিক আচরণে।
খুব সম্ভব একদিন বাবার জামা ঠিক ন'য়ে ছ'য়ে গলায় ঝুলিয়ে,
সন্তানগুলো বাবা হয়ে উঠেই
আসন সংখ্যা বাড়াতে প্রজ্ঞাপন জারি করবে,
সেইদিনের পর থেকে মাথানত চৌরাস্তার পাগল হয়ে,
কিছু মানুষ চোখে নিয়ে স্বতন্ত্র নেইলকাটার, কেটে যাবে দাঁতের নখ।
আর সামাজিক ব্যবস্থাপনার বিপক্ষে
দাঁড়ানো
সস্তার কুকুরের স্থান হবে পৃথিবী নামক বৃদ্ধাশ্রমে।
খুব সম্ভব সেদিন,
সেদিনই হঠাৎ মাটি ফুড়ে বেরিয়ে আসা আলোয়
আহত কলম- লিখে ফেলবে হঠাৎ
চারপাশে রোশনাই আলো
আর মিথ্যের তোপধ্বনিতে সেনাবাহিনীর চৌকস যাত্রা -
তোমাদের বুকের কাছে বপন করে আসা অভিধানে
তোমরা যাকে মৃত্যু বলেই জানো।
খুব সম্ভব এরপর
খুব শীঘ্রই তোমরা জানবে
মৃত্যুর উদোম বুকে ক্যু হয়ে যাবার প'র অভিধান আর কোথাও কোন কাজে আসেনা।
পাচ
জরায়ু থেকে আয়ুপ্রাপ্ত যে শিশু, সেই শিশু হত্যার দায় এড়াতে না পেরে অক্ষম আমি,
যোনীর লালায় লোভী পৃথিবীতে জরায়ু নিষিদ্ধ করছি।
রাত অনুবাদ করার মতো কোন স্মৃতি রাখতে নেই, বোতামের বুকে শুয়ে থাকতে নেই।
তাই ফুঁ দিচ্ছি, দিচ্ছি হাওয়া-
আর মিলিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ অর্থহীন ; "সম্পর্ক পুস্তিকায়"
বাষ্পীয় চোখের করোটিতে ঘর বাঁধে সদা হাস্যোজ্বল বিষাদ।
কপালের ভাঁজে ভাঁজে কমছে আয়ু জোনাকীর,
চারদেয়ালের ভেতর বৃষ্টিপাত্রে নিঃশ্বাসজুড়ে
পাখা পোড়ানোর উৎসব করছে তেলাওয়াত,
আওরাচ্ছে নখের গভীরতায় শ্লোক - ঘর, বাড়ি ফিরেনি।
আহত প্রজাপতি ফিরেনি শেষ লোকালেও।
দরোজা বন্ধ, কপাট খোলা জানলায় ভিজছে শাড়ির আঁচল আয়না,
আমার সাথে আমার দেখা নাই,
আমার সাথে আমার কথা নাই তাই
আমার ভেতরে গহীন বন্দরে আমিও থাকিনা বহুকাল।
চোখের ভেতর থেকে গড়িয়ে পড়লেই বিস্মিত বিস্ময়,
দৃশ্যের বাইরে গেলেই স্মৃতিভুক মানুষ ভুলে যায়
সোয়েব মাহমুদ বাড়ি নেই,
সোয়েব মাহমুদ বাড়ি ফেরেনা।
কবিতা পড়ে থাকে মর্গে- আহ জীবন, ছেনাল জীবন।
থেমে থেমে রয় আড়াই চালের ঘোড়া, বিভ্রম শুধু জেগে থাকে
বুকে নিয়ে গাঙচিল- " ঘর, তুমি বাড়ি'টা ফিরবে কবে?"
যোণী
যেখানে তোমারামার নিকাহ্ হয়না বিচ্ছেদ হয়না।
যেখানে তুমি ছেনাল জীবনের মতন লাফিয়ে উঠে পড়ো ঘোড়ায়;
যেখানে আমি লম্পট মৃত্যুর ন্যায় সমস্ত পেয়াজ ছাড়ানো কোষে সমগ্র আয়ুতে।
ঘড়ি ভাঙছে সিঁড়ি।।
ত্রুটি
কিছুটা জ্বরে বাকিটা দহনে সমুদ্র নিয়ে চোখে সমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিষাদগণিকারা।
প্রেমিকার বুকে থাকা পদ্ম ফুলে নাক ঘষতে ঘষতে আমি কেবল শতবৎসরের বিগত কিংবা আগত আবহাওয়া বার্তাটাই পাই, আর কিছু নয়।
এইসব বৃহস্পতিবার দুপুর মেঘের সাথে লুটোপুটিতে
ছেনাল রোদের দুপুর আমার ভেতর আমাকে,
তোমার ভেতর আমাকে সাংবিধাণীক অথচ লাস্যময়ী
বিপন্ন বিষাদে ডুবিয়ে রাখা ছাড়া আর কি ই বা দিতে পেরেছে বলো।
আগে এইতো অল্প কিছুদিন আগেই, ভেবে দ্যাখো-
সমস্ত পৃথিবী আড়াল করে তোমার গালের তিলটাতে
চুমু খেয়ে আমি একটা পথ হয়ে গিয়েছিলাম।
হয়ে গিয়ে ছিলাম পাখি, তোমার বুকের আকাশে এক কিংবদন্তী পাখি!
মনে আছে?
তাই হয়ত শোকপ্রস্তাবে,
অনুচ্চারিত থেকে যায় নিকোটিন আর পেন্সিল হিল।
তাই হয়ত মন খারাপের দুপুরবেলায়
তোমার চোখের ভেতর চোখ হয়ে কাঁদতে পারিনা।
দূরত্ব - বলে কিছু নেই। বিকেলবেলাটা মাইলষ্টোন হিসেবে কবিতার খাতায় বসে থাকে প্রৌঢ় বৃদ্ধের ন্যায়, বসে বসে আকাশের ক্যালেন্ডারে দেখে তারিখের উপর তারিখ শুয়ে পড়ে কেবোল শেষ দুটো সংখ্যাই পরিবর্তন করতে পারছে এরবেশি কিছু পারছেনা।
চোখ নিভে যাওয়া ক্লান্তি ,দূরত্বকে স্পর্শ করে কেবোল আঙ্গুলের সাথে আঙ্গুলের দেখা না হওয়া কার্যকারণে।
দূরত্ব বলে কিছু নেই, শুভা।
ব্যক্তিগত বিছানা বলে কিছু নেই, মর্গের ড্রয়ারে
মাত্র, এইমাত্র মারা গেলো ....... কেউ হয়ত!
কবিতা লিখতে গিয়ে মারা পড়লো আজন্ম সাধের
শেষ বিকেলের রোদ মেখে।
মাত্র , এই মাত্র একজন কবি কলম তুলে নিয়ে মারা পড়লেন তীব্র ক্ষোভে বিচ্ছুরিত বিষণ্নতায়।
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে - একা থাকাটাই ভুলে গেছি রাত,
আত্মহননে হয়ত আমাদের দেখা হবে- আমাদের হয়ত দেখা হবে ফেব্রুয়ারী;
বুকে উড়তে থাকা মাছির ডানায়- আজরাইলের নিঃশ্বাস অনুভব করতে করতে
আমাদের দেখা হবে নিশ্চিত!
ক্লান্ত আমি,
একা একা থাকতে থাকতে থাকতে
তাই ভুলে যাচ্ছি একা থাকা রাতগুলোতে মরে যায় কিভাবে য্যানো মানুষ?
আমাদের তাই দেখা হবে বিষাদে ফুটে ওঠা নরোম মৃত্যুতে বারবার
একা থাকা বালিশের একা থাকা বিছানায় সাড়ে তিন হাত আশ্রয় অথবা চুল্লিতে।
একা থাকতে থাকতে,
থাকতে থাকতে আমার ভেতর একটা সবুজ গাছ জন্মাবে।
কোন ফল নেই,
ফুল নেই,
গাছের নীচে কোনও ছায়াও নেই।
একা থাকতে থাকতে ,
থাকতে থাকতে
আমার ভেতর জন্মাবে একটা বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিদ্যুতহীন।
এভাবেই,
ঠিক এভাবেই
একা থাকতে থাকতে,
থাকতে থাকতে
একদিন আমি আমার ঘরেই আমি একা পড়ে থাকবো
মৃত;স্বজনহীন।
কেউ জানবেনা, কেউ জানার নেই। কেউ খুঁজবে না, খোঁজার নেই কেউ।
একা থাকতে থাকতে,
থাকতে থাকতে
একা থাকা শব্দটাও দপ্তরহীন দপ্তর হয়ে,
একা একাই বাজিয়ে ঘন্টা ছুটির,
একা -একাই বন্ধ হবে একদিন।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকাটাই অভ্যাস হয়ে গ্যাছে আজ।
ঘুমিয়ে পড়েছে বিছানা বালিশ, ঘুমিয়ে পড়ে রাত দুটো আট মিনিটের ঘড়ি।
বুকের ভেতর জেগে থাকা চোখে - মস্ত শ্লোকে,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা বোধে একা লাগেনা আর।
শুধু মাঝেমাঝে বেড়াল, কালো হুলো বেড়ালের দৌড়ে কেটে দেয়া রাতে
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে একা থাকা হয়না আমার,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে একাকীত্ব বুঝতে পারিনা আর,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে বুকের ভেতর " লু - হাওয়ায়"
আমি দ্যাখি একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে হয়ে গ্যাছি আমি আস্ত এক গোপাল ভাড়,
আমি দ্যাখি একা বিছানায় পা বের করে শুয়ে থাকে আমার দুক্ষে'রো স্বজন।
আমি দ্যাখি নির্জনতার ভীড় ঠেলে উঠে দাঁড়ায় প্রতিরাতে আমার লাশ,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে - আমার সাথে রোজ রাত্তিরে
দ্যাখা হতে গিয়েও দেখা হয়না একাকীত্বের প্রতিশব্দ আমার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - একা থাকা হয়ে উঠেনা আমার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - আজকাল বুকের ভেতর,
চোখের ভেতর আমার ভেতর মরে পড়ে থাকি আমি,
আমি এক নির্জনতার মুখ থুবড়ে পড়া লাশ, আমি এক যুক্তাক্ষরহীন কান্নার জলে,
উঠান ভর্তি কষ্টের সন্তানদের নিঃসন্তান বোধে অযাচিত চীতকার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - অসহায়ত্বের মিছিলে আমিই এক অদ্বিতীয় ঈশ্বর,
যাকে খুজতে আসেনা বলে কবর দিয়ে হেটে চলে যাওয়া ইনসান দেখে,
আঞ্জুমান মফিদুলে নিভে যায় আমার শবে আমারই উঠে দাঁড়িয়ে ধরিয়ে ফেলা সিগারেট,
নাকে লেগে থাকা কোকেন আর উরু থেকে সন্ধির বিচ্ছেদে পড়ে থাকে নিস্ফল বৃষ্টি।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে,
তাই আর অভ্যাসের একা থাকা শার্টের ওপর একা থাকা হয়না আমার।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে রাত
ভোর হয়ে আসে,
তবু কুয়াশা সরেনা,
তবু বৃষ্টি থামেনা।
তবুও জেগে থাকে ঘুম।
তবুও জেগে থাকাটার মৃত্যু হয়না,
ঘুমটার ঘুমও আসেনা,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা হাতঘড়িটার হাসিতে।
যা তোমাক েছোঁব েনা-
তোমাকে যা ছোঁবে না, হু হু শিশ দেয়া পাখি।
তোমাকে যা ছোঁবে না, অপরাধশুন্য মধ্যাহ্ন।
তোমাকে যা ছোঁবে না, জানুয়ারির ছোট্টরাতের রাস্তাটা।
আচ্ছা তোমার চোখের কোলে কি..... নাহ থাক।
কাকে'র শবদেহ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কাকে'র স্বজন।
মৃত্যু চিরকালীন নিরাপদ একটা সড়ক, যেখানে
নীরবতা অন্তিম রহস্যের গন্ধ নিয়ে পাড়ি দেয় বেলা।
আচ্ছা তোমার ঠোঁটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা
আমার স্পর্শটা তুলে নিয়েছিলে তো,
নাকি এখনও ওখানে ক্ষুধার্ত জনপদের শিশুদের আদল,
নাকি এখনও ওখানে.......
