"
---তোর ভাইয়ার দুইদিন পর পর কিসের
জ্বর হয় এত?
---জিজ্ঞেস করোনি,আমিতো জানিনা।
-- হবেই তো অফিস শেষে বৃষ্টিতে ভিজে হাটেন উনি,পরীবাগ-বেইলীরোড। আর উনি উত্তর দিয়েছেন কবে কার!
---কিছু বলনি?
--- বলিনি আবার! জিজ্ঞেস করতেই বলে " ঘরকে পথভুলে যাওয়া রাস্তা চিনায়ে বাড়ি নিয়ে যাবো।" আচ্ছা, তোর ভাই কি পাগল ধরনের?
--- হি হি হি, পাগল ধরন না আপু। পুরাটাই পাগল!"
অবশেষে, পাগল ভাইয়া মারা গ্যালো ৩৪
দিনের মাথায়,শেষ দেখায় একটা চীরকুট দিয়েছিলো।
--এই রিকশা যাবে, পরীবাগ।
বলেই উঠে পড়ি,খুব ক্লান্ত লাগছে। কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব ;চিৎকার করে। কাঁদতে কাঁদতে শহরবাসীকে জানাতে ইচ্ছে হচ্ছে "জানেন,এই কিছুক্ষন আগে আমার ভাইটা মারা গ্যাছে। বুকের ভেতর অভিমান ছিলো, ভালোবাসার জ্বর ছিলো। তার ভেতর এক যুদ্ধ ছিলো।যুদ্ধ বিমান ছিলো। জানেন গত তিনদিন নিয়মবহির্ভূত বৃষ্টি কার জন্য আর রোদ আজ এখন ক্যানো!সব নিজের চেয়ে বেশী ভালোবাসা এক পাগলের বিদায়ে।"
পুরো শহর পরিস্কার হবে,মুছে যাবে কান্নার দাগ আজ।কেবল বোনের সাথে তার ভাই থাকবেনা এ শহরে। কেবল বোন কে নিয়ে ভাইটার রিকশাভ্রমন থাকবেনা,থাকবেনা নিস্তব্ধতায় হঠাৎ হো হো হো করে বিকট সহজ সরল অথচ পিলে চমকানো হাসি।
"
মেঘের মেয়ে,
বাজ পরে পুড়ে যাওয়া বুকের দরজা
'হাট' খুলে যাওয়াটা ছিলো আমার ভুল।
গুইসাপ ঢুকে পড়ে ভার্মেলিওন এফেক্টে। শান্ত নিউরনে অশান্ত সুনামী নিয়ে আসে Head Game এর ক্যান্সার।
হৃদয়ের নগরে তোমার।
তারপর সময় বয়ে দুটো
শরীর দু-দিকে আলাদা।
একই শহরে
একই আকাশে
তুমিময়তার পথঘাটে,
তুমিহীন বেচে থাকা।
এর থেকে
মৃত্যুই শ্রেয় বুঝে নিলাম আমি।
ভালোবাসায় কারন খুঁজতে গিয়েই
ফিকে করে দিয়েছিলে লাল
হৃদপিন্ডের জমাট ভালোবাসা.......!"
আর পড়িনি ভাইয়ার চীরকুট, ছিড়ে ফেলে উড়িয়ে দেই। এই চীরকুট পৌছানোর কথা ছিলো কি কোথাও?
মনে পড়েনা আমার। যে মানুষ জীবিত ভালোবাসাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে গ্যাছে, প্রেমিকের মৃত্যু সংবাদ আর চীরকুট তার জন্য নয়।সবুজ গাছটার লাল কৃষ্ণচুড়া তার জন্য নয়!
ভাইয়া তুই যাচ্ছিস আকাশে অন্তত আকাশ হউক প্রিয় ডাকবাক্স তোর।
এবার শেষ হউক ১৮৫৭ সালের নোনাধরা বিনাশের চিঠি।
No comments:
Post a Comment