“তখন বোধহয় আমার মধ্যপ্রদেশীয় ঘড়িতে বেলা ৩টা ৪৩মি:..
আমি ছুটি নিচ্ছি,ছুটি। কিছুক্ষণ আগে বৈরুত থেকে ফিরলাম, আমার ছোট্ট স্টুডিও এপার্ট’স ,ছোট্ট শহর ইরফার্ট এ। যেখান থেকে আসলেই কেউ বুঝতেই পারবেনা ঠিক কতটা ক্ষমতার ক্ষুধায় রাস্তায় পড়ে আছে শিশু। এইরকম এক শিশুর সাথে পরিচয় হয় জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরে, বিশ্বাস করো গত আট মাস বিশ দিন আমাকে এতটা পরিনত এতটা বৃদ্ধ করে তুলবে বুঝতে পারিনি গত প্রায় নয় মাসে তিনটা যুদ্ধ ফ্রন্টে থাকা চব্বিশের আমার বয়েস বেড়ে হয়েছে ছাপ্পান্ন। প্রতি মূহুর্তে মূহুর্মুহু মৃত্যু যেনো প্রবল উল্লাসে শোধ করছে পুঁজিবাদী হলিউডের ঋণ। আমি ঘুমাতে চেষ্টা করিনা আর। আমি জেগে থাকি। ঘরের দরজায় স্টিকি নোটে তুমি রেখে গ্যাছো ডাঃ এর ঠিকানা আমি উড়িয়ে ফেলে ট্যুর অপারেটরকে ফোন দেই টিকেট বুক করি বোগোটো, কলম্বিয়া। ”
দীর্ঘ একবছর পর সাইপ্রাসের নিকোশিয়া শহরের ফ্ল্যাটে ডায়েরীর এই পৃষ্ঠাটা পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে মনে হলো গত একটা বছরে শুধু মাত্র একে সাতচল্লিশ, ট্যাঙ্ক, ধর্ষিতা শিশুর কান্না, দেয়ালে ঝুলন্ত বাবা, মায়ের বিবস্ত্র শরীর, নারী শরীরের বিশেষ অঙ্গগুলোর আটান্নটি মোসাদীয় উপনাম ভুলতে কোথায় যাইনি আমি? অজস্ত্র রাত কাটিয়েছি ইহুদী কন্যার উপর, ভোর করে ফেলেছি আইরিশ মেয়েটার বুকে রাখা পয়েন্ট ফাইভ কোকেন টানতে টানতে। কলম্বিয়ার সৈকতে পড়ে থেকেছি, লাওসের দালালের কাছ থেকে জেনে নিয়েছি মিথামাইটিন আইসের ঠিকানা। বুয়েন্স আইরেসের বস্তিতে ঘুরে ঘুরে খুঁজেছি ফুটবল ঈশ্বরকে। রিগাতে অথবা ব্রাসেলসে কিঙবা প্যারিসের সেভেন্থ এভ্যুনিউ এর পানশালায় চীৎকার করে লিভারপুল আর্সেনালের চার চার গোলে ড্র হয়ে যাওয়া ম্যাচটাও দেখেছি কিন্তু অর্ধেক পৃথিবী দেখে ফেলা আমি ন্যাপোলি শহরের রেড লাইট ষ্ট্রিটে প্রসাব করতে গিয়েও চোখ থেকে মুছে ফেলতে পারিনি যুদ্ধাবস্থার আট মাস বিশ দিন। জানো একাত্তরে ঠিক এই আট মাস বিশ দিনে আমার বাবা, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে , তিন লক্ষ বীরাঙ্গনার আহাজারিতে একটা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছিলো। আর আমি বাবার করা আমার পতাকার যুদ্ধ বুঝতে ঢুকে পরেছিলাম যুদ্ধে । স্বেচ্ছাসেবক আমার গলায় ছিলো বেশ্যাবেনিয়া জাতিসংঘের কার্ড। সেই কার্ড ছিড়ে ফেলেছিলাম কসাভোতে সত্তর ধর্ষিত বোনের লাশ সরাতে সরাতে।
আমি আজকাল আমার বুকের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি, এক ব্যক্তিগত আকাশ। আকাশে থাকা আট মাস বিশ দিনের সকল আত্মীয় আমায় ঘুমাতে দেয়না মরতে দেয়না, নিঃশ্বাসটুকুও চুরী করে লেডি অন রেড।
তাই , আমি আজকাল মৃতদের হাত ধরে ধরে রাস্তায় হাটা শেখাই, ভালোবাসা ব্যাধিতে মৃতদের নেতা বনে যাই, এ শহরের।তাই গত তিনহাজার দুইশ রাত আমি জেগে জেগে অসহায় কবিতা লিখি , লিখি উদ্বাস্তু শরণার্থী শিবিরের সাহস। ভয় শব্দটা চৌদ্দ বছর বয়সী মাহেরের বুকে বাঁধা আত্মঘাতী মাইনে ধর্ষক ব্রিটিশ রানীর জাতীয় সংগীতহীন কাপুরুষ ছিন্নভিন্ন যোনী পথে হারিয়ে যায়।
আমার ঘুমানো হয়না বৃহঃপতিবার। আমার ঘুমানো হয়না তিন হাজার দুইশ রাত। আমার ঘুমানো হয়না হে পৃথিবী। আমি জেগে থাকি, জেগে থাকে মা। জেগে থেকে থেখে “তখন বোধহয় আমার মধ্যপ্রদেশীয় ঘড়িতে বেলা ৩টা ৪৩মি:..