যা তোমাকে ছোঁবে না,
আসলে যা তোমাকে একবার ভাবাবেনা,
আসলে যা তোমাকে একবার মনে করাবে না,
সেদিন বেলা চারটা,
অন্ধকার - টুপ বৃষ্টিতে মাথা ভিজিয়ে আকাশ দাড়িয়েছিলো।
তুমি " জানলাটা লাগাও একটু।"
বলতেই ঘোর অন্ধকারে বিদ্যুৎ ঝলসে উঠলো,
আমি তোমাকে আর পেলাম না,
অন্ধকারের জরায়ুসন্তান
আমি আলোতে হারিয়ে ফেললাম।
অ
থ
চ
আমার চা খেতে সময় লাগে দু'মিনিট।
অথচ এখন প্রচন্ড দুপুর,
অথচ ছুতার সেলাই করছে দুঃখজনক শব্দ।
অথচ যা তোমাকে ছোঁবে না,
দেখো
গড়াতে
গড়াতে
গড়াতে
গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছেটা কোথায়?
কোন শহরের, কোন জানলায় যেখানে চায়ের কাপে
ভেসে ওঠা সর তুমি হাল্কা সরিয়ে টেনে নিচ্ছো হেমলক?
একই শহরে একই আকাশে উড়তে থাকা ভেজা মেঘ
বুকে নিয়ে সেই অক্টোবরের শহরে থেমে আছি,
কোন ঘুম নেই, কোন নিখুঁত বিন্যাসের নিখোঁজ সংবাদ নেই।
অ
থ
চ
মরে যাওয়া আছে, বিনুনি করা অযত্নের মরে যাওয়া আছে।
তুমি কি শুনতে পাচ্ছোনা
তুমি কি শুনতে পাচ্ছোনা আমি একা.... থাকতে পারিনা।
তুমি কি বুঝতে পারছোনা আমি একা..... হাঁটতে পারিনা।
হোঁচটে হোঁচটে ক্লাউন আমি,
হাত পা নাড়াচ্ছি যন্ত্রণায় আর মানুষ, আলোকিতগুলো হাসছে বিনোদনে।
তুমি কি এখনও রোদ কেটে নিয়ে বসে থাকবে?
তুমি কি এখনও জেব্রার শরীরে দুইশ সাতাশ সাদাকালো দাগের এলজেবরায়
এড়িয়ে যাবে হৃদয়... যা মূলত তোমাকে ছোঁবে না।
ফেব্রুয়ারী ২৪
আমি জানি একদিন আমার সব অসুখ সেরে যাবে,
আমি জানি একদিন আমি আর প্রশ্ন করবো না -
মাছেরা কেনো নদীতে ঘুমায়? পাখিরা কেনো আকাশে শুয়ে থাকে নির্বিকার?
ইঁদুরের শরীরে সঞ্চারিত ব্যথা নিয়ে টিকটিকি কিভাবে ঘুমিয়ে থাকে,
পুরোটা ইশকুল জুড়ে পেজাতুলোর ডানায় কি করে ওড়ে কবরস্থানের প্রজাপতি!
আমি জানি একদিন হৃদপিন্ডে স্বল্পায়ুর বিকেলে ঝড়ের মতন শব্দ করা " হ্যাঁ অথবা না " সরিয়ে,
সকল অনিশ্চিত গতিবিধির রাত জেগে থেকে হাজরে আসওয়াদ চোখে চুমু খেয়ে নেবো একদিন।
আমি জানি একদিন আমার এইসব অসুখ সেরে যাবে,
সেরে উঠবে আরেকটি প্রাচীন মাতৃকা দেবতার জন্মযন্ত্রণা।
বন্ধ হয়ে যাবে ভালোবাসা-বাসির আশ্রম।
খুলে যাবে একটা নেই শব্দে খুলে যাবে সকল জুন মাসের তপ্তদুপুরবেলা।
একদিন, একদিন আমি জানি, আমিও ফিরবো ঘরে।
ঘরে ফিরে একদিন আমিও কোমরের নীচে আবিস্কার করে ফেলবো
একটা গাঢ় নীল নদ, এরপর তুমি যতই জলদস্যু বলো আমায়,
তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে আমি জানি একদিন আমি সকল অসুস্থতা থেকে
হ ন হ ন হেঁটে বেরিয়ে আসবো খুলে সকল অন্ধ দরোজা-
একদিন আমি জানি, জানলায় উঁকি দিয়ে একটা সকাল, চা খেতে খেতে পরীবাগের রাস্তায়
আমি হয়ত ভাস্কর নভেরাকে, তোমার কানে এসে জানিয়ে দেবো - সেদিনটা মাসের তৃতীয় শুক্রবার।
ডায়েরির পাতা থেকে ২৩১
শুনেছি তূমি নিজেই যেখানে অসুখ কারো!
সেই তোমার ও অসুখ হয়! আর প্রেসক্রিপশন এ জড়াজড়ি তোমার নিউরন!
ভুলে যাওয়া শোক
তুমি ভুলে গেছো গতজন্মের শোকসভায় আমি , জুতার ভিড়
খুলে রাখা জুতার ভিড়ে আমিও ছিলাম!!
ডিকশনারি
মানুষের জন্য ডিকশনারি লিখতে লিখতে আমার ঘুম ভেঙে যায়, আমি স্বপ্নের ভেতর ঘুমে আতকে উঠে বসি। আমি ঘেমে উঠি, আমি খাতা কলম নিয়ে বসতেই দ্যাখি ক্যালেন্ডারে লেখা আছে মৃত্যুর ক্ষণ।
আমি ঘুমের ভেতর স্বপ্নে, স্বপ্নের ভেতর ঘুমে - দুঃসাহসে পত্রিকা খুঁজি - খুঁজতে খুঁজতে দ্যাখি গতকালকের পত্রিকার এক কোনায় লেখা আছে - নাম পরিচয়হীন একটি মৃতদেহ উদ্ধার। লেখা আছে - মারা যাবার সময় তার পরনে ছিলো কালো টি শার্ট আর জিন্স। আমি স্বপ্নের ভেতর ঘুমে.. আমি ঘুমের ভেতর স্বপ্নে হাসতে হাসতে লিখে - অথচ হারাবার কালে আমার পরনে কি ছিলো তা আমি জানিনা। আবার ঘুমিয়ে পড়ি।
এভাবে
এভাবে অন্ধকার থেকে আলো সরাতে সরাতে আমাদের ছবি থেকে আমি ক্রমশ দূরে সরে যাই। বিকেলের কণে দেখা আলো দেখা হয়না । ছোঁয়া যায়না তুমি অথবা তোমাকে। এমিফিটামিন আমার চারপাশটায় একটা রুপোলি টিভিস্কৃনে।আটকে ফেলে আমায়, ঠিক যেভাবে দুবছর আগে মৃত ডাকহরকরার মেয়েটাকে আটকে ফেলেছিলো অজ্ঞাত অবয়ব। আমি আজকাল কিছু মনে রাখিনা। মনে রেখে হবেটা কি? একটা পদ্মপুকুর অথবা নিরাপরাধ দিয়াশলাই এইতো, তাইনা। তাই আজকাল আমার মন থেকে যায় আটশ ছাব্বিশ চিঠি, সোয়ালক্ষ অলিখিত চুমু এবং মৃত্যু তোমাকে দেখতে থাকা চোখ এখন রোদ মাখে কপালে; ঘামে ভেজেনা ।আজকাল আমি সেই মেয়েটিকে চিঠি লিখি, চাদের থেকেও একা যে মেয়েটি আয়নায় দাড়িয়ে বুক থেকে আমার; সরিয়েছিলো পাথরের চাই।সিড়ির পায়ে জুতো জোড়া তুলে রেখে যে তুমি বুকে হাটো তোমাকে লিখছিনা অনেককাল।মনে আছে সেই চিঠি সেই হলুদ খাম, মনে আছে। ডাকহরকরার মেয়ে ফিরে এসে একরাতে ঝুলে গ্যালো কোনার হিজল গাছে। কিন্তু তুমি; তুমি হয়ে উঠলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যার সূর্যাস্ত নেই।তাই দাতে ঠোট আকরে আমি বলছি এখানেই শেষ, এখানেই শেষ নার্সিসাস। এখান থেকে প্রমিথিউসের হাত ধরে একটা ফিনিক্স পাখি উড়বে । আকাশে কোনো সীমান্তবর্তী গ্রাম নেই, নেই নিরাপত্তা চৌকি।তাই দাতে ঠোট আকরে আমি বলছি এখানেই শেষ, এখানেই শেষ নার্সিসাস। এখান থেকে প্রমিথিউসের হাত ধরে একটা ফিনিক্স পাখি উড়বে । আকাশে কোনো সীমান্তবর্তী গ্রাম নেই, নেই নিরাপত্তা চৌকি। হয়ত একদিন সেই সময়েরা মরে যাবে – একদিন আমরা অনেকেই পাশ থেকে সিঁড়ি ভাঙবার সময় সেইসব স্নিগ্ধ মহিলাদের বাড়িতে গিয়ে উঠে যাবো রাতের অন্ধকারে, যারা হাতে হাত ঘষে আগুন জ্বালাতে সিদ্ধহস্ত। আমরা তাদের ভেতর গিয়ে আসন পেতে বসে হাসতে হাসতে সারারাত বলে যাবো
এখানে বসন্ত নেই, শরীরবিদ্যুৎ তাপে আর চাপে ক্রমাগত সব গ্রীষ্মের অবিশ্বাস্য ঘামে ভেজা রাত।আর বিদ্যুৎউৎপাদন কেন্দ্রের চলচ্চিত্র উৎসবে চিনিহীন গুনগুনে অর্থহীণ হয়ে যাবে উচ্চারিত সকল পবিত্র রাত, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ।
তোমার মেয়ে
একদিন তোমার বেগুনী ফ্রকের মেয়েটা , শাড়ি পড়বে!
