শার্টটা ইস্ত্রি করে রেখেছি, পরশু ইন্টারভিউ'র দিন পড়ে যেও- মামীর কথা অমান্য করা দিনটা ঠিক মনে নেই, তবে তারিখটা ছিলো আটই ফাল্গুন, তেরোশো উনষাট।
ঘর থেকে বেরোতেই কেমন একটা অনুভূতি, শিরায় শিরায় আন্দোলিত রক্ত। জিন্নাহ সাহেবের ভাষনের পরপরই যেনো জেগে উঠেছে সারা বাংলা। কত্ত সাহস ওদের , বলে “ উর্দূ কেবলমাত্র উর্দূই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।” চারদিকে একশ চুয়াল্লিশ ভাঙা রক্ত পলাশের ঘ্রাণ।
আমি...আমি তখন নীল শার্টের সাথে খাকি প্যান্ট আর মামীর দেয়া নতুন কাবুলি স্যান্ডেল পড়ে রেহনুমার বাসার সামনে। ওখান থেকে কিছু পর হাটতে হাটতে সবাই পৌঁছালাম ঢাকা মেডিকেল মোড়ে।
পুলিশ ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে টিয়ার মারছে। ছাত্ররাও ফিরিয়ে দিচ্ছে। গমগম করে উঠছে অঞ্চল "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই".. "বাংলার জন্য বাংলা চাই।" মিছিলে প্রতিবাদে প্রতিরোধে মুঠো ভরে থাকা রেহনুমার হাত ছুটে গ্যালো আমার হাত থেকে। আমার হাতে তখন সময় নেই ,তবুও এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজলাম, পেলাম না।
হঠাৎ, হঠাৎই কেমন একটা ঝাঁকুনী শরীরে?কেমন শীতল স্রোত? নীচে তাকিয়ে দ্যাখি একটা বুলেট আমার তলপেটে চুমু খেয়ে প্রবেশ করলো শরীরে। ভিসুভিয়াসের মতন ফেটে পড়লো ভেতরে তারপর , তারপর কিছু মনে নেই....
শুধু বিড়বিড় করে বলছিলাম রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। বলছিলাম আমি মামার বাসায় থাকি, সতেরো পুরানা পল্টন। আমার বাসার তিনটে বাসার পরই রেহনুমার বাসা। অইযে মাষ্টার সাহেবের তৃতীয় মেয়ে। যে একদিন আঁচলে মুছে দিয়েছিলো মুখ।
শব্দগুলো যখন থেমে যায় স্পষ্টত, তখনও শ্লোগান বাইরে “ রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই...”
বলছিলাম শেষ বাক্যে আচ্ছা রেহনুমাকে আমার রক্তে ভেজা শার্টটা কি দেয়া যায়।
শব্দগুলো যখন থেমে যায় স্পষ্টত, তখনও শ্লোগান বাইরে “ রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই...”
তখন আটই ফাল্গুন, তেরোশো আটান্ন সাল , বৃহঃপতিবার বেলা তিনটা বাইশ।

No comments:
Post a Comment