আমি ছুটি নিচ্ছি,ছুটি। কিছুক্ষণ আগে বৈরুত থেকে ফিরলাম, আমার ছোট্ট স্টুডিও এপার্ট’স ,ছোট্ট শহর ইরফার্ট এ। যেখান থেকে আসলেই কেউ বুঝতেই পারবেনা ঠিক কতটা ক্ষমতার ক্ষুধায় রাস্তায় পড়ে আছে শিশু। এইরকম এক শিশুর সাথে পরিচয় হয় জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরে, বিশ্বাস করো গত আট মাস বিশ দিন আমাকে এতটা পরিনত এতটা বৃদ্ধ করে তুলবে বুঝতে পারিনি গত প্রায় নয় মাসে তিনটা যুদ্ধ ফ্রন্টে থাকা চব্বিশের আমার বয়েস বেড়ে হয়েছে ছাপ্পান্ন। প্রতি মূহুর্তে মূহুর্মুহু মৃত্যু যেনো প্রবল উল্লাসে শোধ করছে পুঁজিবাদী হলিউডের ঋণ। আমি ঘুমাতে চেষ্টা করিনা আর। আমি জেগে থাকি। ঘরের দরজায় স্টিকি নোটে তুমি রেখে গ্যাছো ডাঃ এর ঠিকানা আমি উড়িয়ে ফেলে ট্যুর অপারেটরকে ফোন দেই টিকেট বুক করি বোগোটো, কলম্বিয়া। ”
দীর্ঘ একবছর পর সাইপ্রাসের নিকোশিয়া শহরের ফ্ল্যাটে ডায়েরীর এই পৃষ্ঠাটা পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে মনে হলো গত একটা বছরে শুধু মাত্র একে সাতচল্লিশ, ট্যাঙ্ক, ধর্ষিতা শিশুর কান্না, দেয়ালে ঝুলন্ত বাবা, মায়ের বিবস্ত্র শরীর, নারী শরীরের বিশেষ অঙ্গগুলোর আটান্নটি মোসাদীয় উপনাম ভুলতে কোথায় যাইনি আমি? অজস্ত্র রাত কাটিয়েছি ইহুদী কন্যার উপর, ভোর করে ফেলেছি আইরিশ মেয়েটার বুকে রাখা পয়েন্ট ফাইভ কোকেন টানতে টানতে। কলম্বিয়ার সৈকতে পড়ে থেকেছি, লাওসের দালালের কাছ থেকে জেনে নিয়েছি মিথামাইটিন আইসের ঠিকানা। বুয়েন্স আইরেসের বস্তিতে ঘুরে ঘুরে খুঁজেছি ফুটবল ঈশ্বরকে। রিগাতে অথবা ব্রাসেলসে কিঙবা প্যারিসের সেভেন্থ এভ্যুনিউ এর পানশালায় চীৎকার করে লিভারপুল আর্সেনালের চার চার গোলে ড্র হয়ে যাওয়া ম্যাচটাও দেখেছি কিন্তু অর্ধেক পৃথিবী দেখে ফেলা আমি ন্যাপোলি শহরের রেড লাইট ষ্ট্রিটে প্রসাব করতে গিয়েও চোখ থেকে মুছে ফেলতে পারিনি যুদ্ধাবস্থার আট মাস বিশ দিন। জানো একাত্তরে ঠিক এই আট মাস বিশ দিনে আমার বাবা, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে , তিন লক্ষ বীরাঙ্গনার আহাজারিতে একটা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছিলো। আর আমি বাবার করা আমার পতাকার যুদ্ধ বুঝতে ঢুকে পরেছিলাম যুদ্ধে । স্বেচ্ছাসেবক আমার গলায় ছিলো বেশ্যাবেনিয়া জাতিসংঘের কার্ড। সেই কার্ড ছিড়ে ফেলেছিলাম কসাভোতে সত্তর ধর্ষিত বোনের লাশ সরাতে সরাতে।
আমি আজকাল আমার বুকের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি, এক ব্যক্তিগত আকাশ। আকাশে থাকা আট মাস বিশ দিনের সকল আত্মীয় আমায় ঘুমাতে দেয়না মরতে দেয়না, নিঃশ্বাসটুকুও চুরী করে লেডি অন রেড।
তাই , আমি আজকাল মৃতদের হাত ধরে ধরে রাস্তায় হাটা শেখাই, ভালোবাসা ব্যাধিতে মৃতদের নেতা বনে যাই, এ শহরের।তাই গত তিনহাজার দুইশ রাত আমি জেগে জেগে অসহায় কবিতা লিখি , লিখি উদ্বাস্তু শরণার্থী শিবিরের সাহস। ভয় শব্দটা চৌদ্দ বছর বয়সী মাহেরের বুকে বাঁধা আত্মঘাতী মাইনে ধর্ষক ব্রিটিশ রানীর জাতীয় সংগীতহীন কাপুরুষ ছিন্নভিন্ন যোনী পথে হারিয়ে যায়।
আমার ঘুমানো হয়না বৃহঃপতিবার। আমার ঘুমানো হয়না তিন হাজার দুইশ রাত। আমার ঘুমানো হয়না হে পৃথিবী। আমি জেগে থাকি, জেগে থাকে মা। জেগে থেকে থেকে সেলাই করেন তিন হাজার দুইশ রাত।
সোয়েব মাহমুদ।
সোয়েব মাহমুদ।
ঢাকা-
ঢাকা-
No comments:
Post a Comment