একদিন তোমার ছোট্ট ছোট্ট পায়ের মেয়েটা দাঁড়াবে ইতিহাস বিভাগ,
মনোবিজ্ঞান বিভাগ মাড়িয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে।
অথবা লেকচার থিয়েটার ২ কিংবা কক্ষ্য ১০২৪ !
একদিন আধোবোলের শিশুটি তোমাকে জিজ্ঞেস করবেই-
" মা, সোয়েব মাহমুদ কে?"
আমি সেইদিনের অপেক্ষায়
আজ এখন মৃতবৎ জীবনে মৃত্যুকালীন সনদ পড়ছি।
তুমি, তুমি সেদিন জানবে
আজ কেনো উড়াল সেতুকে সপাটে চাবকে
ঈশ্বর ভয়ঙ্কর চাপা নিনাদে রোদ তুলে নিয়েছেন ; মাঝদুপুরেই।
চলে যাবো-
এতটা নিঃশব্দে দরোজা আটকে চলে যাবো, যতটা নিঃশব্দে ধূমপানও হয়ত
করা যায় না।
মা
রাতের বুক থেকে আঁচল খসে গেলেই নগ্নতা নয়; নগ্নতা নয়।
চোখের পর্দায় জেগে ওঠে কেবল বিমুগ্ধ জননী!
সুইসাইডাল এটেম্পট
একদিন আয়নায় ব্যবচ্ছেদে হৃদয়
আমি রিক্সা থেকে লাফিয়ে পড়ে এরোপ্লেনের নীচে, আত্মহত্যা করেছিলাম।
নির্জনতা জেঁকে বসেছে ৬৭
একটা মিথ্যেতে মুছে যাবে সত্য, নিহত হবে শাদা শিফনের নারীর জন্য ভালোবাসা। চিরদিনের মেথমানুষের ভীড়ে চীরকালের না বলা ভালোবাসা হয়ে যাবে – স্মৃতি। কোনও দিন কেউ জানবেনা , কেবোল অট্টহাসির ভেজা আয়নায় ফুঁটে উঠবে “ কখনওই টিকেট পাওয়া যায়নি।
হয়না ফেব্রুয়ারির রাত
এভাবে হয়না, এভাবে দিনেদুপুরে রাতবিরাতে ডেকে উঠতে পারেনা শিয়াল,
এভাবে সব সময় এই পৃথিবীর শ'বে উঠে
যেতে যেতে তন্ত্রে মন্ত্রে বারবার চালু হয়ে যেতে পারেনা বৈদ্যুতিক চুল্লী।
মরে যেতে পারেনা মৃত মানুষের জন্য অযোধ্যার গায়েবানা জানাজা,
চীতকার করে বারবার তিলাওয়াত হতে পারেনা তোমাকে ফেরাবার,
উলটো করে পড়া সুরা;
এভাবে বারবার চৌবাচ্চায় শুয়ে ইউরেকা ইউরেকা বলতে বলতে ক্লান্ত আমি,
ভীষণ নগ্নতায় মন খারাপ নিয়ে বসে বসে
কমাতে পারিনা ভালোবাসার আয়ু, অর্থহীণ কবিতার যাপিত জীবনে।
এবার তাই সমুদ্র ছোবে সমুদ্র তোমার।
উড়িয়ে পুড়িয়ে সকল লিখিত অলিখিত কবিতা,
মৃত্যুগুলো থেকে উঠে দাঁড়াবে বিগত অজস্র মৃত্যুবোধ।
অসুখে, অনিচ্ছুক মর্গ থেকে ছুটে ছুটে আসবে একটা বাবুই।
মার্চের রোদ
জানলার পাশেই যে রাস্তা, সেখানে রাত বাড়ে না, সকালও হয়না।
লাল টকটকে চোখে কেবলই জ্বর।
স্বজনহীন আমি পলক ফেলিনা, কেউ আসার কথা,
কাউকে আসতে হতো ওড়নায় নিয়ে রোদ।
অথচ সেখান থেকে এবার আর কেউ দ্যাখতে আসেনা, আমায়।
আমি চেয়ে থাকি, আমি কেবলই চেয়ে থাকি।
চোখের সাথে চোখের দ্যাখা হয়না।
আকাশের নীল মেখে গা'য়, দাঁড়িয়েছো বর্গাকার পাথরের চোখে।
একটা জন্ম- বেগুনী হরতকি জন্মে, হৃদয় থেকে তোমার; নিয়ে অবাক ভালোবাসা,
সমুদ্রের বুকে আমি সমুদ্র ছোঁবো নিশ্চিত।
তা যতই অভিমান থাকুক,
থাকুক সংবাদ শিরোনামে অব্যাহতি প্রাপ্ত বিজ্ঞাপন,
আমি হেরে যেতে দিতে পারিনা তোমায়।
আমি পরাস্ত হতে হতে পরাজিত বেশে,
অপেক্ষার হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে থেকে
হতে পারিনা মুক বধিরতার বাসস্ট্যান্ড।
আমি তোমাকে আমার তোমাকে,
তোমার তোমাকে,
তোমার আমাকে,
ভিজিয়ে দিয়ে জলে, হয়ে যেতে পারিনা নিরুদ্দিষ্ট মেঘ।
নয়'টা পঁচিশ
সকাল নয়টা পঁচিশ, জানুয়ারির শীতে খুলে বসেছো পত্রিকা।
কাপছো খাপছাড়া চায়ের কাপে.... তা একটু নড়েচড়ে বসো'তো,
তোমার বাষ্পরুদ্ধ নিরেট শরীরে প্রবেশ করতে দাও রোদ্দুর।
দাঁড়াও.... একটু দাঁড়াও।
ডায়েরির পাতা থেকে ক্রমশ
পালিয়ে বেড়ানো হরিণীর বুকডানায় বিকেলটা বিরক্তিকর সন্ধ্যায় যাচ্ছে,
বাবা খুঁজছেন জায়নামাজ, মায়ের হাতে বোনের বই।
দরোজা জুড়ে ডাকটিকেটের বাঘ ভাল্লুক সিংহ,
জুতোর ভেতর মোজা এবং স্কুল শার্ট গড়াগড়ি বিছানায়।
এসব মধ্যবিত্ত দৃশ্য হ্যাঙ্গারে ফেলে,
যে আমি জীবন ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম না বলে
ঠিক যেভাবে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়।
হতচকিত জীবনের রিকশায় বসে অ-বানিজ্যিক
সে আমার জন্য আমার আজ বড্ড মায়া হয়।
ডায়েরির পাতা থেকে ক্রমশ
সাতাশটা ঘুমের ঔষধ গিলে ফেলে
মাতাল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা অথবা হাত কেটে বোঝাবার
কি খুব প্রয়োজন ভালোবাসা আছে ওখানে?
মায়ের মুখ থেকে অস্ফুট ইশ শুনে তাকালে বোকাবাক্সে যেখানে বলছিলো
মাত্র, এইমাত্র মারা গেলো ....... কেউ হয়ত!
কবিতা লিখতে গিয়ে মারা পড়লো আজন্ম সাধের
শেষ বিকেলের রোদ মেখে।
মাত্র , এই মাত্র একজন কবি কলম তুলে নিয়ে মারা পড়লেন তীব্র ক্ষোভে বিচ্ছুরিত বিষণ্নতায়।
একা থাকতে থাকতে
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে - একা থাকাটাই ভুলে গেছি রাত,
আত্মহননে হয়ত আমাদের দেখা হবে- আমাদের হয়ত দেখা হবে ফেব্রুয়ারী;
বুকে উড়তে থাকা মাছির ডানায়- আজরাইলের নিঃশ্বাস অনুভব করতে করতে
আমাদের দেখা হবে নিশ্চিত!
ক্লান্ত আমি,
একা একা থাকতে থাকতে থাকতে
তাই ভুলে যাচ্ছি একা থাকা রাতগুলোতে মরে যায় কিভাবে য্যানো মানুষ?
আমাদের তাই দেখা হবে বিষাদে ফুটে ওঠা নরোম মৃত্যুতে বারবার
একা থাকা বালিশের একা থাকা বিছানায় সাড়ে তিন হাত আশ্রয় অথবা চুল্লিতে।
এইসব বৃহস্পতিবার দুপুর মেঘের সাথে লুটোপুটিতে
ছেনাল রোদের দুপুর আমার ভেতর আমাকে,
তোমার ভেতর আমাকে সাংবিধাণীক অথচ লাস্যময়ী
বিপন্ন বিষাদে ডুবিয়ে রাখা ছাড়া আর কি ই বা দিতে পেরেছে বলো।
আগে এইতো অল্প কিছুদিন আগেই, ভেবে দ্যাখো-
সমস্ত পৃথিবী আড়াল করে তোমার গালের তিলটাতে
চুমু খেয়ে আমি একটা পথ হয়ে গিয়েছিলাম।
হয়ে গিয়ে ছিলাম পাখি, তোমার বুকের আকাশে এক কিংবদন্তী পাখি!
মনে আছে?
তাই হয়ত শোকপ্রস্তাবে,
অনুচ্চারিত থেকে যায় নিকোটিন আর পেন্সিল হিল।
তাই হয়ত মন খারাপের দুপুরবেলায়
তোমার চোখের ভেতর চোখ হয়ে কাঁদতে পারিনা।
যোণী
যেখানে তোমারামার নিকাহ্ হয়না বিচ্ছেদ হয়না।
যেখানে তুমি ছেনাল জীবনের মতন লাফিয়ে উঠে পড়ো ঘোড়ায়;
যেখানে আমি লম্পট মৃত্যুর ন্যায় সমস্ত পেয়াজ ছাড়ানো কোষে সমগ্র আয়ুতে।
ঘড়ি ভাঙছে সিঁড়ি।।
ত্রুটি
কিছুটা জ্বরে বাকিটা দহনে সমুদ্র নিয়ে চোখে সমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিষাদগণিকারা।
প্রেমিকার বুকে থাকা পদ্ম ফুলে নাক ঘষতে ঘষতে আমি কেবল শতবৎসরের বিগত কিংবা আগত আবহাওয়া বার্তাটাই পাই, আর কিছু নয়।
চলে যাবো-
এতটা নিঃশব্দে দরোজা আটকে চলে যাবো, যতটা নিঃশব্দে ধূমপানও হয়ত
করা যায় না।
মা
রাতের বুক থেকে আঁচল খসে গেলেই নগ্নতা নয়; নগ্নতা নয়।
চোখের পর্দায় জেগে ওঠে কেবল বিমুগ্ধ জননী!
সুইসাইডাল এটেম্পট
একদিন আয়নায় ব্যবচ্ছেদে হৃদয়
আমি রিক্সা থেকে লাফিয়ে পড়ে এরোপ্লেনের নীচে, আত্মহত্যা করেছিলাম।
নির্জনতা জেঁকে বসেছে ৬৭
একটা মিথ্যেতে মুছে যাবে সত্য, নিহত হবে শাদা শিফনের নারীর জন্য ভালোবাসা। চিরদিনের মেথমানুষের ভীড়ে চীরকালের না বলা ভালোবাসা হয়ে যাবে – স্মৃতি। কোনও দিন কেউ জানবেনা , কেবোল অট্টহাসির ভেজা আয়নায় ফুঁটে উঠবে “ কখনওই টিকেট পাওয়া যায়নি।
তোমায় দিলাম, রোদের ভীড়ে ভীষণ একচিমটি মেঘ-" বাড়ি এসো।
একা থাকতে থাকতে ২
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে আমার ভেতর একটা সবুজ গাছ জন্মাবে। কোন ফল নেই, ফুল নেই, গাছের নীচে
কোনও ছায়াও নেই। একা থাকতে থাকতে , থাকতে থাকতে আমার ভেতর জন্মাবে একটা বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিদ্যুতহীন।
এভাবেই, ঠিক এভাবেই একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একদিন আমি আমার ঘরেই আমি একা পড়ে থাকবো
মৃত;স্বজনহীন।
কেউ জানবেনা, কেউ জানার নেই। কেউ খুঁজবে না, খোঁজার নেই কেউ।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা শব্দটাও দপ্তরহীন দপ্তর হয়ে, একা একাই বাজিয়ে ঘন্টা ছুটির, একা
একাই বন্ধ হবে একদিন।
একা থাকতে থাকতে ৩
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকাটাই অভ্যাস হয়ে গ্যাছে আজ।
ঘুমিয়ে পড়েছে বিছানা বালিশ, ঘুমিয়ে পড়ে রাত দুটো আট মিনিটের ঘড়ি।
বুকের ভেতর জেগে থাকা চোখে - মস্ত শ্লোকে,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা বোধে একা লাগেনা আর।
শুধু মাঝেমাঝে বেড়াল, কালো হুলো বেড়ালের দৌড়ে কেটে দেয়া রাতে
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে একা থাকা হয়না আমার,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে একাকীত্ব বুঝতে পারিনা আর,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে বুকের ভেতর " লু - হাওয়ায়"
আমি দ্যাখি একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে হয়ে গ্যাছি আমি আস্ত এক গোপাল ভাড়,
আমি দ্যাখি একা বিছানায় পা বের করে শুয়ে থাকে আমার দুক্ষে'রো স্বজন।
আমি দ্যাখি নির্জনতার ভীড় ঠেলে উঠে দাঁড়ায় প্রতিরাতে আমার লাশ,
একা থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে - আমার সাথে রোজ রাত্তিরে
দ্যাখা হতে গিয়েও দেখা হয়না একাকীত্বের প্রতিশব্দ আমার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - একা থাকা হয়ে উঠেনা আমার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - আজকাল বুকের ভেতর,
চোখের ভেতর আমার ভেতর মরে পড়ে থাকি আমি,
আমি এক নির্জনতার মুখ থুবড়ে পড়া লাশ, আমি এক যুক্তাক্ষরহীন কান্নার জলে,
উঠান ভর্তি কষ্টের সন্তানদের নিঃসন্তান বোধে অযাচিত চীতকার,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে - অসহায়ত্বের মিছিলে আমিই এক অদ্বিতীয় ঈশ্বর,
যাকে খুজতে আসেনা বলে কবর দিয়ে হেটে চলে যাওয়া ইনসান দেখে,
আঞ্জুমান মফিদুলে নিভে যায় আমার শবে আমারই উঠে দাঁড়িয়ে ধরিয়ে ফেলা সিগারেট,
নাকে লেগে থাকা কোকেন আর উরু থেকে সন্ধির বিচ্ছেদে পড়ে থাকে নিস্ফল বৃষ্টি।
একা থাকতে থাকতে ৪
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে,
তাই আর অভ্যাসের একা থাকা শার্টের ওপর একা থাকা হয়না আমার।
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে রাত
ভোর হয়ে আসে,
তবু কুয়াশা সরেনা,
তবু বৃষ্টি থামেনা।
তবুও জেগে থাকে ঘুম।
তবুও জেগে থাকাটার মৃত্যু হয়না,
ঘুমটার ঘুমও আসেনা,
একা থাকতে থাকতে, থাকতে থাকতে একা থাকা হাতঘড়িটার হাসিতে।
তোমাকে যা ছোঁবে না, হু হু শিশ দেয়া পাখি।
তোমাকে যা ছোঁবে না, অপরাধশুন্য মধ্যাহ্ন।
তোমাকে যা ছোঁবে না, জানুয়ারির ছোট্টরাতের রাস্তাটা।
আচ্ছা তোমার চোখের কোলে কি..... নাহ থাক।
কাকে'র শবদেহ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কাকে'র স্বজন।
মৃত্যু চিরকালীন নিরাপদ একটা সড়ক, যেখানে
নীরবতা অন্তিম রহস্যের গন্ধ নিয়ে পাড়ি দেয় বেলা।
আচ্ছা তোমার ঠোঁটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা
আমার স্পর্শটা তুলে নিয়েছিলে তো,
নাকি এখনও ওখানে ক্ষুধার্ত জনপদের শিশুদের আদল,
নাকি এখনও ওখানে.......
যা তোমাকে ছোঁবে না,
আসলে যা তোমাকে একবার ভাবাবেনা,
আসলে যা তোমাকে একবার মনে করাবে না,
সেদিন বেলা চারটা,
অন্ধকার - টুপ বৃষ্টিতে মাথা ভিজিয়ে আকাশ দাড়িয়েছিলো।
তুমি " জানলাটা লাগাও একটু।"
বলতেই ঘোর অন্ধকারে
বিদ্যুৎ ঝলসে উঠলো,
আমি তোমাকে আর পেলাম না,
অন্ধকারের জরায়ুসন্তান
আমি আলোতে হারিয়ে ফেললাম।
অ
থ
চ
আমার চা খেতে সময় লাগে দু'মিনিট।
অথচ এখন প্রচন্ড দুপুর,
অথচ ছুতার সেলাই করছে দুঃখজনক শব্দ।
অথচ যা তোমাকে ছোঁবে না,
দেখো
গড়াতে
গড়াতে
গড়াতে
গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছেটা কোথায়?
কোন শহরের, কোন জানলায় যেখানে চায়ের কাপে
ভেসে ওঠা সর তুমি হাল্কা সরিয়ে টেনে নিচ্ছো হেমলক?
একই শহরে একই আকাশে উড়তে থাকা ভেজা মেঘ
বুকে নিয়ে সেই অক্টোবরের শহরে থেমে আছি,
কোন ঘুম নেই, কোন নিখুঁত বিন্যাসের নিখোঁজ সংবাদ নেই।
অ
থ
চ
মরে যাওয়া আছে, বিনুনি করা অযত্নের মরে যাওয়া আছে।
তুমি কি শুনতে পাচ্ছোনা
তুমি কি শুনতে পাচ্ছোনা আমি একা.... থাকতে পারিনা।
তুমি কি বুঝতে পারছোনা আমি একা..... হাঁটতে পারিনা।
হোঁচটে হোঁচটে ক্লাউন আমি,
হাত পা নাড়াচ্ছি যন্ত্রণায় আর মানুষ, আলোকিতগুলো হাসছে বিনোদনে।
তুমি কি এখনও রোদ কেটে নিয়ে বসে থাকবে?
তুমি কি এখনও জেব্রার শরীরে দুইশ সাতাশ সাদাকালো দাগের এলজেবরায়
এড়িয়ে যাবে হৃদয়... যা মূলত তোমাকে ছোঁবে না।
মানুষের জন্য ডিকশনারি লিখতে লিখতে আমার ঘুম ভেঙে যায়,
আমি স্বপ্নের ভেতর ঘুমে আতকে উঠে বসি।
আমি ঘেমে উঠি,
আমি খাতা কলম নিয়ে বসতেই দ্যাখি
ক্যালেন্ডারে লেখা আছে মৃত্যুর ক্ষণ।
আমি ঘুমের ভেতর স্বপ্নে,
স্বপ্নের ভেতর ঘুমে - দুঃসাহসে
পত্রিকা খুঁজি -
খুঁজতে খুঁজতে দ্যাখি
গতকালকের পত্রিকার
এক কোনায় লেখা আছে " নাম পরিচয়হীন একটি মৃতদেহ উদ্ধার।"
লেখা আছে " মারা যাবার সময় তার পরনে ছিলো কালো টি শার্ট আর জিন্স।"
আমি স্বপ্নের ভেতর ঘুমে..
আমি ঘুমের ভেতর স্বপ্নে হাসতে হাসতে
লিখে " অথচ হারাবার কালে আমার পরনে কি ছিলো তা আমি জানিনা।"
আবার ঘুমিয়ে পড়ি।।
মৃত্যুসনদ
ব্যাস এইতো, এতটুকুই ছিলো এখানে বলবার। স্রেফ এতটুকুই ছিলো একটা জীবন, যা একটু আগে হাসপাতালে মাথার উপর রাখা জ্যামিতিক রেখা থেমে যাওয়া যন্ত্রে থেমে গিয়ে বসে আছে, দমকা একটা বাতাস বুকে জড়িয়ে, আসলে জমাট বেধে গ্যাছে বাতাস, বেরুচ্ছেনা। ব্যাস এতটুকুই ছিলো আয়ু এখানে, তবুও কত শত কান্না, বাজারে গিয়ে আমি কখনও কাউকে খুশি করতে পারিনি বলে মাছের সাথে নিয়ে আসতাম নিরুৎসাহিত লাল শাক, মাঝেমাঝে তেলের সাথে ছোট্ট একটা বাদামের খোসা।
বুজে গ্যাছে চোখ, চোখের পাতা, থিতু হয়ে গ্যাছে অবশেষে নিঃশ্বাসহীনতা অথচ জীবন আমাকে থিতু হতে দেয়নি জীবনে। কি যেনো একটা চাই, একটা চাই কিছু একটা। ছুটে ছুটে বেরিয়েছি এখান থেকে সেখানে, ওখান থেকে এখানে, শিথান থেকে উঠানে, উজান থেকে ভাটিতে, দৌড়ে দৌড়ে গ্যাছি শুধু, সাতরে সাতরে গ্যাছি ঠাই পাইনি।
অথচ আমার একটা বাবুই ছিলো, ছিলো একটা ক্যাকটাস, ছিলো অপহরণের বাসভ্রমণ শেষে সমুদ্রে আমাদের নিঃশ্বাসে সূর্যাস্তে আমাদের পা। অথচ আমার একটা শহর ছিলো, ছিলো পরীবাগ, খিলক্ষেত, কমলাপুর, মিরপুর। ছিলো বইমেলা ফেব্রুয়ারি ২৪, ছিলো একটা আশ্রয়। অথচ আমাদের একটা কথা ছিলো, আমাদের বুকের ভেতর মরে যাওয়া পাখিদের মিছিল ছিলো, যেখান থেকে ধ্বংসডানায় উড়ে উড়ে আমরা হাসছিলাম ফিনিক্স পাখির মতন।
আমার বাবা ছিলো মা ছিলো ভাগ্নে ছিলো বোনও ছিলো। আমার ছিলো ছাদের উপর একটা ঘর, যেখান থেকে আমি দেখে দেখে যেতাম আমার ভাই যাচ্ছে উড়োজাহাজে স্বপ্ন সত্যিতে, যেভাবে একদিন আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম। আমার একটা বন্ধু ছিলো, যে বলতে পারতোনা থেকে যা, শুধু শকুনের শুশ্রূষা নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের গালাগাল করতো। আমার একটা কুকুর ছিলো, একটা কুকুর যে কিনা আমাদের রেমন্ডের ঘড়িটার নিচে
দাঁড়িয়ে থাকতো আমি আসবো আবার ফিরে। আমার একটা বাস ছিলো, যতবার আমি থমকে গ্যাছি ততবার আমাকে একটা ফার্মেসীর সামনে নিয়ে দাড় করিয়ে দিতো, আমার একটা নাম্বার ছিলো যতবার আমি হাটু গেড়ে বসে পড়েছি স্বপন ভাইসহ একটা চায়ের দোকানে আমাকে বলেছে আপনাকে বাচতে হবে আমার জন্য, কবিতার জন্য। এত
সহজে হার মানছিনা। ব্যাস এতটুকুই তো ছিলো আমার, আর কিছু না, একটা বাবুই একটা ব্লাউজ একটা কাঠ গোলাপ, একটা পল্লবী একটা মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, একটা সময় একটা শিশিরে ভিজে যাওয়া স্নান, একটা স্নাতকোত্তর বিপন্ন দুক্ষবোধ, এইতো কেটে যাওয়া জীবন অথচ রক্ত দেখেনি কেউ।
আমি, এইতো আছি এখন চলে যাবো বলে। আমি এইতো আছি থাকবোনা আর কিছুতেই। আজকাল বেঁচে থাকা এতোটা ভারবাহী হয়ে উঠেছিলো যে চোখ বুঝলেই উদোম আমার আমিকে বৃদ্ধাশ্রম ভেবে মিলিয়ে যেতো সমস্ত মাতৃসদন।
ব্যাস এইতো আমি নিথর নার্সিংহোমে, নিশ্চিত মৃত্যুতে। এইতো আমি বারবার দেরী হয়ে যেতো বলে আজ মৃত্যুর বহু আগে থেকেই এগিয়ে গিয়ে আলিঙ্গন করে সময়ের আগেই, সময় করিয়েছি মৃত্যুসাক্ষাতের, বলা তো যায়না যদি দেরী হয়ে যেতো আবার।
ডাক্তার অবশ্য আমার পরিচয় বের করতে পারেনি এখনও, ভাবছি যাবার আগে,শেষ দমকা বাতাস যা আটকে আছে বুকে'তে - তা বের করে দিতে দিতে বলে যাবো " আমি, ব্যাস এতটুকুই ছিলো আয়ু এখানে, দুক্ষবোধের দুক্ষিতরোগ পুড়ে গিয়ে জমিন আসমানের সব পেয়েছিলো পরমায়ু। আমি আমি কেউনা, এটাই একমাত্র পরিচয়। যদি সত্যিই চান জানতে তবে বিজ্ঞাপন দিয়ে দিন জনাব, একটা লাশ যার মানিব্যাগে ছিলো কিছু কপালের টিপ আস্ত সূর্যোদয় সূর্যাস্ত রাখা, দেখবেন একটি খবর পাঠাবে কেউ। ব্যাস এতটুকুই, নার্স আমাকে একটু উঁচু করে ধরুন, আমি শুয়ে শুয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারিনা, আমাকে ধরে বসান প্লিজ, আমি শুধু উত্তরহীন জীবনে শেষ প্রশ্নে মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করতে চাই মৃত্যুকালে মৃত্যুর বয়স হয়েছে কত? আমি একবার জড়িয়ে ধরে বলতে চাই " দেরী হলো কেন আসতে?"
ব্যাস এতটুকুই তো ছিলো একটা জীবন যাকে সহজ শব্দটা লিখতে পারার চেয়েও ছিলো সহজ ভুল বুঝবার। ব্যাস এতটুকুই
আমার মৃত্যুর পর অবশেষে বৃষ্টি নামলো, ভিজিয়ে দিয়ে আমাকে।
অবশ্য সরে গেলে তোমরা,
এ-ই সাতই জুনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যারা ছিলে।
এ-ই সাতই জুনের রাস্তায় যারা ছিলে না,
এ-ই সাতই জুনের রাস্তায়... হাহ..
অবশেষে জানলাম
জন্মেই একা আমি, মৃত্যুতে আঞ্জুমান মফিদুল।
অবশেষে দেখলাম-
কোথাও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত হয় নি,
কোথাও শোকে তাপে দগ্ধ কালো ব্যাজ ছিলো না।
একাডেমি, শহীদ মিনার
না স্মৃতিসৌধ ; বিতর্ক নেই।
সাতদিনের শোক প্রস্তাব রাখা হয়নি জাতিসংঘে।
শুধু
আমার মৃত্যুর পর বৃষ্টি নামলো।
শুধু
আমার মৃত্যুর পর তোমরা সরে গেলে, তোমাদের ছাতা ছিলোনা।
বুকের ভেতর স্তব্ধতায় করতলজুড়ে বৃষ্টি,
কপালে নেমে আসা পাখিঘর আর হামাগুড়ি দেয়া খামারবাড়ি
হৃদপিন্ড থেকে শিরা উপশিরায় পাখির মতন হরমোনজুড়ে
গান গায়, অথচ কি আশ্চর্য দেখো!
স্পষ্টত ঠোঁট কোনও ভাষা,
জিহবা কোনও শব্দ,
নাক কোনও তরঙ্গ উচ্চারণ করেনা।
কেবল চোখ- দুজোড়া চোখ একে অন্যের দিকে
পারস্পরিক দূরত্ব বাড়াতে বাড়াতে, অপলক দৃষ্টিতে
মোটর জাহাজ,
মোটর জাহাজের আধখোলা জানলা দিয়ে একটা বিদায়ী সম্ভাষণ,
কড়া নেড়ে দূর থেকে দূরে যায় অনুচ্চারে,
দূরে যেতে যেতে সদ্যবিদায়ে সব ঝাপসা,
সব ধোঁয়াটে।। ইস্পাত দৃঢ় অস্পষ্টতা।
নভেম্বরের রাত সাড়ে এগারোয়
কুয়াশা-মেঘ-অবদমিত কষ্ট
নিপীড়িত দ্বীর্ঘশ্বাস,
থেমে থেমে আধঘুমে চলাচলে স্পন্দনগুলো
বৃষ্টি হয়ে নামে বুক থেকে শহরের সু-প্রাচীন কালো রাস্তায়।
অথচ জানো জুই,
দোয়েল-শাপলার মূদ্রাস্ফিতি,
ষাটগম্বুজ মসজিদের হাতবদলি বাহকে,
ঘুচিয়ে পাশাপাশি শুয়ে থাকা অমার্জিত অভাব।
দু-দন্ড স্বস্তিতে হুডখোলা রিকশায়, চায়ের কাপের পিঠ বেয়ে নামা
সোনালী জলে, প্রজাপতির ডানায় ভর করে
পরমাত্মীয় সকল দুঃখবোধের কার্ফ্যু ভেঙে
দু-জোড়া ভালোবাসা-বাসি পায়ে হেটে চলা হাসিতে
তুমি- আমি শব্দযুগলে, আমাদের হবার কথা।
দশ-দশটা আঙুলের সংসারে,
দিনগুলো খুনসুটি
রাতগুলোতে কপট রাগের সন্তাপে ভেঙে পড়া মিছরির
টুকরো টুকরো মূহুর্তে তোমার সুখী গৃহিণী জোছনায়,
আনন্দঘন আমাদের একটা চার দেয়ালে,
একটা আকাশ,
একটা বাড়ি,
একটা ঘর, একটা বিষাদে- অসুখের সুখে
একটা ঘর হবার কথা।
প্যান্টের পকেট থেকে,
শাড়ির আচল থেকে,
শীতকাল আসন্ন অনিবার্য জেনেও
তোমার কপালে একটা অনন্ত বসন্ত সেটে দেবার কথা।
অথচ, দৃশ্যের অন্দরমহলে সম্প্রচারিত দৃশ্যে তুমি যাচ্ছো বহুদূর।
আসলে
বিদায় শব্দটা আমি বুঝে উঠতে পারিনা
মাতামুহুরির করালগ্রাসে ডুবোচর আমি,
পৃথিবীর ইতিহাস থেকে বিদায় শব্দটা লিখেও
কেটে দিয়েছি।
কেটে দিয়ে বুকের উঠানে হৃদপিন্ডের শিথানে
আশাবাদী রোদের চাষে,
লিখে দিয়েছি মুক্তির কবিতা,
লিখে দিয়েছি
" বিজয় শ্লোগাণ
লেখা হবে, লেখা হবে জন্ম উপাখ্যান " ভালোবাসি।
কেবল এবং কেবলমাত্র তুমি আসবার পর।।"
আমাকে প্রত্যাখ্যান করে আর যাবে কতদূর,
বলো- বলো দেখি?
আমাকে উপেক্ষায় আততায়ী তোমার ঠোঁট আর কতকাল?
কতকাল তুমি ঘরে বসে থেকে থেকে বাড়াবে বয়স চোখের।-
আমি যাচ্ছি- জানি তুমিও যাচ্ছো সমুদ্রে অন্যপথে
বিষণ্ণতায়- অথচ আমাকে বলছো তুমি ঘরে বসে থাকবে
আমাকে বলছো আকাশে যাবে?
চাপা দিয়ে পাথর তুমি অবসাদের ব্যবচ্ছেদে হেসে ফেলছো কড়ে আঙুলে।
আচ্ছা তুমি কি জানো-
এমন পাথর চাপায় জন্মায়নি পাথরকুচিও।
অনেক কিছু হয়ত বলতে চাই আমি কিন্তু শহুরে কোলাহল গ্রাস করে শব্দ,
অসারতা নামে সলজ্জিত আলোয় বাক্যে জিহবায়।
হয়ত ব্যর্থতা নিয়ে বুকে-
একদিন আমি সটান শুয়ে পড়বো তোমার বৃষ্টি বিধৌত তলপেটে-
হয়ত একদিন তোমার চিবুকের মহাসড়কে নামাবো অঝোর বৃষ্টি।
হয়ত একদিন তোমার চোখে রেখে ঠোঁট শুষে নেবো বেদনার আহত বোধ।
হয়ত কোনকিছুই পারবোনা - হয়ে কাচের কাক তাকিয়ে থাকবো
বুকের উদ্যানে তোমার একটু আশ্রয়ের তাগিদে-
আমি পেতে দেবো আমার কাঁধ - বলে হয়ত দেবো ঘুমাতে পারো- নিরাপদ আমার কাঁধে রেখে তোমার মুখ
তুমি জ্বালাতে পারো নিরাপরাধ দেয়াশলাইতে একটি মোমবাতি।
অথবা- খুলে ফেলে সকল জড়তার আড়ষ্ট আড়ত -
তুমি হেটে যেতে পারো- তুমি আঙুল বোলাতে পারো
তুমি বলে দিতে পারো -
প্রেমিক আমার-
উন্মোচন করে দাও তোমার বুকের আমাজন।
আমি জ্বরের বুকে উড়াবো ঘুড়ি।
নদীগড়া আনন্দে তুমি কেঁদে দিতে পারো
তুমি হেসে উঠতে পারো ভোরের খিলখিল শব্দে।
তুমি দু-বেনী ঝুলিয়ে ঢুকে পড়তে পারো
হৃদয়ে আমার - তোমার একমাত্র ইশকুল।
আমি বাধা দেবোনা- আমি হুহুবাহু'তে ছেড়ে দিয়ে ওজোনস্তর
লিখে দেবো - আঙুলের বায়োডাটা জেনে যদি যাও ক্ষতি নেই
দুপুর থেকে
সন্ধ্যে থেকে
বিকেল থেকে
রাত থেকে
এমনকি নাভীতলদেশে উন্নতশিরের ভোর থেকে
অপহরণ করে নিয়ে যাবো একদিন।
একদিন মুছে দেবো মাকড়শারজাল - তীব্র পোষ্টার
আর কাঁধে নিয়ে তোমার পা বন্ধ করে দেবো
নখ ভর্তি নেইলপলিশে মিথ্যে মিথ্যার মুখভর্তি হা।
মুছে দেবো চিরতরে যোণীর অকাল বিরক্তভাব।
যে হোটেলে তুমি ভাত খেলে,
ভাত খেতে আসা সবাইকে কি তুমি চেনো?
আমি শাহবাগ যেতে চাই না, মুখ ঠিকঠাক রাখতে চাই। অথচ শাহবাগ গেলে আমি আমাকে থামাতে পারিনা শুয়োরের বাচ্চা শব্দটা উচ্চারিত হয়ে যায়।
অসহনীয় শনিবার
বহুদিন হয়ে গ্যালো নিশ্চয়তার সামাজিক নোখে অভ্যস্ত যাপিত জীবন থেকে কাউকে কলার চেপে ধরে নামিয়ে রাস্তায়, কবিতা বলছেনা " চোপ শালা বানচোদ, লেখ, একটা কবিতা লেখ।"
দুঃখিত শব্দটা বলে দেয়া উচিৎ ছিলো ; পারিনি। তাই দুঃখিত শব্দটি যোণীর অন্ধকার খুটছে!
শুনেছি স্বপ্নেই গর্ভবতী তুমি,
বিদ্যুৎচমকের মতন তাকালো বারান্দায় তোমার ফুপি -
আলো আর অন্ধকারে খুলে কার নাইটি - বলছিলাম
স্বপ্নে তোমাকে গর্ভবতী করবার দায় আমি কেনো নেবো?
তোমার স্বপ্নে তো আর আমি ছিলাম না।
যদিও আমি কিছুটা বিভ্রান্ত আছি, যদিও এখন রাত একটা সাতাশ ,
তবুও শার্টের বুক পকেট থেকে একটা সমুদ্র বেরিয়ে আসে,
একাকীত্ব একটা বেগানা আওরাতের লম্বা শুয়ে থাকে।।
ভালোবাসা যাদুঘরে সম্পর্ক এক রোদ বিষয়ক স্মৃতির সেমিনার!
পকেটহীন পাজামায়, মুঠোয় আটকানো বাবু নিয়ে টানাটানি খেলা!
এতদিন খেলেছি বৃথাই, রিকশা।
বুকের ভেতর অনাবিষ্কৃত নীলনদে পরম অনাত্মীয় এক আত্মীয়ের বসবাস ।
মাদক বিরোধী আন্দোলনের নামে চলছে সাংসদীয় মাদক ব্যবসা।
মধ্যরাতের রেডিও প্রচার করছে অনুরোধের হস্তমৈথুন বার্তা।
সামরিক,বেসামরিক সব জিপে পাচার হচ্ছে জলপাই!
ধর্ম বর্ম হচ্ছে.....
প্রতিক্রিয়ায়, রতি-খেলার ঘরটায় লাল মদের আসরে শরীরে
বিক্রি হয় এনজিও ফোরাম!
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব যোণীতে ক্যামোফ্লেজ সঙ্গমে বাড়ছে ঋণ ,
বাড়ছে প্রজনন শুয়োরের।
"শেষ হওয়া দরকার খোলা জানলার মতন , অচ্ছুৎ এক জীবন।"
" শীতের দুপুর অনেকটা হেলে পড়া মধ্যবয়সী মূখরা রমণীর মতন; ছিড়ে যাওয়া অস্তিত্বে স্থায়িত্ব কম নিয়ে আসে।"
অতঃপর - "আঁজলা ভরা পানিতে জামা ভেজা নিয়ে যে আমি আপনার কবিতা পড়বো বলে দাঁড়িয়ে থাকি,
সে আমার; আপনার প্রস্থানের পর সেখানে থাকাটা প্রয়োজন মনে করিনা।
বিকাল তিনটা নয় মিনিট-
একটা চু'পের মাঝে চুপচাপ বসে ভাবি;
আচ্ছা মেলোড্রামাটিক নিস্তব্ধতার বিছানায় শুয়ে --
আমি এত বছর ঘুমিয়েছি কি?
নাকি পোট্রেট শুয়ে বসে লেজ নাড়িয়েছি
ল্যান্ডস্কেপ বিছানাপত্র জুড়ে; যেন এক বিষন্ন কুকুর।
আমি জানি না
জানা হয় না
আমার সামনে হতাশার সমুদ্র,
ঘুমাতে পারিনা
এড়াতে পারিনা সাঁতার কেটে বেরুতেও পারিনা....
শেষরাতের তাহাজ্জুদে শুধু দেখি
বিব্রতকর হাই তুলে হেটে যায় হাসপাতাল।
দেখি হেরে যাওয়া রক্তের উপর মাছি।
দেখি শেষতক কসমোপলিটান নাগরিক বিতানে,
ব্ল্যাককফি উইথ ডুবডুব ফিনাইল
ফেনায় ফেনায় প্রেম সেলস গার্ল হয়-
জিভ থেকে জিভে টরে টক্কা উফহ ফাঁকেফাঁকে হুম,
একটা আততায়ী হুররে,
একটা নিস্তব্ধ উপর-নীচে ঘাতক নিউরো সিফিলিস,
ঘুপচি আংগুলের ফাঁকেফাঁকে
ক্রেডিট কার্ডের বারকোডে ঝুলানো ব্রেসিয়ার,
মোড়ে মোড়ে ফায়ারিং স্কোয়াড, করে থোড়াই পরোয়া
নগ্ন দেহে বাড়ি বাড়ি আত্মা বিক্রি করে।
একপাল শুয়োরের কামে
পেপসির ভেতরে সোডিয়াম কার্বনেট বুদবুদ-
অর্থাৎ ঐ যে শোনো ডাকে মর্ডানিজম,
যেখানে নিজের ঘর তুলতে
অন্যের
হলদে জন্ডিস চোখে
ইজারা দেয়া নিজের স্বপ্ন।
হয়না এভাবে হয় না - এভাবে আমি পারিনা -
আমাকে তোমার পা কাঁধে তুলে নিতে হয় -
তাই শুয়ে শুয়ে আমি পারিনা বলেই
সবশেষে,
আবার,
যখন বিরতিহীন মর্ডান শ্লোক সংবলিত
সোশ্যাল নেটিভ রানওয়ে জুড়ে চলছে ঋজু সভ্যতার বিনির্মাণ-
তখন প্রাগৈতিহাসিক পাজামার ফিতে খুলে তাই
আবার আমি একটা চু'পের মাঝে গোল হয়ে
চুপচাপ
বসে থাকি!
দাউদাউ রবিবার
দুপুর একটা নয় মিনিট -
মানুষ যায় আর আসে, সবকিছু এক জায়গায় স্থির থাকেনা, থেমে থাকেনা। আবার কেউ চলে গিয়েও ফিরে আসে। ফিরে এলে দেখতে পায় একটা জখম আড়ালের ধোঁয়া। সবাই ফিরে আসে হয় বৃত্তে না হয় কেন্দ্রে। আমার মনে হয় ফিরতে হবে, এই নক্ষত্রমন্ডলীর মাঝে হাঁসফাঁসের জীবন। মিথ্যে দরোজা খোলার আয়োজন আর ভালো লাগছেনা আমার।
বিকেল চারটা-
তোমার টেলিফোন ও ঘড়ি অস্থিরতায়, মাঝরাতে রান্নাঘর থেকে বের হয় সময় নিয়ে
লোক দ্যাখানো নদী বিশয়ক আলোচনা।
সন্ধ্যা সাতটা নয়-
" অবাক আয়নার শহর,তুমি।
যতটা আর্থিক তুমি ততটা আত্মিক নও।
রাত এগারোটা-
অন্তহীন জার্নাল এভাবেই পরে থাকে আলোকচাতুর্যে।
এই নভেম্বরে আর কোনও কবিতা লেখা হয়না।
রাত দুইটা উনত্রিশ
সরব বিক্ষোভ নীরব থাকার
এখন প্রতিযোগিতা প্রলেতারিয়ার
একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে চুপ করে থাকো,
কথা বলবার কি প্রয়োজন?
একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার।
একটা দুটো শ্লোক ভেঙ্গে খেতে হয় শোক।
আমি সবুজের দাপাদাপি বুকচাপা দিয়ে,
মুখ নীচু ঢুকে পড়ি নিজের ভেতর,
পরাস্ত আমার ভেতর পরাজিত এক আমি।
অথচ অভি, আমার বলার ছিলো
আমার বলার ছিলো অনেক কিছুই।
আমার বলার ছিলো -
তোমার ব্যক্তিগত জেলে জাল ফেলে রাখে মোহনায়,
আমি প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেনেছি
একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার,
তাই যোগগুলোকে গুন ভাগ না করে,
যোগগুলোকে বিয়োগাত্মক বিদায়ে মুগ্ধতার কাছে
জন্মান্ধ আমি নাবিক ; তোমার নাভী উপকুলে হুহু বাতাসে
জোছনার জাহাজে চাঁদের সমুদ্রসীমা পেরিয়ে চলে যাবো।
জেব্রাক্রসিং- দেবতাদের ঠা ঠা হাসি ছাপিয়ে শব্দের গর্জন
এখন একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার,
যতিচিহ্নহীন মাইলফলকে বাড়ছে নীরব কাউন্টডাউন
এক... দুই.... তিন.... দুই.... এক!
এখন এক দারুন প্রতিযোগিতা চলছে নীরব থাকার,
বৃষ্টি টেনে নেয় অবাধ্য প্রেমিক
রোদের ভেতর থেকে বুকের স্তব্ধীভূত পাজরে।
একটা নীরব... একটা বাধ্যগত শান্ত..
একটা প্রতিযোগিতা...
একটা সময়... চলছে নীরব থাকার।
সোমবারটা ভালো লাগে না আমার -
একদিন পথভুলে কোথাও চলে এসেছিলাম নাকি কেউ নিয়ে এসেছিলো তা চিন্তা করাটা অবান্তর।
সন্ধ্যা সাতটা ছাব্বিশ-
" এই রিকশা, এই যাবেন , যাবেন আমার বাড়ি, আমার ধুলো জমা মহল্লায়।"
রাত দুইটা ছয়-
শাড়ি খুললেই তোমার বয়স বেড়ে যায় -
ভোর চারটা-
আর কতকাল রোদের জরায়ু ভিজবে,
ভুল বুঝে আশটে আলসার কুয়াশায়?
বিকাল তিনটা বাইশ
বয়েস ১৩ যখনঃ
আমি জানি,আমার তখন ১৩...
আমি জানি, এটা নিশ্চিত জেনেই জানি
অনেকেই ঘটনা থেকে; ঘটনার রটনায় মনোযোগী ছাত্র!
আমি জানি,
যখন আমি আমার শৈশবের রং হারাচ্ছিলাম তখনকার গল্প।
আমি জানি,
যখন শিক্ষয়িত্রী কর্তৃক আমি ধর্ষিত হচ্ছিলাম,
তখন কোথাও সাইরেন বেজে উঠেনি-
বাজেনি করুন বিউগল অথবা
নতর্কীর উদ্দাম নৃত্য আমার শরীর উপকুল ছুয়ে
শব্দহীন কর্পুরে উড়ে যাচ্ছিলো শ'বে!
তখন নারী মাত্রই ধর্ষিতা! ধর্ষক!! হয়ত কখনওই নয়!
তাই
আমি জানি,কিভাবে আকাশ বারান্দায় নামে?
আমি জানি,সন্ধ্যেটা কখন চোখের পাতায়?
আমি জানি,নরকের মেঘ মাথায় নিয়ে কিভাবে তুমি যুদ্ধাগ্রস্ত?
আমি জানি,এ শহরের কোন কোন ঘরে ঈশ্বরের যাতায়াত?
আমি জানি,তিনি অবৈধ কোথায়?
রেডিওতে চলছে দিনবদলের গান,
মুষ্টিমেয় উন্নয়ন, অরাজকতার শ্রেণীবিন্যাস।
এর মাঝে ধর্ষিত আমার
অবাক তাকিয়ে থাকার সবাক সময়ে চলছে নির্বাক চলচ্চিত্র!
আমি জানি, নারী তুমি বড্ড ক্ষুধার্ত।
পিপাসার্ত তুমি রক্ত উপাসনায়!
আমি এও জানি, তুমি পেছনে ফিরে তাকাবেনা,
আমি জানি, তাকালেই তুমি বন্দী;আমার চোখে।
আমার নখে,
ঠোটে,
বুকে,
অথবা
আমাদের অতীতের সিড়িঘরের হাজার সন্ধ্যায়...
আমি জানি, আমি মরতে শিখে গ্যাছি রোজকার নিয়মে।
আমি জানি, তখন আমি ২৩..
আমি জানি, দুঃস্পর্শ রাত্রিতে হয়ত আমি ৩০...
হয়ত আমি জানি,
১৩ বা ২৩ অথবা ৩০ যা'ই হউক না ক্যানো?
পুরুষ কখনওই ধর্ষিত নয়, তোমার টি.আর.পি সময়ে।
কিংবা হয়ত পুরুষ - মানুষই নয়
অথবা ছিলোই না কোনো জন্মে।
তাই আমি জানি,
২০১৫ সালের টিভিতে ১৯৯৪
এক শোকাবহ স্যাটায়ার - যেখানে মৃত আত্মায়..গুলি চলছে।
নুয়ে পড়া জঙ্গলেই তবে মঙ্গলবার -
সকাল এগারোটা বাইশ
এইযে স্কুল, এইযে স্কুল ইউনিফর্মে হেঁটে যাওয়া কৈশোর।
আমি আটকে আছি ষোলোতে'ই।
বিকাল তিনটা
আচ্ছা শুভা, ভালোবাসা থেকে কি বের হওয়া যায়?
এর সদর দরোজা কোথায়?
রাত দশটা সাত মিনিট
আকাশ প্রহরী মাথার উপর, বারান্দার নীচে মালিবাগের শিউলি গাছ সংলগ্ন বাড়িটার নাম " অলকানন্দা।"
দুইঃ
যে কথা , যে কবিতা কখনও লিখতে চাইনা।
চোখের গভীরে তীব্র আকাঙ্খার বাষ্প জমে আছে।
শরীর ঘুরে যায়, নাকে পাই তোমার বিগত গন্ধ।
উড়ে যাওয়া বাতাসের রাডারে ধরা পড়ছে তোমার ঠোঁট,
ফিরোজা শাড়ি, সবুজ টিপ।
নিঃসঙ্গ ক্ষমাপ্রার্থণা করা বাড়িগুলো জেগে থাকে- ঘুমায় না।
স্মৃতির ভারে ডুবে যাচ্ছে পুরো ছায়াবীথি,
হলদে পাখি শেষ রাতেও উড়ছে, নষ্টালজিক আকাশে।
যে কথা, যে কবিতা লিখবার কথা ছিলোনা,
স্মৃতিকাতর রাস্তাগুলোতে লুটোপুটি খায় আমার ধুলো।
অলকানন্দা নামের বাড়িটা থেকে তোমার ছায়া পড়ে দীর্ঘশ্বাসের ক্ষেতে।
ভোর চারটা-
মধ্যবিত্ত বুকপকেটে সযত্নে তোলা থাকে একটা শব্দ, আজন্ম শীতের কুয়াশায় তোলা থাকে দুই অক্ষরের সমুদ্র '' তুমি''।
ক্লান্ত স্থির বুধবার
সকাল এগারোটা চব্বিশ
- ক্ষুধার্ত।
রাত আটটা -
আমি এক ব্যর্থ চ্যাপলিনঃ
এইযে শুনুন,
আমি ব্যর্থ চ্যাপলিন- সিস্টাইন চ্যাপেলের।
প্রিয় নারীরা
যদি আপনাদের কখনও আকাশ ছুঁতে ইচ্ছে হয়,
তবে সিকি শতাব্দী পূর্বে
সাতশ নারীস্তন থেকে আমি যে ডানা এনেছিলাম,
অস্বাস্থ্যসম্মত প্রত্যাখানে আবার
যে ডানায় আমি উড়ে গিয়েছিলাম কর্পুরের মতন,
সে ডানা চাইলে নিয়ে
আকাশের বুক থেকে আকাশের সামিয়ানায় উড়ে বেড়াতে পারেন।
যদি কখনও আপনারা হারিয়ে ফেলেন ঠিকানা,
হারিয়ে ফেলেন আশ্রয়।
চাইলে রাত বারোটার লোকাল এসে পড়বার পর,
শহরের বা-প্রান্তের
শেষ বাড়িটার কড়া নেড়ে দ্যাখতে পারেন,
কড়া নাড়লেই ভেতর থেকে উদোম গায়ে
বেরিয়ে আসবেন হাতে নিয়ে জ্বলন্ত হৃদয়
একজন কবি- একজন রাষ্ট্রদ্রোহী,
একজন সামাজিক বেশ্যালয় পরিত্যাগ করা
পৃথিবীর জীবিত থাকা একমাত্র প্রেমিক।
আপনারা ওখানে তার কাছে গিয়ে বসতে পারেন।
দ্যাখে নিতে পারেন " পাবলো নেরুদার জন্ম!"
দ্যাখে নিতে পারেন " সেবাষ্টিয়ানের মৃত্যু"
শুনে নিতে পারেন " আ জম্বি হোয়েন ক্রাই" অথবা হুইস্কি লুলাবাই।
এবার ভোরবেলায় আপনার চোখে মুখে নিয়ে কুয়াশা
ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন চলন্ত ট্রাকের সামনে,
ঠিক যেভাবে আপনি আবিস্কার করলেন
এতটা সময় যেখানে কাটালেন
সেটা আসলে শহরের শেষ কবর, শেষ বাড়িটার ভেতর।
যার ফলকে লেখা -
সোয়েব মাহমুদ বাড়ি আসেন নি,
শেষ লোকালেও আসেনি প্রজাপতি।
আমার সাদা প্রজাপতি।
খুনে বৃহস্পতিবার
রাত বারোটা দশ
শুভা, ও কিছুনা, কিছু হয়নি আমার।
শুধু দেখতে চেয়েছিলাম
স্ট্রেইটকাট ছুরি ঢুকিয়ে দিলে কতটুকু যন্ত্রণা হয় বাম অলিন্দে।
শুধু বুঝতে চেয়েছিলাম
উপুর্যপরি ছুরিকাঘাতে প্রেমিকার, প্রেমিক বাঁচে কিনা।
ওসব বুঝবে না তুমি - স্বতন্ত্র নেইলকাটার হৃদয়ে তুমি বুঝবে না
বোঝার কথাও নয়! অথচ কি দারুণ আস্থাহীনতায়
সেন্ট পিটার্সবারগের রাস্তাটা ঠিক আমার বুক বরাবর ঢুকে যায়।
যেমন ট্রাকের পেটে ঢুকে যায় রিকশা
রিকশা চেনোতো মেয়ে! রিকশা -
আচ্ছা বলোতো, এভাবে কি বাঁচে মানুষ?
আমি জানি তুমি ধমক দিয়ে চোখ পাঁকাবে,
আমি জানি সিড়ি ল্যান্ডিংটার হাতলে ভর করে কাঁদবে তুমি, সরিয়ে চশমা।
ঠিক এইসময় ঢাকা আর অসলো এককাতারে দাঁড়ায়।
কোনও মাথামোটা অর্থনীতিবিদ তার অথর্ব সূচকে আলাদা করতে পারেনা।
আলাদা করতে পারেনা কান্নায় ধোয়ামোছা চোখ।।
এতটুকু লিখতেই নার্স মোটামুটি হিব্রু ভাষার
মুখ নিয়ে ডাঃ ডাকতে থাকে।
আমি এবার কাঁটা চামচে খুবলে তুলছিলাম
বাঁ হাতের চামড়া অথবা মাংস।।
ডাঃ বেশ সিরিয়াস, বলো'তো সুন্দরীরা সিরিয়াস হলে কি মানায়?
বলোতো, এভাবে কি হয়?
ক্লান্তিকর মুকাভিনয় আর সাদার সমুদ্রে কেটে যায় সাড়ে চারমাস।।
নিরাপরাধ দেয়াশলাই আমি ক্যালেন্ডারে তাকাতেই বুঝি,
ডিভোর্সের একবছর হলো আজ, আজ তেরোই ফেব্রুয়ারী।।
শুভা, আচ্ছা তোমাকে কি বলেছিলাম আমার স্ত্রীর কথা?
বলে কি ছিলাম হামাগুড়ি দেয়া শিশু!
জানো আমায় অনেক ভালোবাসতো ও,
আর তাই এগারো বছরের সংসার তছনছ করে ,
বদলে শাড়ির আঁচলে অশ্রুর দাগ বসিয়েছে নতুন আবাস।
আবাস পরিবর্তনের ফর্মটায় লিখেছে কুমারী এবং প্রথম বিয়ে!!
এক কলমের খোঁচায় কার কি হয়েছে জানিনা?
তবে আমার এগারোটি বছর,
আমার শহর
আমার হাতের মুঠোয়
এগারোটি বছর হুর হুশ করে শুন্যতার হা হা কা র!
আমার তারুণ্য আমি দেখতে পারিনি -
আমার অবশ শরীর- অলৌকিক বৃষ্টিতে ঘুম -
ঘুমঘুম ষ্টেশন ঘুমঘুম সময় -
কেবোল হয়ে থাকলো এক এবং এক নামক দুটো সংখ্যা।
আমি কাউকেই দোষ দিচ্ছিনা খন্ডন করছিনা কোন যুক্তি -
আমি - হাটছি না।
আমি- বসছি না।
আমি- কাদছি না।
আমি - হাসছি না।
আমি - ঝুলে গিয়ে ইতিহাস বইটায়
হতে পারছিনা ধুলো পড়া স্মৃতি।
এ এক অসহ্য অসহায় স্মৃতি বিজরিত অনন্ত বর্ষার জাদুঘর
এ এক অদ্ভুতদর্শনের আবহাওয়া অধিদপ্তর
এ এক মহামারী পরিস্থিতিতে বিনাচিকিৎসায় শুয়ে থাকা মর্গ!
খুব আবোলতাবোল বকছি -
আসলে বুকের ভেতর জ্বর নিয়ে কথা বলা যায় না,
শোনো শুভা মাথার উপরে একটা আকাশ-
আকাশে বাদুর দৌড় - ভোঁ ভোঁ শব্দে সম্পর্কের জানাযায়
আমার মাথায় ঘুরছে কবির কবিতা—
বহুবছর আগে কবি লিখে গ্যাছেন—
আমি জানি আমার মৃত্যুর পর পৃথিবী বিধবা হবে,
তাই পৃথিবীকে
দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিয়ে যাচ্ছি, আমি।
আজ রাখছি, চিঠি পেলে জানিও পরবর্তী চিঠি আসবে কি না জানিনা?
( শুভা ১৭ )
আঞ্জুমানে শুক্রবার
রাত ১১টা ৫৮
বিধবার রঙ মেখে আমি দাড়াই আমার জানাযায় একদিন।
শেষ ফুলষ্টপ
গ্রীনরুমে আয়নাতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি পর্বে নাকের উপর বসানোর জন্য প্রেয়সীর প্রিয় লাল; আগুন মুখো লাল বল খুজছি...... "থার্ডব্লো- শেষ ফুলষ্টপ ১৫ এর সন্ধ্যায়"- শো একটু পর....
দিকশুন্যপুরের জাহাজীকে কোনও এক ডিসেম্বরের ৫তারিখে ভালোবাসি বলে জাহাজ নোঙ্গর করিয়ে; কিছুদিন পর ঠোঁটের উপর কালো টিপের মেয়ে হঠাত বলে ওঠে-
"তোমাকে পাখি ভেবেছিলাম, এখন দ্যাখি তুমি জরাজনিত আকাশ। পাখি যতটা টানে ততটা আকাশ আমাকে টানেনা, আকুল করেনা।। তাই আজ থেকে আমরা দু-জন দুরের দ্বীপ।"
বীজগণিত, হিসাববিজ্ঞানে কাচা ছেলেটা ফ্রয়েডিয় ব্যার্থ মনোবিজ্ঞানের গিনিপিগ হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিড়িতে হাটতে হাটতে দ্যাখে পাবলিক হেলথের দোরগোড়ায় আড়াইবছর আগেকার ৫০% শিক্ষাবৃত্তি।এক মানবীর পানি উবে গিয়ে লবন জমা চোখে এক বোকা দ্যাখেছিলো, জেনেছিলো, পড়েছিলো "আমি, তুমি ছাড়া বড্ড একা।" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশেরও কবি - বাক্যটার মতই যা এক ডাহা মিথ্যে......
তুমি দাঁড়াও একটু আমি আসছি- এ কথাটা একমাত্র ভালোবাসা আর শৈশব বলে ছিলো।
"-- শৈশব!! সে আবার কে? বোদলেয়ারের চরিত্র নাকি? তারপর কি হলো? গল্প থামালে কেনো ?
-- তারপর এক দৈত্য ভেজা পা'য়ে টুটি চেপে মেরে ফেলে শৈশবকে,ভালোবাসা হয়ে যায় সামাজিক আলমারির চাবীর গোছাটার মতন ভারী। কেবল হাসফাস করে।প্রেয়সীর ভেজা চোখে তার নিজের স্বপ্নবৃত্তান্ত এর কোথাও ছেলেটা ছিলোনা, তবুও পিপড়ের শহরে ছেলেটা ভালোবেসে নিজের চোখে দৃশ্যমান করে প্রেয়সীর স্বপ্ন, ছুটে চলে।
ছুটতে ছুটতে হঠাত জেনে যায় --
"তুমি অতি ভালোবাসার মানসিক অসুখে ভুগছো"- নামক বিদায় বৃত্তান্ত।
-- "তারপর..তারপর কি হলো, উফফ..আবার থামলে ক্যানো! কোথায় যাচ্ছ .. আরেহ্ "
-- "আজ কয় তারিখ?এখন কয়টা বাজে? বলবে কি?
--"আজ ১৬ই ডিসেম্বর, রাত এখন ১১টা ৪৩মিঃ।"
-- "সাক্ষাত ঈশ্বর হয়ে মানিক মিয়া এভ্যুনিউ'তে রাত ১১টা৪৩মিঃূ কোনও এক ১৬, ডিসেম্বর
ছেলেটা ছুঁয়ে ছিলো ভালোবাসার ঠোঁট। আহ বৃষ্টি নামবে।। যাই এবার।"
--"গল্পটা শেষ হয়নি তো, এই..এইযে...কি আজব বৃষ্টিও পড়ছে দেখি।"
হঠাত সম্বিত ফেরে -
-- "এক্সকিউজ মি, আপনি কার সাথে কথা বলছিলেন এতক্ষন ম্যাডাম! আপনি সুস্থ্য আছেন তো।"
-- "কেনো দেখেন নি, কমলা টি-শার্টের একজন ছিলো তো। নাকি চোখের মাথা খেয়েছেন।"
-- "কেউ ছিলোনা ম্যাম, বৃষ্টি থেমেছে এবার বাড়ি যান। ১২টা বাজতে চললো।"
মেয়েটি রেষ্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামতেই শুনতে থাকে.. কে যে নো কবিতা পড়ছে বাতাসে শুয়ে।।
“-আকাশের রানওয়েতে ভোরের আযান...
অসময়ের পত্রিকা বলে দিচ্ছে সুন্দরের চোখ সুন্দর খুঁজে বেড়ায়।
তাই আমার, চোখের ভেতরকার জলোচ্ছ্বাস তোমায় ভেজাবে না....
বুকের ভেতরকার জ্বরের আঁচ ছুঁবেনা তোমায়...
দর্শক অভিবাদন গ্রহন করুন এক বোকা প্রেমিক,এক অ-প্রেমিকের।
স্টেজের আলোতে ঝলসে যাওয়া মুখ দেখুন আর.. দর্শক আংগুলে মুহুর্মুহু কড়া নাড়ুন..
শো- জমজমাট.....আর ক্লাউন আমি, জোকার আমি মুখটা উপরে তুললে...
ঈশ্বর অপেক্ষায় ফুলষ্টপ মেরে দ্যাখেন আমায়...
দেখেন একাকীত্বের অপেক্ষাকথনে ক্লাউন আমি ,
হাহ্, অপেক্ষার জলজ্যান্ত কবিতা, আমি।।
এক মস্ত সস্তা পাণ্ডুলিপি ১৬ই ডিসেম্বর রাত ১১টা৪৩মিঃ এর অলিখিত চুমু'তে।।
সমাপ্ত লেখা হয়না এক অভিমানী রেল লাইনের জেদি ভালোবাসায়।
যেখানে নিজেকে শেষকরা ইতিহাসের পৃষ্ঠা কোথাও কোনও এক ভবিষ্যতে সিগারেট বানাতে কাজে লাগবে।।চ্
খুলে
এক মস্ত দীঘির চুল উড়ছে হাওয়ায়,
দুইহাজার বারো সালের চুল এসে পড়ছে,
আমার চোখ, মুখ, নাক আর হৃদয় স্পর্শ করছে মানচিত্রে।
একটা রিকশার খোঁজে দাড়িয়েই আছি আজন্মকাল।
তোমার নীল চুড়ি আমার বুক পকেটে,
তোমায় পড়িয়ে দিতে না পারায়,
দুঃখও একদিন সাম্যবাদ হয়ে যায়।
রাস্তার ধার জুড়ে প্রেমিকের লাশগুলো আমাকে ডাকছে,
শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত নব্বই যেনো,
রুপকথার বইয়ে পড়া গণতন্ত্র যেনো,
যেনো উড়ন্ত সসার থেকে কুড়িয়ে পাওয়া চাবি, এক।
যা দিয়ে আজ অন্তত,
আমি মৃত্যুকে অথবা তোমাকে খুলতে শিখে যাব প্রিয়তমা।
কবিতা- রোদ্দুর
প্রিয় রোদ্দুর,
সম্পর্কের যুক্তাক্ষর থেকে অক্সিজেন উঠে যাওয়া সময়ে,
তোমার অ-বিশ্বাসী হৃদয়,
তোমার নষ্ট মাথা আমি মুড়ে দিয়েছিলাম ভালোবাসায়।
একদিন বুঝতে পারবে তুমি,
বুঝবে তোমার মাতৃতান্ত্রিক ঠোঁট, ঠোঁটের নখ।
আর বুঝবে গাদাগাদা কবিতার স্তুপে
প্রতি শব্দে নিহত অপেক্ষার প্রজাপতি সভায়,
একদিন তোমার সাথে
তোমার অথবা তোমার সাথে আমার দ্যাখা হয়ে যাবার পর।